বেতার সমাচার, Pirate Radio মুভির রিভিউ
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

Pirate Radio (The Boat That Rocked)url

মুভির ধরন: কমেডি, মিউজিক, ড্রামা

Imdb Rating: 7.4

আমার রেটিং: 7.0

মুক্তি পেয়েছে: 13 November 2009

 

বাপ চাচার সাথে সেরকমের বন্ধুসুলভ সম্পর্ক থাকলে তাদের জীবনের মধুর সোনালী সময়কার স্মৃতিগুলোর দু চারটা ইভেন্ট অনেকেই শুনেছেন, অনেকেরই স্মৃতির একটা অংশ ছিল ক্লাস ফাকি দিয়ে চার আনার টিকেট কেটে সিনেমা দেখা, আবার অনেকের ছিল রেডিওতে গান শোনার অভ্যাস। সাপ্তাহিক কোনো একটা প্রোগ্রামের জন্য, কোনো এক শিল্পীর গান শোনার জন্য অধীর আগ্রহে বসে থাকতেন তারা, থাকতেন অপেক্ষায়ে যে কখন তাদের পছন্দের প্রোগ্রামটি বেতারে সম্প্রচার করা হবে। ইয়েস! আমি সেই সময়কার কথা বলছি যখন বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে রেডিওই ছিল একমাত্র রাস্তা, আর সেই যুগের রেডিওতে বিশ্বজুড়ে বাজতো খালি একটাই জিনিস। রক এন্ড রোল বেইবি, পিউর রক এন্ড রোল। ইয়া।।

 

আমাদের মুভির কাহিনী নিয়ে যাবে আমাদেরকে 1960 তে ইংল্যান্ড এ, যখন বিবিসি রেডিও ছিল একমাত্র(!) অনুমোদিত রেডিও যা সারাদিন খবর প্রচারের পর মাত্র আধা ঘন্টার জন্য পপ মিউজিক প্লে করতো, কিন্তু বিনোদনের চাহিদা অনুযায়ী জনতা চলে না, জনতার চাহিদা অনুযায়ী বিনোদনের পরিবর্তন পরিমার্জন হয়। আর এইবার জনতার চাহিদার ডাকেই আবির্ভাব ঘটায় "পাইরেট রেডিও"। যা সম্পূর্ণ ব্যক্তিমালিকানায়ে পরিচালিত ও সরকার কর্তিক অনুমোদিত নয়। এই মুভির কাহিনী হলো "রেডিও রক" নামের একটি মিউজিক স্টেশনের ও স্টেশনের ক্রু দের নিয়ে, দেখবেন হাও দে লিভ দেয়ার লাইভ ইন রক এন্ড রোল স্টাইল..।

মুভিটা দেখে পুরা "নড়ে" গেলাম, বিভিন্ন নাটক মুভিতে দেখেছি যে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির রেভোলুশন ঘটে এই সময়কালেই, আবির্ভাব হয় অনেক কিংবদন্তি ব্যান্ড, সিঙ্গারের। কিন্তু তাদের শোনার জন্য মানুষ যে অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে থাকত তা এই মুভি দেখে অনেক পরিষ্কার বুঝলাম, মনে পরে গেল শিশুকালের প্রতি সপ্তাহের কোনো একদিন বিটিভিতে ক্যাপ্টেইন প্ল্যানেট কার্টুনটি দেখানোর কথা, যেটা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে সপ্তাহের ছয়দিন বসে থাকতাম। এইখানেও অনেকটা সেই অনুভুতি কিন্তু পার্থক্য হলো এইখানে ছেলে বুড়ো সবাই রেডিওর সামনে নিজের পছন্দের প্রোগ্রামের জন্য বসে থাকে। রেডিওর প্রতি তাদের ভালবাসা, রেডিওর স্পিকারের পিছনের মানুষদের প্রতি জনগনের ভালবাসা ছিল অকৃত্তিম, খাটি ও গল্পের মতন। মুভিতে দেখানো সময়কালের অনেক ইলিমেন্ট মুভিতে প্রকাশ পেয়েছে, শান্তিপ্রিয় হিপ্পি পাবলিক, ধুমপান, ড্রাগ, সেক্স, পার্টি, যেন একটা কালারফুল সোসাইটি।

09anticipated-boatthatrocked চিল ম্যান, হ্যাভ সাম উইড

মুভিটা বেশ যত্ন করে বানানো হয়েছে তা অনেকাংশেই লক্ষনীয়। মুভিটার বেশিরভাগ (প্রায় পুরাটাই) শুটিং করা হয়েছে একটা জাহাজের মধ্যে, আর সাধারণ কয়েকটা মুভির মতন এই মুভি শুধু নায়ক নায়িকাকে কেন্দ্র করে নয়, মুভিটা হলো একসাথে কাজ করা কয়েকজনের মানুষের কাহিনী, তাদের জীবনের কাহিনী, তাদের উত্থানের কাহিনী পতনের কাহিনী। মুভিটাতে রিমার্ক করার মতন কোনো ইভেন্ট না থাকলেও মুভিটা দেখতে একদম বোর হবেন না, যাতে আপনি বিনোদিত হতে পারেন সেই জন্য মুভিতে আছে বেশ কিছু হালকা পাতলা কমেডির ব্যবস্থা, যা দেখে “হাহাপগে” না হলেও আপনার ঠোটে হাসি আসবে। মজা পাবেন একেকজনের "মাইনকার চিপা" সিচুয়েশন দেখে।

রেডিও স্টেশন নিয়ে মুভি, রক এন্ড রোল সময়কার থিম, অথচ আপনি গান পাবেন না এটা কোনো কথা? রোলিং স্টোন, জেফ বেক, দি ইসিবিটস, ম্যাকয়স, ডোনোভান সহ নাম জানা অজানা আর্টিস্টদের প্রায় একষট্টিটা ট্র্যাক ব্যবহার করা হয়েছে এই মুভিতে, পুরাই রকের উপরে ফিদা হয়ে যাবেন আপনি এই মুভিটা দেখলে।

মিউজিকের প্রতি ভালবাসা, মনের মানুষের প্রতি ভালবাসা দুইটাই এই মুভিতে বেশ ভালমত ফুটে উঠেছে। একশত পয়ত্রিশ মিনিটের এই রক এন্ড রোল পার্টি আপনাকে বেশ ভালই বিনোদন দিবে, নিঃসন্দেহে মুভিটা দেখে ফেলতে পারেন। তবে একটু কথা আছে, ফ্যামিলির সামনে মুভিটা প্লে কইরেননা যেন। 😉

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. কম মার্কস দিলেই ভাল পরিদর্শক হওয়া যায় না…।।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন