চলচ্চিত্রে ব্যোমকেশ
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

byomkesh

আগামী ৭ তারিখ মুক্তি পাবে ” ব্যোমকেশ ও চিড়িয়াখানা ” .শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায় এর এই অনবদ্য সৃষ্টি নিয়ে এর আগেও বেশ কিছু ছবি হয়েছে। নতুন এই ছবি রিলিজের আগে ব্যোমকেশ আর এর মুভি এডাপটেশন নিয়ে মূলত এই পোস্ট।

এক নজরে ব্যোমকেশ

ব্যোমকেশ কলকাতার একজন প্রাইভেট ডিটেক্টিভ। তবে সে নিজেকে সত্যান্বেষী বলেই পরিচয় দেয়। প্রধানত এক কেসে তার সাথে অজিতের দেখা হয়। মূলত অজিতের লেখা বই থেকেই আমরা তার কেসগুলো সম্পর্কে জানতে পারি। অর্থমনর্থম নামে এক গল্পে তার সাথে সত্যবতীর দেখা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের বিয়ে আর একটি বাচ্চা হয়। তবে এই সব কাজ যে ব্যোমকেশের মস্তিষ্কে খুব বেশি প্রভাব করতে পারেনি তা তার বিয়ের পরবর্তী কেস গুলো থেকেই বোঝা যায়।

শরদিন্দু মূলত কলকাতার প্রেক্ষাপটে শার্লক হোমসের মত এক বাঙালি গোয়েন্দাকে পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছিলো। তার ফলেই ব্যোমকেশের সৃষ্টি। সে প্রথমে কয়েকটি উপন্যাস লিখে ব্যোমকেশ কে রিটায়ার্ড করিয়ে দেন ,কিন্তু ১৫ বছর পরেও ব্যোমকেশ এর চাহিদা দেখে সে আবারো লিখা শুরু করেন।শেষ পর্যন্ত ব্যোমকেশকে নিয়ে ৩৩ টি উপন্যাস রচনা করেন যার ভিতরে ” বিশুপাল বধ ” শেষ করে যেতে পারেননি, যা পরে নারায়ণ স্যানাল শেষ করেন।

ব্যোমকেশ এর মুভি এডাপ্টেশন

চিড়িয়াখানা : ব্যোমকেশের চিড়িয়াখানা গল্প অবলম্বনে ১৯৬৭ সালে সত্যজিৎ রায় নির্মাণ করেন ” চিড়িয়াখানা “। এখানে ব্যোমকেশ চরিত্রে অভিনয় করেন মহানায়ক উত্তম কুমার। সে বছর এই মুভির জন্য সত্যজিৎ রায় বেস্ট ডিরেক্টর আর উত্তম কুমার বেস্ট এক্টর এর পুরস্কার পায় । তখন শরদিন্দু এ মুভি বিষয়ে কিছু অসন্তোষ প্রকাশ করলেও এখন এটি কাল্ট ক্লাসিক ( শোনা যায় , এ অসন্তোষের কারণেই সত্যজিৎ রায় তার এক গল্পে লেখা এক ডিটেকটিভকে সিরিজ আকারে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন ,বাকিটা ইতিহাস ! )

শজারুর কাটা : ১৯৭৪ সালে ব্যোমকেশের ” শজারুর কাটা ” অবলম্বনে মাঞ্জু দে নির্মাণ করেন এই নামের ছবিটি। এতে ব্যোমকেশ ছিলেন সতীন্দ্র ভট্টাচার্য।

মগ্নমৈনাক : ২০০৯ সালে এই নামের বই থেকে স্বপন ঘোষাল নির্মাণ করেন মগ্নমৈনাক। এ ছবিতে ব্যোমকেশ ছিলেন শুভ্রজিৎ দত্ত।

ব্যোমকেশ বক্সী : অঞ্জন-আবীরের ব্যোমকেশ ট্রিলজির প্রথম ছবি। এতেই প্রথম ব্যোমকেশ চরিত্রে অভিনয় করেন আবীর চ্যাটার্জি আর অজিত চরিত্রে শাশ্বত চ্যাটার্জী। ” আদিম রিপু ” অবলম্বনে ২০০৯ সালে এ মুভিটি নির্মাণ করেন অঞ্জন দত্ত।

আবার ব্যোমকেশ :অঞ্জন-আবীরের ব্যোমকেশ ট্রিলজির দ্বিতীয় ছবি। এতে ও ব্যোমকেশ চরিত্রে অভিনয় করেন আবীর চ্যাটার্জি আর অজিত চরিত্রে শাশ্বত চ্যাটার্জী। ” চিত্রচোর ” অবলম্বনে ২০১২ সালে এ মুভিটি নির্মাণ করেন অঞ্জন দত্ত।

সত্যান্বেষী :২০১৩ সালে ব্যোমকেশের ” চোরাবালি ” অবলম্বনে ঋতুপর্ণ ঘোষ নির্মাণ করেন এই নামের ছবিটি। এতে ব্যোমকেশ ছিলেন সুজয় ঘোষ যাকে আমরা ডিরেক্টর হিসেবেই বেশি চিনি ।

ব্যোমকেশ ফিরে এলো : অঞ্জন-আবীরের ব্যোমকেশ ট্রিলজির শেষ ছবি। ” বেণীসংহার ” অবলম্বনে ২০১৪ সালে এ মুভিটি নির্মাণ করেন অঞ্জন দত্ত।

শজারুর কাটা : ২০১৫ সালে শৈবাল মিত্র নির্মাণ করেন এই ছবিটি। এতে ব্যোমকেশ ছিলেন ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়।

Detective Byomkesh Bakshy! : ব্যোমকেশের প্রথম হিন্দি এডাপটেশন।Yash Raj films এর প্রযোজনায় আর দিবাকর ব্যানার্জির পরিচালনায় এতে অভিনয় করেন সুশান্ত সিং রাজপূত।

ব্যোমকেশ বক্সী : ২০১৫ সালে ব্যোমকেশের ” কহেন কবি কালিদাস ” অবলম্বনে অঞ্জন দত্ত নির্মাণ করেন এই ছবিটি। এতে ব্যোমকেশ ছিলেন যীশু সেনগুপ্ত।

হর হর ব্যোমকেশ : ২০১৫ সালে ব্যোমকেশের ” বহ্নি পতঙ্গ ” অবলম্বনে অরিন্দম শীল নির্মাণ করেন এই ছবিটি। এতে আবারো ব্যোমকেশ হিসেবে ফিরে আসেন আবীর চ্যাটার্জি ।

এতগুলো মুভির পরে আবারো ব্যোমকেশ কে নিয়ে অঞ্জন দত্ত আর যীশু আসছে এবারের পুজোয়। আশা করি অঞ্জন দত্তের ব্যোমকেশ নিয়ে করা বাকি মুভিগুলোর মতো এটিও দর্শক জনপ্রিয়তা পাবে।


এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. আমার পছন্দের একটা চরিএ 😊

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন