একটি আজব প্রেম কাহিনী, Gone With The Wind মুভির রিভিউ
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

Gone with the WindGone_With_The_Wind_movie_poster_original

IMDb Rating: 8.2

My Rating: 9.5

Release Date: 17 January 1940 (USA)

ক্লাসিক মুভি তেমন একটা দেখা পরে না, যেগুলা আবার দেখা সেগুলার প্রত্যেকটারই প্রেমে পরে গেছি, এই মুভিটাও সেই প্রেমে পরে যাওয়া মুভির লিস্ট সমূহে আছে। মুভিটা এতই ভালো লেগেছে যে এটা সম্পর্কে দু চারটা শব্দ না লিখে থাকতে পারলাম না।

"Frankly my dear, I dont give a damn." এই বাক্যটা দুই বছর আগে যখন প্রথম শুনেছি তখন থেকেই কারণে অকারণে জায়গায়ে অজায়্গায়ে ব্যবহার করেছি। কখনো আগ্রহ নিয়ে ঘেটে দেখিনি যে এই লাইনটার উত্পত্তিস্থলটা কোথায়ে, আজকে যখন এই অসাধারণ মুভিটি দেখছিলাম তখনই মুভির শেষের দিকে আমার বহুল ব্যবহৃত বাক্যটা আবার আমার কানে গেলো। অনেক ভালো মুভি দেখেছি, কিন্তু এরকমের অসাধারণ মাস্টারপিস এতদিনে কেন হাতে এসে পড়ল সেটার জন্যই আফসোস। 🙁 🙁 মুভির প্লটের জন্য চয়ন করা হয়েছে ১৯৩৬ সালে রচিত ও প্রকাশিত আমেরিকান লেখিকা Margaret Mitchell এর বেস্টসেলার উপন্যাস "Gone with the Wind" থেকে, পরে ১৯৩৯ সালে উপন্যাসটির উপর ভিত্তি করে মুভিটি নির্মান করায়ে মুভিটির নামও উপন্যাসের নামের সাথে মিলিয়ে রাখা হয়। মুভিটির কাহিনী হলো কয়েকজন চরিত্রকে ঘিরে, যাদের চাঞ্চল্যমন একেকবার একেকজনকে মন দিয়ে দেয়। এরই মধ্যে শুরু হয় যুদ্ধ, মনের যুদ্ধ ও দেশের যুদ্ধ। 1861–1865 সালে ঘটে যাওয়া আমেরিকান সিভিল ওয়ারের সময়কালে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে বেচে থাকা ও নিজের ভালবাসার যুদ্ধে টিকে থাকার সংগ্রাম নিয়েই পুরো মুভিটি সাজানো। এমন গভীর ভাবসম্পন্ন মুভি এর আগে কখনো দেখিনাই। মুভিতে রোমান্স ছিল "বহুভুজি", এ একজনকে মন দিয়ে ফেলে, সে আবার আরেকজনের সাথে কমিটেড, যে কমিটেড সে আবার আরেকজনকে ভালবাসে। এই বহভুজ অনেক সময় লাগিয়ে ত্রিভুজে পরিনত হয় এই ত্রিভুজ বিভিন্ন ধাক্কা আঘাত পেয়ে পরিনত হয় দ্বিভুজে। এই দ্বিভুজ ভেঙ্গে আবার আরেক ত্রিভুজের সাথে জোড়া লাগে। সময় ও পরিবেশ বাধ্য করে একেকজনকে একেরকমের কঠিন কঠিন সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে। আমাদের বাস্তব জীবনের সাথে মুভির চিত্রপটের অনেক অনেক মিল, এজন্যই ক্যামেরায়ে তুলে ধরা এইসকল বাস্তবতা দেখে অসাধারনরকমের ভালো লেগেছে।

Clark-Gable-and-Vivien-Leigh-in-Gone-With-The-Wind-1939

মুভির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রটি হলো Scarlett O'Hara, সবেমাত্র কিশোরী থেকে যৌবনে পা দিয়েছে, পরিবারের অবস্থা অসাধারণ রকমের ভালো হওয়ায়ে ছোটকাল থেকে কোনরকমের অভাব অনটন সহ্য করতে হয়নি তাকে, এবং বিত্তশালী হওয়ায়ে নাকটাও বেশ "উচু"। সর্বদা এটা না ওটা, এ কেন নয়, এটা আমার চাই ই চাই এরকম স্বভাবের। এরকমের "সব পাই" মেয়ে যখন তার কিশোর বয়সকালের স্বপ্নের পুরুষ দ্বারা অপনামিত হলো তখন থেকেই মনের মধ্যে হিংসা বেধে বসলো, এককালের ভালোবাসাকে "শিক্ষা" দেওয়ার জন্য স্কারলেট এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল সময়ে সময়ে যার ফলে স্কারলেট সহ আরো অনেকে কেঁদেছে। এরই মধ্যে শুরু হলো যুদ্ধ, স্কারলেটের আদুরে জীবনযাপনের ইতি ঘটলো, যুদ্ধের নির্মমতা ও বাস্তবতা এই কিশোর মনা মেয়েকে প্রকৃত নারীতে রূপান্তর করে ফেলে। শুরু হয় তার নতুন বেশে নতুন জীবনের যাত্রা। এই এককালের আদুরে ও জীবনযুদ্ধে সংগ্রামী নারীর চরিত্রে বাস্তবতা দান করেছেন দুইবারের অস্কার জয়ী ভারতীয় অভিনেত্রী Vivien Leigh। যার জয় করা দুটি অস্কারের মধ্যে একটি হলো এই মুভিতে Best Actress in a Leading Role করার জন্য।

KY2AF00Z

                                             আহা আহা, কি সৌন্দর্য…

স্কারলেটের জীবনে কয়েকটি পুরুষ আসলেও দীর্ঘস্থায়ী পুরুষটি হলেন Rhett Butler, একজন হাসিখুশি মানুষ। স্কারলেট যে কয়বারই বিপদে পরেছিল প্রায় সে কয়বারই বাটলার তাকে উদ্ধারে সম্ভব হয়। হ্যান্ডসাম পার্সোনালিটি, চার্মিং এটিচ্যুড ও সুপার স্টাইলিশ বাটলারের রোলে ছিলেন তিনবারের মনোনীত ও একবারের অস্কারজয়ী অভিনেতা Clark Gable। ক্লার্ক এই বাটলার চরিত্রের জন্য অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন।

clark gable-gone-with-the-wind_03                           এরকম চার্ম আর দেখা যায়না, আফসোস থেকে গেলো

এই গেলো আর্টিস্টদের কথা, মুভি সম্পর্কে আশা যাক, পুরা মুভিটি ফিল্ম করা হয়েছে ইনডোর সেট ও আউটডোর সেট উভয়েই, সেটগুলো ছিল দৃষ্টিনন্দন, অসাধারণ ল্যান্ডস্কেপের কারণে মুভিটা দেখে আরো অনেক আনন্দ পাওয়া গেছে। সবচেয়ে সুন্দর ও অসাধারণ লেগেছে মুভির প্রথমদিকের স্কারলেটের বাড়ির বাগানের সেট টা। পুরা মনোমুগ্ধকর। এছাড়াও আর্টিস্টদের অভিনয়ও ছিল অসাধারণ। পুরা ২৩৮ মিনিটের মুভিটি (প্রায় চার ঘন্টা) আপাতত আমার দেখা সবচেয়ে দীর্ঘ মুভি। মুভিটা দেখাকালীন আপনি পুরাই উনবিংশ শতাব্দিতে ঢুকে যাবেন। সেরকমের চলনবলন, আচার আচরণ, সেই সময়কার পটভূমি আপনাকে এই জগত থেকে সরিয়ে নিয়ে যাবে। আপনি পরিচিত হবেন তখনকার সমাজের খ্যাত ও জৌলুসের সাথে, মিলিত হবেন তাদের সংস্কৃতির সাথে ও পরিচয় পাবেন সেই সময়কার অর্থ সামাজিক পরিস্থিতির। দেখতে পাবেন ভালবাসার জয়, আবার পরাজয়, অস্তিত্ব তের পাবেন সুখের ও দুঃখের একত্রেই। আর সেই সাথে মিল পাবেন আপনার জীবনের সাধারণ সমস্যাগুলার, যেগুলা নিয়ে আর দশটা মানুষের মত আপনিও চিন্তিত থাকেন। পারিবারিক মান, আত্মসম্মান ইত্যাদি ইত্যাদি।।।। মুভিটি এতটাই ভালো হয়েছে যে সব মিলিয়ে মোটমাট আটটি অস্কার জয়লাভ করে, বেস্ট এক্টর একট্রেস ছাড়াও রয়েছে স্পেশাল রেকগনিশন কালারফিল্ম ব্যবহারের জন্য। এছাড়াও পেয়েছে বেস্ট ডিরেক্টর ও বেস্ট পিকচারের সম্মান। আপনি যদি মুভি পাগল হন আর এই মুভিটি এখনো অদেখা থাকে তবে আমি বলব সময় অপচয় না করে এখনি দেখে ফেলুন এই মুভিটি, পুরান দিনের মুভি ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে আপনার আউটলুকই পাল্টে যাবে।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন