Requiem for a Dream — এক ভয়াবহ দানব এবং হৃদয়ের গভীরে থাকা কিছু অসম্ভব সুন্দর স্বপ্নের উপাখ্যান…

requiem

সারা গোল্ডফারব একজন বিধবা ,একটা ছোট ফ্লাটে একলা থাকেন। তার একমাত্র সন্তান গ্রাজুয়েশন শেষ করা হ্যারী তার এক বন্ধুর সাথে আলাদা থাকে। মাকে তার সচরাচর প্রয়োজন পড়ে না, তবে যখন তার হেরোইনের পুরিয়া কেনার পয়সা ফুরিয়ে যায়, তখন তাদের পরিবারের এক পুরান সম্পত্তি, তার মায়ের অতি প্রিয় টিভিটা পরিচিত এক দোকানে নিয়ে যায়। এই ভয়াবহ একাকিত্ব একসময় সারার পৃথিবীকে এক অদ্ভুত টেলিভিশন শো এর মধ্যে আটকে ফেলে। তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাড়ায়, নিজের হারানো যৌবনে ফিরে গিয়ে এই টিভি শোতে উপস্থিত হওয়া। এরই মধ্যে তিনি একদিন এক ফোনকলে জানতে পারেন, তিনি টিভি শোতে উপস্থিত হওয়ার আমন্ত্রন পেয়েছেন। হ্যারির বারংবার মানা সত্ত্বেও অতিরিক্ত উত্তেজনার বশে তিনি হাই পাওয়ারের কিছু ড্রাগ (ঔষধ) নেয়া শুরু করেন। নিজের হারানো যৌবনে ফিরে যাওয়ার এক অমোঘ তাড়না তাকে ঠেলে দেয় নিয়তির ঠিক করে রাখা কিছু ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের দিকে।

এদিকে হ্যারি ও তার বন্ধু টাইরন শুধুমাত্র হেরোইনখোরই নয়, হেরোইন বিশেষজ্ঞও বটে। তাদের এই গবেষণায় যোগ দেয় হ্যারির প্রেমিকা । হঠাৎ করে তারা হেরোইন বিজনেসের একটা সুন্দর মওকা পেয়ে যায়। দুজনে মিলে স্বপ্ন দেখে বিজনেসের এই টাকা দিয়ে ম্যারীয়নের ডিজাইনে একটা ফ্যাশন স্টোর দেবে আর টাইরন স্বপ্ন দেখে এই পাপের পথ ছেড়ে তার মায়ের বুকে ফিরে যাবে। আচমকা পুলিশের এক চিরুনি অভিযানে যখন তাদের বিজনেস ধ্বংস হয়ে গেলো এবং টাইরন গ্রেপ্তার হল, তাদের মুখোমুখি হতে হল কল্পনারও অতীত এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের, যা তাদের চেনা-জানা এই সুন্দর জগতটাকে বদলে দিল নরকের চেয়েও নিকৃষ্ট এক স্থানে, পরিয়ে দিল নিয়তির এক অদ্ভুত পরিনতির শেকল।

এই পর্যন্ত পড়ে হয়তোবা পাঠকের মনে হতে পারে, এ আর এমন কি? পৃথিবীর যাবতীয় নেশাখোর বিশেষত হেরোইনখোরের পরিনতি তো এমনই হবে। ঠিক এখানেই দি গ্রেট অ্যারনফস্কি একটা অদ্ভুত কাজ করলেন। শুধুমাত্র উপরের গল্পটাই যথেষ্ট ছিল মাদকাসক্তির ভয়াবহতা তুলে ধরে একটা চমৎকার মুভি উপহার দেয়ার জন্য, কিন্তু পরিচালক সবকিছুর পরেও তুলে আনলেন মানব মনের এক অদ্ভুত খেলাকে, আঁকলেন এক অমর শিল্পকর্ম যা বলে যায়… ” হৃদয়ের গভীরে যেই স্বপ্নের বাস, কোন দানবের সাধ্য সেই স্বপ্নকে হত্যা করে”…

Requiem-for-a-Dream

Hubert Selby, Jr. এর গল্পে এবং Darren Aronofsky এর পরিচালনায় Ellen Burstyn Jared Leto, Jennifer Connelly এবং Marlon Wayans এর অভিনয়ে এই অ্যামেরিকান ড্রামা ফিল্মটি মুক্তি পায় ২০০০ সালে। প্রত্যেকের অভিনয় ছিল লা- জওয়াব। বিশেষত Ellen Burstyn তার অতি চমৎকার অভিনয়ের জন্য সে বছর সেরা অভিনেত্রী হিসাবে অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন।আর যেই বিষয়টা নিয়ে বলতেই হবে তা হল এর ব্যাকগ্রাউনড মিউজিক। একটা মুভির মিউজিক কিভাবে একই সঙ্গে মনের মধ্যে ভয় ধরায়ে দেয়, আবার একটা অদ্ভুত খারাপ লাগা তৈরি করে দেয় আবার ক্যামনে হিপহপ নাচতে বাধ্য করে এবং লাস্টে মনে হয় এর কোনটাই এই মিউজিকের জন্য মানানসই হল না, আমার মাথায় আসে না >:o >:o আমার লাইফে দেখা সেরা ৫ B| ব্যাক গ্রাউনড মিউজিকের তালিকায় এটা থাকবে (y) … B| কনফার্ম…

সব কিছুর পরেও তাই অ্যারনফস্কির রিকুয়েম ফর অ্যা ড্রিম গেয়ে যায় স্বপ্নের জয়গান। যে স্বপ্ন দেখি আমি, আপনি, এই গ্রহের প্রত্যেকটি মানুষ। একটি মানুষ পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে গেলেও তার যে স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় না। তাকে আবার বেঁচে ওঠার প্রেরণা দিয়ে যায় অবিরাম।

IMDB- http://www.imdb.com/title/tt0180093/

YIFI Torrent:
http://yify-torrents.com/movie/Requiem_for_a_Dream_DIRECTORS_CUT_2000

(Visited 239 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Waqar Sakif says:

    অসাধারণ মুভি । লেখাটাও ভালো লাগছে । এই মুভি দেখলে দুনিয়ার জকাও মন খারাপ না হয় , তাইলে সে মানুষ না !!!

    • ডন মাইকেল কর্লিওনি says:

      আসলেই অসাধারণ মুভি… ড্রাগ যে কত ভয়াবহ হতে পারে, এই মুভি না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন… অসংখ্য ধন্যবাদ সাকিফ ভাই… 😛 =D

  2. dhrubo2012 says:

    EK OSADHARON FILM….
    JIBON CHANGE KORE DEY EK DHAKKAY 🙂
    EI CINEMAR SPECIALTY CILO MA ER GOLPO TA….
    VALOI LIKHECHEN…

    • ডন মাইকেল কর্লিওনি says:

      এই সিনেমাটার প্রত্যেকটা ক্যারেক্টারই অসাম… কারে রেখে কার কথা বলি… তবে মায়ের ক্যারেক্টারটা সত্যই স্পিচলেস ছিল…

  3. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    আমার অনেক পছন্দের একটা মুভি। ড্রাগ ট্রাগ কখনো হাত দিয়েও দেখি নাই, এই মুভি দেখার পর ভয়টা আরো মারাত্নক আকারে ধরছে। কি পরিমান ভয়াবহতা হতে পারে সেটা মুভিটাতে অনেক ভালভাবে ফুটিয়েছে। Jennifer Connelly কে এই চরিত্রে দেখে মন খারাপ লাগসে, কেন করলো এই সব দৃশ্য!! Sara চরিত্রে Ellen Burstyn এর অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছি, উনি সেবার অস্কার পান নাই কেন সেটা ভাববার বিষয়। মুভিটা অনেক ভাল বলেই এর রেটিং অনেক বেশি, কিন্তু মুভির যে জিনিস টা আমার সবচে বেশি ভাল লেগেছে সেটা হচ্ছে এটার ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর। মুভিতে আমার দেখা বেস্ট ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর বলা যায়। কিছু কিছু জায়গায় দেখার সময় মনে হচ্ছিল আমি নিজেই এডিক্টেড… যাইহোক, তুমি লিখেছোও ভাল…

    • ডন মাইকেল কর্লিওনি says:

      ফেবুর পোস্টে ব্যাকগ্র্যাউন্ড মিউজিক নিয়ে কথা বলা হয় নাই। ব্লগে বলে দিলাম। এখনও মাঝে মাঝে এই মুভিটা দেখার চেষ্টা করি। কিন্তু পুরোটা শেষ করতে পারি না। খুব পেইন লাগে। আর কিছুর জন্য না হলেও শুধুমাত্র ড্রাগের ভয়াবহতা বোঝানোর জন্য হলেও এই মুভিটা সকলের জীবনে একবার হলেও দেখা উচিৎ…

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন