Villainনামা, কিছু ভিলেনের গল্প…

ভিলেন, টেকনিক্যাল টার্মে Antagonist. সহজ ভাষ্যে বলতে গেলে যে চরিত্র কোনো হিরো তথা Protagonist এর চরিত্রকে পুর্নরুপ দান করে। এক কয়েনে দুই পাশ, ইন আর ইয়ান। সবসময়েই যে কোনো চলচ্চিত্রে হিরো- ভিলেন কমপ্লেক্স থাকবে তা নয়। তবে বেশীরভাগ চলচ্চিত্রেই এ জিনিষটার প্রয়োগ বেশ লক্ষণীয়। এ পোস্টটি লেখছি সেই সকল অ্যান্টাগনিস্টদের নিয়ে যারা প্রাথমিক নজরে দর্শকদের চোখে ভিলেন হিসেবে আসলেও আরেকটু চিন্তা করে দেখতে গেলে বুঝা যাবে যে আসল ভিলেনটা কে। কেনো তারা এমন করেছে? কার জন্য করেছে? আদৌ এর কোনো মানে আছে কিনা? কোনো সিনেমায় যখন তথাকথিত কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো খারাপ কাজ করে তখন NO ONE BATS AN EYE কিন্তু একই কাজ কোনো ভিলেন করলেই EVERYBODY LOSES THEIR MINDS. ব্যাপারটা পুরাই স্ক্রিপ্ট্রাইটারের জাদুর উপর। আপনি তখন কমপ্লেইন করেননি যখন নিকোলাস কেইজ সকল আইন ভেঙ্গে আমেরিকার স্বাধীনতার স্মারকলিপি চুরি করেছিলো ন্যাশনাল ট্রেজার মুভিতে। আপনি তখন নাক বাঁকাননি যখন ওশেন ট্রিলজিতে তিন তিন বার ডাকাতি করে মুভির হিরোরা। আসলে আপনাকে যখন একবার দেখিয়ে দেয়া হয় কে হিরো(!) আর কে ভিলেন(!) আপনি এরপর আর তাদের মোটিভ নিয়ে প্রশ্ন করেন না। কারন হাজার খুন করলেও হিরো হিরোই। আর পান থেকে চুন খসলেই ভিলেন হইলো ভিলেন।

আমার এ ভিলেনেদের তালিকা কোনো কাউন্টডাউন নয়, এখানে কেউ এক নাম্বার দুই নাম্বার হবেনা। যখন যার নাম মাথায় আসছে সেভাবেই লিখে যাচ্ছি। আর শুধু চলচ্চিত্রের ভিলেন নিয়েই আমি সীমাবদ্ধ নেই। চলচ্চিত্রের টানে আমি কমিক্স ইউনিভার্সেও হাল্কার উপর ঝাপসা চলে এসেছি (অল্প গেছি, বেশী না, আমার নেটের লাইনের কছম)। বুঝতেই পারছেন যে ভিলেনের কাহিনী নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে এই পোস্ট স্পয়লারে স্পয়লারাণ্য। তাই নিম্নের কোনো ভিলেনকে না চিনলে এবং তার নামের পাশের মুভিটা না দেখে থাকলে শাআআআই করে স্কিপ করে যাবেন। এরপরেও স্পয়লার খাইলে আমার দোষ নাই 😀 । তাহলে শুরু করলাম…

Syndrome: The Incredibles

Syndrome

বাডি পাইন নামের সেই ছোট ছেলেটির কথা মনে আছে? যে ছেলেটি সবসময়েই চাইতো সে সুপারহিরো হবে, লোকজনের সেবা করবে। বুদ্ধিও মাথায় ছিলো, বানিয়ে ফেললো কিছু গ্যাজেট, বেরিয়ে পরলো সমাজসেবায়। এবং সেখানেই দেখা পেয়ে গেলো তার আইডল মিস্টার ইঙ্ক্রেডিবলের সাথে, চাইলো তার সাইডকিক হতে। কিন্তু বব পার/ ইঙ্ক্রেডিবল ছোট্ট এই ছেলের ছোট মনের চাওয়াকে উপেক্ষা করে তাকে বাসায় যেতে বলে দিলো। যাকে আপনি সারাজীবন গুরু মেনেছেন তার থেকেই যদি ধিক্কার শুনেন তখন আপনার অবস্থাটা কেমন হবে? ববের অপমান বাডির কাছে অনেকটা সেরকমেরই মনে হয়েছিলো। মনে ব্যাথা আর মাথায় বুদ্ধি নিয়ে বাডি বাসায় চলে আসলো। নিজের বানানো গ্যাজেট বিক্রয় করে তৈরি করলো এক বিশাল এম্পায়ারের। লক্ষ একটাই, মিস্টার ইঙ্ক্রেডিবলকে দেখিয়ে দেয়া যে সেও পারে। মারা গেলো বাডি পাইন, জন্ম নিলো সুপারভিলেন সিন্ড্রম।

xvn

পুরো ব্যাপারটাই এভয়েড করা যেতো যদিনা বব তার ইগোটাকে একটা ডিব্বার মধ্যে পুরে রাখতো। :/ কিন্তু না, দিলো একটা শিশুমনকে হতাশ করে, জন্ম দিলো সিন্ড্রমের। এই সিন্ড্রম পুরো মুভিতে যতো ড্যামেজ করেছে পুরোটার জন্যই মিস্টার ইঙ্ক্রেডিবল নিজেই দায়ী।

Agent Smith: The Matrix Trilogy

Agent Smithমেশিন দখল করে নিয়েছে পুরো দুনিয়া। তাদের মোকাবেলা করতে মানুষেরা ঢেকে দিয়েছে সুর্য, যেনো মেশিনেরা শক্তি সঞ্চয় করতে না পারে। হিতে বিপরীত হিসেবে মেশিনরা মানুষদের ধরে বানানো শুরু করলো হিউম্যান পাওয়ারপ্ল্যান্ট ফার্ম। গাছের ফলের মতন ঝুলিয়ে দেয়া হলো বড় বড় কন্ডাক্টরের সাথে। তাদের দেহ থেকেই ইলেক্ট্রিসিটি হারভেস্ট করা শুরু করলো। আর তাদেরকে মস্তিষ্ক শান্ত রাখার জন্য তৈরি করলো একটি ভার্চুয়াল দুনিয়া যার নাম ম্যাট্রিক্স। আর এই ম্যাট্রিক্স এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বানানো হলো একটি প্রোগ্রাম যার কাজ হলো ম্যাট্রিক্সকে রক্ষা করা। এই প্রোগ্রামই এজেন্ট স্মিথ। তার কাজ, ম্যাট্রিক্সে হ্যাক করছে এমন সোর্স আইডেন্টিফাই ও দমন।

fll

এখন আপনি কি আপনার পিসির অ্যান্টিভাইরাসের উপর রাগ করেন কারন সে সঠিক কাজটাই করে দেখে? স্মিথের প্রোগ্রামিঙ্গেই আছে সার্চ এন্ড ডিস্ট্রয়, এখন তার উপর ক্ষেপে গেলে তো হবেনা। ম্যাট্রিক্সে ছিলো খোলা আকাশ, মুক্ত বাতাস, সুস্বাদু খাওয়ার। আর এদিকে, বাস্তব দুনিয়ায় আছে খালি ধুলো বালি, সূর্যহীন আকাশ, বাঁচার সম্ভাবনাহীন জীবন। কি দরকার ছিলো ম্যাট্রিক্সের থেকে বাহির হওয়ার? এখন বের হয়েছে তো হয়েছে, বাকিদেরও বের করছে আবার এজেন্টদেরও মেরে গুড়িয়ে দিচ্ছে। মানে ব্যাঙ্ক ডাকাতিও করবো, আবার সিকিউরিটি গার্ডকেও গালি দিবো তার চাকরীমতন কাজ পালন করার জন্য।

Chancellor Adam Sutler: V for vandetta

Chancellor

পোস্ট অ্যাপোকোপিল্টিক ব্রিটেইন। যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে নিয়ম শৃঙ্খলায় এসেছে এই একটি মাত্রই দেশ। যেখানে পুরো বিশ্বে তখনও চলছে দাঙ্গা হাঙ্গামা, খুনাখুনি মারামারি, সেখানে ইংল্যান্ডের মানুষ চলতে পারছে বেশ উন্নতভাবেই। বাসস্থান, চাকরী, নিরাপত্তা সবই আছে এই কঠোর নিরাপত্তাময় দেশটাতে। সবই ঠিক চলছিলো, কিন্তু বাগড়া বাধালো ভি। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ওয়ার এক্সপেরিমেন্ট হিসেবে তার উপর করে ফেলা নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে গিয়ে এই একটি লোক গুড়িয়ে ফেলে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র। সুযোগ করে দেয় সত্যের, রেভলুশনের। ভি এর প্রধান কিছু শত্রুর মধ্যে ছিলো হাই চ্যান্সেলর অ্যাডাম সাটলার। যে কিনা যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডের হাল ধরে এবং সত্য মিথ্যার সাদা কালো ফাউন্ডেশনে নতুন করে দেশটিকে গড়ে তুলে।

v-for-vendetta_6

কিন্তু সবকিছু সবসময়ে শুধুমাত্র সাদাকালো দিয়ে নির্ধারন হয়না, লাগে কিছু ধুসরেরও। শুধু  অনৈতিক কাজ করে যেমন দেশ গড়া যায়না, তেমনি খালি নৈতিকতার পর ভিত্তি করেও দেশ গড়া যায়না। সাটলার তাই করেছে যা সে উক্ত সময়ে যোগ্য বলে মনে করেছে। সে নিশ্চিত করেছে তার নাগরিকের সুযোগ সুবিধা, মৌলিক চাহিদাসমূহ। ভি নিজেও অসুদপায় অবলম্বন করেছে, কিন্তু সেটা কারোরই নজরে আসেনি কারন সে ভালো(!)।

Khan Nooniyan Singh: Star Trek universe

khan

সায়েন্স ফিকশন নার্ডগ্যাজম বলতেই স্টার ওয়ার্স আর স্টার ট্রেক। আর স্টার ট্রেকের বারোটি মুভিতে যদি কোনো উল্লেখযোগ্য কোনো ভিলেন নিয়ে কথা বলার থাকে তাহলে সেটা হলো খান নুনিয়ান সিং। ব্যাটম্যানের যেমন জোকার, স্পাইডারম্যানের যেমন ভেনম ঠিক তেমনিই, ক্যাপ্টেইন কার্কের চির ভিলেন হলো এই খান নুনিয়ান সিং। স্টার ট্রেকঃ দ্যা রাথ অফ খান আর স্টার ট্রেক ইনটু ডার্কনেস, উভয় মুভিতেই খান নুনিয়ানের গল্প দেখানো হয়েছে। খান হলো স্টারফ্লিট কমান্ডের একটি এক্সপেরিমেন্টাল প্রজেক্টের ফলাফল। এই এক্সপেরিমেন্টের উদ্দেশ্য ছিলো এমন একদল যোদ্ধার জন্ম দেয়া যারা যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনোভাবেই জয় নিশ্চিত করবে। কিন্তু শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর আর এই স্পেশাল যোদ্ধাদের দরকার হলো না। তাদেরকে মারাও সহজ না বলে একটি গ্রহে “বাতিল” করে ফেলে দেয়া হলো। আর এই অপমান সহ্য করতে না পেরেই যোদ্ধা খান ও তার অনুসারিরা পন করলো স্টারফ্লিটের ধ্বংস তারা দেখে নিবেই নিবে।

Star-Trek-Into-Darkness3

অরিজিন্যাল আর রিবুট, উভয় মুভিতেই খানের চরিত্রটি যা করেছে তা আর দশটা মানুষ তাদের স্থানে থাকলে তাই করতো। নিজের ও নিজের গোত্রের লোকেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রানপন চেষ্টা করেছে এই খান। যদি কেউ আপনাকে বিনা দোষে মারতে চায়, আপনি কি চাবেন না নিজেকে রক্ষা করতে? খানের জন্য খানের হাতে ছিলো না, কিন্তু তাকে যারা বানিয়েছে তারাই যখন তাকে মেরে ফেলতে চাচ্ছে তখন তার নিয়তি সে নিজের হাতেই নিয়ে নেয়, উদ্দেশ্য একটাই, যেকোনো মুল্যে বাচতে হবে। আর এই প্রাকৃতিক আত্মরক্ষাকে স্টারফ্লিট কমান্ড নাম দেয় “টেররিজম”।

Megatron: Transformers

Megatron

প্ল্যানেট সাইবারট্রন, একটি গ্রহ যার বাসিন্দারা হলো রোবট। এই বাসিন্দারা আবার দুই গোত্রে বিভক্ত। একদল হলো অটোবটস, আরেকদল হলো ডেসিপ্টিকন্স। সময়ের আদিকাল থেকেই এ দুইদলে যুদ্ধ সাইবারট্রনের দখল নিয়ে। এদের যুদ্ধে যখন সাইবারট্রন প্রায় ধ্বংস তখন উভয়দলের বেচে যাওয়া রোবোটেরা পৃথিবীতে নিয়ে আসে তাদের সাইবারট্রনের যুদ্ধ। একদিকে অপ্টিমাস প্রাইম, অটোবটসদের নেতা। যে কিনা মানুষদের সাথে বসবাস করে তাদেরকে রক্ষনাবেক্ষন!(!) করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে মেগাট্রন, যে কিনা পৃথিবীর রিসোর্স ব্যবহার করে সাইবারট্রনকে পুনরায় নির্মান করে সেখানে চলে যেতে চায়।

xfjhfchk

এখন এখানে সমস্যা কোথায় তা নজরে পরলো না। একজন তার ভাঙ্গা বাড়ি মেরামত করতে চাচ্ছে। এখন মেগাট্রন পৃথিবীর মানুষেদের দিকে কুনজর দিয়েছে বলেই সকল সমস্যা হয়ে গেছে। অন্য কোনো গ্রহে এ কাজ করলে তো তাকে মনে হয় ভিলেন হিসেবেই গ্রাহ্য করা হতো না। আপনি কি চাবেন না যে আপনার বাড়িটা ঠিক করা হউক? সমস্যাটা হয়েছে মেগাট্রনের মতন বিশালদেহী মেশিনের কাছে মানুষের জীবন ঠিক ঐভাবেই ছোট লাগে যেভাবে মানুষেরা পোকামাকড়ের দিকে নজর দেয়। জুতা ছাড়া কথা নাই। -_- ইহাকে আপনি ভিলেন বলতে পারেন না, এটা নিছকই ন্যাচারাল সিস্টেম, বড় ছোটকে নিয়ন্ত্রন করবেই।

Loki: Thor [Marvel Universe]

Loki

লোকি, নর্স মিথোলজির গড আর মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের অন্যতম অ্যান্টাগনিস্ট। যখন লোকি জানতে পারে যে সে আসলে অডিন অলফাদারের আসল সন্তান নয় বরং সে অডিনের war trophy সেদিন থেকেই লোকি অডিন, থোর আর অ্যাসগার্ডের উপর নিজের ঘৃণা প্রকাশ শুরু করে। যদি তাকে ছেলেবেলা থেকেই সত্য বলে দেয়া হতো। যদি তাকে অডিন ক্ষমতার কিছু অংশ দিয়ে দিতো তাহলে হয়তোবা থোর তার পাশে একজন ভাই আর সহযোদ্ধা পেতো।

loki_marvel_ii_by_syrkell-d4rt5g5

ব্যাপারটা পুরাই ইজ্জতে আঘাত হানার মতন। লোকি ঐদিন থেকেই নিজের ক্ষমতার জাহির করা শুরু করেছে যেদিন থেকে তার সত্য তার নিজের সামনে চলে এসেছিলো। সে বেশী কিছু চায়নি, সে চেয়েছিল বাবার ভালোবাসা, তার জন্মাধিকার, প্রমান করতে চেয়েছিলো নিজের যোগ্যতার, তার দুরদর্শিতার। মুছতে চেয়েছিলো তার ফ্রস্ট জায়ান্টের কলঙ্ক। আর দশটা লুতুপুতু আদুরে সন্তানের মতন। সে মিসকা শয়তান। কিন্তু যে একটু অ্যাটেনশন পাওয়ার জন্য শয়তানীগুলো করতো সেটা কেউই বুঝলো না। ফলাফলস্বরুপ জন্ম হলো একজন ভিলেনের, যার একমাত্র কাজ হলো অডিন আর থোরকে হেনস্তা করা।

Ozymandias: Watchmen [DC universe]

Watchmen

অজিমান্দিয়াস, ওয়াচমেন মুভির অ্যান্টাগনিস্ট। অল্টারনেট ডাইমেনশনে সেট করা কোল্ড ওয়ার এরাতে গড়ে উঠা এই ডিসি ইউনিভার্সে রয়েছে কস্টিউম পরা অনেক ভিজিল্যান্তে। এর মধ্যে ডক্টর ম্যানহাটান, আউলম্যান, রোরশ্যাখ, অজিমান্দিয়াস আর সিল্ক স্পেক্টার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওয়াচমেনেরা রিট্যায়ার করার পরও যুদ্ধ, দাঙ্গা লেগে ছিলো। এর সমাধান করে অজিমান্দিয়াস। কিভাবে? ডক্টর ম্যানহাটানকে ব্যবহার করে কয়েকটি শহরে নিউক্লিয়ার বিস্ফোরন ঘটিয়ে কয়েক মিলিওন মানুষকে হত্যার মাধ্যমে। এতে বিশ্ব সুপার পাওয়ার সরকারগুলো ঐক্যবদ্ধ হয় তাদের কমন শত্রু ডক্টর ম্যানহাটানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ দেয়ার জন্য। সবাই এখন একদল, কোনো শত্রু নেই, যুদ্ধের শেষ।

file_191643_0_ozymandias658

আমার দেখা সবচেয়ে পারফেক্ট কিছু প্ল্যানের মধ্যে এটা একটা। হাতে গোনা(!) কয়েকজনের জানের বিনিময়ে পুরো বিশ্বের সকল দেশের সকল রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্ল্যানটা এতোটাই লজিক্যাল যে ওয়াচমেনের রোরশ্যাখ বাদে বাকি আর কোনো মেম্বার এর বিরোধিতা করেনি। এমনকি এ শান্তি বিস্তারের জন্য যে পৃথিবীর চিরশত্রু হিসেবে চিহ্নিত হবে, সেই ডক্টর ম্যানহাটানই সবার আগে একমত পেষন করেছে। তো এখানে অজিমান্দিয়াজ খারাপ হলো কিভাবে? :/ Everybody wins, except for those hundred million dead people… :p

Ra’s Al Ghul: Batman Begins [Dc Universe]

raas

আপনাদের বাসায় যাদের দাদা- দাদী, নানা-নানী আছে তারা জানেন। আপনার সাথে হয়তবা মিষ্টি করে কথা বললেও বেশীরভাগ সময়ে মুরুব্বিদের মেজাজ কিছুটা গরম থাকে। কারণটা হলো, জীবনে একটা সময় আসে যখন অনেক কিছু এক্সপেরিয়েন্স করার পর মানুষের উইজডম এতোই বেড়ে যায় যে They dont give a fuck.

Batman-Begins-Armour-Spiked Ninja Bracers-Liam-Neeson-Henri-Ducard-Ra's-Al-Ghul

আপনার ৭০ বছরের দাদার মেজাজ দেখেই যদি আপনি কাইত হয়ে যান তাহলে ডিসি ইউনিভারসের রেইশ আল ঘুলের মেজাজ দেখলে আপনি কি করবেন? এ ভদ্রলোকের বয়স ৬৫০ বছর। ল্যাজারাস পিট নামের এক কেমিক্যাল কম্পাউন্ড মিশ্রিত স্প্রিং আবিষ্কারের পর সেটাতে কয়েক বছর পর পর ডুব দিয়ে দেহর বার্ধক্যকে ধুয়েমুছে যৌবনতা ধারন করে রেইশ। ব্যাপারটা শুধুই দেহের জন্যে, মনের জন্য না। সাড়ে ছয়শ বছরের জীবনে এ লোক দেখেছে অনেক যুদ্ধ, অনেক রাজনীতি, মানুষের আসল রুপ, সেই রুপের পরিবর্তন আর পরিমার্জন। আর সে মানুষের এতো বছরের এই রুপ দেখেছে বলেই সে জানে কোথায় কিভাবে কি করলে মানবজাতিকে শৃঙ্খলায় আনা সম্ভব। তার মেথড প্রাথমিক চোখে বর্বর মনে হলেও আসলে এর একেকটা প্ল্যান পিওর জিনিয়াস। রেইশ আল ঘুল কে আসলে ভিলেন বলা উচিত না, বলা উচিত এক্সপেরিয়েন্সড সেভিয়ার!

Senestro: Green Lantern [Dc Universe]

Senestro

সিনেস্ট্রো হলো/ ছিলো গ্রিন ল্যান্টার্ন কোর এর সবচেয়ে শক্তিশালী ল্যান্টার্ন। ল্যান্টার্ন হ্যাল জর্ডানের গুরু এবং বন্ধু। গ্রিন ল্যান্টার্ন কোরের শক্তির উৎস হলো আশা ভরসা। একজন ব্যাক্তি যতোটা সাহসী ও আশাবান তার ল্যান্টার্ন কোর ততটাই শক্তিশালী। গ্রিন কোরের সবচেয়ে বড় বাধা ছিলো ইয়েলো কোর। ইয়েলো কোরের শক্তির উৎস হলো ভয়। এই কোরের ল্যান্টার্ন যত ভীতিকর হবে তার কোর ততই শক্তিশালী হবে। সিনেস্ট্রো গ্রিন কোরের সবচেয়ে শক্তিশালী হয়েও পরবর্তীতে ইয়েলো কোরের ল্যান্টার্নে রুপান্তর হয়।

sfhs

সিনেস্ট্রোর স্বপ্ন ছিলো একটাই, সকলকে একতার মধ্যে এনে পুরা ইউনিভার্সে শান্তি স্থাপন করবে। কিন্তু এ কাজ করার জন্য গ্রিন কোর পর্যাপ্ত শক্তিশালী বলে সিনেস্ট্রোর কাছে মনে হয়নি। সে ভয়কে যথার্থ মোটিভেটর হিসেবে বেছে নিয়েছে। যে লোকজনে ভয়ে সিনেস্ট্রোর নিয়ম মেনে চলবে। আর সবাই এক নিয়ম মেনে চললে সেখানে ঝামেলা হওয়ার সম্ভাবনাই নেই। সিনেস্ট্রোর নিয়ত ভালো, কিন্তু মেথড খারাপ।

Whiplash: Ironman 2 [Marvel Universe]

Whiplash

ইভান ভ্যাঙ্কো, যার বাবা টনি স্টার্কের বাবার সাথে সম্মিলিতভাবে আর্ক রিয়েক্টরের কন্সেপ্ট করেছিলো। কিন্তু হাওয়ার্ড স্টার্ক সকল খ্যাতি পেয়ে যায় আর এদিকে অ্যান্তন ভ্যাঙ্কো পরে যায় অন্ধকারে। একদিকে টনি স্টার্ক তার বাবার বানানো টাকা উড়িয়ে বেড়াচ্ছে আরেক দিকে ইভান তার দরিদ্র অসুস্থ বাবার সাথে রাশিয়ার এক চিপা গলিতে পরে আছে।

Whiplash_IV

সোজা বাংলায়, ব্যাপারটা পুরাই ন্যায্য হকের। আর্ক রিয়েক্টরের প্যাটেন্টে ভ্যাঙ্কোর সেই পরিমান হাত আছে যতটুকু হাত আছে স্টার্কের। আর সেই হক আদায়ের জন্যই ইভান বেরিয়ে পরে টনি স্টার্কের উদ্দেশ্যে। এখানে কোনো কিছুই দোষের দেখিনা। Apert from the fact that he tried to murder the Ironman.

General Zod: Man of Steel [Dc Universe]

General Zod

ক্রিপ্টনের আর্মি জেনারেল সুপ্রিম জড। ক্রিপ্টনের ধ্বংসের আভাস সে আগেই পেয়েছিলো। কিন্তু ক্রিপ্টন কাউন্সিলের প্রধানদের গোঁয়ারতুমিতার কারনে তাদের বিরুদ্ধে গিয়েও কিছু সুবিধা করতে পারেনি এই দেশপ্রেমিক। ক্রিপ্টন ধ্বংস হয়ে যায়। জড ফ্যান্টম জোন থেকে ছাড়া পায়, খোঁজ পায় পৃথিবীর। চায় পৃথিবীকে সেকেন্ড ক্রিপ্টনে রুপান্তর করতে।

sups

এবার আসেন ঘটনাটাকে আরেক অ্যাঙ্গেলে দেখি। পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে, এখন আপনার কাছে সে প্রযুক্তি আছে যা দিয়ে চাইলেই আপনি আরেকটা গ্রহে পৃথিবীর আদলে আরেকটি বসতি স্থাপন করতে পারবেন। খালি সমস্যা হলো সেই গ্রহে মানুষের চেয়ে অনুনন্ত প্রাণীরা বাস করে। এখন আপনি কি আন্ডারডেভেলপড প্রানি বাচাবেন নাকি আপনার স্বজাতির জন্য আরেকটি বাসার ব্যবস্থা করবেন? জড এখানে তাইই করেছে, ক্রিপ্টোনিয়ানরা হলো ইউনিভার্সের সবচেয়ে উন্নত সভ্যতা। আমরা মানুষেরা তাদের তুলনায় বনের বানর মাত্র। এখন সবচেয়ে উন্নত সভ্যতার, তার উপরে স্বজাতি রক্ষার স্বার্থে বানর মারাটা জডের মতন জেনারেলের কাছে কিছুই না। এখানে জড আর মেগাট্রন প্রায় সেইম প্রিন্সিপালে কাজ করছে। সার্ভাইভ্যাল অফ দ্যা ফিটেস্ট।

Mr Freeze: Batman universe

Freeze

ভিক্টর ফ্রাইজ একজন বিজ্ঞানী। তার স্ত্রীর এক আরোগ্য রোগ হওয়ায় ভিক্টর তাকে বাচানোর উদ্দেশ্যে ক্রায়োস্লিপে সাস্পেন্ডেড অ্যানিমেশনে রেখে দেয় [সোজা ভাবে বলতে গেলে অনেকটা হাইবারনেশনের মতন]। আর এদিকে সে যে ল্যাবে চাকুরি করতো সে ল্যাবের রিসোর্স ব্যবহার করে তার স্ত্রীর রোগের সমাধান করার চেষ্টা করে। এটা জানার পর তাকে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করে দেয়ার পদক্ষেপ নেয় ল্যাবের প্রশাসন, আর এ সময়েই ভিক্টর দুর্ঘটনাবশত লিকুইড নাইট্রোজেন সল্যুশনে পরে যায়। কিন্তু মরে না গিয়ে তার দেহ এমন হয়ে যায় যে তাকে ঠাণ্ডা চেম্বারে বা ক্রায়ো থার্মাল স্যুট পরে চলাচল করতে হয়। একদিকে চাকরী নেই, আরেকদিকে স্ত্রী অসুস্থ। ভিক্টর তখন তার এই নতুন শারীরিক অবস্থার সুযোগ নেয়, জন্ম হয় মিস্টার ফ্রিজের। যে কিনা তার সকল কাজ বরফকেন্দ্রিক করে নিয়েছে। সে যা ধরে সেটাই বরফ হয়ে যায়। আর তার ফ্রিজ- রে তো সাথে আছেই।

3250469-8838433552-Mr.-F

একজন জিনিয়াস ক্রিমিন্যালে রুপান্তর হয় দুইটা সময়ে। এক, যখন কেউ তাকে স্বীকৃতি দেয়না। দুই, একদম বিপদে পরলে। এই ভিক্টর ফ্রিজের সাথে দুটোই হয়েছে। তাকে আর কয়েকদিন ফান্ডিং করলেই সে অনেক রোগের সমাধান করে ফেলতে পারতো। আর সেই সুবাদে তার স্ত্রীও সুস্থ হয়ে যেতো। এখন ফ্রিজ সময় ব্যয় করে তার বরফের ক্ষমতার ব্যবহার করে ব্যাঙ্ক ডাকাতি করে, আর সেই টাকা দিয়ে ইকুইপমেন্ট কিনে তার স্ত্রীর রোগের সমাধানের জন্যে।

Lex Luthor: Superman Universe

Luthor

লেক্স লুথর হলো মেট্রোপলিসের সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি। তার হয়ে মেট্রোপলিসের নাগরিকের ৭৫ ভাগই প্রত্যক্ষ পরোক্ষ উভয়ভাবেই কাজ করে। সে ধনীর পাশাপাশি একজন সমাজসেবীও। তার অর্থের বেশীরভাগ ব্যয় হয় রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্টে। ধনী হওয়া ছাড়াও লেক্স একজন সুপার জিনিয়াস, লেক্স কোর্পের আবিষ্কার করা বেশীরভাগ জিনিষের কন্সেপ্ট তার মাথায় জন্ম নিয়েছে। এভাবেই চলছিলো কিন্তু সবে বাগড়া পরলো যেদিন খবর আসলো যে মেট্রোপিলিসে একজন এলিয়েন আছে যে কিনা আকাশে উড়তে পারে আর গুলি তার গায়ে কচুটাও করতে পারে না। সকল মানব সেবায় বাধা পরে, সকল রিসোর্স ডাইভার্ট করা হয় কিভাবে সুপারম্যানকে বধ করা যায় সেই প্রচেষ্টায়।

Lex_Luthor_Earth-16_001

লেক্সের ব্যাপারটা নিতান্তই গড কমপ্লেক্স ইস্যু। সে অলমোস্ট লিট্যারালি মেট্রোপলিসের দেবতা। সুপারম্যানের উপস্থিতি লেক্সের অস্তিত্বকে প্রশ্ন করে। সুপারম্যানকে সে কম্পিটিশন হিসেবে দেখতে শুরু করে। আর এই এলিয়েন কোনো একদিন ক্ষেপে গেলে কিভাবে মানবজাতি রক্ষা পাবে সেটাও লেক্স চিন্তা করেছে। অনেকটা ব্যাটম্যানের মতনই, লেক্স লুথর কাউকেউ বিশ্বাস করে না। আর হয়তবা এজন্যই মেট্রোপলিস বেঁচে গিয়েছিলো সুপারম্যানের হাত থেকে, যখন ডার্কসেইড সুপারম্যানকে হিপনোটাইজ করে তার দলে ভিড়িয়ে নিয়েছিলো। আর ঐ ঘটনার পরে লেক্স আরো সতর্ক হয়ে গেলো। কিন্তু তার সতর্কতা বর্ডার ভালো আর মন্দের মাঝে টান খেতে থাকে। সে এমন এমন কাজ করতে শুরু করে যেটা আর তাকে ভালোর ঘরে আটকে রাখতে পারে না।

Magneto: X men Universe

Magneto

ম্যাগনিটো, এক্স মেন ইউনিভার্সের সবচেয়ে প্রভাবশালী মিউটেন্ট। এই আলফা ক্লাস মিউটেন্টের পাওয়ার হলো সকল চুম্বকীয় ধাতবের উপর টেলেকাইনেসিস প্রভাব খাটানো। সেটা একটা স্যাটেলাইট হোক আর মানিব্দেহের রক্তের লোহিত কনিকা হোক না কেনো। ম্যাগনিটো এক্স মেন এর লিডার প্রফেসর এক্স এর এক সময়ের বেস্ট ফ্রেন্ড। কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবতা দুজনের রাস্তা বিপরীতমুখী করে দেয়।

2652448-magneto

ম্যাগনিটো (এরিক) যুদ্ধক্ষেত্রে বেড়ে উঠা মানুষ, সে জানে মানুষের নিষ্ঠুরতার সীমা। সে এও জানে যে সাধারন মানুষেরা মিউট্যান্টের মতন একটা অভিনব জিনিষকে সহজে মেনে নিতে চাবে না আর এজন্য মিউট্যাণ্ট আর মানুষের মধ্যে দাঙ্গা হাঙ্গামা সবসময়েই লেগে থাকবে। তাই ম্যাগনিটো প্ল্যান করলো যে সে সকল মিউট্যান্টদের নিয়ে আলাদাভাবে নির্জন কোথাও বাস করবে, আর মানুষেরা যেনো মিউটেন্টদের কোনোদিনই ডিস্টার্ব না করে সেটা নিশ্চিত করতে মানুষেদের মনে মিউটেন্টদের একটা ভয় ঢুকিয়ে দেয়া দরকার। আর তার জন্য সে তার মিউটেন্ট দল নিয়ে এমন সব কাজ করা শুরু করে যে মানুষেরা মিউটেন্টদের ভয় আর ঘৃণা দুটোই একসাথে করতে থাকে। ফুলপ্রুফ প্ল্যান, মিউট্যান্টদের ভয়ে মানুষ আর কখনই মিউটেন্টদের ঘাটাতে আসবে না। কিন্তু এরিক এটা তার বন্ধু চার্লস এক্সেভিয়ারকে বুঝাতে পারেনি। যার ফলে তার এই প্ল্যান সফল না হয়ে উলটো মানুষদের মিউটেন্টদের বিরুদ্ধে উস্কে দিলো। সে চেয়েছিলো শান্তিতে তার জাতি নিয়ে থাকতে, কিন্তু পারলো না।

Darth Vader: Star Wars Universe

Vader

আমার সবচেয়ে ফেভারিট অ্যান্টাগনিস্ট, ডার্থ ভেডার। মুভি ইউনিভার্সে হাতে গোনা কিছু মনে রাখার মতন ভিলেনদের মধ্যে একজন। স্টার ওয়ার্স ইউনিভার্সের সবচেয়ে শক্তিশালী “ফোর্স” উইল্ডার। একসময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী জেডাই নাইট অ্যানাকিন স্কাইওয়াকার তার জীবনে শুধুমাত্র একটি ভুল করে ফেলে। ভালোবেসে ফেলে যা জেডাই অর্ডারে নিয়ম নেই। এবং সেই ভালোবাসার মানুষটিকে জেডাই অর্ডারের থেকে লুকিয়ে রাখে। কিন্তু যখন সে জানতে পারে যে তার ভালোবাসার মানুষটি বিপদে পরবে সামনে তখন সে ভালোবাসাকে রক্ষা করার জন্য জেডাইদের চিরশত্রু সিথলর্ডে ডার্থ সিডিয়াসের শরণাপন্ন হয়। সিডিয়াস অ্যানাকিনের জেডাই ট্রেইনিং এর অপব্যবহার করে তাকে সিথ লর্ড ডার্থ ভেডারে রুপান্তর করে। একসময়ের জেডাই নাইট হয়ে উঠে সিথ লর্ড, ডার্থ সিডিয়াসের ডান হাত।

dndg

জীবনে ভালোবাসা না থাকলে বেচে থেকে কি লাভ? যুবক অ্যানাকিন তাই করেছে যা তার বয়েসী সকল যুবকেরাই করে থাকে। প্রেমে পরেছিলো সে। আর এই প্রেমের জন্যই তাকে খেসারত দিতে হয়েছে তার জ্ঞান কে, তার নীতিকে। শোকে ক্ষোভে অন্ধ হয়ে সে হেঁটে চলে গিয়েছে অন্ধকার এক সাম্রাজ্যে, যেখান থেকে ফেরত আসার কোনো উপায় নাই। এখন ভালোবাসা যদি অপরাধের হয় তাহলে সকলেই এ অপরাধের অপরাধী এবং সকলেই তাদের জীবনের কোনো না কোনো দিকে দিয়ে একজন ভিলেন।

এরকমের আরো অনেক অনেক ভিলেন আছে যাদেরকে প্রাথমিক দৃষ্টিতে খারাপ মনে হলেও তারা আসল অর্থে খারাপ না। তাদের এ পথ বেছে নেয়ার পিছনে আছে যথার্থ কাহিনী, কেউ নিজের ভালোবাসাকে রক্ষা করার জন্য, কেউ নিজের গ্রহ রক্ষা করার জন্য, কেউ আবার নিজের অনুসারিদের রক্ষা করেছে, আবার কেউ বৃহত্তর স্বার্থে যা করার করে সাধারন চোখে খারাপ হয়েছে। এ লিস্টে এমন অনেকেই আছে যাদের স্থানে আমি থাকলে তারা যা যা করেছে আমি তাই তাইই করতাম। There are villains who are pure evil, and there are villains who had no choice. And there are villains who did what was necessary. কিন্তু তারাই আপনার হিরোকে বাস্তব রুপ দান করে, জোকার ছাড়া যেমন ব্যাটম্যান অর্থহীন, তেমনি লেক্স ছাড়া ক্যালেল অর্থহীন। Know the villains before you judge their actions. Some of them have a hell of a story to tell.

সময় নষ্ট করে লেখাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ। লেখাটা কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না। হ্যাপি শেয়ারিং।

(Visited 398 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৫৭ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. অসাধারণ পোস্ট। তবে আমার প্রিয় কিছু ভিলেন অনুপস্থিত। রেঙ্ক করতে গেলে সবসময় ম্যাগনিটো আর জোকার কে কনফিউশানে পড়ে যাই কাকে #১ এ রাখবো। 
    হিরোদের নিয়ে আরেকটা মাক্ষি পোস্ট চাই 😀 
    :rate

    • আমার মনে হয়না ও এখানে হার্টথ্রব ভিলেইনদের নিয়ে কিছু লিখতে চেয়েছে, কিংবা ওর শেষ প্যারা অনুসারে প্রদেয় ভিলেইনের স্বরূপ অনুসারে কিছু লিখতে চেয়েছে । সে হিসেবে জোকার আসেনা, ম্যাগনিটোর অনুপুস্থিতি পীড়া দেয় যদিও ।

       

       

    • শাহরিয়ার লিমু শাহরিয়ার লিমু says:

      আদ্রে যা বলেছে তাইই। আসলে এখানে আমি আমার ফেভারিট ভিলেনেদের নিয়ে কথা বলিনি। বলেছি কিভাবে ইনোসেন্ট/ নর্মাল পাবলিকেরা ভিলেনে রুপান্তর হয়েছে যেখানে তাদের আসলে তেমন দোষ নাই।

    • মাইকেল ফ্রান্সিস করলিয়নে says:

      শাহরিয়ার লিমু বলেছেন–  আসলে এখানে আমি আমার ফেভারিট ভিলেনেদের নিয়ে কথা বলিনি। বলেছি কিভাবে ইনোসেন্ট/ নর্মাল পাবলিকেরা ভিলেনে রুপান্তর হয়েছে যেখানে তাদের আসলে তেমন দোষ নাই…

      ইয়ে মানে, মাইকির বেপারে আপনার অভিমত কি? 

  2. এ ব্লগের তুলনা এই ব্লগ নিজেই । এমন দাহরুণ লেখা, দাহরুণ টপিক পড়িনি অনেকদিন । ভিলেইনদের নিয়ে দুর্বলতা আছে, পোস্টের সাথে কমপ্লিটলি এগ্রিড । আরো আরো চাই এমন লেখা । 

     

     

  3. Tauhid Itul says:

    হিরোদের গল্প শুনতে শুনতে ভিলেনেরও যে কিছু বলার আছে সেদিকে আর লক্ষ্য রাখা হয় না। Everyone has a tale to tell.
    পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগল।

    • শাহরিয়ার লিমু শাহরিয়ার লিমু says:

      আপনার ভালো লেগেছে শুনে আমারও ভালো লাগলো। 🙂 আসলে দুনিয়াটা ভালো আর মন্দের সাদাকালোতে না। ভালোমন্দের ধুসর মিশ্রণও রয়েছে। [ ফিলোসফার হইবার ইমো ]

  4. শাতিল আফিন্দি says:

    এত ভালো একটা পোস্ট দুই পার্ট করে লিখতে পারতা। তাহলে পুরোটা আরও ভালোভাবে পড়া যেত। অসাম পোস্ট, এরকম আরও পোস্ট দাও!

    • যাদেরকে নিয়ে লিখেছে এতটুকু ঠিকই আছে । এখন চাইলে ও এটা ধারাবাহিক লেখা হিসেবে দিতে পারে কিংবা না তবে সাইজ ঠিকই আছে । এর চেয়ে কম হলে আবার পড়ে আরাম পেতাম না 😛 

    • শাহরিয়ার লিমু শাহরিয়ার লিমু says:

      ব্যাপার ইজ, আমি আসলে সিরিজ রাইটার না। সেইম টপিকে নিয়মিত লেখার মতন আমার ভিলেন লিস্ট অতো বড় না। তাই দিলাম যখন পুরোটাই দিয়ে দিলাম। 😀 আর আমি যে আইলসা, এক পর্ব লিখে আবার কবে আরেকটা লিখবো তার ঠিক আছে নাকি? :v

      পোস্টকে অছাম খেতাব দেয়ার লাগি ধইন্যা। :3

    • ধানাই পানাই কম, এখন নিয়মিত লিখবা মিয়াঁ 😀 

    • মাইকেল ফ্রান্সিস করলিয়নে says:

      হুম, এখন থেকে নিয়মিত লেখা চাই… 

  5. সোলিটারিও says:

    এমন লেখা অনেকদিন পড়িনি!!! সাধারন একজন কিভাবে ভিলেনে রূপান্তরিত হয়… এইটা কখনও চিন্তাও করে দেখিনি।

    লিমুর জন্য একটাই কমেন্ট… হোডর!! হোডর!! 😛

  6. মুশাসি says:

    এই মানেরও পোষ্ট হয় ! জট্টিল হইছে। প্রশংসা করার ভাষা পাইতেছিনা। সকল ভিলেন এসে এই পোষ্ট দেখলেই আবেগে কাইন্দালাইতো। 
    পুরা রেটিং দিলাম

    • ইউ গিভ হিম এ প্রপার অ্যান্ড ফাংকশনাল এডিটর, হি গিভস ইউ ব্লগস, লটস অফ 'এম 😛 হে হে হে  

    • শাহরিয়ার লিমু শাহরিয়ার লিমু says:

      বেশী পাম্প দিয়েন না জনাব, পেটে গ্যাস হইয়া গেছে। 😀

      এইযে একটা পোস্ট দিলাম আবার যে কবে লিখবো তা কে জানে। :p :p :p

    • ধানাই পানাই বন্ধ । নিয়মিত লিখবা, আমিও লিখব । ইন্সপায়ারড তোমার এই পোস্ট থেকে । লিখবার তাগিদ পাচ্ছি । পাত্তা দাও না ত দেখি আমাদের মহাব্বতের :/ 

  7. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    বাহ এই পোস্তে দেখা যাচ্ছে কমেন্টের ছড়াছড়ি। যারা পোস্ট একেবারেই দেয়না তাদের পোস্টে মনে হয় সবাই হুমরি খেয়ে পড়ে। লিমু ভাই, যদিও আমার কোন পোস্টে আপনার কমেন্ট পাইনা তাতে কোন মন খারাপ নাই। আপনার পোস্টে আমার কমেন্ট দিয়ে গেলাম। পোস্টটা দারুন হয়েছে। এত ভালো লেখার হাত কিন্তু এই হাত সামলে রাখেন কেন? 

    • মনে হয় টপিকটাও গুরুত্বপূর্ণ । আমার কথা যদি বলি, শুধু রিভিউ পড়তে পড়তে চোখ পচে গেছে ! 

    • শাহরিয়ার লিমু শাহরিয়ার লিমু says:

      আপু, সত্যি বলছি। সাইটের এডিটরে সমস্যা থাকায় আমি এতোদিন পোস্ট করতে পারিনি। আর বারবার লগিন করার সমস্যাটার কারনে লগিন করে কমেন্ট করা হয়না। কিন্তু কছম, আমি সবার লেখা পড়ি। O:) প্রমানস্বরুপ নেক্সট টাইম থেকে কষ্ট করে লগিন করে কমেন্ট করবো। ইহা শুধুই আপনার জন্য। 🙂

    • উরিব্বাস, শুধু আপির জন্যে কমেন্ট করবে 😉 ভালুবাসা, কছম … লে বাবা তাও কমেন্ট কর 😛 

    • পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

      আদ্রে ভাই, আমি কিন্তু রিভিউ ছাড়া আরো অনেক রকম পোস্ট লিখি। ঐগুলাতে সবার কমেন্ট খুব কমই পাই। কথা সেটা না, কথা হচ্ছে, টপিক অন্যরকম হলেও সেটাকে সুন্দর করে উপস্থাপনের ব্যপারটা। যেটা লিমু ভাই সুন্দর করে দেখিয়েছেন। 🙂 

    • পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

      লিমু ভাই, আপনার কথা বিশ্বাস করলাম। খুশি হলাম কমেন্ট করবেন শুনে। 

    • আমি কিন্তু নির্দিষ্ট করে আপনার রিভিউ এ কমেন্ট করা না করা নিয়ে কিছু বলিনি । ওভারঅল বুঝিয়েছি, সবাই শুধু রিভিউই লেখে । 

      হ্যাঁ উপস্থাপনা দরকারি, তবে টপিকটাই যদি আকর্ষণীয় না হয় ভিতরে কী আছে না আছে এটাও কিন্তু চেক করা হয়না সবার 😛 

  8. হোয়াইট শ্যাডো says:

    মারহাবা পোষ্ট! অসাধারন , বিশেষ করে যাদের ডিসি ওয়ার্ল্ড সম্পর্কে আইডিয়া কম তাদের জন্য অনেক বেশি উপকারী! হ্যাটস অফ! 

    • এখানে ত মারভেল নিয়েও আলাপ আছে 😀 ভিলেইনের ব্যাপারে আগ্রহী এমন যে কারো দাহরুণ লাগবে মেইবি লেখাটা । পোলায় জোশ লিখেছে, দেখেছেন কত্ত কমেন্ট দিতেছি এই পোস্টে ? বুঝতে হবে B| 

    • শাহরিয়ার লিমু শাহরিয়ার লিমু says:

      আসলে কমিক্স ইউনিভার্স আমার আলাপের মেইন থিম ছিলো না। কিন্তু এগুলো মুভি বেশী দেখি বলে কমিক্স ভিলেনেদের পাল্লাটাই ভারী হয়ে গিয়েছে। :p ডিসি মার্ভেল কোনো কিছুকে আলাদা করে পোস্ট করিনি। 🙂

      ভালো লেগেছে শুনে তৃপ্তি পেলাম।

    • তৃপ্তিতে ঘুমিয়ে যেও না তাহলেই হবে :nerd

    • হোয়াইট শ্যাডো says:

      ওহ আমারি ভুল, কমিক্স সম্পর্কে সত্যি আমার আইডিয়া অনেক বেশি কম :p 😀 তাই এই ছোট্ট ভুল টা করেছি 😀 যাই হোক রেটিং করে দিলাম পোষ্টকে ৪/৫ 😀 !!

    • শাহরিয়ার লিমু শাহরিয়ার লিমু says:

      ব্যাপার নাহ, ম্যান ইজ মোর্টাল। 😀

    • হোয়াইট শ্যাডো says:

      হুম সান্তনা ওখানেই মানুষ মাত্রই ভুলশীল! 

  9. তানিয়া says:

    পোস্ট ভালো হইছে, হিরো গুলান জিতলেও ভিলেন ছাড়া মুভি জমে না  😀

    • শাহরিয়ার লিমু শাহরিয়ার লিমু says:

      ভিলেনরে হিরোর কাউন্টারপার্ট হিসেবেই দেখে গেলা। তারাও যে এককালে ভালোমানুষ ছিলো তা আর দেখলা না। -_-

    • সোলিটারিও says:

      বরং বল যে ভিলেন না থাকলে হিরো গুলার ভাত জুতটো না… এ্যাকচুয়ালি দে কমপ্লিট ইচ আদার।

  10. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    আমার পড়তে একটু দেরি হয়ে গেল বিজি থাকায়। অসাধারন একটা লেখা পড়লাম। আদ্রের মত আমিও বলি; "এ ব্লগের তুলনা এই ব্লগ নিজেই । এমন দাহরুণ লেখা, দাহরুণ টপিক পড়িনি অনেকদিন ।" আরো লেখা চাই শিগগির…

  11. Naheed Adnan says:

    পুরাই থারুন একখান পোস্ট । কষ্ট কইরা পুরাডা পড়ছি হের লাইগা শাহরিয়ার-এর কাছ থাইকা treat পাওনা হইয়া গেসে । 

    BTW : CONDITIONAL HERO হইতে আমার কোনো সমস্যা নাই। 

     

  12. জোকার কই !!! যাইহোক অসাধারণ একটা পোষ্ট পরলাম ভাইজান। আপনি আসলে বুঝতেছেন না আপনি কি পোষ্ট করছেন। আমার কাছে ক্ষমতা থাকলে আমি আপনারে গোল্ড মেডেল নিশ্চিত দিতাম।

    • শাহরিয়ার লিমু শাহরিয়ার লিমু says:

      পোস্টটা আমার ফেভারিট ভিলেনদের দিয়ে নয়। পোস্টটা হলো যেসব ভিলেন আসলে ভালো নিয়তে ভিলেনগিরি করেছে তাদের নিয়ে। জোকার যা করে সেটাতে কোনো ভালো বা মন্দ কোনোই মোটিভ নাই। He does it because he simply feels like doing it. আশা করি এ পোস্টে জোকার না থাকার কারণটা বুঝাতে পেরেছি। 🙂

      তবে গোল্ড মেডেল দেয়া লাগবে না, এই কমেন্টটাই একটা মেডেল। 🙂

  13. সামিয়া রুপন্তি says:

    General Zod কে আমার খুব ভাল লাগে!! (কেউ আমারে মাইর দিয়েন না!!) লোকটা আসলেই একটা আদর্শ সোলজার। তবে লোকির ব্যাপারে একমত হতে পারলাম না। তার ভিলেন গিরির জন্য তার narcissism এবং ক্ষমতার লোভ দায়ী, অডিন কে এখানে দায়ী করা চলে না।

    লেখার ব্যাপারে কিছু বলব না, কমেন্টের বহরই বলে দিতেসে কেমন হইসে!! 😉

    • শাহরিয়ার লিমু শাহরিয়ার লিমু says:

      মাইর দিবো ক্যারে? আমি এদের সাপোর্ট করি দেখেই তো এটা লিখেছি। 😀 এইতো নিজের দলের আরেকজন পাইলাম। :v

      আর লোকি হইলো অ্যাটেনশন সিকার, পুরাই লুতুপুতু অবস্থা। :p

  14. qamark67 says:

    হিরোদের নিয়ে অনেকেই লিখে।আপ্নে ভিলেনদের নিয়া চিন্তা করতেসেন এই জন্য ধইন্ন্যা।
    আমার আবার ভিকেন হবার মুঞ্চায় কিনা(বাংলা সিনেমার ভিলেনদের দেখে উৎসাহিত)!!!
    কমিক ভিলেনদের চিনি না। বাকি ভিলেনদের ভালু পাই।
    পোস্টে পিলাস।

    • শাহরিয়ার লিমু শাহরিয়ার লিমু says:

      কমিক্সের যেসব ভিলেন মুভিতে এসেছে তাদের নিয়েই লিখেছি। কমিক্সের ফুল ভিলেনদের নিয়ে লিখতে গেলে দেউলিয়া হয়ে যেতাম। :p

       

      প্লাস দেয়ার জন্যে আরেকটা প্লাস। 😀

  15. স্টয়িক says:

    ইরাম পুস্ট দিকলে মুনে চায় বলক লেকি। তয় লইজ্জা পাই, আগরতলা দেকার পরে খাটের তলা লেকতে। অনেকদিন অইল ইরাম বালা পুস্ট পড়ি নাই। কচ্ছম কইলাম… 

  16. পেঙ্গুইন পেঙ্গুইন says:

    ডার্থ ভেডার আর ভিক্টর ফ্রীজের ভিলেন হওয়ার মোটিভ সেম। এই দুইজনার জন্য আমার আসলেই খারাপ লাগে। আর একজনের কথা মনে হয় ভুলে গেছেন ইওবার্ড থন ওরফে রিভার্স ফ্ল্যাশ । তার আর বাডি পাইন ওরফে সিনড্রমের ভিলেন হোয়া সেম কারনে ডিজঅ্যাপয়েন্টমেন্ট ফ্রম দেয়ার আইডলস

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন