পাঁচটি বিরক্তিকর রীতি যার ফলে প্রতিটা মুভিই একরকমের দেখায়
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

27901

হলিউড, মুভি নির্মাতাদের জন্য স্বর্গ বিশেষ। এখানে স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় ও এর সাথে বাস্তবায়িত হয় উরাধুরা অনেক বস্তুর। যারা অনেকদিন থেকে হলিউডি মুভি দেখেন তারা অনেকেই আজকের লেখার সাথে একমত পেষণ করবেন, দীর্ঘ সময় ধরে মুভি নির্মান করার ফলে আসল ক্রিয়েটিভিটি ও আইডিয়া লিটারেলি নর্দমায়ে পরেছে, এখনকার মুভিগুলো এমন একটা ধাচের ভিতরে পরেছে যে ধাচ থেকে উঠে আসা অনেকটা অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে। লেখাটির বিষয়বস্তু হলো হলিউডের মুভিগুলোর এমন কিছু ট্রেন্ড যার ফলে দর্শক মহলে কিঞ্চিত বিরক্তির সৃষ্টি লক্ষনীয়।

যেমন:

 

>কালার কোডিং এর ভিতর দিয়ে মুভি জেনার নির্ধারণ

27941

কখনো কি লক্ষ্য করেছেন যে কোথাও কোনো এক চিপায়ে অলিখিত এক সংবিধান আছে যেখানে বলা হয়েছে যে হরোর মুভি সর্বদা নীলচে হবে?

Capture

 

আবার ধংসাত্মক মুভিগুলো কেমন জানি ধুসর ও ধুয়ে যাওয়া মনে হয়

ffh

এরকমের আরও কিছু সুক্ষ উদাহরণ আছে, উদাহরণ দিতে গেলে বলা যায় যে সকল মুভিগুলো মরু অঞ্চলের সেগুলো একটু হলদে হয়ে থাকে, আমি কিন্তু সুর্য কিংবা বালুর কথা বলছিনা, বলছি Indoor সিনের কথা যেগুলো দেখলে মনে হয় হলুদ মুত্রর ভিতর দিয়ে ফিল্মিং করা।

27907

Smoking Aces (Las Vegas)

27908The Hills Have Eyes (rural Nevada)

যেসব মুভিতে বাস্তবতা প্রশ্নমুখি সেগুলো কেন জানি সবজে

27909Fight Club

27910The Matrix

আসলে সত্যি কি, আপনি মুভি শুরু হওয়ার পরে রং দেখেই বলে দিতে পারবেন ইহা কোন জেনারের মুভি।

এমনটা করার কারণ?

এটাকে "ডিজিটাল কালার কারেকশন" বলে, আগেকার দিনে আপনি যদি আপনার মুভির ভিতরে কিছুটা শৈল্পিক ভাব তুলে ধরতে চান, তাহলে আপনাকে অনেক আদাজল খেয়ে লাইট ও ক্যামেরায়ে সঠিক ফিল্টার ব্যবহার অথবা সঠিক উপায়ে ফুটেজটি গ্রহণ করতে হতো। কর্মপ্রক্রিয়া ছিল অনেক মুল্যসাধ্য, কঠিন। এবং এই রিস্ক তারাই নিতেন যারা জানেন তারা কি করতে যাচ্ছেন।

আর এখন? আপনি জফি হলিউডি ডিরেক্টর হন ও প্রযুক্তির ব্যবহার জানেন তবে কয়েকটি ক্লিকের ভিতর দিয়েই আপনি আপনার মুভিটিকে করে নিতে পারেন শৈল্পিক ও স্টাইলিশ। আপনার কাছে যদি কালার কারেকশন সফটওয়ার থাকে তাহলে একটি বাচ্চাকে দিয়েও আপনি আপনার মুভিটিকে লাল নিল হলুদ বানিয়ে ফেলতে পারবেন।

The Coen brothers এই সিস্টেমের উদ্ভাবক নন, কিন্তু "Oh Brother, Where Art Thou" সর্বপ্রথম মুভি যেখানে ফ্রেম বাই ফ্রেম কালার করে পুরান দিনের সেপিয়া ভাব গড়ে তলা হয়েছে।

27914

যেই কাজটাকে কোয়েন ভাইরা নতুনত্ব ও ক্রিয়েটিভ মনে করেছিলেন সেখানে অন্য ডিরেক্টররা মনে করেছিলেন (এই লেখকের ধারণা) কে কালার থিমের মাধ্যমে যেকোনো মুভিকে তার থিমে একটা বুস্ট দেয়া যায়, নীলচে ভাব দিলে একটু ভয় বেশি লাগবে, ধুস ভাব দিলে মনমরা বেশি লাগবে যা দর্শকদের প্রভাবিত করবে (প্লট যতই ফালতু হোক না কেন :P)।

 

>সবখানেই নীলচে সবুজ ও কমলা

27940

নব্বই দশকের প্রথমদিকেকার প্যারাসুট ডিজাইনারদের মত মুভির গ্রাফিক্স ডিজাইনাররাও সিদ্ধান্ত নিলেন যে মুভিতে দুটি কলারকে প্রাধান্য দিলেই মারহাবা, কিন্তু তাদের কইবে কেডা যে "কমলা সুন্দরী" নামটাই ভালো লাগে একচুয়াল কমলা চামড়া দেখতে ভালো লাগেনা।

27915 27916

কম আলো ওয়ালা রুম সর্বদা নিলচেই হতে দেখলাম.

27917

যেমনেই পারুক নীলের মধ্যে কমলা স্পেশাল এফেক্ট দিতেই হবে তাদের

27919 27918

এই পোস্টার গুলা দেখেন না, আর কিছুই বলা লাগবে না

27920

এমনটা করার কারণ?

এই কালার হুইলটা একটু লক্ষ্য করুন

27921

আপনি এই জিনিস অনেক জায়গাতেই দেখেছেন, বিভিন্ন পেইন্টিং সফটওয়ার এ,  এটা বানানো হয় কোন কালার কোনটার কাছাকাছি রঙের তার উপর নির্ভর করে, একটা ভালো সিন শুট করতে গেলে আপনার লক্ষই থাকবে ভালো কালার কন্ট্রাস্ট তৈরী করার, যেহেতু বেশিরভাগ মুভিতেই মানুষ আছে তাই মানুষের চামড়ার রঙের সাথে কালার হুইলের সবচেয়ে নিকট কালারটি নেয়া হয় ও তাকে ফুটিয়ে তলার জন্য ব্যাকগ্রাউন্ডে ঠিক বিপরীত কালারের ব্যবহার করা হয়, এক্ষেত্রে Teal and Orange।

27922

কিন্তু এইটা আবার অতিরিক্ত

>Ramping _থামিয়ে টান মারা

27939

আধুনিক একশন মুভিতে কখনই দেখবেন না যে হিরো ধাম করে তার ফাইনাল এটাক বসিয়ে দেবে, না কখনই না, তারা পুরা জিনিসটাকে একদম স্লোওওওওওওওও করে দিবে যেন আপনি বুঝতে পারেন উহা চাপার তলে একটা ঘুষি আছিল।

Troy মুভিতে ব্র্যাড পিটের ছোড়া হামলা উড়ন্ত থাকা অবস্থায়ে স্লো করে দেয়া হয়, মনে হয় উনি প্রিন্স অফ পার্সিয়ার মত সময় কন্ট্রোল করতে পারেন…

27923

আবার Watchmen মুভিতে পেশিতে যখন ঘুষি (বা অন্য কোনো মাইর) পরে তখন পুরা দুনিয়া স্লো হয়ে যায় যেন আপনার আমার মত উজবুক জনতা বুঝবার পারে যে উহা একটা ঘুষি..

27924

আবার আরেকটা আছে যার নাম মাত্র দিলাম 300 মেথড :P. যেখানে হিরো কিছু অস্থির করার আগ মুহুর্তে সব ফ্রিজ.

27925

এরপর সব চোখের পলকে ঘটে যায় যখন সে হামলাটা শেষ করে

27926বুম, ইউ আর ডেড

 

এমনটা করার কারণ?

এই প্রক্রিয়াটির নাম ramping। সাধারনত ২৪ FPS এ শত নেয়ার বদলে ৪৮,৭২ বা ৯৬ FPS এ শট নিলে এই স্লো মো এফেক্ট অর্জন করা সম্ভব, FPS যত বেশি শট ততো স্লো।

 

স্লো মোশন প্রক্রিয়া মুভি বানানোর আদিকাল থেকেই ছিল, তখন খালি ক্যামেরা অপারেটিং হ্যান্ডেল একটু জোরে ঘুরালেই হয়ে যেত। আর এখনকার ডিজিট্যাল যুগে রয়েছে আরো সহজ ও সুক্ষ পদ্ধতি।

27927

এই আকামের জন্য আপনারা দুটো মুভিকে দোষারোপ দিতে পারেন, একটি হলো Matrix, যেখানে Neo গুলি থেকে পল্টি নেয়ার জন্য হাওয়ার বিছানাতে গা এলিয়ে দেয়। ওই কাজের ভিতর দিয়ে প্রমানিত হয়েছে যে শট শুধুমাত্র স্লো করা যায় না, কন্টিনিউয়াস প্রসেসে স্লো মো করা যায়। আরেকটা মুভি হলো 300 যেটার স্লো মো এফেক্ট বাদ দিলে পুরা মুভিটা ১৫ মিনিটেরও হবে কিনা সন্দেহ।।

>ডকুমেন্টারি ভাব নেয়া

27938

আমি ওই মুভিগুলার কথা বলছি না যেগুলা আসল অর্থেই ডকুমেন্টারি, কিন্তু সেগুলার কথা বলছি যেগুলো মুভি আপনাকে বুঝাতে চায় যে ঘটনাটি এক কৌতুহলী জনতার হ্যান্ডি ক্যাম দিয়ে শুট করা, যদিও ইয়া বড় এক ফিল্ম ক্রুর করা কাজ উহা।

মরার উপর খাড়ার ঘা হলো, বর্তমানে মুভিতে এমন সব এলিমেন্ট যোগ করা হয় যা এককালে মুভিতে থাকলে লজ্জার বিষয় হিসেবে গণ্য হতো।

সন্দেহহীন ভাবেই বলতে পারি যে আপনি "কাঁপা ক্যামেরা" কনসেপ্টের সাথে পরিচিত, ঠিক যেন আপনাকে চেতানোর জন্যই ক্যামেরাটা ইচ্ছামত ঝাকানো হয় যাতে আপনি বলতে না পারেন কে কারে ঠুহাইতেছে.

27928

কোয়ান্টাম অফ সলেসের সবচেয়ে ক্লিয়ার শট :/

এছাড়াও আরো হাস্যকর এফেক্ট আছে, যেমন লেন্সের মধ্যে হাবিজাবি জিনিস ফেলা, বিভিন্ন যুদ্ধের মুভিতে দেখতে পাবেন লেন্সের মধ্যে মাটি লাগছে, রক্ত লাগছে. হেল! সেভিং প্রাইভেট রায়ান এ তো মাটি পানি রক্ত তিনটা দিয়েই লেন্স ভরা..

28229

এছাড়া আছে, "ধুর! ক্যামেরা লাইটের দিকে ফোকাস করলো কিডা?" এফেক্ট, আরেক ভাষায়ে বললে লেন্স ফ্লেয়ার।

Captureস্টার ট্র্যাকে লেন্স ফ্লেয়ার এতই ছিল যে  J.J. Abrams এর একটি এপোলজি স্টেটমেন্ট ইস্যু করতে হয়েছিল

এমনটা করার কারণ?

মেইন আইডিয়া হলো জিনিসটাকে একটা এক্সিডেন্ট হিসেবে দেখানো, তাহলে অনেকেই বলতে পারে যে কাজের মধ্যে "বাস্তবিক" ভাব আছে। আগের সিস্টেমে মুভি শুট করা (যেখানে সব ঘটনা ঝকঝকে দেখা যায়) বেশি পরিষ্কার ও মেকি মেকি মনে হওয়াতে দর্শকদের মন আর কাড়ে না, ভালো মুভি বানাতে হলে এরকমের এফেক্টের বিকল্প নেই (আমি সিউর না কিভাবে সকল মুভির ক্ষেত্রে এই থিওরি খাটে)।

27932

ডিরেক্টররা এই সিস্টেমের সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলেই তার কাজ সফল, সেভিং প্রাইভেট রায়ান এ যেমন স্পিলবার্গ ইচ্ছা করেই ক্যামেরার লেন্স ফাটিয়ে দিয়েছেন যেন জিনিষটা মুভি কম আসল যুদ্ধ ক্ষেত্র বেশি মনে হয়।

>থ্রিডি, যা কেন জানি মুভিটাকে আরো খারাপ বানায়

27937

থ্রিডি মুভির জগতে কি ও কেন জানি সব উল্টাপাল্টা হচ্ছে, কিন্তু Avatar মুভিটা এতটাই বাস্তব ছিল যে আপনাদের অনেকেরই ইচ্ছা করেছে যে স্ক্রিনে লাফ দিয়ে সেই জগতে চলে যাই, আবার ডিজনি পিক্সারের Up, Toy Story দেখে মনে হয়েছে যে হাত দিলেই আপনি খেলনাগুলো ধরতে পারবেন।

27934

আবার একই জেনারের মুভি, একই থিয়েটারে দেখবেন যা পুরা ফালতু, লিটারেলি লুকস লাইক শিট। Clash of The Titans জাকজমকের সাথে থ্রিডি রিলিস পায় যা ক্রিটিকদের মতে থ্রিডি জেনারের নামের কলঙ্ক।

কিন্তু সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হলো The Last Airbender এর, কয়েক মুহুর্তের জন্য মুভিটির ফালতু ডায়ালগ আর এক্টিং এর কথা ভুলে যান, লক্ষ্য করবেন এটার থ্রিডি কাজ এতই ফালতু ছিল যে সব কিছুতেই অন্ধকার ও ময়লা ময়লা ভাব। 2d মুভি এর চেয়ে ভালো লেগেছে।

এমনটা করার কারণ?

মুভির প্রমোশনে আপনাকে তারা একটা কথা বলতে ভুলে যায় (নাকি ইচ্ছা করেই বলেনা) যে সব থ্রিডি মুভি একচুয়াল থ্রিডি তে শট করা হয় না, এগুলোর বেশিভাগই শুটিং এর পরে থ্রিডি তে কনভার্ট করা হয় মাত্র এর ফলে থ্রিডি সম্পর্কে আপনার ধারনাটাকে যে নিম্নমানে পরিনত করে ফেলে তাই নয়, পুরো ইমেজটাকেই নষ্ট করে দেয়।27936তারা এমনটা কেন করবে? ভাই উত্তর একটাই, পাত্তি পাত্তি. ট্যাকা। অরিজিনাল থ্রিডির যে খরচ তার কয়েক ভাগ কম খরচে 2d কে 3d তে কনভার্ট করা যায়, কিন্তু সিনেমা হলে কিন্তু আপনি অরিজিনাল থ্রিডির টিকেট কেটেই ঢুকছেন. বুঝেন তাদের কতটা লাভ।

 

মুভি জগত সম্পর্কে এরকম আরও খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিন:  http://www.facebook.com/we.are.movie.lovers

তথ্য ও ছবি সংগ্রহ: cracked.com

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন