Man Of Steel– এক চিরচেনা নায়কের গল্প…

images (2)

প্রচণ্ড প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছেন লারা। যা গত কয়েক শতাব্দীর মধ্যে এক অতি বিরল ঘটনা। কেননা জেনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংএর অভাবিত উৎকর্ষে ক্রিপটন গ্রহে গত কয়েক শতাব্দী ধরে শিশু জন্ম নিচ্ছে জেনেসিস চেম্বারে। রাষ্ট্রের চাহিদামাফিক জন্ম নেয়া এই শিশুগুলো জন্মাচ্ছে বিশেষ কোন উদ্দেশ্য পুরনের জন্য। ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার, কর্মী, শিক্ষক, কর্মী, সৈন্য প্রতিটি পদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক শিশু জন্মাচ্ছে। কিন্তু আজ ক্রিপটন গ্রহের প্রধান বৈজ্ঞানিক জরএলের স্ত্রী লারার গর্ভে যে ছেলেটি জন্মালো, তার জন্মাবার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পুরোপুরি আলাদা। সভ্যতার চরম উৎকর্ষতায় পৌছাতে ন্যাচারাল রিসোর্সের যথেচ্ছা ও অপরিমিত ব্যবহারের ফলে ক্রিপটন গ্রহ আজ ধ্বংসের দারপ্রান্তে। যেকোনো মুহূর্তে মহাবিপর্যয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাবে ক্রিপটন গ্রহ, সাথে এর চরম উন্নত সভ্যতা। তাই জরএল ঠিক করেছেন তিনি তার সন্তানকে একটা বিশেষ স্পেসশিপে করে পাঠিয়ে দেবেন ক্রিপটনের বাইরে অসীম মহাকাশে। সাথে থাকবে ক্রিপটনের জেনেসিস চেম্বারে থাকা অনাগত প্রজন্মের শিশুদের ডিএনএ কোডগুলো দিয়ে তৈরি এক জেনেটিক কোডেক্স। তার সদ্য ভূমিষ্ট সন্তান Kal-El(কালএল)এর দেহের কোষগুলোতে পুরো কোডেক্সটি ছড়িয়ে দিয়ে ক্রিপটনের অস্তিত্ব রক্ষা করার একটা শেষ চেষ্টা করলেন জরএল। এদিকে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল কাউন্সিলকে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে ব্যর্থ হবার মুহূর্তে আগমন ঘটল সস্রস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল জডের। ন্যাশনাল কাউন্সিলের ব্যর্থতায় বীতশ্রদ্ধ হয়ে মিলিটারি ক্যু ঘটালেন জড। লক্ষ্য ক্রিপটনিয়ানদের এই আসন্ন মহাবিপদের হাত থেকে বাঁচানো। কিন্তু আফসোস, বড়ই দেরি হয়ে গিয়েছে। সরকার পরিবর্তনেও ক্রিপটন গ্রহকে বাঁচানো সম্ভব নয়। কিন্তু জড সেটা বুঝতে চাইলেন না। বরং জেনেসিস কোডেক্সটা ছিনিয়ে নেবার জন্য জরএলকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে তাকে থামাতে চাইলেন। ফলাফলে জরএল জডের হাতে নিহত হলেন,কিন্তু ক্রিপটনিয়ানদের সকল স্বপ্ন ও আশা নিয়ে কোডেক্স বহনকারী কালএলকে নিয়ে স্পেসশিপটা হারিয়ে গেলো অসীম মহাকাশে। এদিকে ক্যু ব্যর্থ হল। ক্রিপটনিয়ানদের রক্ষায় তাদের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল জেনারেল জড ও তার অনুসারীরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্যু করার জন্য ব্ল্যাকহোলে নির্বাসিত হলেন। তার কিছুদিনের মধ্যেই ক্রিপটন গ্রহ ধ্বংস হয়ে গেলো।

images (3)

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের স্মলভাইল নামের একটা গ্রামে একরাতে এক অত্যাশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটল। জোনাথন কেন্ট নামের এক কৃষক তার বাড়ির পেছনে একটা অদ্ভুতদর্শন যন্ত্রের ভেতর থেকে একটা ফুটফুটে বাচ্চাকে উদ্ধার করলেন। বাচ্চাটার মাথার ঠিক পাশে তিনি তীক্ষ্ণ এবং লম্বা ছোট্ট একটা ষ্টীলের দণ্ড পেলেন। “S” আদ্যক্ষরের এই দণ্ডটা খুব সাবধানে তিনি গোপন করে রাখলেন। কিন্তু হঠাৎ তিনি মনে হল,এই সবকিছুর পেছনে নিশ্চয়ই কোন কারন আছে। এবং এই জিনিসটা প্রকাশ করার উপযুক্ত সময় এখনও আসেনি। ছেলেটা তাদের সন্তান হিসেবে বড় হয়ে উঠতে লাগলো। তার নাম রাখা হল ক্লার্ক কেন্ট। খুব শান্তশিষ্ট, চমৎকার বুদ্ধিমান ক্লার্ককে ঘিরে মাঝে মাঝেই খুব অত্যাশ্চর্যজনক কিছু ঘটনা ঘটত। এমন কিছু ঘটনা, যার কোন গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব নয়। প্রচুর প্রশ্ন দেখা দিত ক্লার্কের মনে। কিন্তু সে এগুলোর কোন উত্তর পেত না। তার বাবা বলতো অবশ্যই সে একদিন সব প্রশ্নের উত্তর পাবে। ক্লার্ক কখনোই রেগে যেতে পারত না। কারন সে যখনই রেগে যেত, তখনই ব্যাখ্যার অতীত কোন ঘটনা ঘটত। তাই তার বাবা জোনাথন তাকে সবসময় বলতেন ::

You’re not just anyone. One day, you’re going to have to make a choice. You have to decide what kind of man you want to grow up to be. Whoever that man is, good character or bad, it’s going to change the world.

এই একটা কারনের জন্য ক্লার্ক কেন্ট কোন জায়গায় স্থির থাকতে পারত না। প্রচণ্ড শক্তিকে অতি সন্তর্পণে লুকিয়ে রাখতে হত ক্লার্ককে। অবশেষে একদিন ক্লার্ককে মুখোমুখি হতে হল নির্মম কিছু সত্যের। যে সত্য সে খুঁজে এসেছে সারাজীবন, যে সত্য খুঁজতে গিয়ে যাযাবরের মত ঘুরে বেড়িয়েছে এখান থেকে সেখানে, সে সত্য তার সামনে ধরা দিল। কিন্তু যখন সত্যটা তার সামনে এসে হাজির হল, সে অবাক হয়ে দেখল, সে আর এই অদ্ভুত নির্মম সত্যটা জানতে চাচ্ছে না। তার বাবা জোনাথন সবসময় তাকে একটা চয়েজের কথা বলতেন, যত কঠিনই হোক, সেই চয়েজটা তাকে একদিন না একদিন করতেই হবে। কিন্তু তার বাবা এটা বলে যাননি যে, এই চয়েজটা করতে হলে তাকে হতে হবে নীতির মুখোশ পড়া এক নির্মম পাষাণ। একদিকে নাড়ীর টান, নিজের জাতিকে টিকিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতি পূরণের দায়, অন্যদিকে বুদ্ধি হবার পর থেকে আপন স্বজন বলে চিনে আসা প্রানপ্রিয় মুখগুলো… কোনদিকে যাবে ক্লার্ক কেন্ট??

Sometimes, you have to take a leap of faith first. The trust part comes later

images

David S. Goyer এর রচনায়, Zack Snyder এর পরিচালনায় এবং দি গ্রেট ক্রিস্টোফার নোলানের প্রযোজনায় ম্যান অফ ষ্টীল মুক্তি পায় ২০১৩ সালে। এটি ছিল মূলত ডিসি কমিকের এক অন্যতম সুপারহিরো সুপারম্যানের মুভি সিরিজের রিবুট। অর্থাৎ সুপারম্যানকে ঢেলে সাজানো হয়েছে এই মুভিতে। দেখানো হয়েছে সুপারম্যানের জন্মের ইতিহাস,এই মুভিতে জরএল এর ভুমিকায় রাসেল ক্রো, জেনারেল জডের ভুমিকায় Michael Shannon, লুইস লেইনের ভুমিকায় Amy Adams , Jonathan Kent এর ভুমিকায় Kevin Costner এবং ক্লার্ক কেন্ট ওরফে কালএলের ভুমিকায় ছিলেন Henry Cavill। অভিনয়ের ব্যাপারে বলতে গেলে সবার প্রথমে যে তিনটা নাম আসবে সেগুলো হচ্ছে রাসেল ক্রো, মাইকেল শ্যানান এবং হেনরি কেভিল। কালএলের পিতা হিসেবে সামান্য সময় স্ক্রিনে আসা রাসেল বুঝিয়ে দিয়েছেন কি ধরনের ক্লাসিক অভিনেতা তিনি। তবে অবাক করেছেন মাইকেল শ্যানান। নিজ রাষ্ট্রের জনগনের প্রতি প্রচণ্ড দায়িত্বশীল জেনারেলের ভুমিকায় একেবারে ফাটিয়ে দিয়েছেন তিনি। তার ব্যক্তিত্ব ও গমগমে গলার যুক্তি, যদিও তা খুবই নির্মম ও নিষ্ঠুর,পুরো বিষয়টা নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য করেছে সবাইকে। সবচেয়ে বড় কথা সুপারম্যানের মুখোমুখি এক মুহূর্তের জন্যও তাকে নিস্প্রভ লাগেনি। তবে সবচেয়ে চমৎকৃত হয়েছি ক্লার্কের পালক পিতার চরিত্রে অভিনয় করা কেভিন কষ্টনারের অভিনয়ে। ক্লার্কের পিতা হিসেবে মর্মস্পর্শী অভিনয়ে তিনি মুগ্ধ করেছেন সবাইকে। আর সুপারম্যান হিসেবে হেনরি কেভিল ছিলেন পুরাই “সেরাম” কাব্যিক চেহারা আর পাথুরে চোয়ালের অভাবিত মিশেলে পুরো মুভিটাইম জুড়েই তার দিক থেকে নজর ফেরানো যাচ্ছিল না। সবচেয়ে বড় কথা আগের সুপারম্যানদের মত আন্ডারওয়ার উপরে না পরে ভিতরে পরায় তাকে দেখে চোখ শান্তি পেয়েছে। আইএমডিবি রেটিংয়ে ১০/৭.৫ পাওয়া ম্যান অফ ষ্টীল রটেনে পেয়েছে ৫৬% ভোট। আর ৭৫% দর্শক একে চমৎকার মুভি বলে গণ্য করেছেন।

Man-of-Steel_01

এখন মুভির সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অংশে আসি। ভাঙ্গাভাঙ্গি স্পেশালিষ্ট জনাব জ্যাক স্নাইডার এই মুভির মাধ্যমে বোধহয় ভাংচুরের সংজ্ঞা নতুন করে লিখতে চেয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত তিনি এই মিশনে সফল। ভাংচুর কারে বলে, কত প্রকার ও কি কি, উদাহরন সহকারে দেখায়া দিছেন জনাব স্নাইডার সাব। ছোটবেলায় আমরা যেভাবে মনের আনন্দে খেলনা গাড়ি আর প্লেন ভাঙছি, ঠিক সেইভাবে পুরো মুভিটাইমে উনারা বাড়িঘর আর কর্পোরেট বিলডিঙগুলায় একেঅপরকে ছুঁড়াছুড়ি করে মনের আনন্দে ভাংচুর চালায়া গেলেন। মনে হল পৃথিবীর সবচেয়ে সস্তা জিনিস হইল আম্রিকার বিলডিঙ, গাড়ি, প্লেন আর হেলিকপটার। নির্দয়ের মত জেনারেল জড আর ক্লার্ক কেন্ট সাব গাড়ি আর প্লেন দিয়া একে অপররে কুপায়া গেলেন। পুরা মুভি থেকে আপনি একটা সেকেন্ডের জন্য চোখ সরাতে পারবেন না এই আজিব ভাঙ্গাভাঙ্গির জন্য। আর আম্রিকা সরকার কবের থেকে পৃথিবী বলতে খালি আম্রিকারেই বুঝাইতে শুরু করল, এইটা একটা চিন্তার বিষয়। পুরা মুভি দেইখা একবারের জন্যও মনে হইল না পৃথিবীতে আমেরিকা ছাড়া আর কোন দেশ আছে। আর যুগে যুগে সুপারহিরোরা ক্যান খালি আম্রিকাতেই জন্মাইব,এইটার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আন্তর্জাতিক আদালতে একটা রিট আবেদন করা এখন সময়ের দাবি।

স্নাইডার সাব যে কত্ত ভয়াবহ টাইপের বেরসিক, সেইটার একটা অনন্য উদাহরন হইল এই মুভিখান। সারা মুভিতে এত্ত অসাম হ্যান্ডসাম নায়ক আর অপ্সরী নায়িকার কেমিস্ট্রি দেখানোর এত্তগুলো সুযোগ পাওয়ার পরেও জনাব স্নাইডার অবহেলাভরে রোমান্স জিনিসটাকে এড়ায়ে গেছেন। এবং ভয়াবহ ভাংচুরে বিরান হয়ে যাওয়া এই মুভিতে একটু রোমান্সের যে কত প্রয়োজন ছিল, সেইটা দর্শক, পাঠক, রিভিউয়ারদের হাহাকার শুনলেই বুঝতে পারা যায়। বিখ্যাত রিভিউয়ার রজার এবারটের ওয়েবসাইট থেকে দেয়া রিভিউতে হাতেগোনা কয়েকটা সীমাবদ্ধতা মধ্যে এইটা ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। ভাগ্যিস রজার এবারট সাব পৃথিবীতে আর বাইচা নাই, থাকলে স্নাইডার সাবরে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলতেন রোমান্সকে অবহেলা করে এই ভাংচুর কাব্য বানানোর দায়ে।

তো দেখে ফেলুন নতুন সুপারম্যানকে। যদিও সবার একটাই আফসোস যে ক্রিস্টোফার নোলান কেন পরিচালনা না করে প্রযোজনায় এলেন, যদি তিনি পরিচালনা করতেন , তবে হয়তোবা ব্যাটম্যান ক্লাসিকের মত আরেকটা মাস্টারপিস হতে পারত এই মুভিটা। তারপরও ব্যাটম্যান সিরিজের ব্যাটম্যান বিগিন্সের মত পারফেক্ট স্টার্ট বলা চলে স্নাইডারের এই মুভিটা। যেহেতু নোলান আছেন, আমরা আশা করতেই পারি আরেকটা সুপারহিরো মাস্টারপিস সিরিজ আসছে। ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষায় বসতি… হ্যাপি মুভি ওয়াচিং…

Man-of-Steel-A-Review

http://www.imdb.com/title/tt0770828/

http://yify-torrents.com/movie/Man_of_Steel_2013″ title

http://yify-torrents.com/movie/Man_of_Steel_2013_3D

(Visited 251 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৩১ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. James Bond says:

    দেখে ফেলেছি মুভিটা। আমার অনেক ভালো লেগেছে। যদিও সুপারহিরো মুভি আমার এমনিতেই ভালো লাগে, তবে ভাংচুর একটু বেশি হয়েছে, এই আর কি।। বর্ণনা সুন্দর হয়েছে অনেক।।

    • ডন মাইকেল করলিয়নে says:

      ভাংচুরেরও লিমিট থাকে ভাই… এইরাম ভয়াবহ ভাংচুর না দেখায়া যদি নায়ক-নায়িকার রোমান্স কিংবা কাহিনীর বৈচিত্র্যের দিকে বা চমৎকার একটা টুইস্টের একটু নজর দিত, তাহলে এইটা একটা মাস্টারপিস হইতে পারত। আফসোস, এমন আখাউরা ভাঙ্গাভাঙ্গিতে সবই ভাইঙ্গা গেলো 🙂 … আপনাকেও ধন্যবাদ বন্ড ভাই… 🙂 ভালো থাকবেন… 🙂

    • James Bond says:

      ভাংচুর আসলেই অনেক বেশি হয়ে গেছে। ভাঙ্গছে তো আমার কি তাতে, আমেরিকারে ভাঙ্গছে। আর রোমান্স তো কিছুই হয় নাই। শুরুতেই মিলিয়ে গেলো সব কিছু 😀

    • সামিয়া রুপন্তি says:

      পুরা ম্যানহাটন রে ভাইঙ্গা ফেলসে!! (অইটা ম্যানহাটন ই ছিল তো? বেশ আগে দেখসি, মনে নাই)। তবে রোমান্স না থাকায় নারী জাতি খুশি!! এত হট হিরোকে হিরোইন কিছু না কইরাই পাইয়া গেলে বুকে দাগা লাগে!! 😉

    • James Bond says:

      আসলেই দাগা লাগে। 😉 তবে রোমান্স হবে 😀

  2. তানিয়া says:

    মুভি এখনো দেখি নাই, তবে লেখা ভালো হইছে 🙂

  3. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    হাহাহাহাহা একবারেই ঠিক বলেছ। আমি তো সিনেমায় দেখেছিলাম মুভিটা তাই ভাংচুরের মাত্রা আরো বেশি লেগেছে। কথায় কথায় আছাড় মারে ধরে আর বিল্ডিংগুলোরে ধ্বংস করে।

    • ডন মাইকেল করলিয়নে says:

      সুপারম্যানরে যেই মাইরটা দেয়… 😛 😛 কথায় কথায় মাইর… 🙂 আর বিল্ডিংগুলার কথা কি কমু… কেউই রেহাই দেয় নাই… ইচ্ছামত কুপায়া গেছে… 😛

  4. ম্যান অব স্টিল এখনো দেখিনাই । তাই , লেখাটা পড়লাম না । দেইখা মতামত জানামু । জানি লেখায় স্পয়লার নাই । তাও , প্রারম্ভিক কাহিনীও জানতে চাচ্ছি না । বাড়তি সতর্কতা 😛

  5. ভাঙ্গাচোরা নিয়ে সবারই একটু ইয়ে আছে__ আমারো বইকি ?? যাই হোক মুভি ভালো লেখা আরো সুন্দর ! দুর্দান্ত উপস্থাপনা 😀 😀 কিপ রিভিউইং !

    • ডন মাইকেল করলিয়নে says:

      উৎসাহ দেবার জন্য অশেষ ধইন্না পাতা, মিষ্টুদা… 🙂 যদিও জানি লেখা মারাত্মক পচা হইছে… 😛

  6. Rouf says:

    ছোটবেলা থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে সুপারমেন হব। বড় হয়ে যাবার পর এখনোও সুপারমেন না হতে পারলেও, বিশ্বাস করতে ভালো লাগে যে একদিন আমি ঠিকই সুপারমেন হব। : D

    এই মুভি দেখার পরে ভাংচুরে বেপারে একটা থিউরী মাথায় ঘুরছে সেটা হল; আমরা যদি সুপারমেন কমিকস বা কার্টুন মুভিগুলোর দিকে দেখি (যেমন জাষ্টিস লীগ) সেইখানে দেখা যাবে যে বিল্ডিং ভাঙ্গাভাঙ্গিতো মামুলী বেপার। প্রতি এপিসোডেই থাকে। ভাইঙ্গা সব তসনস করে ফেলে। আর এই জিনিসটাই স্নাইডার সাব মুভিতে নিয়ে আসছে। আর এত ভাঙ্গাভাঙ্গি আমরা এভাবে সুপারহিরো মুভিতে দেখে অভ্যস্ত নয় বিধায় কিছু দৃষ্টিকটুতা ধরা পরে। তবে ভাঙ্গাভাঙ্গি উপভোগ্য ছিল, তাই মুভিটা হেব্বি ব্যাবসা করছে। যদি ব্যাবসা ও বক্স-অফিস কাপাইতে না পারতো, তবে স্নাইডার সাবের কপালে খারাপই আছিল।

    • ডন মাইকেল করলিয়নে says:

      আমি নিশ্চিত আপনি একদিন সুপারম্যান হইবেন। এতে কুন সন্দেহ নাই। 😛 তহন আর কেউই বেইল পাইব না। 😛 মানুষ আসলে স্নাইডারের মুভি হিসেবে মুভিটারে না যতদূর দেখছে, তার চেয়েও বেশী দেখছে সুপারম্যানের সেইরাম জনপ্রিয়তা আর দি গ্রেট নোলান সাব আছে বইলা। আমি নিশ্চিত অনেকেই এইটা ভাইবা মুভিটা দেখছে যে, নোলান হইল এইটার পরিচালক। মুভিটা যদি ব্যবসা করতে না পারত, তাইলে সত্যিই স্নাইডারের খবর ছিল…

      আপনার জন্য শুভকামনা থাকলো রউফ ভাই… 😛 🙂 🙂

  7. আমার মতো কমিক বা সুপারহিরো ফ্রিকদের কাছে মুভিটা অত ভালো লাগবে না তবে খারাপ ও মনে হবে না আশা করি। আমার খুব খারাপ লাগে নাই। শুধু একশন লেন্থ আরও কমিয়ে মানবিক (নাকি ক্রিপ্টনিক) দিক বেশি দেখালে খুশি হতাম।

    আর লেখা নিয়ে বলতে চাই, লেখারতা একটু প্রয়োজনের চেয়ে বড় মনে হয়েছে। প্রথম অংশে স্পয়লার না থাকলেও অনেক ডিটেইলস লিখেছেন, এতটা ভালো লাগেনি। সব মিলিয়ে লেখার ভাষা বরাবরের মতো অনেক প্রাঞ্জল লাগলেও অনেক অদরকারী কিছুও আছে বলে মনে হয়েছে। আপনার লেখার হাত অনেক ভালো 😀

    • ডন মাইকেল করলিয়নে says:

      লেখা আজকা ইচ্ছা কইরাই বড় করছি। 🙂 সারাদিন বসেবসে কোন কাজ কাম নাই। তাই খই ভাঁজতে ভাঁজতে ধামা ভরে ফেললাম 😛 … যাক তোমার গঠনমূলক সমালোচনা সবসময়ই আমার এই অর্থহীন লেখালেখির অনুপ্রেরণা… বেঁচে থাকো বাবা… 😛 🙂

  8. অ্যান্থনি এডওয়ার্ড স্টার্ক says:

    ভালাই তো লেচ্ছস রে মমিন। :/ আমার দাবিগুলার মূল্যায়ন করছত দেহি। আমিও সিরাম রুমান্টিক সিন আশা কচ্ছিলাম। 🙁

  9. ***স্পয়লার এলার্ট***

    মুভিটি মোটামুটি লেগেছে। বেশ কিছু অযৌক্তিক দিক আছে মুভিটিতে। সবচেয়ে বড় যেটা আমার চোখে লেগেছে সেটা হচ্ছে ক্লার্কের বাবা যখন ঝড়ে মরতে বসেছিল তখন সে তার বাবার কথামত চুপচাপ দাড়িয়ে ছিল। আসলেই কি এমনটা করা সম্ভব? বাস্তবে এটা কোন সন্তানের পক্ষে করা সম্ভব না। অথছ একজন অপরিচিত সাংবাদিকের(!!!) সামনে নিজের অতিমানবীয়ও শক্তি মেলে ধরতে তার কোন দ্বিধা দেখা যায় নি!!! [I didn’t buy “the world isn’t ready” crap in that particular situation]। এছাড়া ক্রিপ্টন ধ্বংস নিয়ে যে কাহিনী দেখানো হয়েছে এটা গ্রহণযোগ্য না। আরেকটা কথা না বললেই না জড কে মারার সিনটা একেবারেই ফালতু লেগেছে। স্ক্রিনপ্লে তে হাতে গোনা কয়েকটা লাইন(আপনি দুইটা উল্লেখ করেছেন) ছাড়া তেমন কিছুই নেই। মাসুম ভাইয়ের রিভিউতে তিনি ব্যাপারটা বলেছিলেন। জনাথন নোলান কে দিয়ে স্ক্রিনপ্লে টা করালে অন্য কিছু হতে পারতো। আর রোম্যান্টিক ব্যাপার আমি বলব বেশি কিছু দেখায় নি বেশ ভাল করেছে।[নিতান্তই আমার মতামত। আপনি অনেক বড় ক্রিটিকদের রেফারেন্স দিয়েছেন অবশ্য] সেভাবে দেখালে অপ্রাসঙ্গিক লাগতো।
    মুভির সবচেয়ে দারুণ যায়গা হচ্ছে কাস্টিং। দারুণ করেছেন প্রত্যেকে যার যার ক্যারেক্টার এ। একটা সময় আসবে মনে হচ্ছে যখন অ্যামেরিকান সুপারহিরো আর কেউই অ্যামেরিকান থাকবে না। কেভিল এই প্রথম কোন নন অ্যামেরিকান এক্টর যিনি সুপারম্যান এর চরিত্রে কাজ করেছেন। ব্রিটিশরাই হবে ভবিষ্যৎ সব অ্যামেরিকান হিরো(বেল কে মনে করিয়ে দিলাম)।
    বিশ্লেষণী রিভিউ যত বড়ই হোক না কেন পড়তে খারাপ লাগে না। তবে আপনার প্লট এত বড়/বিস্তারিত না করলেও চলত। লেখা বেশ ভাল হয়েছে। তবে আরও ভাল আশা করব রিভিউ পুরস্কারপ্রাপ্ত রিভিউয়ার এর কাছ থেকে 🙂 ।

    • মন্তব্যে অনেক গুলা মনের কথা বলছো… মন্তব্যে প্লাস না দিয়ে পারলাম না। বাবা মারা যাবার দৃশ্য আমি নিজেও পরের কয়েক মিনিটেও বিরক্তি নিয়ে মনে করেছি।

    • ডন মাইকেল করলিয়নে says:

      চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্যটির জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ । আসলে আজ একটু হালক্যা চালে লেখাটা লিখেছি যেটা সচরাচর করি না। চেষ্টা করি মুভির বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলার। কিন্তু আজ জাস্ট সেই মুহূর্তে যে যে পয়েন্ট এসেছে, সেগুলোই লিখে ফেলেছি। তবে আপনার ধরিয়ে দেয়া সবগুলো পয়েন্ট খুবই যুক্তিযুক্ত। একটাও খেয়াল ছিল না লেখার সময়। পরেরবার প্লটটা বলার ক্ষেত্রে সাবধান থাকব 😛 … আর রিভিউ কনটেস্টের কথা বলে তো লজ্জায় ফেলে দিলেন 😛 … ক্যামনে ক্যামনে কি হয়ে গেলো, আমি তো আসলে ওইরাম লেভেলের রিভিউআর না। তারপরও যখন আপনি বলেছেন আমি আমার বেস্ট এফোরট দেব… ভালো থাকবেন… 🙂

  10. থেঙ্কু। তবে যা হইছে তা হয়ে গেছে। ভাল কিছু করার একটা সুযোগ আছে। ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান এ কে এ ম্যান অফ স্টিল ২ এর জন্য জিম খিচ্চা বসে আছি। দারুণ কিছু হবে আশা করছি 🙂 ____ নয়া ব্লগার

    • ডন মাইকেল করলিয়নে says:

      আমিও আশা নিয়ে ওয়েটাইতেছি 🙂 … এইবার যদি ম্যান অফ ষ্টীলের দুঃখ ঘোচে… 😛

  11. মুশাসি says:

    মুভিটা নিয়ে অনেক বেশি প্রত্যাশা ছিলো- নোলানের নাম জড়িয়ে ছিলো হয়তো তাই- তবে অপ্রিয় সত্য হলো প্রত্যাশা পূরন হয় নি।

    • ডন মাইকেল করলিয়নে says:

      সহমত মুশাসি ভাই… নোলান থাকার কারনেই দুঃখটা বেশি লেগেছে 🙁 … আরও ভালো হতে পারত…. তবে সবমিলিয়ে খারাপ লাগেনি… 🙂

  12. শাতিল আফিন্দি says:

    মুভিটা মোটামুটি লেগেছে, তবে লেখায় কাহিনী কিছুটা বেশীই এক্সপোজ হয়েছে মনে হল।

  13. punisher says:

    ভাই মুভিতে ভাংচুর নিয়ে আপনার কথাগুলো পুরোপুরি মানতে পারছি না। এই মুভিতে যে ধ্বংসজজ্ঞ দেখানো হয়েছে তা যুক্তি সঙ্গত। সুপারম্যান কিংবা জড মিলে যতটুক ভাংচুর করেছে তার থেকে বেশি করেছে “ওয়ার্ল্ড ইঞ্জিন”। ওয়ার্ল্ড ইঞ্জিন না থাকলে এত ভাংচুর হতো না। আর সুপারম্যান, জেনারেল জড, ফেওরা এরা অতিমানবিক ক্ষমতার অধিকারি। এরা মারামারি করলে ভাংচুর বেশি হওয়ারই কথা। আর আপনি জ্যাক স্নাইডার ও ক্রিস নোলানের তুলনা কিভাবে দেন। দুইজন দুই ধরনের ডিরেক্টর। দুইজনের স্টাইল, কাজের প্যাটার্ন সবই আলাদা। আমার মনে হয় এই মুভির ক্ষেত্রে স্নাইডারই ঠিক আছে। স্নাইডার সবসময় ব্যতিক্রমধর্মী একশন আনার চেষ্টা করে। সুপারম্যানের মুভিতে কাহিনির চাইতে একশন বেশি জরুরী। আর মুভিতে রোমান্সের পরিমাণ বেশি থাকলে ফ্যামিলি সহকারে দেখাটা কষ্টকর তাই এজন্যে আমি ডিরেক্টরকে ধন্যবাদ দেই। এছাড়া আমার কাছে মুভির মিউজিক, ভিজুয়াল এফেক্ট, কস্টিউম চরম লেগেছে। মিউজিকে অবশ্য হ্যান্স জিমার সবসময়ই বস। আর আমি কখনোই আশা করিনি যে সুপারম্যানের মুভি হিসেবে এত ভালো হতে পারে।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন