Avengers: Infinity War দেখার আগে 
Share on Facebook89Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

Marvel Cinematic Universe এর সবচেয়ে বড় টিমআপ মুভি আর মাত্র একদিন বাদেই রিলিজ পেতে যাচ্ছে, আর ইতিমধ্যেই রোটেন টমাটোজে ৯০%এর উপরে ফ্রেশ রেটিং পেয়ে বসে আছে। বিশ্বজুড়ে ওপেনিং উইকেন্ডেই ৫০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে এমনটাও আশা করা হচ্ছে।

 

১০ বছর, ১৮ মুভি, কয়েক গ্যালাক্সি আর বহু মিলেনিয়া সমৃদ্ধ মার্ভেলের এই বিশাল ন্যারেটিভের থই পাওয়া একটু কঠিন হলেও অসম্ভব কিছু না। ইনফিনিটি ওয়ারের কাহিনী মূলত ইনফিনিটি স্টোনগুলোকেই ভিত্তি করে চলবে, যার বেশিরভাগই এতদিন বিভিন্ন পোস্ট ক্রেডিট সিন গুলো হিন্টস দিয়ে দিয়ে পোস্ট ক্রেডিটের সংজ্ঞাই পাল্টিয়ে দিয়েছে।

 

THANOS:

সবারই জানা, এতদিন ধরে পোস্ট ক্রেডিটে দেখা দিয়ে আসা থানোস হবে ইনফিনিটি ওয়ারের প্রধান ভিলেন। থানোস Death এর ফিজিকাল ফর্ম নিয়ে চরম অবসেসড। থানোসকে সাহায্য করার জন্য আছে Black order নামের ভিলেনের দল। থানোস এমনিতেই মহা শক্তিশালী ম্যাড টাইটান, তার উপরে ইনফিনিটি গন্টলেটের ৬টা ইনফিনিটি স্টোন পেলে কী করবে তা চিন্তার বাইরে। এরই সাথে সে আবার গামোরা আর নেবুলার বাবাও বটে।

 

INFINITY STONES:

 

 

Guardian of the galaxy vol 1 এ Collector ইনফিনিটি স্টোন সম্পর্কে বলে, “Before creation itself, there were six singularities. Then the universe exploded into existence, and the remnants of these systems were forged into concentrated ingots… Infinity Stones.”

 

সবচেয়ে রিসেন্ট Guardian of the galaxy এর কমিক্সে বলা হয়েছে এই ইউনিভার্স হলো একটা প্রোগ্রাম/সিমুলেশন। আর ইনিফিনিটি স্টোনগুলো হলো তার সোর্স কোড।

 

প্রথমেই আসবে ইনিফিনিটি স্টোনগুলোর উৎস আর ক্ষমতার কথা। থানোসের গন্টলেটের ৬টা ইনিফিনিটি স্টোন হলো- Space stone, Mind stone, Power stone, Reality stone, Time stone, Soul stone.

 

ইনফিনিটি স্টোনের প্রথমে দেখা মিলে ২০১১ এর Captain America: the first avengers এ। একে ককাজে লাগিয়ে টেলিপোর্ট করা থেকে শুরু ককরে মহাবিশ্বের যেকোনো জায়গায়, যেকোনো ডডাইমেনশনে, যেকোনো অবস্থায় যাওয়া সম্ভব।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় HYDRA এর হেড থাকা জোনাথন স্মিড ওরফে রেডস্কাল স্পেস স্টোনের টেসারেক্টটাকে ধরা মাত্র মহাকাশে ছিটকে যায়। সে কি বেঁচে আছে না মারা গেছে তা এখনো অজানা, তবে এমনো হতে পারে যে সে স্পেস স্টোন থেকে পাওয়া শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একই সাথে অনেক জায়গায় অবস্থান করছে, omnipotent অবস্থায়। পরবর্তীতে টনি স্টার্কের বাবা হাওয়ার্ড স্টার্ক এবং S.H.I.E.L.D. সমুদ্রের নিচে থেকে স্পেস স্টোন উদ্ধার করে। পরে লোকি সেটাকে চুরি করে, Avenger মুভিতে চিতৌরি সৈন্যবাহিনীকে ভিন্ন ডাইমেনশন থেকে ডেকে আনে। পরে লোকিকে হারিয়ে থর সেটা আসগার্ডে নিয়ে যায় এবং ওডিন হেইমডালকে সেটা রক্ষা করার দায়িত্ব দেয়। কিন্তু পরে লোকি ওডিন সেজে সেটা নিয়ে ভল্টে রেখে দেয়, আর Thor Ragnarok এর শেষে যখন আসগার্ড ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিলো, তখন লোকি সেটা ভল্ট থেকে নিয়ে যায়। ট্রেলারেও দেখা যায় লোকি এটা কারো হাতে তুলে দিচ্ছে।

 

Avenger এ দেখা মেলে লোকির scepter এর ভেতরে থাকা Mind Stone এর, যা দিয়ে লোকি এরিক সেলভিগ আর হক আইকে মাইন্ড কন্ট্রোল করা শুরু করে। থানোস স্বয়ং লোকিকে এটা দিয়েছিলো পৃথিবী থেকে স্পেস স্টোন উদ্ধার করার জন্য (Thor এর শেষে লোকি যখন বাইফ্রস্ট থেকে পড়ে যায়, তখন সম্ভবত থানোসের সাথে তার দেখা হয়, এমনও হতে পারে যে থানোস লোকিকে ব্রেইনওয়াশ করেছে)। পরে S.H.I
E.L.D. এর কাছে থেকে HYDRA সেটা চুরি করে নিয়ে ওয়ান্ডা এবং পিয়েত্রো ম্যাক্সিমফের ওপর ব্যবহার করে তাদের সুপার পাওয়ার বাড়ানোর এক্সপেরিমেন্ট করে। পরে আবার Avengers: Age of Ultron মুভিতে অ্যাভেঞ্জাররা সেটা নিয়ে নেয়, এর কারণেই জন্ম নেয় আলট্রন এবং ভিশন। ভিশন তার কপালের এই মাইন্ড স্টোনকে ভিত্তি করেই তার সুপার পাওয়ার ব্যবহার করে। ট্রেলারে দেখা যায়, ভিশনের কপাল থেকে কেউ একজন (থানোস?) এটা খুলে নিচ্ছে।

 

সম্পূর্ণ ক্ষমতায় মাইন্ড স্টোনকে ব্যবহার করে পৃথিবীর সবার মনকেই নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়া সম্ভব।( ভবিষ্যতে কোন না কোন সময় প্রফেসর X এর হাতে মাইন্ড স্টোন দেয়াই লাগবে!)

 

এর পরে ২০১৩ এর Thor: the dark world মুভিতে দেখা মেলে Aether ওরফে Reality stone এর। যদিও এইটা দেখতে কোনো স্টোনের মত না, বরং সুপারন্যাচারালের ডেমন স্মোকের মত! এর কাজ যেকোন ম্যাটার কে ডার্ক ম্যাটারে পরিণত করা। সোজা কথায় ম্যালকিথ একে ব্যবহার করে সব ইউনিভার্সকে ডার্ক এজে নিয়ে যাচ্ছিলো। কমিক অনুযায়ী এর কাজ কিছুটা উইশিং স্টোনের মত, যেকোন রিয়্যালিটিকে সম্ভব কিংবা অসম্ভব করে দেয়া যাবে এর সাহায্যে, তা ফিজিক্সের ল মানুক বা নাই মানুক। এমন কি ফিজিক্সের ল পরিবর্তন ও করে দেয়া যাবে।

 

 

এরপরে ২০১৪ এর Guardian of the galaxy: vol 1 মুভিতে দেখা মেলে পাওয়ার স্টোনের। পিটার কুইল ওরফে স্টার লর্ড Morag গ্রহ থেকে সেটা থেকে চুরি করতে গিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে থানোসের ডান হাত রোন্যান দ্য অ্যাকিউজারের সাথে। পাওয়ার স্টোনের কাজ হলো শক্তি ডিউরেবিলিটি, অমনিপটেন্স বাড়ানো। তবে সবচেয়ে বড় কথা, এর সাহায্যে গন্টলেটের অন্য যেকোন ইনফিনিটি স্টোনের পাওয়ার ও বাড়িয়ে নেয়া যাবে। পাওয়ার স্টোনটা বর্তমানে আছে Nova corps এর কাছে।

২০১৬ এর Doctor Strange মুভিতে দেখা মেলে Time Stone এর, যেটা কামার-তাজের লাইব্রেরিতে আই অফ আগামতোর ভেতরে সংরক্ষিত ছিলো। ডক্টর স্ট্রেঞ্জ মিস্টিক ওয়ার্ল্ডে কাটানো তার স্বল্প সময়ের জ্ঞান দিয়েই টাইম স্টোনের সাহায্যে ঘোল খাইয়ে দেয় ডার্ক ডাইমেনশনের ওভারলর্ড ডরমামুকে (Dormammu, I’ve come to bargain!)।

 

বোঝাই যাচ্ছে একে টাইম ম্যানিপুলেশন, টাইমলাইন চেঞ্জ, টাইম লুপ বানানো ইত্যাদি কাজে লাগানো যায়।সোজা কথায় এর সাহায্যে অতীত,বর্তমান, ভবিষ্যতকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা সম্ভব।

 

এগুলোর মধ্যে একমাত্র Soul stone এরই দেখা মেলেনি এখনো, তবে এর ওয়াকান্দায় থাকার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। এই সৌল স্টোন দিয়ে যেকোন আত্মাকে নিয়ন্ত্রণ কিংবা ধ্বংস করা যায়, এমন কি আত্মা থাকা জগতের সাথে যোগাযোগও করা যায়।

 

অ্যাভেঞ্জারদের অবস্থা:

 

Civil war এ Iron man সাথে হওয়া মতবিরোধ এখনো মেটেনি, তাই Captain America এখন আক্ষরিকভাবেই যাযাবর (Nomad)। Bucky চলে গেছে ওয়াকান্দায়, সেখানে তার নাম হয়ে গেছে White wolf। Civil warএ দল পাল্টিয়ে ফেলার কারণে Black widow এই মুহূর্তে টনি স্টার্কের কাছে থেকে গা ঢাকা দিয়ে অজ্ঞাত কোনো জায়গায় আত্মগোপন করেছে। Thor Ragnarok এ দেখা যায় Thor, Hulk, Loki আর অন্যান্য আসগার্ডিয়ানদেরকে ঘিরে ধরেছে থানোসের শিপ। হক আই, ফ্যালকন, স্কারলেট উইচ, অ্যান্টম্যান Raft থেকে পালাবার পরে কে ঠিক কোথায় আছে পরিষ্কার না। Spiderman আর Doctor Strange অবশ্য নিজেদের জায়গাতেই আছে। Star-Lord আর অন্য Guardianও আছে গ্যালাক্সির কোনো এক জায়গায়।

So lets get ready for the ultimate, deadliest showdown of all time

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. দারুণ ইনফরমেটিভ পোস্ট। মুভি দেখবার আগে রিফ্রেশারেরও কাজ করবে।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন