Total Recall, যখন নিজের পরিচয়ই অজানা….
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

220px-TotalRecall2012PosterTotal Recall
জেনার: একশন, এডভেঞ্চার, সায়েন্স ফিকশন
Imdb rating: 6.3
আমি দিলাম: 7.5
মুক্তিকাল: 3 August 2012 (USA)

একটু চিন্তা করেন, আর দশটা নরমাল দিনের মতন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠলেন, ব্রাশ শেষ করে নাস্তা খেয়ে চলে গেলেন কাজে, দিন শেষে কাজ থেকে ঘরে ফিরলেন। এইভাবেই অতিবাহিত হচ্ছে আপনার জীবন। কিন্তু আসলেই কি? আপনি কি আসলেই একজন সাধারণ নাগরিক? আপনি যেখানে কাজ করছেন সেখানে আপনার অনেক বছরের কাজের রেকর্ড, কিন্তু আসলেই কি রেকর্ড আছে? একদিন যদি জানতে পারেন যে আপনি যে পরিচয়ে পরিচিত, আপনি আজ অব্দি যা জানেন তা সবই মিথ্যা তবে কেমনটা হবে?

মুভিটার পটভূমি অদূর ভবিষ্যতে, যখন যুদ্ধক্ষেত্রে রাসায়নিক বম্বের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পৃথিবীর অধিকাংশ স্থান বাসের অনুপুযোগী হয়ে পরেছে, টিকে আছে মাত্র দুটি আশ্রয়স্থান। অর্থনৈতিক মন্দা, জনসংখ্যার বিস্ফোরণের মত নিত্যদিনের হাজার সমস্যা সাথে লেগে আছে তখনকার কথা বলছি। Douglas Quaid নামের একজন সাধারণ ফ্যাক্টরি ওয়ার্কার, দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ, সাত বছর ধরে বিবাহিত। সবই ঠিক চলছিল কিন্তু এই ডগলাস এক ঘটনার মধ্যে দিয়ে জানতে পারে যে "সে" না যাকে এতদিন ধরে দেখে আসছে, প্রশ্ন হলো, কে এই ডগলাস কি তার আসল পরিচয়? এই প্রশ্ন ডগলাসের নিজেরও।

 

total-recall-comparison-trailer-thumb-550x295-94147

সোয়ার্জেনেগার ভার্সাস কলিন

মুভিটা নির্মান করা হয়েছে ডিরেক্টর Paul Verhoeven এর নির্দেষনায়ে Arnold Schwarzenegger ও Sharon Stone এর অভিনীত ১৯৯০ সালের সায়েন্স ফিকশন ফিল্ম "Total Recall" থেকে যা দুটি ক্যাটেগরিতে অস্কারের জন্য মনোনয়ন পায়। এই দুই মুভি হলো অনেকটা পয়সার এপিঠ ওপিঠের মতন, প্রথম মুভির সাথে কাহিনীর অনেকাংশে মিল থাকলেও বেশ আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে এই মুভিতে, মেইন থিম এক রেখে গল্পটাকে আরেকদিকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়ার এই সিদ্ধান্তকে অনেক স্বাধুবাদ জানাই, কারণ দুটি যদি ফ্রেম বাই ফ্রেম কপি হতো তাহলে যারা প্রথম মুভিটা দেখেছে তারা কোনো মজাই পেতো না।

মুভির কাহিনীর পাশাপাশি আরো বলতে গেলে প্রথম মুভির সাথে এই মুভির ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে, শুরুতেই বলা যায় স্পেশাল এফেক্ট গুলোর কথা, ১৯৯০ সালে বানানোর ফলেও প্রথম মুভিতে অনেক স্পেশাল এফেক্ট ব্যবহার করা হয়েছে যা সেই সময়কার মুভিগুলোতে ব্যবহার করা হতো না, সেট, প্রোপ ও ক্যামেরা এঙ্গেলের সুমিস্রণ দিতে পারলেই ভালো সিনেম্যাটোগ্রাফি করা যেত, কিন্তু বর্তমানের যুগ মানেই কম্পিউটারের যুগ, মুভি বানানোর সিদ্ধান্ত নিলে একটা "Green Room" ও পর্যাপ্ত টেকনোলজি ও হার্ডওয়ার বাদে আর কিছুই লাগে না, ক্যামেরার সামনে এক্টরদের কাজ করিয়ে তা দিয়ে বানানো হয় মাস্টারপিস সব মুভি। এই মুভিতেও ব্যবহার করা হয়েছে সেইম প্রযুক্তি। বাইশ বছরের ব্যবধানে পুরাই পাল্টে গেছে এই মুভির দৃশ্যপট, স্পেশাল থ্রিডি প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে তুলে ধরা হয়েছে অসাধারণ সব দৃশ্য যা বিশ্বাস করা কষ্টকর। মুভিটা আর কোনো কারণে দেখেন বা না দেখেন কিন্তু স্পেশাল এফেক্টের জন্য অবশ্যই দেখবেন।

আর সেই গ্রাফিক্স কে আরো সফলতা দান করেছে মুভির একশন সিন গুলো, চোখ ধাধানো সব একশন যা দেখলে যেকোনো "একশন পাগলা" মুভিটার প্রেমে পরে যাবেন, এমন সব পরিস্থিতিতে চরিত্রগুলোকে মোকাবেলা করতে হয়েছে যে সত্যই প্রশংসার যোগ্য। এর মধ্যে Harry Gregson-Williams নির্দেষনায়ে ব্যবহার করা সাউন্ড এফেক্ট গুলো আরো ভালো লেগেছে, যেন এক্কেরে "খাপে খাপ ময়নার বাপ"।

তবে কথায়ে আছে যে লেবু বেশি চিপলে তেতো হয়ে যায়, মুভিটার অনেকাংশেই বাস্তবের সাথে মিলানো জন্য ডিরেক্টর যেই ভুলটা করে ফেলেছে যে অতিরিক্ত মাত্রায়ে "আর্টিফিশিয়াল লেন্স ফ্লেয়ার" ব্যবহার করে ফেলেছে, লেন্স ফ্লেয়ার হলো ক্যামেরা ডাইরেক্ট আলোর দিকে ফোকাস করলে যে একটা রশ্নি স্ক্রিনে ছড়িয়ে পরে সেটাই। এটার ব্যবহার করা হয় যেন মুভির শুট এ কিঞ্চিত "ডকুমেন্টারি" ভাব আসে এজন্য। এ মুভিটার প্রায় ৬০ ভাগ লেন্স ফ্লেয়ার দিয়ে ভরা যার ফলে অনেকের মাথা ব্যথা হতে পারে, কথাটা বললাম কারণ আমার হয়েছিল তাই, সো প্রসিড উইথ কশন।

 

url

Lens flare, Lens flare everywhere

ডিরেক্টর Len Wiseman এর নির্দেষনায়ে মুভিটিতে অভিনয় করেছেন Colin Farrell, Jessica Biel, Bryan Cranston. প্রত্যেকেরই অভিনয় বেশ ভালো ছিল তাদের দেয়া চরিত্র অনুসারে। সবচেয়ে বেশি ভলো লেগেছে lead চরিত্রে কলিন কে, যার আরও বেশ কিছু কাজ দেখেছি ও তার মধ্যে এটাই তার বেস্ট পারফরম্যান্স। মুভিটি বানাতে খরচ হয়েছে $125,000,000, কিন্তু রিমেক হওয়াতে তেমন বেশি আয় করতে পারেনি, মুভিটির গ্রস ইনকাম প্রায় $58,877,969.

লেন্স ফ্লেয়ারে যদি সমস্যা না হয় তবে মুভিটি পুরোদমে ইনজয় করতে আর কোনই বাধা নেই, মুভিটিতে পাবেন অসাধারণ সব একশন সিকুয়েন্স, সুপার ডুপার স্পেশাল এফেক্টস, মাইন্ড ব্লোয়িং সাউন্ড এফেক্টস, কোপা সামসু কাহিনী যা আপনার রক্ত গরম রাখবে ও আপনাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিবে। দেরী না করে এক্ষনি দেখে ফেলুন মুভিটি… Entertainment guaranteed

মুভিটা আপনি আপনার সংগ্রহে রাখতে পারেন এখান থেকে:

http://www.putlocker.com/file/F74942FDD1BA3D20
সোর্স => http://ganool.com/total-recall-2012-dvdrip-500mb-ganool

Happy Watching……

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন