Platoon, একটি যুদ্ধক্ষেত্ররুপি জাহান্নামের কাহিনী।

Platoonkrk

আইএমডিবি রেটিং: ৮.২

রিভিউয়ার রেটিং: ৮.০

রিলিজ ডেটঃ ২৪শে ডিসেম্বর ১৯৮৬

প্রথম ইন্দো-চায়না যুদ্ধের লেজ ধরে স্নায়ুযুদ্ধর সময়কালে ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বোডিয়ায়ে কমিউনিস্ট মিত্রদের সহায়তায়ে উত্তর ভিয়েতনাম বনাম আমেরিকা ও এন্টি কমিউনিস্ট পার্টির সহায়তায়ে দক্ষিন ভিয়েতনামের মধ্যে ঘটে যাওয়া ১৯৫৫ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত যুদ্ধটিকে "ভিয়েতনাম ওয়ার" বলা হয়ে থাকে। এ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অনেক আমেরিক্যান সৈনিক যুদ্ধ পরবর্তী সাধারণ জীবনযাপন করতে পারেনি, এই যুদ্ধের বিভীষিকা হানা দিয়েছে তাদের শয়নে স্বপনে, যারা এখনো বেচে আছে তারা এখনো কথা বলে সেই ভয়ঙ্কর সময়কালের।

যুদ্ধের ক্রান্তিকালে ক্রিস, আমেরিকান এক বিত্তশালী পরিবারের কলেজপড়ুয়া ছাত্র লেখাপড়া বাদ দিয়ে চলে আসে যুদ্ধ ময়দানে জীবনে ভিন্নতা আনার জন্য, কিন্তু মিলিটারিতে সাইন আপ করার পর যখন তার ভিয়েতনামে পোস্টিং হলো তখনই ক্রিস বুঝতে শুরু করলো "বাস্তব জীবন" এর সংজ্ঞা।

মুভির দেখানো চরিত্রগুলো হয়তোবা ফিকশন্যাল, কিন্তু মুভিতে ঘটনা যা দেখান হয়েছে তা পুরাই রীতিমতো বাস্তব ছবি তুলে ধরা হয়েছে তৎকালীন নাম' এর।

মুভিটা ছিল একদমই বাস্তবধর্মী, সেই সময়ে যা যা ঘটেছে এবং সাধারণত আমেরিক্যান মিলিট্যারিরা যা যা করে তার একদম জেরক্স কপি দেখতে পাবেন এইখানে। নবাগত সৈনিকদের সাথে র‍্যাগিং, সিনিওরিটির আধিখ্যেতা দেখানো, টেররিস্ট ধরার নামে আমজনতার ধকল, কুমারী ধর্ষন, সিভিলিয়ান খুন সবই আছে, এ পুরান মুভিতে দেখানো সকল অন্যায় অবিচারই বর্তমান আমেরিকান সৈনিকদের কাজের মধ্যে লক্ষণীয়, এ মুভিটা আসলে হলো যুদ্ধের পটভুমিতে "ওয়ার ক্রাইম" নিয়ে কথা ও ক্রিসের রুপকে একজন মানুষের নৈতিকতা নিয়ে কথা যে কিনা যুদ্ধের বিভীষিকায়ে ভীত ও ক্লান্ত।

Platoon

এই গেলো প্লটের আলোচনা, টেকনিক্যাল দিক নিয়ে কথা বললে সেখানে বলবো অনেক ভালো লেগেছে মুভির কাজগুলো, সিনেম্যাটগ্রাফি বেশ ভালো লেগেছে, বর্তমান মুভিগুলোতে এই জিনিষটা খুব মিস করি, সেটা হলো প্রপার ক্যামেরা ওয়ার্ক, প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন খালি শেকি ক্যামেরা, চেস ক্যামেরা আর লেন্স ফ্লেয়ার বাদে একশন ওয়ার মুভি দেখাই পরে না, কিন্তু এই মুভিতে দেখা গেছে স্থির ক্যামেরা দিয়েও ওয়ার মুভি বানানো যায়, বানানো হয়েছে। সাইলেন্ট এরাতে ফিল্ম ল্যাঙ্গুয়েজ ডেভেলপের সময়ে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যবহারকে একটা শিল্প বলে বিবেচনা করা হতো,  কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক না ব্যবহারেরও যে একটা আর্ট আছে সেটা প্রথমে দেখেছিলাম নোলানের "ডার্ক নাইট" এ, আর আবার দেখলাম এই মুভিতে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছাড়া শুধুই পারিপার্শ্বিক সাউন্ডের ব্যবহার করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যুদ্ধের থমথমে ভাব। কিছু কিছু সময় এমন ও গেছে যে আমি ভুলেই ইয়েছিলাম যে আমি মুভি দেখছি, মনে হয়েছে আমি নিজেই মুভি সেটে, আবার মুভিটাকে বাস্তব করার জন্য এমন কিছু জিনিষের প্রয়োগ করা হয়েছে যার কিছু কিছু সিন দেখে ও যুদ্ধের বাস্তবতার চিন্তা করে গা পুরাই ঘিন ঘিনিয়ে উঠেছে।

rjj

মুভিটা দেখার সময়ে বেশ কিছু জিনিষ ডাউনসাইড ও লেগেছিলো, বলতে গেলে রাতের সময়ের কমব্যাট সিনের কথা বলা যায়, সেখানে দেখা গেছে গুলি করলে লাল, বেগুনি ফ্লেয়ার বের হচ্ছে। রকেট মারলে সবুজ ফ্লেয়ার ও যেতে দেখেছি, পাইরোটেকনিক্স এর ব্যর্থতা বলতে হবে পুরাদমে। আবার দিনের বেলায়ে অনেক শটে দেখা গেছে গুলি করলে খালি শব্দ হয়, দেখা যায় না কোন মাজল ফ্ল্যাশ কিংবা রি-কয়েলের। কয়েকজনকে এমন সব প্রপ্স দেয়া হয়েছে যার অস্তিত্ত্ব ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ে ছিলো না, স্টেইনলেস ব্লেডের ছুড়ি, সাত ওয়াটের মরিচা লাইট, ভি সাস্পেন্ডার এগুলা তার উদাহারনের অন্যতম।

tumblr_me8iu36btY1r6pgyeo1_500

তিন তিনটি অস্কার বিজয়ি ডিরেক্টর অলিভার স্টোনের এ মুভিটিতে লিড রোলগুলোতে কাজ করেছে টিভি সিরিজ "টু এন্ড এ হাফ মেন" খ্যাত গোল্ডেন গ্লোব বিজয়ি অভিনেতা চার্লি শিন, এর সাথে আছে স্পাইডারম্যান ভিলেন মিস্টার অসবোর্ন ওরফে দু বারের অস্কার নমিনেটেড উইলিয়াম ডাফয়ে, গোল্ডেন গ্লোব নমিনী কেভিন ডিলন। আর মুভিটিতে খুব অল্প স্ক্রিনটাইম নিয়ে হাজির হয়েছে বর্তমান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বস, তিনবারের অস্কার নমিনী দি মাল্টিট্যালেন্টেড জনি ডেপ, তাকে এখানে দেখলে অনেকে নাও চিনতে পারেন।

pladel1

কাস্টিং ট্যালেন্ট বাদেও মুভিটি টেকনিক্যাল এস্পেক্টে চারটি অস্কার জয় করে, বেস্ট ডিরেক্টরে, বেস্ট পিকচারে, বেস্ট সাউন্ড এ ও  বেস্ট ফিল্ম এডিটিং এ এই পুরস্কারগুলো যায়, এছারাও মুভিটি সব মিলিয়ে বিভিন্ন খাতে বাইশটি পুরস্কার পায় ও আরো দশটি মনোনয়ন পায়।

মাত্র ষাট মিলিওন ডলারের বাজেটের মুভিটি আয় করে প্রায় একশত আটত্রিশ মিলিওন ডলারের মতন, মুভিটি বর্তমানে আইএমডিবি টপ ২৫০ এ ১৪৩তম স্থান ধরে রেখেছে।

আপনি যদি ওয়ার মুভি পছন্দ করেন তবে অবশ্যই এই মুভিটা দেখবেন, হিস্টরিক্যাল মুভি পছন্দ করলেও এই মুভি আপনার জন্য মাস্ট। মুভিটি আপনি সংরহ করতে পারেন এখান থেকেঃ
http://thepiratebay.se/torrent/7655282/

মুভিটি অবশ্যই দেখবেন, আর অলরেডি দেখে থাকলে মুভিটি সম্পর্কে মতামত জানাতে ভুলবেন না যেন, ;)।

(Visited 106 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন