Memento: ক্রিস্টোফার নোলানের এক অনবদ্য সৃষ্টি
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

 

জন্মদিনে ক্রিস্টোফার নোলানকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

 

ক্রিস্টোফার নোলানের প্রথম দিককার মাত্র ৯ মিলিয়ন ডলার বাজেটের ব্রেন টুইস্টার এই মুভিকে গত দশকের অন্যতম সেরা মুভি বিবেচনা করা হয়।

মুভির কাহিনী সংক্ষেপে এরকম- লিওনার্দ ও তার বৌ ডাকাতের হাতে পড়ে, এতে লিওনার্দ মাথায় আঘাত পায় আর তার বৌ ডাকাতের হাতে ধর্ষণ আর খুনের শিকার হয়। মাথায় আঘাত পেয়ে লিওনার্দের শর্ট টার্ম মেমোরি লস হয়, তার কারণে সে অ্যাক্সিডেন্টের আগের ঘটনা মনে রাখতে পারলেও অ্যাক্সিডেন্টের পরে ১০-১৫ মিনিটের বেশি সময় স্মৃতি ধরে রাখতে পারেনা। সেই অবস্থাতেই সে বৌ হত্যার প্রতিশোধ নিতে চায়, সেই কারণে ইনভেস্টগেশনের বিভিন্ন তথ্য ট্যাটু আর পোলারয়েড ক্যামেরার ছবির মাধ্যমে মনে রাখার চেষ্টা করে। এই কাজে সে নাতালি আর দুর্নীতিবাজ পুলিশ টেডির সাহায্য নেয় কিন্তু দুইজনের কাউকেই বিশ্বাস করেনা।

মুভির কালার প্যালেট দুইটা- ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট আর ইয়েলো।ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইটের কাহিনীগুলো সিকোয়েন্স বাই সিকোয়েন্স দেখানো হয়েছে, আর রঙিন কাহিনী গুলো উল্টোদিক থেকে দেখানো হয়েছে, মানে মুভির শেষ দিক থেকে শুরু করতে হবে।

***** আসল কাহিনী (major spoiler alert)*********

লিওনার্ডের বৌকে John G নামের এক লোক আক্রমণ করে, কিন্তু তাতে কেউ মারা যায়নি।তবে লিওনার্ড মাথায় আঘাত পায়, তাই ঐ ঘটনার পর নতুন কোন মেমরি মনে রাখতে পারেনা। আবার ঐ ঘটনায় ট্রমাটাইজড হয়ে লিওনার্ড নিজেকে স্যামি মনে করতে থাকে।স্যামির বৌ (আসলে লিওনার্ডের বৌ, যে কীনা ডায়াবেটিক) জানতে চায়, লিওনার্ড আর ভাল হবে কীনা। লিওনার্ডকে চেক করার জন্য সে তাকে ইনসুলিন দিতে বলে, কিন্তু লিওনার্ডের যেহেতু মাথা খারাপ, তাই ভুল করে একবারের জায়গায় কয়েকবার ইন্সুলিন শট দিয়ে দেয়, যার ফলে তার বৌ মারা যায়।
লিওনার্ডকে তারপর মেন্টাল হসপিটালে নেয়া হয়, যেখান থেকে টেডি তাকে ছাড়িয়ে আনে।লিওনার্ড মেনে নিতে পারেনা, যে সে নিজেই তার বৌকে মেরে ফেলেছে, তাই ধরে নেয় John G ই তার বৌকে মেরে ফেলেছে।টেডি পরে লিওনার্ডকে সাহায্য করে John G কে মেরে ফেলতে।

লিওনার্ড এই ঘটনাও ভুলে যায়।এরপর তাই টেডি লিওনার্ডকে হিটম্যান হিসেবে ইউজ করতে থাকে বিভিন্ন লোককে মারার জন্য। টেডি এই কথা লিওনার্ডের কাছে সরাসরি স্বীকার করে কারণ সে সবই ভুলে যাবে। এতে লিওনার্ড রেগে গিয়ে এমনভাবে ক্লু রাখে যাতে মনে হয় টেডিই ওর বৌয়ের খুনী। লিওনার্ড আল্টিমেটলি সেই ক্লু ধরে টেডিকে মেরে ওকে ইউজ করার জন্য প্রতিশোধ নেয়, যেটা মুভির ফার্স্ট সিকোয়েন্স।

টেডি লিওনার্ডকে ভুল বুঝিয়ে নাতালির ড্রাগ ডিলার বয়ফ্রেন্ড জিমিকেও খুন করায়। নাতালি আবার লিওনার্ডকে ভুল বুঝিয়ে ডডকে মার খাওয়ায়, সেটার বিনিময়ে লিওনার্ডের হয়ে একটা গাড়ির (টেডির) লাইসেন্স প্লেট ট্র‍্যাক করে দেয়। নাতালি কিন্তু জানত যে লিওনার্ড টেডিকে খুনী মনে করছে, কিন্তু সেও টেডির ওপর প্রতিশোধ নিতে চায়, তাই লিওনার্ডের ভুল ভাঙায়নি।

************************************************

সুতরাং পুরো মুভিটাই পাজলের মত, আর একবার কাহিনী ধরতে পারলে বোঝা যায়, প্রত্যেকটা সিনেরই (এমনকি প্রত্যেকটা ডায়লগেরই) ডাবল মিনিং আছে ( The usual suspects, The sixth sense এর মত)

মেইন চরিত্রে অস্ট্রেলিয়ান গাই পিয়ার্স আর সাপোর্টিং রোলে The Matrix এর দুই কো-স্টার ক্যারি অ্যান মস আর জো প্যান্টিয়ালানো সবাই ছিলেন দুর্দান্ত।

আমার পছন্দের আরো কিছু ননলিনিয়ার মুভি
Primer
Mullholland drive
The Usual suspects
The Prestige
Mr nobody
The tree of life
The fountain
The following
Jacob’s ladder
Pulp Fiction
Stay
21 grams
Eternal sunshine of the spotless mind
Lost highway
Vanilla sky
Run Lola run
Michael Clayton

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. মুভিটা দারুণ। প্রথম দেখে বুঝা মুশকিল 😊

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন