ম্যাথ প্রডিজির প্রতিভা ঝলক
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

FB_IMG_1480069508225

ভারতের মাদ্রাজের এক স্বল্পশিক্ষিত হিন্দু ক্লার্ক যিনি কীনা রাত কাটা্তেন নাম্বার থিওরী আর অ্যানালাইসিস নিয়ে।কয়েকজনের অনপ্রেরণায় পেপার পাব্লিশ করার জন্য কেম্ব্রিজের নামকরা অধ্যাপক হ্যারল্ড হার্ডিকে চিঠি লিখে নিজের কিছু থিয়োরাম পাঠালেন, যেগুলো উচ্চশিক্ষিত গণিতজ্ঞদের পক্ষেও আবিষ্কার করা প্রায় অসম্ভব।জহুরি জহর চেনে। হার্ডি তাই বুঝলেন অজ্ঞাতকুলশীল রামানুজন কোন ঠগ না, এক জন জিনিয়াস। যে গণিত প্রতিভা অনাদর আর অবহেলায় পড়েছিল পরাধীন ভারতে, তার স্বীকৃতি অবশেষে মিলল পশ্চিমে। হার্ডির সঙ্গে যৌথ গবেষণায় এবং একক ভাবে তিনি আবিষ্কার করলেন অনেক কিছু, নির্বাচিত হলেন ট্রিনিটি কলেজ এবং রয়্যাল সোসাইটির ফেলো।রক্ষণশীল পরিবার ও সমাজ পেরিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ইংল্যান্ডের বৈরী আবহাওয়া আর নাক উঁচু মানষদের সাথে তাল মিলিয়ে কেমন করে নিজের বিশ্বে পরিচিত করে তুললেন বিখ্যাত ম্যাথ প্রডিজি শ্রীনিবাস রামানুজন, তাই নিয়ে The man who knew from infinityর কাহিনী ।

রামানুজন তার সময়ের চাইতে এগিয়ে থাকলেও মজার ব্যাপার হল সেইটা এমনই এক সময়, যখন কীনা বিজ্ঞানীরা প্রমাণ ছাড়া কোন সূত্র মেনে নিতে রাজি না। তাই তাঁর জন্ম আরও দুই শতাব্দী আগে হলেই বরং ভাল ছিল!

Good Will Hunting মুভিতে উইল হান্টিং এর একটা ডায়লগ ছিল এমন যে, বিটোফেন বা মোজার্ট যেমন পিয়ানোর দিকে তাকিয়ে সুর নিয়ে খেলতে পারে, উইল সেরকমটা চিন্তা করতে পারে সংখ্যা বা সূত্রকে নিয়ে। আমার বিশ্বাস এইটা রামানুজনের প্রতি সরাসরি রেফারেন্স।

রামানুজনের মেন্টর হার্ডি হিসেবে জেরেমি আয়রনস ছিলেন অনবদ্য।দেভ প্যাটেল হয়ত রাসেল ক্রো বা বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচের মত গ্রাউন্ডব্রেকিং পারফরম্যান্স দিতে পারেনি, মুভিটাও হয়ত সেইরকম মাস্টারপিস কিছু হয়নি, তবে উতরে যাবার মত। একটা বড় ভুল হল, রামানুজনকে এখানে দেখানো হয়েছে শান্তশিষ্ট ঠাণ্ডা স্বভাবের কিন্তু সত্যিকারে তিনি ছিলেন একেবারেই এই ধরনের নার্ড ছিলেননা। তিনি তাঁর চঞ্চল কথাবার্তায় সবাইকে মাতিয়ে রাখতে পছন্দ করতেন। তবে গণিতের ছাত্র হিসেবে রামানুজনের জীবনী দেখার ইচ্ছা সবসময়ই ছিল তাই দেখতে বেশ ভালই লেগেছে।মুভিটা দেখতে দেখতে মনে হয়েছে হঠাৎ করে শুরু হয়ে হঠাৎই যেন শেষ হয়ে গেল। তবে রামানুজনের আবির্ভাবও ধূমকেতুর মতই, মাত্র ৩২ বছর বয়সে ৪০০০ এর মত থিওরি তারই প্রমাণ দেয়।। সৌভাগ্যের বিষয়, পরবর্তীতে তার আরো কিছু দুর্লভ ফর্মুলা খুঁজে পাওয়া যায়, যা কীনা এখন ব্ল্যাকহোল গবেষণার কাছে ব্যবহৃত হচ্ছে।


মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন