ব্রিজটা যখন বানাতেই হবে ভালো করেই বানাবো !

MV5BMTc2NzA0NTEwNF5BMl5BanBnXkFtZTcwMzA0MTk3OA@@._V1._SX333_SY500_

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ব্রিটিশ যুদ্ধবন্দীদের নিয়ে আসা হয় জাপানের একটি প্রিসনার অব ওয়ার ক্যাম্প এ। ক্যাম্প এর কমান্ডার কর্নেল সাইটো ঘোষণা দেয় সকল যুদ্ধবন্দীদের, সে যে র‍্যাঙ্কেই হোক না কেন, তাকে অবশ্যই কাজ করতে হবে। সবাইকে কাউয়াই নদীর উপর একটি রেল ব্রীজ নির্মাণে অংশ নিতে হবে।

Bridge 4

বাঁধ সাধলেন বন্দীদের অফিসার লে. কর্নেল নিকলসন। তিনি সাইটো কে জেনেভা কনভেনশন এর কথা মনে করিয়ে দিলেন। বললেন অফিসারদের দিয়ে কোনও শারীরিক পরিশ্রম করানো যাবেনা। লও ঠেলা, বন্দি অবস্থায় এতবড় স্পর্ধা। ছুড়ে ফেলে দিলেন নিকলসনের হাতে থাকা কনভেনশনের কপি এবং ওভেন এ ঢুকানোর নির্দেশ দিলেন নিকলসনক আর তাঁর অফিসারদের। তাদের দানা পানি বন্ধ। কাজ করবিনা, বসে বসে খাবি?

অন্যদিকে ব্রিজের কাজ করছিলো যারা তাদের দ্বারা কিছুতেই ভালো মতো কাজ করিয়ে নেওয়া যাচ্ছিলোনা। তাঁরা একটু পর পর হট্টগোল শুরু করে, এটা সেটা ভেঙ্গে ফেলে, ইত্যাদি ইত্যাদি। সাইটো পরলেন মহাবিপদে। নিজে দায়িত্ব নিলেন কাজ তদারকির। কিন্তু ফলাফল শূন্য। বৈঠকে ডাকলেন নিকলসনকে। নিকলসনের সেই একি কথা। আবার ওভেন।

bridge_river_kwai_a

কিছুদিন পরে ইজ্জত বাঁচাতে সাইটো নিকলসন আর তাঁর অফিসারদের মুক্তি দেন। নিকলসন ব্যাটা বের হয়ে দেখেন তাঁর সৈন্যরা ব্রিজের নামে হযবরল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে রেখেছে। জাঁদরেল, সৎ, সাহসী আর সবার কাছে প্রিয় নিকলসন হারতে চাইলেন না, মানতে পারলেন না ব্রিটিশ বাহিনী তাদের কাজে দুর্বল। নিয়ে নিলেন এক কঠিন সিদ্ধান্ত। ব্রিজ যখন বানাবো ভালো ভাবেই বানাবো। এমন কাজ দেখাবো জাপানীরা আজীবন মনে রাখবে।

bridge-on-the-river-kwai2

খেলা শুরু, মুভির পরের অংশ জেনে নেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের উপর। তবে এতটুকু বলতে পারি মুভিটি শেষ করে আপনিও মেজর ক্লিপ্টন এর সাথে বলে উঠবেন-

“Madness!, Madness!!, Madness!!!”

The Bridge On The River Kwai (1957).avi_snapshot_02.32.58_[2013.10.07_18.48.51]

সাইটো চরিত্রে সিসু হায়াকাওয়া আর নিকলসন চরিত্রে এলেক গিনেস একবারে ফাটিয়ে দিয়েছেন। আরও উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হচ্ছে শিয়ারস, ওয়ার্ডেন, ক্লিপ্টন, রিভস, হিউস, জইসি সহ আরও অনেক। দেখেন না সবাই মিলে কি লঙ্কাকাণ্ড করে।

মুভির ঘটনা কিছু সত্য কিছুটা কাল্পনিক, সত্য ঘটনা অনেক মর্মান্তিক। কিন্তু মুভিতে পজিটিভ দিক গুলাই তুলে ধরা হয়েছে। সাইটো নামে সত্যিই এক ক্যাম্প কমান্ডার ছিল যে কয়েদীদের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল ছিলো, আর ছিলো টুসে নামে এক বন্দী যে পরে সাইটোর পক্ষ নিয়েছিলো। মজার ঘটনা, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে সাইটো আর টুসে বন্ধু হয়ে যায়। উইকি পড়লে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

“দা ব্রিজ অন দা রিভার কাউয়াই”- ১৯৫৭ সালে আমেরিকায় মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যাডভেঞ্চার, ড্রামা, ওয়ার নির্ভর মুভি। আইএমডিবি ৮.৩ রেটিং এবং টপ ২৫০ এ ১০৩ এ অবস্থান সাথে পঁচা টমাটু ৯৬% স্কোর। অস্কার জিতেছে মোটে ৭টা, আরো ২৪ জয়, ৫ নমিনেশন রয়েছে মুভিটির ঝুলিতে। সর্বকালের সেরা অন্যতম মুভি হিসেবে ধরা হয় এটিকে এবং লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে প্রিসারভ করার জন্য নির্বাচিত হয়।

the-bridge-on-the-river-kwai

মুভির উপস্থাপনা এতো সাবলীল, ছন্দময়, প্রাণবন্ত যা সহজেই দর্শক ধরে রাখতে সক্ষম। তবে মুভি জনরাতে যেটি বাদ পড়েছে সেটা হলও কমেডি, পিউর কমেডি। স্ক্রিনপ্লে এতো মারাত্মক ছিলো আর মিলিটারি টাইপ কমেডি ভীষণ মজা পেয়েছি। আপনারাও মজা পাবেন, যদি মুভিটা দেখেন। এই ধরণের মুভি গুলা মিস দিবেন না, সাড়া জীবন মনে রাখার মত, ক্লাসিক টাইপ মুভি। শেষের সিন গুলা ভীষণ এক্সাইটিং ছিলো। মূল চরিত্র নিকলসন আর সাইটো একি সাথে হিরো আর ভিলেন। বুঝা মুশকিল, কি হতে যাচ্ছে।

মুভিটি কিছু মুভির মধ্যে একটি যাতে দেখানো হয় যুদ্ধরত পক্ষগুলোতে অনেকেই আছেন যারা যুদ্ধ বিরোধী, বন্দীদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার। এখানে দেখা যায় নিকলসন ভুলেই বসে আছেন যুদ্ধের কথা আর তিনি শত্রুপক্ষের জন্য ব্রিজ তৈরি করছেন। আর সাইটো মেনে নিচ্ছেন বন্দীদের দাবী, তাদের সাথে আলোচনা করছেন।

তাহলে আর দেরি না করে আজিই দেখে ফেলুন “দা ব্রিজ অন দা রিভার কাউয়াই” নামক অসাধারণ মুভিটি।

(Visited 80 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. বিহাইন্ড দ্য সিনারি says:

    ভালো লাগা রইলো+++

  2. অ্যান্থনি এডওয়ার্ড স্টার্ক says:

    আমি তো আপনের লেখার ফ্যান হয়ে যাচ্ছি দিন দিন। :p ভালো লিখেছেন। প্লাস দিয়ে গেলুম। 😀 + + + + + + + +

  3. রীতিমত লিয়া says:

    আগে বিটিভিতে প্রতি সপ্তাহে মুভি অব দ্যা উইক দেখাত। অইখানে মুভিটা অনেকবার দেখেছি। আবার মনে করিয়ে দিলেন। দেখতে হবে।

    • যুবায়ের says:

      কিছু ছবি বারবার দেখলেও এতটুকু বিরক্ত লাগেনা। এই টাও সেই রকমের, ক্লাসিক, জাস্ট ক্লাসিক।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন