বাংলাদেশের প্রথম সাই-ফাই চলচিত্র ‘পরবাসিনী’ ও আমার কিছু আজাইড়া কথা

প্রথম কথা হচ্ছে যে যে লাইনে ভালো সে সেই লাইনেই থাকাটা শুধুমাত্র বুদ্ধিমানের কাজ না, সেই লাইনেই থাকাটা বাঞ্ছনীয়। ভালো মানের মুভি বানাতে টাকা খরচ করা, বা টেকনোলজির দফারফা ব্যবহ্যার করাটা জরুরি কিছু নয়। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে ফারুকির ‘টেলিভিশন’ মুভিটি। এখন হয়তো আপনারা আর্গুমেন্ট দেখাতে পারেন এটা বলে যে “আরে ভাই ঐটা তো সাই ফাই মুভি ছিলো না, কিসের সাথে কি মেলান!!” হ্যাঁ আপনার কথা সত্য আমার দুইটা মুভির জেনার চিন্তা করা উচিত ছিলো। আর সাই ফাই মুভিও যে বানানোর কাজে যে হাত দেওয়া উচিত সেটাও কথা সত্য। কিন্তু কথা হচ্ছে বাংলাদেশ এখনো সেই পর্যায়ে পৌছায় নাই যেখান থেকে দারুণ ভিজুয়াল ইফেক্টেস এর কাজে হাত দেওয়া যায়। এখন হয়তো আপনি বলবেন “তাহলে কি বানানোর প্রচেষ্টা করে যাওয়া উচিত নয়, এভাবেই তো বানাতে বানাতে হোঁচট খেতে খেতে শিখবে” হ্যাঁ আপনার এই কথাও সত্য, হোচট খেতে খেতে শেখা উচিত। কিন্তু ভাইডি কথা হচ্ছে হোঁচট খাওয়ার একটা লেভেল আছে। ছোট ছোট হোঁচট খেতে খেতে বাচ্চারা দাড়াতে শিখে, তারপর হাটা, তারপর দৌড়ানো, তারপর হাই জাম্প, তারপর লং জাম্প, এখন যেই বাচ্চা দাড়াতেই শেখেনি কখনো সে যদি লং জাম্প দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে পড়ে যায় তখন সেটা হোঁচট হবে না, সেটা হবে স্বপ্নের অপমৃত্য যার ফলাফল স্বরূপ সেই বাচ্চা হয় হাড়গোড় ভেঙ্গে কোমায় চলে যাবে, আর না হয় ডাইরেক্ট পরলোকে। আর বাংলা চলচিত্রের জন্য কোনো নতুন ধারার কোমায় চলে যাওয়া বা অপমৃত্যু হওয়া- কোনটাই ঠিক হবে না। যেটা বলছিলাম যে হোচটের বিভিন্ন ধাপের কথা। বাহিরের দেশে এনিমেশন, সাই ফাই মুভি চট করে আসে নি, এর পিছনে শত শত ধাপ রয়েছে যেগুলোর শুরু হয়েছে হাঁতে আঁকা স্কেচ জোড়া লাগিয়ে এনিমেশন এর ইফেক্ট দেওয়া, এভাবে একসময় 2D এনিমেশন, তারপর  আস্তে আস্তে 3D… এখন এখানে। বাংলাদেশের চলচিত্রে ইতিহাসে আমার জানামতে এখন পর্যন্ত একটাও 2d এনিমেশন বানানো হয়নি যেটার মান ইউটিউব এ আপলোড করা বাহিরের কান্ট্রির একজন সাধারণ এনিমেটর এর ধারে কাছে যেতে পারে। 3D একটা বানানো হয়েছিল ‘কুটু মিয়া’ না কি মিয়া নামে যার মান চলে বলা যায় কিন্তু এরপর আর সাফল্যের মুখ দেখেনি কোনো এনিমেশন। জাফর ইকবালের রচিত ‘ত্রাতুলের জগত’ এর উপর ও সাই ফাই এনিমেশন এর কাজে হাত দিয়েছিল বাংলদেশের সেরা কিছু ফার্ম। সেই হাত ঘুরেছে মেলা ফার্ম কিন্তু আর আলোর মুখ দেখেনি। এরপর একটা আসছে ইঙ্ক্রেডিবল হাল্ক এর উপর ‘হাল্কা’ নামে যেটা কেউ এই গ্রুপের দেখেছে কিনা সন্দেহ আছে। আমার কথা হচ্ছে যেখানে হোচটের প্রথম ধাপ ই পেরুতে পারলো না বাংলাদেশ, সেখানে এডবি আফটার ইফেক্টস এর সস্তা দরের কিছু ইফেক্টস দেখিয়ে এই জেনারের মুভির যেন অপমৃত্য না ঘটে বাংলাদেশে। আর হ্যাঁ আরেকটা কথা, প্লিজ দয়া করে বলবেন না ‘বিদেশীদের দিয়ে কাজ করানো হয়েছে’, এই পয়েন্ট আমার কাছে এতোটাই হাস্যকর যে এটা নিয়ে আমি কোনো কথা বলতেই নারাজ। দুই কলম লিখলে সেই পয়েন্টের এগেন্সটে লিখবো যেটাতে আমার মানসিক বিকাশ ঘটবে, তাছাড়া হাস্যকর বা সস্তা দরের কোনো পয়েন্টের এগেন্সটে নয়।

যাইহোক আমি চাই বাংলাদেশের চলচিত্রে নতুন ধারা শুরু হোক, কিন্তু তা যেন এমন হাস্যকর অদ্ভুত জিনিস আমাদের উপহার না দেয় যে এরপর কেউ ঐ জেনর এর চলচিত্র বানাতে সাহস না পায়।

(Visited 132 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    আপনার রাগের কারনটা কি ঠিক বুঝলাম না। মনে হচ্ছে পরবাসিনী দেখে আপনি খুবি ক্ষুব্ধ। দেখিনি বা এর নাম জানি ও না। তবে মনে হচ্ছে তার মেকিং দেখেই আপনার এই পোস্ট। আসলেই কোন কিছু বানানোর আগে সে সম্পর্কে শিখে বানানো উচিৎ।

    • আসলে মুভিটি নিয়ে শুরুতে কিছু কথা বলা উচিত ছিলো আমার। যাইহোক আমাদের দেশে সাই ফাই মুভি আসছে ‘ইমন’ ও ‘মাহজেবিন’ অভিনীত, মুভিটি পরিচালনা করছে ‘লাল টিপ’ খ্যাঁত (!!) পরিচালক। মুভির পোষ্টার দুইটা দেখলাম, দেখার পরই আশাহত হলাম। আমার কথা এখন বিশ্বায়নের যুগে যদি অভিজ্ঞ না হয়ে নতুন বা ভিন্ন জেনর শুরু করার প্রয়াশ চালানো হয় তাহলে সে মুভি শুধু দর্শকই হারায় না বরং ভবিষ্যতে এই নতুন জেনার নিয়ে কাজ করা পরিচালকদের শূন্যে পতিত করে।

      মুভিটির পোষ্টার দেখে মনে হচ্ছে সাই ফাই না বরং আলিফ লায়লা এর মতো ফ্যান্টাসি মুভি বানাচ্ছে। 🙁

    • পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

      লাল টিপের পরিচালকের মুভি আবার যেইনা উনি আবার সাই ফাই বানিয়েছেন। দেখার কোনই ইচ্ছা নাই।

  2. রিফাত আহমেদ রিফাত আহমেদ says:

    আমি আশাবাদি এই মুভি নিয়ে …পরিচালক অনেক পরিশ্রম করতেছে এই ফিল্মটা ভালো করার জন্য

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন