ছবিয়াল রিইউনিয়ন
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

ছবিয়াল রিইউনিয়নের কথা শুনে পুরো নস্টালজিক হয়ে গেলাম। খুব সম্ভবত ২০০৬ সালের শুরুর দিকে চ্যানেল ওয়ান নামের এক চ্যানেলে দেখেছিলাম মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীরর ভাই বেরাদরদের ছবিয়াল উৎসব নামের এক অ্যাড। তারপর প্রতি শুক্রবারে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের নাটক উপহার দিয়ে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দিয়েছিলেন উদীয়মান তরুণ নাট্যনির্মাতারা। উত্তরার আলিশান বাড়ি না, পুরান ঢাকার সাদামাটা বাড়ি, শেওলা ধরা ছাদে শুটিং করা সাধারণ চেহারার অভিনেতাদের অসাধারণ নাটকগুলো সাড়া ফেলে দিয়েছিলো মানবিক কাহিনী আর মজার মজার ডায়লগ দিয়ে। সেই সাথে ম্যাচ করে ছিলো বাংলালিংকের অ্যাডগুলো (কত কথা বলে রে!)। নাটক মিস করলেও সমস্যা নেই। তখন ইউটিউব ছিলনা বটে, কিন্তু নাটকের সিডি ছিলো।

পরবর্তীতে সেই পরিচালকেরা নিজেরা স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হলেও দুঃখজনক ভাবে নাটকের ক্ষেত্রে যেরকম বিপ্লব আশা করেছিলাম, ঘটেছে ঠিক তার উল্টোটা। অথচ ছবিয়াল বাদেও আরো ভালো অনেক পরিচালক কাজ করছেন ( অনিমেষ আইচ, অমিতাভ রেজা, নুরুল আলম আতিক, সুমন আনোয়ার,শাফায়েৎ মনসুর রানা, শিহাব শাহীন)।

ছবিয়াল পরিচালকদের মাঝে রেদোয়ান রনি ছিল সবচেয়ে পিচ্চি 😛 , আর পরে সেই সবার মধ্যে শাইন করেছে সবচেয়ে বেশী। রনির নাটকগুলোর মধ্যে আছে তালা, উড়োজাহাজ, শখের গাড়ি, কোড নেম আলফা, ঝালমুড়ি, মানিব্যাগ, পাসপোর্ট, বউচি, জিম্মি, ফাঁদ ও বগার গল্প, ইফতেখার ফাহমির সাথে হাউসফুল, বিহাইন্ড দ্য সিন আর এফএনএফ, সরোয়ার ফারুকীর সাথে এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, জননী সাহসিনী ১৯৭১। আর বড়পর্দায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দেওয়া চোরাবালি আর মোটামুটি সাড়া ফেলা আইসক্রিম ত আছেই।

টিনের তলোয়ার দিয়ে চরম ডেব্যু করা আশুতোষ সুজনের নাটকগুলোর মধ্যে আছে টেক্কা, হাওয়া, খেপ, সকাল বেলার রোদ্দুর, মানুষ। সম্প্রতি আলোচনায় এসেছেন জুঁই তেলের নারী দিবসধর্মী অ্যাড দিয়ে।

ইফতেখার আহমেদ ফাহমির নাটকগুলোর মধ্যে রনির সাথে যৌথ প্রজেক্টগুলো ছাড়াও আরো আছে ফিফটি ফিফটি, লস প্রজেক্ট, ফু, সিনেমা, আমাদের গল্প।

আশফাক নিপুণের পছন্দের নাটক মনে করতে গেলে তাহসান-মিথিলার মধুরেণ সমাপয়েৎ, ল্যান্ডফোনের দিনগুলোতে প্রেম, হি এন্ড শি এগুলোই মনে পড়ে।

মুহম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের নাটকগুলোর মধ্যে আছে চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নেই, মাইক, গেম, ভাগফল, ফ্লেক্সিলোড, গ্র‍্যাজুয়েট, কিংকর্তব্যবিমূঢ় । মুক্তি পাওয়া সিনেমার মধ্যে আছে প্রজাপতি, তারকাঁটা, সম্রাট ।

আলী ফিদা একরাম তোজোর নাটকগুলোর মধ্যে আছে অঘটনঘটনপটিয়সী, লাভ ইউ বাবা, ফ্যামিলি প্যাক, উভচর, কাকতাল, পারিবারিক জীব, ইল্যুশন।

ছবিয়ালের অন্যান্য পরিচালকেরা হলেন সরাফ আহমেদ জীবন, গোলাম কিবরিয়া ফারুকী, হুমায়ূন সাধু, ইশতিয়াক আহমেদ রোমেল, মাহমুদুল ইসলাম ও আদনান আল রাজীব।

ঈদের জন্য নির্মিত নাটকগুলোর নাম হচ্ছে – ছাব্বিশ দিন মাত্র (মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ), চিকন পিনের চার্জার (হুমায়ুন সাধু), বিকেল বেলার পাখি, ছেলেটা কিন্তু ভাল ছিল (আশফাক নিপুণ), পুতুলের সংসার(আশুতোষ সুজন), আবার তোরা সাহেব হ (রেদওয়ান রনি), নোঙর ফেলি ঘাটে ঘাটে (ইফতেখার আহমেদ ফাহমি)। প্রথম সাতজনকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়েছে।

এদিকে ছবিয়াল পরিবারের অন্যতম সদস্য নির্মাতা মাহমুদুল ইসলাম বলেছেন এই ঈদে প্রথম সাত জন নির্মাতার নাটক প্রচার করা হবে পাশাপাশি আগামী ঈদুল আজহায় বাকি পাঁচ জনের নাটক প্রচার করা হবে। এছাড়াও এই বারোজন নির্মাতাকে নিয়ে ১২ টি ফিচার ফিল্ম নির্মাণের পরিকল্পনাও আছে।

আরো অনেক নাটকের কাহিনী মনে আছে কিন্তু নাম মনে নেই। যেমন অনেকদিন পরে ঐদিন মারজুক রাসেল আর সিঙ্গার রুমির একটা নাটক দেখলাম, ইশতিয়াক রোমেলের পরিচালনায় জীবন থেকে নেওয়া। এমনভাবেই নাটকগুলো মনে দাগ কেটে গেছে যে যেকোনসময়ই দেখতে ভালো লাগে।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন