দ্য মামির প্রত্যাবর্তন
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

আমরা যারা 90’স কিড নামে পরিচিত, তাদের মধ্যে ইংলিশ মুভিপ্রেমী কিন্তু “দ্য মামি” মুভির নাম শোনেননি, এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবেনা। তখনকার সময় ইন্টারনেট ত এত সহজলভ্য ছিলো না, তাই মুভি দেখতে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল আর ডিভিডি ই ছিল ভরসা। আর মাঝারী মানের ব্লকবাস্টার হওয়া সত্ত্বেও দ্য মামি আর এর সিক্যুয়েল দ্য মামি রিটার্নস নিয়মিতই টিভির পর্দায় এসে উপস্থিত হত। ব্রেন্ডন ফ্রেসার আর র‍্যাচেল ভাইৎসের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি, সাথে মমি হিসেবে আরনল্ড ভসলোর ভয়ংকর রূপ দারুণ উপভোগ্য ছিল। কাহিনীর চাইতে কাহিনী উপস্থাপনা ছিল বেশি মজার। কে ভুলতে পারে ডমিনো ইফেক্টে ইভিলিনের পুরো লাইব্রেরী নষ্ট করে দেবার দৃশ্য? কিংবা বিড়াল দেখে মমির ধূলা হয়ে যাওয়া (মিশরীয়রা দেবী মনে করত বিড়ালকে)? কিছু ডায়লগ আর তার ডেলিভারি এমন, যে সিরিয়াস মুহূর্তেও হাসি চেপে রাখা দায়!

11

যখন শুনলাম যে মামি মুভির রিবুট নিয়ে আসছেন টম ক্রুজ, তখনই মনের মধ্যে কিছুটা খুঁতখুঁতানি কাজ করল। টম ক্রুজের সমসাময়িক সবাই যেখানে এক্সপেরিমেন্টাল কিংবা ভিন্ন ধাঁচের মেগা ব্লকবাস্টার নিয়ে ব্যস্ত, সেখানে তাঁর সাথে মামি রিবুটের মত অ্যাকশন হরর মুভি করাটা ঠিক যায়না। মুভি ট্রেলারও খুব বেশি আশা জাগাতে পারেনি ( মিশন ইম্পসিবল টাইপ অ্যাকশন, লোকেশন: মিশর)। সাথে রাসেল ক্রোর মত শক্তিশালী অভিনেতাও যোগ দিয়েছেন আরেক বিখ্যাত হরর বই চরিত্র ড জেকিল/মি হাইড হিসেবে।

33

ট্রেলার রিলিজের কিছুদিন পরেই হলিউডের ইউনিভার্সাল স্টুডিও ঘোষণা দিল তারা মার্ভেল কিংবা ডিসি র মত মুভি সিরিজ বানানো শুরু করবে তাদের ক্ল্যাসিক হরর চরিত্রগুলোকে নিয়ে। হরর মুভিপ্রেমীদের জন্য তা বিশাল বড় সুখবর। ড্রাকুলা, ফ্র‍্যাংকেন্সটাইন, মায়ানেকড়ে নিয়ে অসংখ্য মুভি এবং টিভি অ্যাডাপ্টেশন আছে, এক ভ্যাম্পায়ার নিয়েই কতকিছু আছে তা গুণে শেষ করা যাবেনা। কিন্তু যারা খোদ ১৯৩০-৪০ দশকে এই ক্ল্যাসিক চরিত্রগুলোকে প্রথম পর্দায় এনেছিল, তারা যদি বড় অভিনেতাদের নিয়ে এরকম উদ্যোগ নেয়, তাহলে ভুল করার সুযোগ কোথায়? ইনভিজিবল ম্যান হিসেবে জনি ডেপ, ব্রাইড অফ ফ্র‍্যাংকেন্সটাইন হিসেবে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, ফ্র‍্যাংকেন্সটাইন হিসেবে হাভিয়ের বারডেম ইতিমধ্যেই চুক্তিবদ্ধ হয়ে গেলেন। তাই বরিস কার্লোফ আর বেলা লুগোসির ক্ল্যাসিক ছবিগুলোর নতুন রূপ দেখার জন্য সবাই মোটামুটি তৈরী।

22

কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি দিতে বসেছে দ্য মামি রিবুট। অনেকেই নস্টালজিক হয়ে ১৯৯৯ এর মামির সাথে তুলনা করতে বসেছেন, যা একেবারেই অযৌক্তিক। এটা ১৯৩২ এর অরিজিনাল মুভির রিমেক, তাই হালকা চালের কোন কাহিনীর সুযোগ নেই। কিন্তু তারপরেও টম ক্রুজের নিক মরটন, সোফিয়া বুটেলার মিশরীয় প্রিন্সেস/মামি আর রাসেল ক্রোর ড জেকিল/ মি হাইড সবার মনে দাগ কাটতে ব্যর্থ হয়েছে দুর্বল স্ক্রিপ্ট আর অতিরিক্ত অ্যাকশননির্ভর হবার কারণে।

Jenny Halsey (ANNABELLE WALLIS) and Nick Morton (TOM CRUISE) in a spectacular, all-new cinematic version of the legend that has fascinated cultures all over the world since the dawn of civilization: "The Mummy." From the sweeping sands of the Middle East through hidden labyrinths under modern-day London, "The Mummy" brings a surprising intensity and balance of wonder and thrills in an imaginative new take that ushers in a new world of gods and monsters.

কিংসম্যান আর স্টার ট্রেক বিয়োন্ডখ্যাত অ্যাকশন অভিনেত্রী সোফিয়া বুটেলার চরিত্র আহমানেট নামের একজন মিশরীয় রাজকুমারীর। ক্ষমতার লোভে সে খুন করে ফেলে তার পরিবারকে, চুক্তি করে মৃত্যদেবতা সেটের সাথে। অবশ্য তার পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় জীবন্ত কবর দিয়ে দেয়া হয় তাকে, মাংসখেকো পোকাসমেত!

88

টম ক্রুজের নিক মরটন এই মুভিতে একজন সৈন্য কাম ঠগবাজ। ইরাকে থাকাকালীন সময় জ্যাক একদিন ঘটনাক্রমে একদিন তার পার্টনার ক্রিসের সাথে আহমানেটের কবর উন্মোচিত করে ফেলে। ইতিমধ্যেই জ্যাকের সাথে পরিচয় হয় আর্কিওলজিস্ট জেনিফারের। জেনিফার চরিত্রে পিকি ব্লাইডার্স টিভি সিরিজখ্যাত অ্যানাবেল ওয়ালিস এখানে নিছক আই ক্যান্ডি ছাড়া কিছুই না। টম ক্রুজের কিছুটা অ্যান্টিহিরো ধরনের চরিত্র বেশ কিছুটা বৈচিত্র্য এনে দিয়েছে। ইউনিভার্সালের মার্কেটিং টিম তাদের ট্রেলারে টম ক্রুজকে দেখিয়েছে স্বার্থহীন, সাহসী আর অস্বাভাবিক দক্ষতায় ভিলেনদের বধ করা এথান হান্ট কিংবা ইন্ডিয়ানা জোনস টাইপ নায়ক হিসেবে। তাই মুভি দেখতে বসে দর্শক থমকে যেতে বাধ্য। নিক মরটন কোন নীতিবান ভালো লোক নয়, নিজের ভালো ছাড়া তার মাথায় কিছুই নেই। দেশের পক্ষে ডিউটি দিলেও সে কর্তব্যপরায়ণ সৈন্য নয়, বরং তার পার্টনার ইন ক্রাইম ক্রিসের সাথে কিভাবে মালপানি বাগানো যায় সেই পরিকল্পনায় ব্যস্ত।

The Mummy

রাসেল ক্রোর ড জেকিল/ মি হাইডের চরিত্রটি অনেকটা মার্ভেলে স্যামুয়েল এল জ্যাকসন অভিনীত নিক ফিউরির মত। ড জেকিল এখানে সারা বিশ্বে বিভিন্ন অতিপ্রাকৃত ঘটনা তত্ত্বাবধায়ক সংঘ প্রডিজিয়ামের সভাপতি। তবে অস্ট্রেলিয়ান ককনি টানে ইংলিশ বলা মি হাইডের সাথে হাল্কেরও খানিকটা মিল আছে!

44

পরিচালক সাড়া ফেলে দিতে চেয়েছিলেন জিরো গ্র‍্যাভিটিতে শুটিং করে, যার জন্য নাকি টানা ৬০বার শট নেয়া লেগেছে! উড়োজাহাজ প্রায় ২৫০০০ ফুট উপরে উঠে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাবার কারণে যে তার আরোহীরা অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়, পরিচালক দর্শককে তারই স্বাদ দিতে চেয়েছেন। এছাড়াও স্ক্রিপ্টে ছোটখাট কিছু টুইস্ট আছে। নজরকাড়া সেট ডিজাইন চোখকে আরাম দিতে বাধ্য।

77

ওয়ান্ডার ওম্যানের অভিযান এখনো চলছে সিনেমা হলগুলোতে, তাই খারাপ রিভিউ পাওয়ার কারণে অন্তত উত্তর আমেরিকায় মামি রিবুটের ব্লকবাস্টার হওয়ার আশা খুবই ক্ষীণ। এর আগে আ লীগ অফ এক্সট্রা অর্ডিনারি জেন্টলমেন মুভি আর টিভি সিরিজ পেনি ড্রেডফুলে বিভিন্ন ক্ল্যাসিক হরর চরিত্রের সন্নিবেশ ছিল খুবই উপভোগ্য, বিশেষ করে পেনি ড্রেডফুল ত ব্যাপক জনপ্রিয়। ইউনিভার্সাল স্টুডিও হয়ত সেরকমটাই ভেবেছিল। কিন্তু যদি মামির মত বিখ্যাত চরিত্র আর টম ক্রুজ, রাসেল ক্রোর মত অভিনেতাদের নিয়েও তারা বড় একটা প্ল্যাটফর্ম দাঁড়া করাতে না পারে ( যেটা মার্ভেলের জন্য করেছিল আয়রন ম্যান আর ডিসির জন্য ম্যান অফ স্টিল), তাহলে ডার্ক ইউনিভার্সের ভবিষ্যৎ অন্ধকার ( pun intended )।


এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Jharna Baroi says:

    It’s a Tom cruse’s movie. So Mission Impossible type action thakbei….😊
    Although there is negative review but I like the movie.

    • xen29 xen29 says:

      দ্য মামি কে নিছক অ্যাকশন মুভি বানিয়ে ফেলাটা বোকামি হয়েছে। ডার্ক নাইট, অ্যাভেঞ্জার, আয়রন ম্যান, ক্যাপ্টেন আমেরিকা ২ এগুলোতেও অ্যাকশনের কোন কমতি নাই। কিন্তু কাহিনী এমন যে সেটা দিয়েই দর্শক টানার জন্য যথেষ্ট, কোনভাবেই মাইন্ডলেস অ্যাকশন মুভি বলা যাবেনা এগুলোকে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন