দেখার অভিজ্ঞতা হল…Manchester by the Sea (2016)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

movieposter

গম্ভীর, ভাবলেশহীন একজন মানুষ। ভীষণ স্বল্পভাষী, দেখতে একদমই বন্ধুভাবাপন্ন মনে হবেনা। নিজের কাছের মানুষদের অনেক ভালবাসে, হয়ত সেভাবে প্রকাশ করতে পারেনা। অন্যদিকে আবার বন্ধুদের সাথে একত্র হলে তাঁকে চেনাই যায়না, ভীষণ উৎফুল্ল দেখা যায় তখন। বাইরে অচেনা মানুষজন তাঁকে অন্য দৃষ্টিতে দেখে, পেছনে তাঁর নামে এটা সেটা বলে। সে তাঁদের এসব আচরণ বুঝেও চুপ থাকে, মাঝে মাঝে ক্ষেপে যায় খুব। অন্যদিকে মনটা তাঁর অনেক বিশাল, ভালবেসে কারো জন্য কিছু করলে সেটা উজাড় করেই করে। কারো সাথে গল্প জমাতে পারেনা, দু একটার বেশী কথা তাঁর মুখ দিয়ে বের হয়না। কোন বিপদে পড়লেও সেই ভাবলেশহীন মুখ নিয়ে বসে থাকে। এমন বিচিত্র সব চরিত্র ‘লি চ্যান্ডলার’ নামের এক মানুষের যাকে খুঁজে পাওয়া যাবে “ম্যানচেস্টার বাই দ্যা সি” নামের নাটকীয় এক সিনেমায়।

maxresdefault-7

নিজের সব হারিয়ে এক প্রকার নিঃস্ব অবস্থায় লি, আরও কত কিছু যে হারানোর বাকি তাঁর ঠিক নেই। তবুও থেমে যাওয়া নয়, যা আছে তাই আঁকড়ে ধরে থাকে। সব কিছু সহ্য করে যায়, এগিয়ে যাওয়াটাই ভালো। এরকমই একটি কাহিনী নিয়ে ক্যানেথ লোনারগান তাঁর পরিচালনায় ও কাহিনী সংলাপ দিয়ে নির্মাণ করেছেন ‘ম্যানচেস্টার বাই দ্যা সি’। আর লি চ্যান্ডলার এর চরিত্রে ক্যাসি আফ্লেক, প্রধান চরিত্র বলে তাঁর উপস্থিতি বেশী, তাঁর দায়িত্বও বেশী। লি চ্যান্ডলার এর ভাইয়ের ছেলে প্যাট্রিক চরিত্রে লুকাস হেজেস, উঠতি বয়সের চরিত্র, অভিনয়টা দিতে হবে ঠিক তেমনি। অন্যতম চরিত্রে লি চ্যান্ডলারের স্ত্রী র‍্যান্ডি রূপে মিশেল উইলিয়াম, উপস্থিতি কম ছিল, কিন্তু যতক্ষণ ছিল সেটাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

1122_manchester-hedges

দেখতে একাকি একটা মানুষেরও অনেক সঙ্গী সাথি থাকে, আপনজন থাকে। একাকি লি চ্যান্ডলারের আশপাশ একাকি নয়, সে চাইলেও একা হয়ে যেতে পারেনা। এমন ধরণের চরিত্রের প্রধান ভুমিকায় থাকাটা একটা বিস্ময়ই বটে। প্রধান থাকার কথা চটপটে কিশোর প্যাট্রিকের, কিন্তু তা না করে পরিচালক সেই একা মানুষটাকেই কেন্দ্রে রেখে বাকিদের আবর্তিত করে দেখিয়েছেন। কীভাবে যেন তাঁকে সব দায় দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন। ব্যাপারটা ভেবে দেখার মত, বিস্তর গবেষণা করা যেতে পারে এ নিয়ে। সেই পরিচালক আবার নিজেই সমস্ত কাহিনী সংলাপ তৈরি করেছেন। কীভাবে যেন বাস্তব করে তুলেছেন পুরো ব্যাপারটা। হাঁ করে, মন্ত্রমুগ্ধের মত তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় নেই, নিজেকে সপে দিতে হবে ‘ম্যানচেস্টার বাই দ্যা সি’-র কাছে।

manchester-by-the-sea-2016-005-michelle-williams-on-street

ক্যাসি আফ্লেক এর অভিনয় দেখে মনে হল সে বাস্তব জীবনেও এ ধরণের মানুষ, চরিত্রের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করে গিয়েছে, কোথাও এতটুকু ভারসাম্য হারায়নি। লি চ্যান্ডলার-এর যে ধরণের চারিত্রিক বৈশিষ্ট তা ক্যাসি আফ্লেক এতোটা নিখুঁতভাবে করে দেখিয়েছে যে সিনেমা দেখতে যেয়ে মাঝে মধ্যেই তাঁর উপর বিরক্তি আসবে। এখানেই তাঁর সফলতা, তাঁর কাজটাই এ ধরণের, অভিনয়টাই এ ধরণের, কোন অতিরঞ্জিত ভাব চলবে না। ক্যাসি এর আগেও আমাদেরকে অনেক ভালো কাজ উপহার দিয়েছে, কিন্তু এইবার নিজেকে সেরাদের কাতারে নিয়ে গেল, সেরাদের সেরা। অন্যদিকে লুকাস হেজেস তাঁর চরিত্রে ছিল অনবদ্য, সব দাবড়ে বেড়িয়েছে। একদম জাত অভিনেতাদের মত অভিনয়, কোন জড়তা ছাড়া। ‘মুনরাইস কিংডম’ আর ‘দি গ্রান্ড বুদাপেস্ট হোটেল’ এর মত সিনেমাতে কাজ করা এই ছেলের অভিনয় জীবন উজ্জ্বল। ‘মুনরাইস কিংডম’-এর ছোট্ট নায়িকা কারা হেওয়ার্ড এখানে তাঁর গার্লফ্রেন্ড হিসেবে ছিল। আর ছিল মিশেল উইলিয়াম, পরিচিত মুখ, খুব ভালো অভিনেত্রী। খুব বেশী দেখা না গেলেও যতক্ষন ছিল বেশ ওজন নিয়েই ছিল। সাথে ছোটখাট অনেক চরিত্র ছিল আরও, যে যা করেছে বেশ ভালভাবেই করেছে। পুরো ইউনিট ভালো করেছে, নাহলে এতোটা পুর্নতা আসতো না।

Manchester by the Sea (2016)
Manchester by the Sea poster Rating: 8.4/10 (21,582 votes)
Director: Kenneth Lonergan
Writer: Kenneth Lonergan
Stars: Casey Affleck, Ben O'Brien, Kyle Chandler, Richard Donelly
Runtime: 137 min
Rated: R
Genre: Drama
Released: 16 Dec 2016
Plot: An uncle is asked to take care of his teenage nephew after the boy's father dies.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন