দুনিয়া কাঁপানো চলচ্চিত্র পরিচালক ‘সের্গেই আইজেনস্টাইন ’ ও তাঁর মাস্টারপিস ‘ব্যাটলশিপ পটেমকিন’

Sergei-Eisenstein-Quotes-1

সের্গেই আইজেনস্টাইন  

সের্গেই আইজেনস্টাইন  যিনি চচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী ভাষা ‘মন্তাজ’ এর জনক বলে বিখ্যাত, তাঁর জন্ম সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের রাগা শহরে ১৮৯৮ সালের ২৩ জানুয়ারি। তিনি শুধু সফল ও দুনিয়া কাঁপানো চলচ্চিত্র নির্মাতাই ছিলেন না তিনি তাত্ত্বিক চলচ্চিত্রবোদ্ধা ও সফল চিত্রনাট্যকার ও ছিলেন। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়া সের্গেই আইজেনস্টাইন বাবার মত স্থাপত্যশিল্পে পড়াশুনা না করে পুরকৌশলে পড়াশুনা শুরু করেন। একপর্যায়ে রুশ বিপ্লবে যোগ দিতে তিনি আর্মিতে যোগদান করেন যা তাঁকে তাঁর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে, এইখানে উল্লেখ্য তাঁর পিতা ছিলেন তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের বিপরীতের একজন ব্যক্তি। ১৯১৮ সালে তিনি রাশান রেড আর্মিতে যোগ দেন। দুনিয়া কাঁপানো দশদিন খ্যাত অক্টোবর বিপ্লবের পর তিনি চলে যান পেট্রোগ্রাডে,পরে ১৯২০ সালে তিনি বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে একটি কম্যান্ড পজিশনে স্থানান্তরিত হন। অক্টোবর বিপ্লব নিয়ে তাঁর ভাল কাজের ফল স্বরূপ তিনি পড়াশুনার জন্যে জাপান ভ্রমণের সুযোগ পান। এর মধ্যদিয়েই তিনি থিয়েটারের সাথে যুক্ত হয়ে পরেন এবং ধীরে ধীরে থিয়েটারের ব্যক্তি থেকে ক্রমে একজন চলচ্চিত্রকর্মী হয়ে উঠেন।

CHAN 10153

ইভান দ্যা টেরিবল(১৯৪৪,১৯৫৮)

তারপর তাঁর অনবদ্য সকল চলচ্চিত্রের নির্মাণ দেখতে থাকে গোটা বিশ্ব স্ট্রাইক (১৯২৪), ‘ব্যাটলশিপ পটেমকিন’ (১৯২৫), অক্টোবর (১৯২৭) এবং আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র অ্যালেকজান্ডার নেভস্কি (১৯৩৮) ও ইভান দ্যা টেরিবল(১৯৪৪,১৯৫৮); এই ইভান দ্যা টেরিবল ট্রিলজি বিশ্ব চলচ্চিত্রের প্রথম ও সফলতম ট্রিলজি। ডি.ডব্লিউ. গ্রিফিথ যখন তাঁর ইন্টলারেন্স ‘বার্থ অফ এ নেশন‘ নিয়ে নির্বাক ছবিতে দুনিয়া কাঁপাচ্ছেন তখন এই প্রতিভাবান পরিচালকের আগমন। বলতে গেলি তিনি চার্লি চ্যাপলিনের মহাকাব্যিক সকল ফিল্ম আর ফ্রিটয ল্যাং এর ‘মেট্রোপলিস’(১৯২৭) এর হাত ধরেই নির্বাক চলচ্চিত্র সবাক হয়। তাঁরা হচ্ছে যুগসন্ধিক্ষণের চলচ্চিত্র নির্মাতা। এই চলচ্চিত্রবোদ্ধার জীবনাবসান ঘটে ১৯৪৮ এর ২৩ জুলাই।


ব্যাটলশিপ পটেমকিন’ (১৯২৫)

সের্গেই আইজেনস্টাইন সর্বমোট ২৫ টির মত স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। অনেক চলচ্চিত্র গবেষকের কাছে ‘অক্টোবর’ তাঁর সেরা সৃষ্টি অনেকে বলবেন ‘অ্যালেকজান্ডার নেভস্কি’ তাঁর মহাকাব্যিক আর একদল থাকবেন তাঁর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘ব্যাটলশিপ পটেমকিন’ (১৯২৫) এর পক্ষে। শিরোনাম থেকেই অনেকে বুঝে ফেলেছেন আমার পছন্দ ‘ব্যাটলশিপ পটেমকিন’ (১৯২৫), হ্যাঁ তাই। তার কারণ এই নয় যে এই মুভিটিকে তাবৎ দুনিয়ার বিশুদ্ধতম চলচ্চিত্র ধরা হয়ে থাকে বা এও নয় যে চলচ্চিত্রটিতে সর্বপ্রথম সবাক চলচ্চিত্রের অন্যতম ভাষা মন্তাজের সার্থক ব্যবহার হয়েছে প্রচুর যা আমি জেনেছি পোস্টটি লিখতে বসে তার থেকে বড় কারণ ২০০৫ অথবা ২০০৬ সালের দিকে তাঁর নির্মিত দেখা গোটা ৫ ফিল্মের মধ্যে এই একটি ফিল্মই আমাকে বিশ্ব চলচ্চিত্রের দিকে বেশী ঠেলে দিয়েছে।


October (Ten Days that Shook the World) (1928)

এই চলচ্চিত্রটির পটভূমি এতই বড় যে তা ১৯০৫ সালের জাপান-রাশিয়া যুদ্ধের সময়কার একটি সাবমেরিনের বিদ্রোহকে কেন্দ্র করেই এর কাহিনী শুরু হয়ে ১৯১৭ সালের সেই মহাজাগতিক দুনিয়া কাঁপানো বিপ্লব অক্টোবর বিপ্লবে গিয়ে শেষ হয়। ৫টি ভাগে বিভক্ত মাত্র ৬৬ মিনিটের এই ফিল্মটি এতই শক্তিশালী যে এই চলচ্চিত্রটিকে গোটা দুনিয়ার তাবৎ চলচ্চিত্রবোদ্ধারা সর্বকালের সেরা তালিকায় ১০ এর ভিতরে রাখেন এই নির্বাক ফিল্মটিকে। অনেক আগে দেখার কারণে আমি বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যাব না, তবে আমার কাছে বারবার অবাক লাগত তিনি কীভাবে তখন এমন বিশাল পটভূমিতে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।


আইজেনস্টাইন এর অন্যতম মাস্টারপিস ‘ব্যাটলশিপ পটেমকিন’এর আরেকটি জনপ্রিয় পোস্টার

ফিল্মটির প্রধান চরিত্রগুলোঃ
Aleksandr Antonov — Grigory Vakulinchuk (Bolshevik Sailor)
Vladimir Barsky — Commander Golikov
Grigori Aleksandrov — Chief Officer Giliarovsky
Ivan Bobrov — Young Sailor Flogged While Sleeping (as I. Bobrov)
Mikhail Gomorov — Militant Sailor
Aleksandr Levshin — Petty Officer
N. Poltavseva — Woman With Pince-nez
Konstantin Feldman — Student Agitator
Beatrice Vitoldi — Woman with the baby carriage

নির্বাক যুগের এমন কিছু চলচ্চিত্র সকল দর্শকেরই দেখা উচিৎ মাত্র ১০০ বছরের মধ্যে বিশ্ব চলচ্চিত্র আজ কোথায় তা বুঝার জন্যে। বিশ্ব চলচ্চিত্রের বিশুদ্ধতম চলচ্চিত্রের একটা তালিকায় দেখা গেল এই মহান চলচ্চিত্রটি এক নম্বর স্থান দখল করে আছে।


বিশুদ্ধতম চলচ্চিত্রের একটা তালিকা

পরবর্তীতে অন্য আরেক মহান চলচ্চিত্র নির্মাতার শ্রেষ্ঠ কোন চলচ্চিত্র নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সেই পর্যন্ত ভাল থাকুন; শুভ হোক চলচ্চিত্র দেখাদেখি!! [পোস্টটি পূর্বে ইস্টিশন ব্লগে প্রকাশিত...]

(Visited 145 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    লেখায় ++++
    বিশুদ্ধ কিছু মুভির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ… :2thumbup

  2. অচেনা একজনকে নিয়ে জানতে পারলাম। ভালো লাগল।

  3. মাইকেল ফ্রান্সিস করলিয়নে says:

    গ্রেট, অসাম অ্যান্ড ওয়ান্ডারফুল… :hoax লেখাটা পড়েছি যখন এর জন্ম হয়। আজ আবার পড়লাম… সিমপ্লি অসাম একজন চলচ্চিত্রগুরুর অভূতপূর্ব এক কাজের উপর মাস্টারপিস লেখা .. লিংকন ভাই, গতবারের দেয়া ধইন্না আর গোলাপগুলো বোধহয় শুকিয়ে গেছে, এই নেন আবার গোলাপের তোড়া :rose: :rose: :rose: :rose: আর ধইন্নার ট্রাক… 😀 😎 :thumbup:

  4. James Bond says:

    নাম শুনেছিলাম আগে, কিন্তু তেমন কিছু জানতাম না।। লেখায় ++++++

  5. নির্ঝর রুথ says:

    অনেক কিছু জানলাম। ধন্যবাদ 🙂

  6. অনিক চৌধুরী says:

    দারুণ লেগেছে লেখাটা। রিভিউ না বলে লেখাই বলবো আমি। 🙂

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন