F.A.R.G.O একটি স্বার্থরক্ষা ও প্রতিশোধের গল্প

fargo-serial-2014Fargo

জনরাঃ ড্রামা, ক্রাইম, কমেডি

ফার্স্ট এয়ারডেটঃ ১৫ই এপ্রিল, ২০১৪

রানটাইমঃ গড়ে ৫০ মিনিট

আইএমডিবিঃ ৯.২/১০

 

চলচ্চিত্র জগতের জিলাপির প্যাচ ফেলার গুরুদ্বয় ইথান কোয়েন আর জোয়েল কোয়েনের পরিচালিত মুভি Fargo ১৯৯৬ সালে প্রথম বড় পর্দায় দর্শকের সামনে আসে। মুভিটি রচনা করা হয় ১৯৮৬ সালে মিনেপোলিসে ঘটে যাওয়া একটি কিডন্যাপিং ও মাফিয়া রিলেটেড বেশ কিছু খুনাখুনির কেইসফাইল স্টাডি করে। সেদিকে আর না গেলাম, পাছে মুভিটা না আবার স্পয়েল হয়ে যায়। 😉

এই সিরিজটিও বাস্তব ঘটনার অবলম্বনে। ২০০৬ সালে মিনেসোটার বেইমিজি নামের ছোট্ট এক শহরের কয়েকজন নাগরীকের জীবনকে আবর্তন করে বানানো হয়েছে এই সিরিজটি। ফার্গো মুভিটির সাথে এই সিরিজের নামগত মিল বাদে আর অন্য কোনো মিল নেই। তবে অনেকের মতে, এই সিরিজটি সেই ফেমাস মুভিটির আল্টিমেট "স্পিরিচুয়াল সাকসেসর"। আর সেটাই প্রমান করতে যেনো এই সিরিজের প্রডিউসিং টিমে কোয়েন ভাতৃদ্বয়ও আছেন।

গল্পের মুল প্রটাগনিস্ট হচ্ছেন লেস্ট্রার্ড নাইগার্ড, পেশায় একজন ইন্স্যুরেন্স বিক্রেতা। শান্তশিষ্ট লেজবিশিষ্ট একজন ভদ্র মানুষ। এবং গল্পের অ্যান্টাগনিস্ট হিসেবে আছেন লর্ন ম্যাল্ভো নামের এক ড্রিফটার। সে কে, কি করে, কেউয়েই তার সম্পর্কে পরিষ্কার করে জানে না। আমাদের সিরিজটির গল্প এগোনো শুরু করে যখন নাইগার্ড আর ম্যাল্ভো একে অপরের সাথে পরিচিত হয় আর ম্যাল্ভো তার ড্রিফটিং ও গ্রিফটিং ট্যালেন্ট দিয়ে বেশ কয়েকজন মানুষকে ম্যানিপিউলেট করতে শুরু করে। And then the shitstorm begins. 3:)

fargo-tv-series-10-hour-movie

একটি বাস্তব ঘটনার কেইসফাইলকে টেলিভিশনের পর্দার উপযোগী করে তোলার সমগ্র ক্রেডিট নোয়াহ হলির। তার অসাধারণ স্ক্রিনপ্লের ভিতর দিয়ে ফুটে উঠেছে একটি বাস্তব ঘটনা যা দেখতে বিন্দুমাত্র বোরিং না। সাধারণত বাস্তব ঘটনাতে যা হয় আর কি, বোরিং সব এক্টিভিটি। কিন্তু এই সিরিজটিতে সেই বস্তুর অস্তিত্বই ছিলো না। বেশ মনোমুগ্ধকর ন্যারেটিভের ভিতর দিয়ে মাত্র দশটি পর্বের মাধ্যমে একটি চমৎকার গল্প উপস্থাপন করেছেন দর্শকদের সামনে। স্ক্রিনপ্লেটিতে হাই ভোল্টেজ ড্রামার পাশাপাশি রয়েছে থ্রিলার, রয়েছে আইকনিক কমেডি যাহা চরিত্রে কালো 😉 বেশ থ্রিল আর লবনের মতন অল্প ও পরিমিত একশন।

3-great-new-teasers-for-fargo-the-tv-series

গল্পটি ভালো লাগার পিছনের সবচেয়ে বড় কারণ হলো গল্পের চরিত্রগুলো। প্রথমেই অ্যান্টাগনিস্ট ম্যাল্ভোর কথা ধরা যাক। একজন ম্যানিপিউলেটিভ কোল্ড ব্লাডেড কিলার। এ লোক শুধু কথার মাধ্যমেই লোকজনকে দিয়ে নিজের কাজ করিয়ে নিতে পারে এবং খালি ইশারার মাধ্যমেই (নট লিট্যারালি) একজনকে দিয়ে আরেকজনকে বাঁশ মেরে দিতে পারে। কাউকে খুন করতে এর দ্বিধাবোধ হয়না, আর লোকটি তার নিজের কোডে সদা স্ট্রিক্ট। নিজেকেই সে উপরে রাখে, এতে তার চাকুরীদাতাদের(!) স্বার্থ যদি নষ্ট হয় তাতে হোক। আই ডোন্ট কেয়ার। আর এই ড্যাম কেয়ার স্লিক অ্যাসাসিনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন অস্কার বিজয়ী অভিনেতা বিলি বব থর্ন্টন। উনার মাধ্যমে ম্যাল্ভোর চরিত্রায়নটা যেনো বেশীই ভালো হয়ে গেছে। ম্যাল্ভোর ঠিক বিপরীতে আছে নাইগার্ড, আগেই বলেছি সে শান্তশিষ্ট লেজবিশিষ্ট। বাহ্যিক দিক থেকে সে দেখতে ভদ্র হলেও সে একজন আত্মকেন্দ্রিক মানুষ। নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরে এখন আহত নাইগার্ড একজন হিংস্র মানুষ। আর একে পর্দার সামনে রুপ দিয়েছেন মার্টিন ফ্রিম্যান, ওরফে ডক্টর ওয়াটসন, ওরফে বিলবো ব্যাগিন্স। মার্টিন ফ্রিম্যান লোকটাকে আমার ভালোই লাগে কিন্তু তাকে ওয়াটসন আর বিলবোর চরিত্রে দেখার পর থেকে তাকে সিরিয়াস কোনো চরিত্রে দেখা কিছুটা বেশামাল লেগেছে আমার কাছে। তার বোকা বোকা চাহনি, তোতলামি করে কথা বলার ব্যাপারগুলো নাইগার্ড এর চরিত্রের সাথে কেনো জানি মানায়নি। কিন্তু আবার এই লোকের এই বোকা চাহনি আর তোতলামির কারণেই সিরিজটাতে একটি কমেডিক এলিমেন্ট পাবেন আপনি। সিরিজে নাইগার্ড ছাড়াও কমিক রিলিফের আরো বেশ কিছু ব্যবস্থা আছে। এর মধ্যে পুলিস চিফ বিল অসওয়াল্ট ও এফবিআই এজেন্ট পেপার আর বাজ্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও সাপোর্টিং ক্যারেক্টার হিসেবে উল্লেখযোগ্য ইম্প্যাক্ট ফেলেছে ডেপুটি মলি সল্ভারসন, গাস গ্রিমলির মতন চরিত্র। আরো আছে মিস্টার রেঞ্চ আর মিস্টার নাম্বার্স।

ডানা গঞ্জালেস ও ম্যাথিউ জে লয়েডের অসাধারণ সিনেম্যাটগ্রাফির পাশাপাশি সিরিজটাকে পুর্নতা দিয়েছে জেফ রুসোর সাউন্ড স্কোরিং। বিশেষ করে বলতে গেলে টাইটেল কার্ড দেখানোর সময়ে যে ভায়োলিনটা বাজে সেটা শুনেই মনটা ভালো হয়ে যায়। এছাড়াও অ্যাডিশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরও অসাধারণ। সিরিজটি মোট দশটি পর্বে ভাগ করে পর্দায় এক্সিকিউট করা হয়েছে। পাইলট এপিসোডেই পুরা সিরিজের অনেক কিছু এস্টাবলিশ করে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন ডিরেক্টর। এরপর ধীরে ধীরে কাহিনী এগিয়ে নিয়ে আসেন সমাপ্তির পথে। দশম পর্বে এসে পাইলটের চেয়েও কয়েকগুন বেশীরকমের ভালো একটি এপিসোড বানিয়ে ফেলেন। দর্শক বিগত নয় এপিসোডে যা যা দেখেছিলো তার একটি সন্তুষ্টিমূলক সমাপ্তি এক্সপেরিয়েন্স করতে পারে। এটলিস্ট আমি সন্তুস্ট হয়েছি সিরিজ ফিনালি দেখে।

ছোটর মধ্যে বেশ অসাধারণভাবে এক্সিকিউট করা একটা সিরিজ। চাইলে যে কেউ এক বসাতেই দেখে উঠতে পারবে। আর এই সিরিজের ক্ষেত্রে মজাটা সেভাবেই দেখলে বেশী পাওয়া যাবে বলে মনে করি। আবার প্রতিটা এপিসোডের জন্য সাতদিন ওয়েট করার মধ্যেও একটা মজা আছে। সিরিজটা দেখার জন্য হাইলি রেকমেন্ডেড। আমি এটাকে ৮.৭৫/ ১০ দিবো।

 

ডাউনলোড লিঙ্কঃ কমপ্লিট সিরিজ http://thepiratebay.se/torrent/10380874

(Visited 104 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    আচ্ছা, তাহলে এই নামের মুভি আছে। আমার কাছে সে কারনেই নামটা কেমন চেনা লাগছিল। সিরিজ দেখবনা যদিও রিভিউ পড়ে ইচ্ছে হচ্ছে তবে মুভিটা দেখব। লিঙ্ক থাকলে মুভির লিঙ্ক দিও। আর লেখার কথা কি বলতে হবে নতুন করে? 

  2. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    আকর্ষনীয় লেখায় মানুষকে এই সিরিজ দেখানোর ফন্দি! নাহ! 

  3. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    মুভিটা দেখলাম। আমার কাছে দারুন লেগেছে। থ্যাঙ্ক গড মুভি ছিল এই সিরিজের। নাহলে দেখাই হতনা। 

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন