সিনেমা রিভিউঃ Gattaca (1997)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

কথায় আছে, “মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়”। কিন্তু স্বপ্নটা যদি আকাশের বেধে দেয়া নীলাভ সীমা অতিক্রম করে মহাকাশের পানে হাত বাড়ায়, স্বপ্নচারীকেও ছুটে যেতে হবে সেই অসীম শূণ্যতায়। কারন স্বপ্নরাঙ্গা পথে ছুটে চলার স্পৃহাই মানুষকে বাচিয়ে রাখে। এমনই অর্থবহ একটি মৌলিক গল্প নিয়ে Andrew Niccol এর রচনা এবং পরিচালনায় ১৯৯৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল Gattaca সিনেমাটি, যার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন Before Sunrise সিরিজখ্যাত Ethan Hawke

 

গল্পের শুরু হয়েছে এমন একটি প্রেক্ষাপটে, যেখানে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অসাধ্য সাধন করেছে। প্রযুক্তির কল্যানে দম্পতির কাছে তাদের অনাগত সন্তানের কোন কিছুই অজানা থাকে না। বরং সন্তানের সন্তানের চরিত্র, শারীরিক এবং মানসিক বৈশিষ্ট্য নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী নির্ধারন করা যায়। আদর্শ মানুষের সকল বৈশিষ্ট্যগুণ সম্পন্ন সন্তান পেলে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা যেমন পাওয়া যায়, পাশাপাশি দম্পতিও দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে পারে। এমনই এক জীবনব্যবস্থায় নিতে বেগ পেতে হচ্ছে ভিনসেন্টকে (Vincent Freeman)।

 

প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া ভিনসেন্ট জন্মের কিছু মূহুর্ত পরেই জীবনের প্রথম বঞ্চনার স্বীকার হয়। দম্পতিযুগল ঠিক করে রেখেছিল তাদের ভালোবাসার এই পুরষ্কারের নাম রাখবেন এন্টন (Anton Freeman)। কিন্তু মেডিকেল রিপোর্টে জানা যায় দৃষ্টিশক্তি, দুর্বল হৃৎপিন্ডসহ নানা শারীরিক সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত শিশুটির সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল মাত্র ৩০ বছর। তাই জন্মদাতা পিতা পছন্দের নামটি বদলে ছেলের নাম ভিনসেন্ট রাখার সিদ্ধান্ত নেন এবং ভিনসেন্টের দুর্বলতাগুলো বিবেচনা করে পরবর্তী সন্তানের জন্য জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সিন্ধান্ত নেন। প্রায় নিখুত সেই দ্বিতীয় ছেলের নাম রাখা হয় এন্টন। বিজ্ঞানের কারচুপিতে প্রথম ধাপেই হেরে যায় ভিনসেন্ট।

 

 

ছোটবেলা থেকেই ভিনসেন্ট মহাকাশের বিশালতায় মুগ্ধ হতে শুরু করলো। সেই অসীম শূণ্যতার হাতছানিতে সাড়া দিতে চাইলো সে। কিন্তু মহাকাশচারী হওয়ার জন্য তীব্র মনোবলের পাশাপাশি প্রয়োজন শারীরিকভাবে ফিট থাকার নিশ্চয়তা। স্বাভাবিকভাবেই ভিনসেন্ট প্রথম ধাপেই বাদ পড়তে শুরু করলো। কারণ স্পেস কর্পোরেশনের চোখে ভিনসেন্টের মতো শারীরিকভাবে দুর্বল ক্যান্ডিডেন্টরা ‘INVALID’। বারবার পিছিয়ে পড়া ভিনসেন্ট নিজের স্বপ্নপূরণ করতে শেষ পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত নেয় যা রাষ্ট্রের চোখে কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অন্যের পরিচয় নিয়ে যোগদান করে Gattaca Corporation Company-তে মহাকাশ জয়ের উদ্দেশ্যে। গল্প ধীরে ধীরে জটিলতর হয় যখন একটি খুনের মামলায় ভিনসেন্টকে সন্দেহভাজন অপরাধী বিবেচনা করে পুলিশ। যেখানে বেখেয়ালে ফেলে যাওয়া আঙ্গুলের ছাপ থেকে ঝড়ে পড়া মাথার একটি চুলও পারে গোপন পরিচয় ফাঁস করে দিতে, গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে পড়ে ভিনসেন্টের জন্য। তবু নিজ সংকল্পে অটল ভিনসেন্ট মোটেও পিছু হটার পাত্র নয়। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর সুফল হয়তো সে পায়নি্‌ তবু ইচ্ছাশক্তির জোরে নিজের স্বপ্নপূরণের মনোবল সে পেয়েছে মানবিকতার কাছ থেকে।

 

 

নব্বইয়ের দশকে Matrix, Independence Day, Starship Trooper-এর মতো চোখ ধাধানো সিনেমাগুলো ব্যবসাসফল হলেও Contact, 12 Monkeys এবং Gattaca-এর মতো গল্প নির্ভর সিনেমাগুলোই জনপ্রিয় ছিল। Gattaca সিনেমাটিতে চিত্তাকর্ষক কিছুই দেখানো হয়নি কারণ চোখের তৃপ্তিকে দূরে সরিয়ে পরিচালক গুরুত্ত্ব দিয়েছেন দর্শনে। বৈষম্য বর্তমান সমাজব্যবস্থার একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য। আপনি এখন যেসব সুবিধা পাচ্ছে শুধুমাত্র পরিচয়সূত্রে, ন্যায্য অধিকার থাকা সত্তেও হয়ত সেটা কেউ পাচ্ছে না। তবু হাজারো পিছুটান ছিন্ন করে সামনে এগিয়ে যাওয়াতেই লুকিয়ে থাকে জীবনের সাফল্য। পরিচালক সেই নীতিবোধকে বড় পর্দায় সাজিয়ে তুলেছে Gattaca সিনেমাটি।

 

 

Gattaca প্রমান করে, পূর্ণতা এবং প্রসন্নতা এক নয়। ভিনসেন্টের মতো মানুষেরা অসংখ্য সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সাফল্য আদায় করে নিতে পারে শুধুমাত্র নিজের মনোবলে বিশ্বাস রেখে, অন্যদিকে আত্ববিশ্বাসহীনতা পারে নিশ্চিত বিজয়কেও ব্যর্থতায় পরিনত করতে। Gattaca শুধুমাত্র একটি সায়েন্স ফিকশন মুভি নয়, বরং মানবসত্ত্বার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী একটি ভাবাদর্শের প্রতিফলন।

 

 

Error: No API key provided.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন