দুর্ধর্ষ এক উদ্ধার অভিযান, দেখুন… Where Eagles Dare (1968)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

9ae7e0ad93753a292f72c3a6d49d4444

বরফে ঢাকা পাহাড়ের উপর দিয়ে বিমান উড়ে যাচ্ছে, ভেতরে কয়েকজন আর্মির মানুষ, সাদা পোশাকে, মনে হচ্ছে প্যারাট্রুপার। একজন রেডিওতে কারো আদেশের জন্য জিজ্ঞেস করল, আর একটু পরেই সাইরেন আর লালবাতির সংকেত দেখা গেল। বাতি টিপ টিপ করতে করতেই মনে হল ফ্ল্যাশব্যাক করল একটু। আর্মির কতিপয় অফিসার মিটিঙে আলোচনা করছে। এক গুরুত্বপুর্ন আর্মি অফিসার ধরা পড়েছে, এবং তাঁকে ক্যাসল অব দ্যা ঈগল নামে এক স্থানে বন্দী করে রাখা হয়েছে। বক্তা বলল, কেবল মাত্র ঈগলের পক্ষেই এই ক্যাসলে যাওয়া সম্ভব। আরও বলল, আমাদের কাজ হচ্ছে এই ক্যাসলের ভেতরে ঢুকে শত্রুপক্ষ কোন তথ্য বের করার আগেই ওই অফিসারকে উদ্ধার করা। দুর্ভেদ্য ক্যাসল, আবার সেখানেই তাঁদের মিশন, অসম্ভব ব্যাপার।

yslLSE5gnHVHwUwyw94jj92Nwcu

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি, আমেরিকান আর্মির বিগ্রেডিয়ার জেনারেল জর্জ কার্নাবি, একজন প্রধান পরিকল্পনাকারী, ধরা পরে যায় জার্মান বাহিনীর হাতে। তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় পাহাড়ের চুড়ায় স্থাপিত সেই ক্যাসলে যেখানে শুধুমাত্র হেলিকপ্টার আর ক্যাবল কার দিয়ে যাতায়াত সম্ভব। ব্রিটিশ মেজর জন স্মিথ এবং ইউএস আর্মি রেঞ্জার লেঃ শেইফার এর নেতৃত্বে মিত্র বাহিনীর সাত জনকে পাঠানো হচ্ছে এই অসম্ভব মিশনে। এবং মিশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছে এমআইসিক্স-এর কর্নেল টার্নার এবং অ্যাডমিরাল রলেন্ড।

wed1-2

লালবাতি সবুজ হওয়া মাত্রই এক এক করে সবাই বিমান থেকে লাফিয়ে পরে। সবাই নেমে যাওয়ার পর দেখা যায় আরেকজন বাকি আছে। অবাক করা ব্যাপার, তাঁকে নারী বলে মনে হয়, সেও নেমে যায় টুপ করে। সবাই ভালো মত ল্যান্ড করে, কিন্তু একজনকে খুঁজে পাওয়া যায়না। সবাই খুঁজতে শুরু করে, কিছুটা দূরে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মেজর স্মিথ বলে যে তাঁর ঘাড় মটকে গিয়ে সে মারা যায়, সে ছিল রেডিওম্যান। সবাইকে যেতে বলে মেজর স্মিথ ওই মৃতজনের ঘাড় উল্টিয়ে দেখে সেখানে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন, তাঁর মানে তাঁকে কেউ মেরে ফেলেছে। কিন্তু এ কীভাবে সম্ভব? এখানে তো তাঁরা সাত জন ছাড়া আর কারো থাকা অসম্ভব।

wed6

ব্রায়ান জি হাটন এর পরিচালনায়, রিচার্ড বার্টন আর ক্লিন্ট ইস্টউড এর অভিনয়ে নির্মিত “Where Eagles Dare” নামের ওয়ার, একশন আর এডভেঞ্চার ধর্মী মুভিটিকে বলা হয় সর্বকালের অন্যতম সেরা ওয়ার মুভি। একই সাথে ইম্পসিবল মিশন, এডভেঞ্চার, থ্রিল, মিস্টারি, টুইস্ট, সাসপেন্স আরও কত কি। শুরু থেকেই একটা ভালো লাগা কাজ করে যায়, ১৯৬৮-র দুর্দান্ত সিনেমাটোগ্রাফি, দারুণ সব ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর, ভয়ানক সব স্টান্টবাজী, জানা যায় স্টান্টম্যান আলফ জয়েন্ট এক সিনে তাঁর তিনটা দাঁত হারায়।

3037b4d3ea29b1188e90a52f2592095d

আড়াই ঘণ্টা ব্যাপ্তির মুভিটি বলতে গেলে অনেক ধীর গতির, যারা মারদাঙ্গা সব মুভি দেখতে অভ্যস্ত তাঁদের কাছে বিরক্তির কারণ হতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে বাবারও বাবা থাকে, তারও বাবা থাকে। মুভিটি বলতে গেলে এক ধরনের আদর্শ মিশন ইম্পসিবল ঘরানার মুভির মধ্যে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, অন্তত আমার কাছে, যার কারণে মুভিটি দেখে সন্তুষ্ট তা হল এর বিশদ বিবরণ। এতো বিশ্লেষণ করে, ভেঙ্গে ভেঙ্গে প্রতিটা সিন দেখানো হয়েছে যেন বাস্তব কোন উদ্ধার অভিযান। কি হচ্ছে, কেন হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে সব কিছু। এক সিনে সিরিজ বোমার বিস্ফোরণ ঘটছে, আরেক সিনে দেখানো হয়েছে বোমা ফিট করে আসার ঘটনা। একজন কাঠের ছোট পাটাতন খুলে ফেলে, কেন এমন করল ধারণা করার উপায় নেই, পরে দেখা গেলো ওই দিক দিয়ে দড়ি বাঁধা হবে বেয়ে ক্যাসলের উপরে উঠার জন্য। এমন আরও অনেক সিন আছে পরতে পরতে। মেজর স্মিথের ঠাণ্ডা মাথা আর লেঃ শেইফারের মারদাঙ্গা ভাব, অনবদ্য এক উদ্ধার অভিযানে নিয়ে যাবে আপনাকে। তাঁদের বাকি সাথিদের ভাগ্যে কি ঘটেছিল? সেগুলোও চমকপ্রদ কাহিনী। এক নারীর কথা বলেছিলাম, সে ই বা কে। দেখে ফেলুন মুভিটি, ওয়ার জন্রা যাদের প্রিয় তাঁদের জন্য মাস্ট ওয়াচ।

where_eagles_dare_by_ink2paper916-d346iqo-600x298

Where Eagles Dare (1968)
Where Eagles Dare poster Rating: 7.7/10 (41,513 votes)
Director: Brian G. Hutton
Writer: Alistair MacLean (story), Alistair MacLean (screenplay)
Stars: Richard Burton, Clint Eastwood, Mary Ure, Patrick Wymark
Runtime: 158 min
Rated: M
Genre: Action, Adventure, War
Released: 12 Mar 1969
Plot: Allied agents stage a daring raid on a castle where the Nazis are holding an American General prisoner... but that's not all that's really going on.

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Kazi Sabbir says:

    এই চলচ্চিত্র অবলম্বনে মাসুদ রানা সিরিজের একটা বই আছে , নাম “মৃত্যুপ্রহর”

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন