যুদ্ধের মাঝে বেঁচে থাকার তাড়না নিয়ে নির্মিত – Empire of the Sun (1987)

empire-of-the-sun-dvd-cover-39

বালক জিম বড্ড চঞ্চল স্বভাবের। বালক সুলভ রঙ্গিন দুনিয়ায় তাঁর অবাধ বিচরণ। অদ্ভুত সব কল্পনা আর প্রশ্ন তাঁর মনে, বাবা-মা রীতিমত অস্থির। প্লেনের প্রতি তাঁর বেশ নেশা, যুদ্ধ করা প্লেন, সব কয়টার নামও একেবারে মুখস্থ। খেলনা প্লেনের বিশাল সম্ভার তাঁর সংগ্রহে, যেখানেই যায় একটা না একটা খেলনা প্লেন তাঁর হাঁতে থাকবেই। বিমান নিয়ে আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখে জিম, যুদ্ধ বিমান।

বৈমানিকদের অভিবাদন ............

বৈমানিকদের অভিবাদন …………

সময়টা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু, জাপান আর চীনের যুদ্ধ চলছিল। ব্রিটিশ বালক জিম বাবা-মার সাথে সাংহাইতে থাকে, জৌলুসময় ছিল দিন গুলো। আচমকা এক হামলায় ছেঁদ আসে সেই দিনে, চারিদিকে হট্টগোল লেগে যায়। জিমের এক হাত মায়ের হাঁতে আর অন্য হাঁতে ছোট্ট একটা প্লেন। এক ধাক্কায় প্লেনটি পরে যায়, জিম মায়ের হাত ছেড়ে প্লেন তুলতে যায়, উঠে দেখে মা নেই, প্রচণ্ড ভিড়ে ছিটকে গেছে অনেক দূরে। নাগাল পাওয়া অসম্ভব, ভড়কে যায় জিম, তাঁকে ভীত মনে হয়।

ভীরের মধ্যে মাকে হারিয়ে ভীত জিম...

ভীরের মধ্যে মাকে হারিয়ে ভীত জিম…

স্টিভেন স্পিলবার্গ-এর সৃষ্টি “এম্পায়ার অব দা সান”, কাহিনী শেষ হওয়ার পর মনে হতে পারে নামটি “জিম’স এম্পায়ার” হলে ভাল হত। প্রচণ্ড চঞ্চল জিম পুরোটা মুভি জুড়ে দর্শকদেরও চঞ্চল করে রাখবে, স্থির থাকতে দিবেনা এতটুকু। ওই যে বলছিলাম মা-বাবা কে হারিয়ে ফেলে জিম ভীত হয়ে পড়ে, কিন্তু ক্ষণিকের জন্য। আপনার মায়া হবে খুব, কিন্তু পরক্ষনেই জিমের সাথে আপনি উঠে দৌড় লাগাবেন, বেঁচে থাকার জন্য দৌড়। এক দৌড়ে সে পেয়ে যায় অচেনা জগতের দেখা, স্থান পায় যুদ্ধবন্দীদের একটি ক্যাম্প-এ। জে জি বালার্ড এর আত্মজীবনী মূলক উপন্যাস নিয়ে নির্মিত জিম এর গল্প। বালার্ড এর জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা-দুর্ঘটনা দেখতে পাবেন জিমের মাধ্যমে।

এক্কেবারে নাছোড়বান্দা......।

এক্কেবারে নাছোড়বান্দা……।

একা কেউ বাঁচতে পারেনা, ভালো হোক মন্দ হোক, কাউকে না কাউকে অবলম্বন করতে হয়, বিশ্বাস করতে হয়। জিম এর সাথে দেখা হয় এক মহা ধড়িবাজ আমেরিকান ব্যবসায়ী বেসি-র সাথে। বেসি খুব একটা লাই দেয়নি জিমকে, আবার ফেলেও দেয়নি, সুযোগ করে দিয়েছে, বাঁচার পন্থা শিখিয়েছে, নিজের জগতে বিচরণের পথ দিয়েছে। আর তাই বেসি চরিত্র বেশ গুরুত্ব পাওয়ার দাবীদার। ছিল অল্পবিস্তর মাতৃস্নেহ দেওয়া মিসেস ভিক্টর, আলাপ করার মানুষ ডঃ রলিন্স সহ আরও অনেকে।

বেসির সাথে জিম......।

বেসির সাথে জিম……।

যুদ্ধবন্দী ক্যাম্প-এ সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে হাজির হয় জিম। নিজের চঞ্চলতাকে কাজে লাগিয়ে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার অসাধারণ দক্ষতা। খুব দ্রুত সব শিখে যেত আর ছিল উপস্থিত বুদ্ধি। ক্যাম্প এ তাঁর খুব পরিচিতি, যত টুকটাক কাজ সব শিখে নেয়, এটা ওটা দিয়ে একে ওকে ভুলিয়ে ভালিয়ে কাজ আদায় করে নিতে পারত। এসব নিয়ে মেতে থাকত দিনভর, প্লেন নিয়ে স্বপ্ন দেখত আর কি হয়েছিল তাঁর সাথে ধীরে ধীরে ভুলতে বসে, ভুলতে বসে তাঁর মা-বাবার চেহারাও। মিসেস ভিক্টর একবার তাঁকে বলে “যুদ্ধের পরে তুমি এই ক্যাম্পটা খুব মিস করবে”। মুভির কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জিমকে খুব দুখী মনে হয়, জিমের দুঃখ আপনাকেও কাঁদাবে নিশ্চিত। একটি অংশে সে কান্না করে বলে “আমি মনে করতে পারিনা আমার বাবা-মা দেখতে কেমন”। স্মরণীয় একটি মুহুর্ত এই অংশটি জিমের জন্য, জিমের দর্শকদের জন্য।

সত্যিকারের বিমান ছুঁয়ে দেখার সৌভাগ্য হয় জিমের

সত্যিকারের বিমান ছুঁয়ে দেখার সৌভাগ্য হয় জিমের

স্পিলবার্গ-এর মুভি শুনেই আগ্রহ ও চাওয়ার পরিমাণ দুটোই বেড়ে যায়। হতাশ করবেনা মুভিটি, গল্পটা খুব আকর্ষণীয়, অস্থিরতায় ভরা। তবে বোদ্ধামহল মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মুভিটি নিয়ে। পরিচালক কাহিনী কোথায় টেনে নিয়ে যাচ্ছেন বোঝা যাচ্ছিলোনা, এক উদ্দেশ্যহীন যাত্রা, মনে হয় এই শেষ, আবার দেখা গেল নতুনভাবে শুরু। গুরুত্বপুর্ন বিষয় নিয়ে বালকশুলভ মস্করা হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। বালকের চোখে যুদ্ধ আর স্পিলবার্গের গন্তব্যহীনতা বলে সমালোচনা করেছেন কয়েকজন।

বিজয়ের হাসি ......।

বিজয়ের হাসি ……।

অডিশন দিতে আসা চার হাজার জন বালক থেকে বেঁছে নেয়া হয় জিম কে। এ যেন সিন্ধু সেচে মুক্ত খুঁজে বের করা। হেভিওয়েট মুভির জন্য দরকার হেভিওয়েট অভিনেতা, অভিনয়টাও করতে হবে সেরা। জহুরী স্পিলবার্গও খুঁজে নিয়েছিলেন একেবারে বালক একজন ক্রিশ্চিয়ান বেল-কে। হ্যাঁ বালক বেল, কাঁচা অভিনেতা কিন্তু ঝাঁঝালো। অতটুকুন বয়সে এমন অভিনয় দিয়ে জানান দিয়েছিল নিজের ভবিষ্যৎ। কোন লুকোচুরি নেই, জড়তা নেই, নেই কোন নতুনত্বের ছাপ। কথার তুবড়ি ফুটিয়েছে, বিরামহীন ছুটোছুটি আর নজরকাড়া সব ভঙ্গিমায় মাতিয়ে রেখেছে সবটা সময়।

বন্ধুত্ব হয় এশিয়ান এক বালকের সাথে

বন্ধুত্ব হয় এশিয়ান এক বালকের সাথে

দেখুন ক্রিশ্চিয়ান বেল অভিনীত “এম্পায়ার অব দা সান”, দেখে আপনিও বলবেন এটি জিম-এর এম্পায়ার। বেলের অভিনয় দেখুন, মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যাবেন, তাঁর সাথে দৌড়ে বেড়াবেন সব কিছু জয় করে।

Empire of the Sun (1987)
Empire of the Sun poster Rating: 7.8/10 (80171 votes)
Director: Steven Spielberg
Writer: J.G. Ballard (novel), Tom Stoppard (screenplay)
Stars: Christian Bale, John Malkovich, Miranda Richardson, Nigel Havers
Runtime: 153 min
Rated: PG
Genre: Drama, History, War
Released: 25 Dec 1987
Plot: A young English boy struggles to survive under Japanese occupation during World War II.

(Visited 135 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Sadman Khan says:

    My all time favorite movie. Mon tA kharap kore deya ekta movie

  2. Sozib Hasan says:

    আমার দেখা সেরা মুভি , ক্রিস্টিয়ান বেলের ছোট কালের সেরা অভিনয়, মন নাড়ানো একটু মুভি ,,,

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন