Star Trek or Star Wars? Let the universal argument begin. ডাউনলোড লিঙ্ক সহ

star-trek-vs-star-wars 

আর্জেন্টিনা নাকি ব্রাজিল? বার্সেলোনা নাকি মাদ্রিদ? এন্ড্রয়েড নাকি আইওএস? নিউজিল্যান্ড নাকি অস্ট্রেলিয়া?

কিছু কিছু বিতর্ক থেকে যায় আজীবন, সেরকমের আরেকটি বিতর্ক হলো স্টার ট্রেক ও স্টার ওয়ার্স নিয়ে, বিনোদন জগতে এ দুটোর প্রবেশের সাথেই সাথেই দর্শক মহলে গড়ে উঠেছে নানা মতবাদ, নানান চিন্তাধারা। গড়ে উঠেছে অনেক ফ্যানক্লাব, ইন্টারনেট ফোরাম ও, কিন্তু এত সবের মধ্যে দিয়েও এদের মধ্যে কোনটা যে অপরের চেয়ে ভালো তারই উত্তর পাওয়া ভার। কট্টর ফ্যানরা তার প্রিয় সিরিজের দিকেই ভোটের পাল্লা ভারী করবে, কিন্তু তাতে কি লাভ? আসুন জেনে নেই স্টার ট্রেক ও স্টার ওয়ার্স মুভি সিরিজগুলোর সম্বন্ধে।

বলে রাখি, যেহেতু মুভি সিরিজ নিয়ে আলাপ হচ্ছে, সেহেতু এমনটাও হতে পারে যে সেকেন্ড বা থার্ড পার্টের প্লট পড়তে গিয়ে তার আগের পার্টের স্পয়লার পেয়ে যেতে পারেন, আমি যথাসম্ভব তা না করার চেষ্টা করবো। আর যদি স্পয়লার পেয়েও যান তাহলে ক্ষমাচোখে দেখবেন। I am only human you know.

 

স্টার ট্রেক সিরিজঃ

star_trek_wallpaper_43_1280

১৯৬৬ সালে জিন রডেনবেরীর সৃষ্টি "স্টার ট্রেক" টিভি সিরিজের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে, পরবর্তিতে বেশ কয়েকটা সিরিজ "স্টার ট্রেকঃ দ্যা অ্যানিমেটেড সিরিজ", "স্টার ট্রেকঃ দ্যা নেক্সট জেনারেশন", "স্টার ট্রেকঃ ডিপ স্পেস নাইন", "স্টার ট্রেকঃ ভয়েজার" এবং "স্টার ট্রেকঃ এন্টারপ্রাইজ" টেলিভিশনে এয়ার করা হয়। ১৯৭৯ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বারোটি স্টার ট্রেক মুভি নির্মান করা হয়। সেগুলো হলো…

 

Star_Trek_The_Motion_Picture_posterস্টার ট্রেকঃ দ্যা মোশন পিকচার (১৯৭৯): ত্রয়োবিংশ শতাব্দী, মানুষেরা এলিয়েনের সাক্ষাৎ পেয়েছে অনেক আগেই, গড়ে উঠেছে "ফেডারেশন অফ প্ল্যানেটস"। এটা একটি গ্যালাক্সিনির্ভর সংগঠন যেখানে বিভিন্ন গ্রহের সরকার একাত্মতা ঘোষনা করে মিলেমিশে শান্তিতে থাকার প্রয়াসে। একসময়ে রিকনসিস করে দেখা যায়, গ্যালাক্সির এক মাথা থেকে বিশাল একটি মেঘখন্ড এগিয়ে আসছে, তার পথে যে কয়টা স্পেসশিপ আসছে সবগুলকেই ধ্বংস করে ফেলছে। হিসেব করে দেখা গেছে, মেঘটার গতিমুখ আর কোথাও না স্বয়ং পৃথিবীর দিকে। এ ক্রাইসিস মোকাবেলা করার জন্য ডিসপ্যাচ করা হলো স্টারফ্লিট ফেডারেশন এর শিপ "ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ"। যেটার কমান্ডিং অফিসার হচ্ছে ক্যাপ্টেইন জেমস টি কার্ক, স্পক, ম্যাকয়, যুলু, আহুরা। যাত্রা শুরু করলো তারা পৃথিবীকে এই অজানা বিপদ থেকে বাচানোর জন্য।

Download Link: http://thepiratebay.sx/torrent/7857685

 

 

Star_Trek_The_Motion_Picture_posterস্টার ট্রেক ২: দ্যা রাথ অফ খান (১৯৮২): একটি ডিস্ট্রেস কল এর রেস্পন্স করতে গিয়ে কার্ক মুখামুখি তার পুরানো এক শত্রুর। খান নুনিয়ান সিং, যে পনেরো বছরের এক্সাইল থেকে পালিয়ে আসে শুধুমাত্র কার্কএর সাথে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য। শুধু নিছক প্রতিশোধের কারনেই সে গ্রহের পর গ্রহ ধ্বংস করতে প্রস্তুত। কিভাবে আনাড়ি ক্রু মেম্বার নিয়ে কার্ক এরকমের একজন সুপারভীলেনের মোকাবেলা করবে? একদিকে একজনের কাছে রয়েছে জেনেসিস প্রটোটাইপ, আর আরেকদিকে আরেকজনের কাছে রয়েছে একটি যুদ্ধবিদ্ধস্ত স্টারফ্লিট ক্রুজার।

.

.

.

Download link: http://thepiratebay.sx/torrent/7858990

 

 

Star_Trek_The_Motion_Picture_posterস্টার ট্রেক ৩: দ্যা সার্চ ফর স্পক (১৯৮৪): সম্ভাব্য স্পয়লার, আগের মুভিদুটোর কাহিনী ধরে এগোতে থাকে এই মুভির কাহিনী, "রাথ অফ খান" মুভিতে স্পক মারা যায়, এরপর তাকে সম্মান দেয়া হয় জেনেসিস প্ল্যানেটে তার মরদেহ টর্পিডো বে তে ফায়ার করে। এ ঘটনার অনেকদিন পরেও কার্ক স্পকের অস্তিত্বের আলামত পায়, তাহলে কি স্পক বেচে আছে? খোদ হাই কমান্ডে আদেশ উপেক্ষা করে কার্ক, স্কটি, যুলু বেরিয়ে পরে স্পকের খোজে, যাত্রা শুরু করে স্পকের সর্বশেষ স্থান জেনেসিস প্ল্যানেট এ।

.

.

Download Link: http://thepiratebay.sx/torrent/7859166

 

 

 

Star_Trek_The_Motion_Picture_posterস্টার ট্রেক ৪: দ্যা ভয়েজ হোম (১৯৮৬): যে সময়টাতে কার্ক স্পকের অনুসন্ধানে ব্যস্ত ছিলো, সেই সময়েই পৃথিবীর কক্ষপথে এক আজীব ধরনের ক্রাফটের আবির্ভাব ঘটে, সেটা একরকমের সিগ্ন্যাল পৃথিবীকে উদ্দেশ্য করে দিচ্ছিলো এবং পৃথিবীর সকল বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি অকেজ হয়ে যায়, ভন্ডুল হয়ে যায় প্ল্যানেটারি ডিফেন্স মেকানিজম এবং জলবায়ুর প্যাটার্ন। ওইদিকে মিশন শেষ করে পৃথিবীতে ফিরার সময়ে কার্ক ও দল এও ক্রাইসিসের সম্পর্কে অবগত হয়। তারা জানতে পারে, ক্রাফটটি হাম্পব্যাক তীমির সাথে যোগাযোগের চেষ্টায়ে আছে। কিন্তু সমস্যা হলো সেই সময়ে সকল ব্রীডের তীমি সম্পুর্নরুপে বিলুপ্ত, তাহলে সমাধান কি?

.

.

Download link: http://thepiratebay.sx/torrent/7859462

 

 

Star_Trek_The_Motion_Picture_posterস্টার ট্ট্রেক ৫: দ্যা ফাইন্যাল ফ্রন্টিয়ার (১৯৮৯): সাইবোক, একজন বিদ্রোহী ভুল্কান। ভুল্কান ঐতিহ্য ত্যাগ করে সে বেরিয়ে পরে আল্টিমেট নলেজের সন্ধ্যানে। তার জানার পিপাসাই তাকে আরো বিপদজনক করে তুলে দিনে দিনে। অবশেষে একদিন সে সন্ধান পায় কিভাবে সকল জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব, কিন্তু সেই কাজ করার জন্য তার দরকার একটি পাওয়ারফুল স্পেসশীপ। কিন্তু স্পেসশিপ পাবে কোথায়ে? তখনই তার মাথায়ে খেলে যায় একটি বুদ্ধি। সাইবোক তখন গিটের পর গিট দিয়ে বুনতে থাকে এক বিশাল চক্রান্তর জ্বাল।

.

.

.

Download link: http://thepiratebay.sx/torrent/7859657

 

 

Star_Trek_The_Motion_Picture_posterস্টার ট্রেক ৬: দ্যা আনডিস্কভার্ড কান্ট্রি (১৯৯১): ফেডারেশন অফ প্ল্যানেটস এর অপজিশন পার্টি "ক্লিঙ্গন এম্পায়ার", তাদের মুল খনিজ উৎপাদন চাঁদ প্রাক্সিস এর বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে ক্লিঙ্গন এম্পায়ারের খুটি নড়বরে হয়ে যায়। তারা বাধ্য হয়ে শত বছরের শত্রুতা ভুলে গিয়ে ফেডারেশনের সাথে শান্তিচুক্তিতে আবদ্ধ হতে। সেই শান্তিচুক্তিতে যাওয়ার জন্য ক্লিঙ্গন আম্বাস্যাডরের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার্কের টিমের উপর পরে, পুরো গ্যালাক্সি যখন এই মিত্রতাকে স্বাগত জানাচ্ছে সেখানে কার্ক পাচ্ছে গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস।

.

.

.

Download link: http://thepiratebay.sx/torrent/7859797

 

 

Star_Trek_The_Motion_Picture_posterস্টার ট্রেক ৭: জেনারেশনস (১৯৯৪): বয়স বেড়েছে, সময় হয়ে এসেছে রিট্যায়ার করার, যৌবনকালের সবচেয়ে কাছের সঙ্গী ইউএসএস এন্টারপ্রাইজকে নতুন ক্যাপ্টেইনের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেয়ার জন্য আসে কার্ক, স্কটি, স্পক, উহুরা। অনুষ্ঠানের মাঝে তারা একটা ডিস্ট্রেস কল পায় যে কয়েকটি নিউট্র্যাল শীপ একটি স্পেস এনামলির গ্র্যাভিটিতে আটকে পরেছে, আশেপাসের সবচেয়ে কাছের শিপই হলো এন্টারপ্রাইজ। অবসরের আগে আরেকবারের মতন বেরিয়ে পরে ক্যাপ্টেইন কার্ক তার বন্ধুদের নিয়ে ডিস্ট্রেস কলের উত্তর দিতে। কিন্তু আগেরবারের মতন আর পেরে উঠে না, সেই স্পেস এনামলি এন্টারপ্রাইজের একপাশ একদম গায়েব করে দেয়, এবং অনেকের সাথে সেই গায়েবের তালিকাতে রয়েছে ক্যাপ্টেইন জেমস টি কার্ক।

এ ঘটনার ৭৮ বছর পরে, স্টারফ্লিট শীপ ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ এর তত্ত্বাবধানে ক্যাপ্টেইন জন লুক পিকার্ড। সম্পুর্ন নতুন ক্রু আর নতুন উদ্দিপনাময় একটি যাত্রা। পিকার্ড স্টারফ্লিট কমান্ড থেকে সন্ধান পায় সেই ৭৮ বছর আগে দেখা স্পেস এনামলি সম্পর্কে, এবং সেই এনামলির ব্যবহার করতে ধ্বংসযজ্ঞ বয়ে আনতে পারে এমন একজন ক্রিমিন্যালের…

Download Link: http://thepiratebay.sx/torrent/7859952

 

 

Star_Trek_The_Motion_Picture_posterস্টার ট্রেক ৮: ফার্স্ট কন্ট্যাক্ট (১৯৯৬): বোর্গ, একটি সাইবারনেটিক জীব যা জৈবিক প্রানীদের সাথে ফিউশন ঘটিয়ে বেচে থাকতে পারে, ও তারা যে গ্রহে যায় সেই গ্রহের সকল প্রান নাশ করে ফেলে। অনেকটা প্যারাসাইটের মতন। পৃথিবীর কক্ষপথে একটি বর্গকিউব (স্পেসশিপ) এ ফেডারেশন হামলা চালালে সেখান থেকে একটি এস্কেপ পড টাইম ওয়ার্প ড্রাইভে অতীতে চলে আসে, ক্যালকুলেট করে দেখা যায়, যে টাইমে বর্গরা টাইম জাম্প করেছে সেইদিন পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম এলিয়েন স্পিসিস এর সাথে যোগাযোগ কর হয়। এইদিনে ব্যাঘাত হানলে পুরা গ্যালাক্সির ইতিহাস পালটে যাবে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রক্ষার্থে এন্টারপ্রাইজ ও সেই টাইমজাম্প এর ট্রেইল ধরে পিছু করে অতীতে শত্রুদের থামানোর জন্য।

.

Download link: http://thepiratebay.sx/torrent/7862220

 

 

220px-Star_Trek_IXস্টার ট্রেক ৯: ইন্সারেকশন (১৯৯৮): গ্যালাক্সির এক প্রান্তের একটি সভ্যতা যার নাম বাকু, সভ্যতাটি ওয়ার্প জেনারেশন হওয়া সত্তেও বর্জন করেছে সকল ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার। তাদের গ্রহের একটি বৈশিস্টের জন্য সেটার উপরে নজর পরে সোনআ দের, আর সোনআ রা তাদের প্ল্যান সফল করার জন্য তাদের দলে নিয়ে নেয় ফেডারেশন অ্যাডমির‍্যাল ম্যাথিউ ডোহ্যার্থিকে। পিকার্ড ও তার দল সরাসরি স্টারফ্লিটের আদেশ অমান্য করে মুখোমুখি হয় তাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার।

.

.

.

Download link: http://thepiratebay.sx/torrent/7862413

 

220px-Star_Trek_IXস্টার ট্রেক ১০: নেমেসিস (২০০২): ক্যাপ্টেইন জন লুক পিকার্ড এর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাকে মোকাবেলা করতে হবে শিনযন নামের এক রামুলান এক্সপেরিমেন্টকে। শিনযনকে রামুলানরা ক্যাপ্টেইন পিকার্ডের বদলে রমুলান এজেন্ট হিসেবে এন্টারপ্রাইজে পাঠানর প্লান করেছিলো। পরে সরকার বদলের ফলে সে প্লান বাতিল করা হয় ও শিনযন কে "বাতিল" বলে ফেলে দেয়া হয়। এই শিনযনই প্রতিশোধ হিসেবে তার নতুন টার্গেট হিসেবে বেছে নেয় পুরো রামুলান এম্পায়ারের দখলকে। প্রশ্ন হলো? কিভাবে তাকে আটকাবে পিকার্ড?

.

.

.

.

Download Link: http://thepiratebay.sx/torrent/7864733

 

220px-Star_Trek_IXস্টার ট্রেকঃ দ্যা মুভি (২০০৯): উপরে আলোচনা করা মুভিগুলোর গল্প একে অপরের সাথে সেইভাবে সরাসরি জড়িত না থাকলেও ক্যারেক্টারগুলোর কন্টিনিউয়েটি আছে। কিন্তু এই মুভিটা সিরিজের কোন মুভির কন্টিভিউয়েটি না। এটা সম্পুর্নভাবে নতুন করে বানানো। এই মুভিটা সিরিজের প্রথম দিকের এন্টারপ্রাইজ জেনারেশন কার্ক, স্পক, যুলু, উহুরা, স্কটি এদের টাইমলাইনের রিবুট। এ মুভিতে প্রত্যেকটা কী চরিত্রদের দেখান হয় কিভাবে তারা স্টারশীপ ইউএসএস এন্টারপ্রাইজের ক্রু মেম্বার হয়। নেরো নামের এক রামুলান প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে জ্বলতে একটি আর্টিফিশিয়াল ব্ল্যাক হোলের ভিতর দিয়ে অতীতে চলে আসে। অতীতের পৃথিবীকে ধ্বংস করার ভিতর দিয়ে সে স্টারফ্লিটের ধ্বংস কামনা করে।

এ মুভিটা নিয়ে অনেকেরই মতভেদ আছে, অনেকেই এটাকে রিবুট বলে থাকলেও আবার আরেকমহল এই টাইম ট্র্যাভেলের ফলে ঘটে যাওয়া "অল্টারনেট রিয়েলিটি" থিওরিকে বেশি সাপোর্ট দিচ্ছেন, অর্থাৎ আগের কার্ক, পিকার্ড সবই এই কাহিনীর সাথেও যুক্ত কিন্তু তারা আরেক রিয়েলিটির অন্তর্ভুক্ত। ঘটনা যাই হোক না কেন, এই মুভিতে আপনি নতুন করে স্পক, কার্ক এদের দেখা পাবেন।

Download link: http://thepiratebay.sx/torrent/7482448

 

220px-Star_Trek_IXস্টার ট্রেকঃ ইনটু ডার্কনেস (২০১৩): নিবিরু গ্রহে একটি রিকনসিস মিশনে স্পকের জীবন বাচাতে কার্ক পুরো মিশন কম্প্রোমাইজ করে তখন তাকে স্টারফ্লিট ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। লন্ডনে এমার্জেন্সি মিটিঙ্গে কার্ক ও অ্যাডমিরাল ক্রিস্টোফার পাইকের উপর জন হ্যারিসন নামের প্রাক্তন স্টারফ্লিট এজেন্ট হামলা করে। কার্কের নতুন মিশন, হ্যারিসনকে জীবিত বা মৃত অবস্থায়ে ডিটেইন করা, প্রেফারবলি এলাইভ দ্যান ডেড।

.

.

.

.

উপরে আলোচনা করে ফেললাম এখন পর্যন্ত রিলিজ পাওয়া সকল স্টার ট্র্যাক মুভির প্লট সিনোপ্সিস, বারোটা মুভি নির্মান করেন আটজন ডিরেক্টর, তারা হলেনঃ রবার্ট ওয়াইজ, নিকোলাস মেয়ার, লেওনার্ড নিময়, উইলিয়াম শ্যান্টনার, ডেভিড কার্সন, জনাথান ফ্রেইকস, স্টুয়ার্ট বেইর্ড এবং জে জে এব্রামস।

সিরিজ মুভিগুলোর ক্ষেত্রে যা সাধারণত হয়ে থাকে, প্রথমদিকের মুভিগুলো অনেক ভালো হয় কিন্তু যতই সামনে এগিয়ে যেতে থাকে ততই মুভির মান নামতে থাকে। এ মুভি সিরিজের ক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। প্রথম তিনটি মুভি (দ্যা মোশন পিকচার, রাথ অফ খান, সার্চ ফর স্পক) যতোটুকু যত্ন সহকারে নির্মান করা হয়েছিলো তার পরের মুভিগুলোতে সেই যত্নের দশভাগের চারভাগ ও খুজে পাওয়া যায়নি। সায়েন্স ফিকশন মুভির লেভেলের সাথে মিলালেও কিছু কিছু মুভির প্লট বেশ হাস্যকর লেগেছে। কিন্তু মুভিগুলোর মান একদম নেমে যাওয়া শুরু করলো "স্টার ট্রেকঃ জেনারেশনস" মুভিটা থেকে, হতে পারে যে নতুন ক্রুকে আমার পছন্দ হয়নি, কিন্তু এই সিরিজের মুভিগুলোর প্লট তেমন শক্তিশালি ছিলো না, একমাত্র নেমেসিস বাদে। প্রথম মুভিগুলোর তুলনায়ে এগুলার প্লট অনেক অনেক দুর্বল। গেইমিং জগতে একটা কথা আছে, "বেটার গ্রাফিক্স ডাজনট মেক ইট এ বেটার গেইম"। আমি মনে করি, এ থিওরী মুভি মেকিঙের জন্যেও প্রযোজ্য। তার উৎকৃষ্ট প্রমান জে জে এব্রামস এর স্টার ট্রেক (২০০৯), এ মুভিটাতে কাহিনী বলতে কিছুই খুজে পাইনি আমি। আগের মুভিগুলোতে এই মুভির চেয়ে কম রানটাইম নিয়ে যতো সুন্দরভাবে প্লট গুছিয়ে নেয়া হয়েছিলো এ মুভিটাতে তার তেমন আলামত পাইনি। পুরো মুভিটা কেমন জানি একটা তাড়াহুরার মধ্যেই শুরু আর শেষ হয়ে গেছে। খালি হাই ডেফিনেশন গ্রাফিক্স, মাত্রাতিরিক্ত লেন্স ফ্লেয়ার আর থ্রিডি দিয়ে সাধারন দর্শকদের ভুলান যায় কিন্তু একজন জেনুইন "ট্রেকী" কে কখনই ভুলানো যাবে না। অপেক্ষায়ে আছি এব্রামস এর সেকেন্ড স্টার ট্রেক ইন্সটলমেন্ট "ইন্টু ডার্কনেস" এর অপেক্ষায়ে, দেখি তার প্রথম মুভির তুলনায়ে এবং সমগ্র স্টার ট্রেক মুভি ফ্র্যাঞ্চাইসের তুলনায় এটা কেমন করেছে।

.

স্টার ওয়ার্স সিরিজঃ

 

starwars_zpsc2d6f11f

জর্জ লুকাসের সৃষ্টি স্টার ওয়ার্স আমেরিক্যান ফেভারিট সায়েন্স ফিকশন ফ্র্যাঞ্ছাইসগুলোর মধ্যে অন্যতম, বিনোদন জগতে স্টার ওয়ার্স পা রাখে মুভির মাধ্যমেই, পরে মুভিগুলোর জনপ্রিয়তার দরুন দিনে দিনে নির্মান হয় অ্যানিমেশন সিরিজ, কমিক্স, টয় লাইন একশন ফিগার, এমনকি উপন্যাসও। স্টার ওয়ার্স সিরিজে মুভি রয়েছে ছয়টি ও অ্যানিমেশন সিরিজ রয়েছে দুটি। ছয়টি মুভির তিনটি আগে নির্মান করা হয় ও পরে এই ট্রিলজির প্রিকুয়েল হিসেবে আরো তিনটি মুভি নির্মান করা হয়। বর্তমানে সিরিজের সপ্তম মুভি নির্মানের কাজ চলছে।

 

220px-Star_Trek_IXস্টার ওয়ার্স এপিসোড ৪: এ নিউ হোপ (১৯৭৭): অনেক দুরের এক গ্যালাক্সিতে অনেক সময় আগেকার ঘটনা, "ফোর্স" একটি জাগতিক শক্তি যা সকল জীবিত প্রানের মধ্যে সঞ্চায়িত। এই ফোর্স কে ব্যবহার করতে পারে এমন জীব খুব কমই আছে, যারা ফোর্স নিজের ইচ্ছামতন ব্যবহার করতে পারে তাদের বলা হয় "ফোর্স উইল্ডার"। ফোর্সের ব্যবহার করে তারা মনের শান্তি লাভ করতে পারে, বিপদ আপদ আচ করতে পারে, এমনকি টেলেপ্যাথি আর টেলেকাইনেসিস পারফর্ম করতে পারে। গ্যালাক্সিতে শান্তি বিস্তারের প্রয়াসে হাজার হাজার বছর ধরে কার্জক্রম চালিয়ে যাচ্ছে জেডাই নাইট কাউন্সিল। এরা কোন সরকারের অধীনে নয়, যখন যেখানে শান্তির দরকার তখনই জেডাইরা হস্তক্ষেপ করে, সাধাসিধা লেবাসে থাকা এই ফোর্স উইল্ডার সাধুরা প্রত্যেকেই সাহসী যোদ্ধা, জ্ঞানী বোদ্ধা, স্বার্থহীন। আবার প্রদীপের আলোর নিচের অন্ধকারের মতন রয়েছে আরেক জাতের ফোর্স উইল্ডার, এদের কে বলা হয়ে থাকে সীথ। এরা জেডাইদের মতই শক্তিশালি যোদ্ধা, কিন্তু পরোপকারে একা ফোর্সের ব্যবহার করে না, এরা ফোর্সের ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য।

এ মুভির কাহিনী হলো অনেকটা ঘোলাটে, সিথ লর্ড ডার্থ সিডিয়াস আর ডার্থ ভেডারের অত্যাচারী গ্যালাক্টিক এম্পায়ারের ত্বত্তাবধানে নির্মান করা ডুমসডে ওয়েপন "ডেথ স্টার", একটি চাঁদের সমান উপগ্রহ যা বড় বড় গ্রহ ধ্বংস করতে সক্ষম। এই ডেথ স্টার ধ্বংস করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে রিপাব্লিকান রেবেল ফোর্স, ডেথ স্টারের ব্লুপ্রিন্ট দুটি ড্রয়েডের মধ্যে লুকিয়ে দেয় রিপাব্লিক্যান "প্রিন্সেস লেয়লা", কিন্তু ঘটনার কালক্রমে ড্রয়েড দুটি চলে আসে একটি মরু গ্রহের গেরস্থ সাধারন ছেলে লুক স্কাইওয়াকারের হাতে। স্কাইওয়াকার বেরিয়ে পরে প্রাক্তন জেডাই নাইট "ওবি ওয়ান কানোবির" সাথে ড্রয়েডগুলোকে তাদের যথার্থ স্থানে পৌছে দিতে।

Download Link: http://thepiratebay.sx/torrent/8289844

 

 

220px-SW_-_Empire_Strikes_Backস্টার ওয়ার্স এপিসোড ৫: দ্যা এম্পায়ার স্ট্রাইকস ব্যাক (১৯৮০): যে সময়ে ডার্থ ভেডার "রেবেল এলায়েন্স" এর খোজে ব্যস্ত সেই সময়ে লুক স্কাইওয়াকার ব্যাস্ত জেডাই মাস্টার ইওডার তত্ত্বাবধানে পুরদমে জেডাই নাইট হোয়ার ট্রেইনিং এ। ট্রেইনিং এর মাঝখানেই লুক কে ফেরিত চলে যেতে হয় কারন গ্যালাক্টিক এম্পায়ার লুক এর রেবেল এলায়েন্সের বন্ধু হ্যান সোলো ও প্রিন্সেস লেয়লাদের আটক করে ফেলে। লুক কে আর অর্ধেক ট্রেনিং নিয়েই মোকাবেলা করতে হবে একজন পুর্নদমে ট্রেনিংপ্রাপ্ত ফোর্স উইল্ডারের সাথে, নাম তার ডার্থ ভেডার।

.

.

.

.

Download Link: http://thepiratebay.sx/torrent/7879076

 

 

220px-ReturnOfTheJediPoster1983স্টার ওয়ার্স এপিসোড ৬: রিটার্ন অফ দ্যা জেডাই (১৯৮৩): গ্যালাক্টিক এম্পায়ার নির্মান করেছে আরেকটি ডেথ স্টার, আগেরটার চেয়ে কয়েকগুনে বড়, কয়েকগুনে বেশি শক্তিশালি। লুক স্কাইওয়াকার, ফেরত গেছে ইয়োডার কাছে তার জেডাই ট্রেইনিং সম্পন্ন করতে, ট্রেনিং শেষে একজন পুর্ন জেডাই নাইট হিসেবে লুকের মিশন, এম্পায়ারের নতুন ডেথ স্টারের ধ্বংস ডেকে আনা, এবং একজন পথভ্রষ্ট প্রাক্তন জেডাই নাইট কে সঠিক রাস্তার আলো দেখানো।

.

.

.

.

.

Download Link: http://thepiratebay.sx/torrent/7833086

 

 

220px-ReturnOfTheJediPoster1983স্টার ওয়ার্স এপিসোড ১: দ্যা ফ্যান্টম মেনেস (১৯৯৯): ক্লাসিক স্টার ওয়ার্স ট্রিলজির প্রিকুয়েল ট্রিলজির প্রথম পার্ট এই মুভি, এই প্রিকুয়েল ট্রিলজিটা দেখলে ক্ল্যাসিক ট্রিলজির অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। এ মুভিতে ফোকাস করা হয়েছে জেডাই নাইট কোয়াই-গন জিন ও তার পাডাওয়ান (শিষ্য) ওবি ওয়ান কানোবিকে, তাদের কাজ, একটি ডিপ্লম্যাটিক মিশনে প্ল্যানেট নাবুর কুইন আমিদালা কে প্ল্যানেট কোরাসান্ট এ এসকোর্ট করা, পথে একটি মরুময় গ্রহে দেখা মিলে অ্যানাকিন স্কাইওয়াকার নামের এক শিশুর, কোয়াই- গন জিনের বিশ্বাস, এই শিশুই হতে পারে পূরানে উল্লেখিত সেই জেডাই, যে কিনা জাগতিক ভারসাম্য বজায় রাখবে। এদিকে কোরাসান্টের অন্ধকারে উকি দিচ্ছে, এক পুরানো চেহারা, হাজার হাজার বছরের পরে জেডাইদের চিরশত্রু সিথরা নিজেদের অস্তিত্ব প্রকাশ করলো।

.

Download link: http://thepiratebay.sx/torrent/6748045

 

 

Star_Wars_-_Episode_II_Attack_of_the_Clones_(movie_poster)স্টার ওয়ার্স এপিসোড ২: অ্যাটাক অফ দ্যা ক্লোনস (২০০২): এপিসোড ওয়ানের দশ বছর পরের থেকে এই মুভির কাহিনী শুরু, এখন ওবি ওয়ান কানবি সম্পুর্নরুপে জেডাই নাইট ও অ্যানাকিন স্কাইওয়াকার তার প্যাডাওয়ান। গ্যালাক্টিক রিপাব্লিক ও সেপারেটিস্টদের মধ্যে সিভিল ওয়ার শুরু হয়ে গেছে, সেপারেটিস্টদের ইন্ধন দিয়ে চলছে প্রাক্তন জেডাই ও সিথ লর্ড কাউন্ট ডুকু, এদিকে, যুদ্ধে সামাল দিয়ে উঠতে পারছে না গ্যালাক্টিক রিপাব্লিক, সমাধান হিসেবে টেবিলে আনা হলো ক্লোনের আর্মির ব্যবহার। এই ব্যাপারে সকলে একমত হলেও জেডাই কাউন্সিলের হেড মাস্টার ইয়োডা কিছুটা চিন্তিত এই ক্লোন রেনেগেডের ভবিষ্যৎ নিয়ে। এদিকে অ্যানাকিন জেডাই অর্ডারের নিয়ম ভঙ্গ করে সকলের অগোচরে একটি কাজ করে ফেলে, সে নিজেও তখনো বুঝতে পারেনি যে কতোটা ভয়ংকর কাজ সে করে ফেলেছে।

.

Download Link: http://thepiratebay.sx/torrent/6758701

 

 

220px-Star_Wars_Episode_III_Revenge_of_the_Sith_posterস্টার ওয়ার্স এপিসোড ৩: রিভেঞ্জ অফ দ্যা সিথ (২০০৫): বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে ক্লোন ওয়ার, লাখে লাখে কোন যুদ্ধখেত্রে ডিপ্লয় করা হচ্ছে, আর এই যুদ্ধে জেনারেলের ভুমিকা পালন করছে জেডাই নাইট কাউন্সিল। এদিকে অ্যানাকিন দুঃস্বপ্ন দেখছে যে তার কাছের একজনের প্রাননাশ হবে, তার এই সপ্নের কথা সে জানায় তার "বন্ধু" রিপাব্লিক চ্যান্সেলর পাল্পাতিনের কাছে, পাল্পাতিন তার কান ভারী করে দেয় যে একমাত্র একজন সিথ লর্ডই পারবে অ্যানাকিনের এই সমস্যার সমাধান করতে। প্রশ্ন হলো, সেই মানুষটিকে বাচাতে অ্যানাকিন কতোদুর পর্যন্ত যেতে থাকবে? কয়টি জেডাই অর্ডার ভঙ্গ করবে?

.

.

Download Link: http://thepiratebay.sx/torrent/6766080

 

স্টার ট্রেক মুভি সিরিজে যেমন শুধু ক্যারেক্টার কন্টিনুয়েটি ছিলো, কিন্তু প্রত্যেকটা মুভির কাহিনী আলাদা ছিলো, স্টার ওয়ার্সের কাহিনী কিন্তু একদমই তার উলটা, ছয়টা মুভিই একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, এজন্য এ সিরিজটা দেখে অনেকে আরাম পাবেন। স্টার ট্রেকের বারোটা মুভিতে বারোরকমের ভীলেন থাকলেও স্টার ওয়ার্স এ ভীলেন একটি দলই। অরিজিন্যাল ট্রিলজির মুভিগুলো অনেক ইঞ্জয়েবল, সময়ের আগের মুভি হয়া সত্তেও অনেক উন্নতমানের গ্রাফিক্সের ব্যবহার লক্ষ করা গেছে। সাউন্ড স্কোর ছিলো বেশ উন্নত, ডার্থ ভেডারের "ইম্পেরিয়াল মার্চ" এখনও কানে বাজলে দেহের সকল লোম দাড়িয়ে যায়। চরিত্রগুলোর গভীরতাও মনে রাখার মতন, প্রত্যেকটা ক্যারেক্টারের একটি সলিড ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। প্রিকুয়েল ট্রিলজি আর অরিজিন্যাল ট্রিলজি এক বসাতে দেখে নিলে একটা আলাদা জগতে আপনি চলে যাবেন। তবে এডভাইজ দিবো, রিলিজ ডেট অনুযায়ি মুভিগুলো দেখবেন, প্রিকুয়েল ট্রিলজি আগে দেখে ফেললে অরিজিন্যাল ট্রিলজির স্পয়লার পেয়ে যেতে পারেন।

সব মুভির কাহিনী একমুখী হওয়াতে মুভির প্রেডিক্টিবলিটি একদমই নেই বললেই চলে, আপনি আন্দাজই করতে পারবেন না পরে কাহিনী কোনদিকে মোড় নিবে। প্রিকুয়েল ট্রিজলির রেটিং ক্ল্যাসিকের চেয়ে কম হলেও কোনাংশে কম এন্টারটেইনিং নয়। আপনি সমানভাবে ছয়টি মুভিই ইঞ্জয় করতে পারবেন।

.

 

স্ট্যান্ড অফঃ

লেখার এই ভাগে স্টার ট্রেক ও স্টার ওয়ার্স এর কিছু বিষয়াদি ফেস টু ফেস তুলনা করা হবে।

প্লট টাইমলাইনঃ আগেই বলেছি, স্টার ওয়ার্স আর স্টার ট্রেকের প্লট দুটি সম্পুর্নরুপে ভিন্ন ধাচের। স্টার ট্রেকের প্লট সেট করা হয়েছে সামনে ভবিষ্যতে শতাব্দিতে, গল্পের কেন্দ্রবিন্দু করা হয়েছে ত্রয়বিংশ শতাব্দির পৃথিবী ও মানবসভ্যতার অগ্রগতি নিয়ে, প্রত্যেকটা মুভির প্লট কোন না কোনভাবে মানভসভ্যতাকে প্রভাবিত করছে। মুভির প্লটগুলো করা হয়েছে সম্পুর্নরুপে সায়েন্টিফিক ফ্যাক্ট এর উপর ভিত্তি করে। এবং প্রত্যেকটা মুভিতে একটা লুকায়িত মেসেজ আছে কিভাবে নিজের ও দশের জীবনযাত্রা আরেকটু ভালো অ উন্নয়ন করা যায়, ফ্যামিলি ভ্যালু, ফ্রেন্ডশিপ, জলবায়ু ও জীবের অবদান, মানুষের মোরাল এথিকস এন্ড কন্ডাক্ট, কিভাবে এখনকার চেয়ে আরেকটু ভালো মানুষ হওয়া যায় তার নির্দেশনা। মুল কথা This is the only planet and only life we have, lets not waste it.

অপরদিকে স্টার ওয়ার্সের প্লট সেট করা হয়েছে অনেক সময় আগের ইউনিভার্সের কোন এক গ্যালাক্সিতে। এ সময়কাল অনেক অনেক আগে সেট করা। এখানে পরিচিত কোন গ্রহ নক্ষত্রের নাম শুনতে পাবেন না, হিউম্যন টার্মটাও শুনতে পারবেন না। স্টার ওয়ার্স এর প্লটটি অনেকটা মিথলজিক্যাল সায়েন্স ফিকশন বেইজ করে করা হয়েছে, ফোর্স এর ব্যবহারে জীবনদর্শন, ফোর্সের ব্যবহার করে সামনে এগিয়ে যাওয়া। টেলেকাইনেসিস, টেলেপ্যাথি সব যেন আধ্যাতিক একটা ব্যাপার। আবার একটা ধর্মিয় একটা প্রভাবও লক্ষণীয় এই সিরিজে। এই সিরিজও স্টার ট্রেকের মতন কিছু ম্যাসেজ দিয়েছে। রাগ, হিংসা, কুৎসা কিভাবে একটি জীবনের ধ্বংস ডেকে আনে তা এই মুভি সিরিজ না দেখলে উপলব্ধি করতে পারবেন না অনেকেই।

 

ওয়েপন্স এন্ড টেকনোলজিঃ স্টার ট্রেক ও স্টার ওয়ার্স এ ব্যবহার করা টেকনোলজিও ভিন্ন, স্টারট্রেকে মুলতি প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় স্টান গান, ও ফেজার। একটি প্লাজমা চালিত বন্দুক যা তার টার্গেটকে অজ্ঞান করা থেকে একদন পাউডার করে ফেলতে সক্ষম।

 

 

Picard_and_Data_hunt_Borg

অপরদিকে স্টার ওয়ার্সে সাধারন লেজারগানের পাশাপাশি আছে এক অসাধারন অস্ত্র, লাইটসেবার। সোজা সাপ্টা ভাষায়ে বললে লেজারের তৈরি একটা তলোয়ার যা যেকোন বস্তুকে মাখনের মতন স্লাইস করে ফেলতে পারে। মুলত জেডাই নাইট আর সিথ লর্ড ফোর্সের ব্যবহার করে লাইটসেবার পরিচালনা করতে পারে, ফোর্সের গাইডেন্স ব্যবহার করে তারা লেজার ফায়ার ও লাইট সেবার দিয়ে ঠেকাতে সক্ষম।

gw

 

ভীলেনঃ স্টার ট্রেকের বারোটা মুভিতে ভীলেনের অভাব নেই, কিন্তু সব ভীলেন আলোচনায়ে আসারো যোগ্য না। খান নুনিয়ান সিং, যে ক্যাপ্টেইন কার্ক এর পুরান শত্রু, এক্সাইল থেকে পালিয়ে আসে শুধু কার্কের উপর শোধ নেয়ার জন্য। বোর্গ এর লীডার, যাদের কাজ হলো কোন গ্রহের সকল প্রানিদের তাদের মতন বোর্গে পরিনত করা। সাইবোক, একজন ভুল্কান যে সৃষ্টিকর্তার অ সকল জ্ঞানের সন্ধ্যানে যেকোন লেভেলে নামতে প্রস্তুত। জেনারেল চ্যাং, যে ক্লিঙ্গন- ফেডারেশন শান্তিচুক্তিতে ব্যাঘাত হান্তে অনেকদুর যেতে প্রস্তুত। নেরো, একজন রামুলান যে তার সব হারিয়ে শুধু প্রতিশোধ নিতে ফিরে আসে অতীতে। আর লাস্ট বাট নট লিস্ট, হ্যারিসন। প্রাক্তন স্টারফ্লিট এজেন্ট যে পুরা স্টারফ্লিটকে পঙ্গু করে ফেলার পন করে।

Khand

 

 

স্টার ওয়ার্সে আবার রকমারি ভীলেন নাই, মুলত সবাই সীথ লর্ড। জেনারেল গ্রিভাস, ডার্থ মাউল, কাউন্ট ডুকু, ডার্থ সিডিয়াস ও ডার্থ ভেডার। এদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তশালি হলো ডার্থ ভেডার। এ আমার টপ টেন ভীলেনের তালিকায়ে সেকেন্ড র‍্যাঙ্কিং এ আছে। প্রত্যেকটা চরিত্র মুভির প্লটে কী ভুমিকা পালন করেছে, গ্রিভাস কাউন্ট ডুকুর কমান্ডের আন্ডারে ক্লোন ওয়ারে বিশেষ ভুমিকা রাখে, ডুকু সিথ লর্ড সিডিয়াসের কাছে চলে আসে জেডাই নাইটের রাস্তা ছেড়ে আল্টিমেট পাওয়ারের জন্য, আর লর্ড ভেডার? তার কাহিনী আর সেভাবে নাই বললাম।

3742545-countdooku

 

এক্সট্রাটেরিস্ট্রিয়েল লাইফ

স্টার ওয়ার্সে আবার এ দিক থেকে অনেক ভেরিয়েশন আছে, হিউমনয়েড, রেপ্ট্যালিয়ান, বাগ, স্লাগ সকল ফর্মেই এলিয়েন আছে। এ ছাড়াও উভয় মুভিতে দেখানো স্পেসশিপ ও ভিন্ন, স্টার ট্রেকের ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ, এক্সেলসিয়র, ক্লিঙ্গন বার্ড অফ প্রে ছাড়া স্টার ট্রেকে তেমন কোন স্পেসশিপ দেখানো হয়নি। এদিকে স্টার ওয়ার্সে স্টারশিপ ক্রুজার, হ্যান সোলোর মিলেনিয়াম ফ্যালকন, অ্যানাকিনের এক্স ক্লাস স্পেস ফাইটার মুলত অন্যতম।

শেষকথাঃ আরো অনেক পার্থক্য আছে এ দুই মুভি সিরিজে, প্রত্যেকটা বৈশিষ্ট্যই সিরিজগুলোর কাছে ইউনিক প্রপার্টি। অনেক মতভেদ থাকলেও একটা কথা স্বীকার করতে হবে, উভয় মুভি সিরিজই বেশ বিনোদনদায়ক। পোস্টের শুরুতে বলেছিলাম অনেক চেষ্টা করেও এই দুইয়ের মধ্যে কোনটা বেস্ট তা নির্নয় করা যায়নি। এই পোস্ট থেকেও তা যাবেনা। কিছু ডিবেট থেকেই যায় চিরদিনের জন্য।

"May the force be with you" as you "Live long and prosper"

(Visited 157 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. দারুণ হযেছে লেখাটা। আমার কাজেও দিয়েছে। আমি ভুল করে এপিসোড ১ দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন সাল অনুযায়ী ফিরে যাবো। আর লেখটা অনেক শ্রমসাধ্য। কষ্ট করে এমন লেখা উপহার দেবার জন্য ধন্যবাদ। 🙂

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন