টিভি সিরিজ রিভিউঃ Fringe

Fringe Fringe-comic-con-2011

IMDb রেটিং: ৮.৫/১০

প্রচারকাল: (২০০৮- ২০১৩)

পর্বব্যাপ্তিঃ ৪২- ৪৫ মিনিট

 

ফ্রিঞ্জ (Fringe) সায়েন্স, এর অফিশিয়াল কোনো সংজ্ঞা না থাকলেও সোজা সাপটাভাবে বুঝতে গেলে বলা যায়, বিজ্ঞানের যে সকল বিভাগের অনুশীলন গতানুতিক বিজ্ঞানের ধারা অনুসরণ করে না সেটাই মুলত ফ্রিঞ্জ সায়েন্স। এর আরেকটা টার্মিনেলজি আছে যেটাকে psuedo science ও বলে। আরো সোজাভাবে বলতে হলে সায়েন্স ফিকশনে দেখানো বিজ্ঞানিক কন্সেপ্ট ও থিওরিগুলো ফ্রিঞ্জ সায়েন্স এর অন্যতম উদাহারণ, কিন্তু শুধু সায়েন্স ফিকশন এর অ্যাস্পেক্ট দিয়ে সম্পুর্ন ফ্রিঞ্জ সায়েন্স কে কভার করা যায় না।

সিরিজটির গল্প আবর্তিত হতে থাকে এফবিআই এজেন্ট অলিভিয়া ডানহাম কে কেন্দ্র করে। একটি বায়ো কেমিক্যাল এজেন্ট ব্যবহার করে ঘটানো প্লেন ক্রাশ ইনভেস্টিগেশনের সময়ে যখন অলিভিয়ার পার্টনার জন স্কট সেই কেমিক্যালের সংস্পর্ষে চলে আসে তখন অলিভিয়া শরণাপন্ন হয় ফ্রিঞ্জ সায়েন্টিস্ট ওয়াল্টার বিশপের। যে কিনা সতেরো বছর ধরে মেন্টাল ইন্সটিটিউটে ভর্তি। তার সাথে প্যাকেজ ডিল(!) হিসেবে আসে ওয়াল্টার বিশপের লিগ্যাল গার্ডিয়াল, ওয়াল্টারের ছেলে পিটার বিশপ। গঠন হয়ে গেলো এফবিআই এর টপ সিক্রেট ফ্রিঞ্জ ডিভিশন। ইনভেস্টিগেশন শুরু হতে থাকলো অবিবরণীও সব ঘটনার, যে ঘটনার নাই কোনো এক্সপ্লেনেশন, নাই কোনো স্বাভাবিকতা…

সিরিজটা সবচেয়ে বেশী আকর্ষণ করেছে এর কন্সেপ্টটার জন্য। সায়েন্স ফিকশন সিরিজ আরো অনেক দেখা আছে, কিন্তু এই সিরিজে উপস্থাপন করা ব্যাপারগুলো নিয়ে অনেক আগে থেকে আকর্ষণ ছিলো দেখার উৎসাহ পেয়েছি। অল্টারনেট রিয়েলিটি, প্যারালাল মাল্টিভার্স, সিঙ্গুলারিটি, জেনেটিক এক্সপেরিমেন্ট, টেলেকাইনেসিস, পাইরোকাইনেসিস, সাইকিক, থট রিডিং, টেলেপর্টেশন, ম্যাটার কন্সট্রাকশন ডি-কন্সট্রাকশন সহ আরো অনেক অনেক ইন্টারেস্টিং বিষয়াদি এই সিরিজটার প্লট ডেভেলপমেন্টে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।

248859

সাধারণত অন্যান্য সিরিজগুলোর ক্ষেত্রে যা হয় এই সিরিজটার ক্ষেত্রে তা হয়নি। বেশীরভাগ সিরিজের শুরুর সিজনটা ফাটাফাটি হয়, এরপর ধীরে ধীরে প্লট স্লো হতে থাকে এবং শেষের দিকে এসে আবার সিরিজটা প্রথমদিকের মতন স্পিড পায়। কিন্তু এই সিরিজের ক্ষেত্রে যেটা ঘটলো (আমার নজরে) সেটা মনে হলো প্রথম সিজনের পাইলট সহ তিন চারটা এপিসোড বেশ ভালো জমেছে, এরপর থেকে সেকেন্ড সিজন ফিনালে পর্যন্ত একদম সাদামাটা উপস্থাপন, থার্ড সিজন, ফোর্থ সিজন এবং ফিফথ/ ফাইন্যাল সিজনের অর্ধেক পর্যন্ত বেশ এন্টারটেইনিং উপস্থাপনা ছিলো, কিন্তু সিরিজ ফিনালে ও তার আগের কয়েকটা এপিসোড একদম স্পিড হারিয়ে ফেলেছে। এই হারানো স্পিডের ফলে যেনো আগের ধুম ধারাক্কা সিজনগুলো অর্থহীন হয়ে গেলো। এরপরেও অভারল সেন্সে পুরা সিরিজটা বেশ ইঞ্জয়েবল, হয়তোবা ব্রেকিং ব্যাড, গেইম অফ থ্রোন্স, ডক্টর হু, বোর্ডওয়াক এম্পায়ারের মতন সিরিজগুলোর মতন মোস্ট ফেভারিট লিস্ট এ থাকবে না, কিন্তু যথেষ্ট বিনোদন দিতে সক্ষম হয়েছে এমন লিস্টে সিরিজটি স্থান করে নিয়েছে।

শুধু সায়েন্স ফিকশন না, সিরিজটাতে আরো ফোকাস করা হয়েছে ক্রাইম জন্রা, এছাড়া রয়েছে রোমান্টিক রিলিফ, রয়েছে একশন (অনেক, অনেক একশন)। এবং সবচেয়ে বিনোদনি কমিক রিলিফ। মেন্টাল ইন্সটিটিউশনালাইজড সায়েন্টিস্ট ওয়াল্টার বিশপের কথাবার্তা ও কান্ড কারখানা দেখে হাসি আসবেই। এই কমিক ফ্যাক্টরের সাথে সায়েন্স ফিকশনের যোগই যেনো সিরিজটাকে আরেকটু ইঞ্জয়েবল করেছে। প্লট ডেভেলপমেন্টে প্যারালাল ইউনিভার্স থাকায় বেশীরভাগ চরিত্রদের একটা ডুয়ালিটির মধ্যে দিয়ে নিয়ে নেয়া হয়েছে। এক চরিত্রকে একটি ক্যারেক্টারাইজেশনে দেখতে অভ্যস্ত হতে না হতেই সেই চেহারার মানুষটাকেই একটি সম্পুর্ন চরিত্রায়নে দেখতে একজন দর্শক হিসেবে বেশ ইঞ্জয় ও একজন নবিস ফিল্মমেকার হিসেবে বেশ অভিভূত হয়েছি। শুধুমাত্র এই ডুয়ালিটির ব্যাপারটা দিয়েই সিরিজটার অভারল ডিরেকশনের একটা প্রসংসা প্রাপ্য। বেশ কিছু এপিসোডে যদিও ডিউস এক্স মাকিনার ব্যবহার একটু বেশীই ছিলো, এরপরেও বলবো যে বেশ সুন্দরভাবে ব্যাপারগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে দর্শকদের সামনে।

Fringe

জে জে অ্যাব্রামস এর কন্সেপ্ট ও প্রডাকশনে সিরিজটি মাঠে নামে। এতে যে অ্যাব্রামস এর হাত ছিলো তার পরিষ্কার কিছু নিদর্শন পাওয়া গেছে। শুরুতেই বলতে গেলে বলা যায় তার মাত্রাতিরিক্ত লেন্স ফ্লেয়ারের ব্যবহারের। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে আর্টিফিশিয়াল লেন্স ফ্লেয়ার শটে অ্যাড করায় কিছু কিছু সিন দেখতে দিয়ে মাথায় প্রেশার পরেছে। রিয়েলিস্টিক ফুটেজের ভাব আনতে গিয়ে যেনো একদম হিতে বিপরীত হয়ে গেলো ব্যাপারটা। এছাড়া তাকে সঙ্গ দিয়েছে শেকি ক্যাম। উদ্দেশ্য একটাই, রিয়েলিস্টিক এফেক্ট দেয়া। কিন্তু সিরিজ দেখতে বসে যদি নিউজ ফুটেজের মতন ঝাকুনি খাওয়ানি দৃশ্য দেখা লাগে তবে একজন দর্শকের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে ব্যাপারটা আসলেও বিরক্তিকর। সিরিজের শুরুর দিকের সময়কার স্পেশাল এফেক্ট অতোটা জাতের না হলেও ধীরে ধীরে সেটা পুষিয়ে নিয়েছে ভিএফএক্স ডিপার্টমেন্ট। বিশেষ করে একদম লাস্টের সিজনের স্পেশাল এফেক্ট ছিলো ভদ্র ভাষায়, “মাথা নষ্ট”।

টাইম পাস বিনোদনের জন্য এই সিরিজটা আপনি নির্দ্বিধায় শুরু করতে পারেন। আপনার ভালো লেগে গেলেও যেতে পারে, আবার নাও যেতে পারে। তবে সিরিজটার কন্সেপ্ট আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে কারণ এই বিষয়াদির উপর বিশেষ দুর্বলতা থাকায়। একশন ও সায়েন্স ফিকশনের পোকা হলে টাইম পাস করার জন্য সিরিজটি দেখতে পারেন। আমার রেটিং ৭.৫/১০। বেশীই দিতাম কিন্তু কম দেয়ার কারণ উপরে লিখে ফেলেছি যে। সিরিজটা আগে দেখা থাকলে কেমন লেগেছে তা জানাতে ভুলবেন না যেনো।

 

ডাউনলোড লিঙ্কঃ

কমপ্লিট সিরিজ ৪৮০পিঃ http://thepiratebay.se/torrent/8371917

হ্যাপি শেয়ারিং

(Visited 80 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৭ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. শাতিল আফিন্দি says:

    আমি অনেকদিন আগে দুই তিনটা পর্ব দেখসিলাম, বেশী গাঁজাখুরি মনে হওয়ায় পরে আর কন্টিনিউ করি নাই। একটা ট্রাই দিতে হবে আবার। 🙂

  2. স্টয়িক says:

    প্রথমে ভালো লাগে নাই, পরে ভালই লাগছে, তবে ই প্রত্যয় টা ছিলই। আহামরি কিছু মনে হয়নি

  3. সিরিয়াল জীবনে দুইটা দেখছি, প্রিজন ব্রেক আর হাউজ এমডি। এর মধে হাউজ তো নেশা ধরায় দিছিল।

  4. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    সুন্দর লেখা, হাতের লেখা না রিভিউ লেখা :p ভালো লাগলো পড়ে। আমি টিভি সিরিজ দেখিনা কিন্তু সবাই এখানে পছন্দের সিরিজগুলো নিয়ে যখন লিখে তখন তা পড়তে ব্ভালো লাগে। 🙂

  5. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    সিরিয়াল লিস্টে খালি বাড়তেই আছে। কবে যে সব দেখুম…

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন