“The Intouchables (2011)” এক অস্পৃশ্য মানব মন ছোঁয়ার গল্প
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

 intouchables_ver2_xlg

চলচ্চিত্রঃ The Intouchables (2011)

পরিচালকঃ Olivier Nakache, Eric Toledano

কাহিনী ও চিত্রনাট্যঃ Olivier Nakache, Eric Toledano

মূল-ভাষাঃ ফরাসী, ব্যাপ্তি/দৈর্ঘ্যঃ ১১২ মিনিট

শ্রেষ্ঠাংশেঃ François Cluzet as ‘Philippe Pozzo di Borgo ‘ & Omar Sy as ‘Driss’,

বাজেটঃ €9.5 million (Euro), বিশ্বজুড়ে ব্যবসা করেঃ €346 million (Euro)

জনর বা ধরণ: জীবনী,প্রহসন, নাটক [Biography, Comedy, Drama]

পুরষ্কারঃ বিশ্বজুড়ে ২২ টি জয় এবং ৩০ টি মনোনয়ন

আইএমডিবি [IMDB] রেটিং- ৮.৫ এবং আইএমডিবিতে এযাবৎকালে নির্মিত ২৫০ চলচ্চিত্রের তালিকায় স্বমহিমায় ৫৩ তম অবস্থান দখল করে আছে অসাধারন এই হৃদয়স্পর্শী চলচ্চিত্রটি।।

অফিশিয়াল ট্রেইলার দেখুনঃইউটিউবে

The Intouchables চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে এক অসুস্থ ব্যক্তির (Philippe Pozzo di Borgo) বাস্তব জীবনের অবলম্বন। যে গল্পে বলা হয় শয্যাগত এক পঙ্গু মানুষের মন-দৈহিক অনুভূতি আর তাঁর জীবনকে কীভাবে এক প্রাণচঞ্চল ভরপুর তরুন মন অর্থবহ আর উপভোগ্য করতে পারে। মানুষের সাবলীল ভালবাসার সঙ্গ যে অনেক সময় মৃতপ্রায় মানুষের মনকেও যে তারুন্যের আনন্দ দিতে পারে তা এই গল্পের কাব্যিক দৃশ্যায়ন না দেখলে বুঝা অসম্ভব।


আসল ফিলিপ এবং ড্রিস যাদের জীবনী নিয়ে এই উপাখ্যান

কাহিনীঃ চলচ্চিত্রটির প্রথমে টাইটেল কার্ড উঠার আগেই যে দারুণ দৃশ্যটির অবতারণা হয় তা এমন একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে নিয়ে একজন ড্রাইভার ট্র্যাফিক সিগন্যাল এবং হাইওয়ে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে অদম্য গতিতে ছুটে চলছে ঝড়ের বেগে সাথে নানান হাস্যরসাত্মক বাক্যবিনিময় হয় দুজনের মাঝে। এমন সময় পুলিশের গাড়ি সামনে থেকে এসে গতিরোধ করল তারপর অনবদ্য অভিনয়ে বুড়ো লোকটা নিজেকে হার্ট এটাক করা একজন রোগী হিসেবে উপস্থাপন করে এবং ফলশ্রুতিতে হাইওয়ে পুলিশ তাদের গার্ড (escort) দিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে চাই।। এমন সব অসাধারণ প্রহসনমুলক চিত্রকল্পে ভরপুর থাকে চলচ্চিত্রটি।

দুই অসম বয়সীর বন্ধুত্বপূর্ণ এমন হাস্যরসাত্মক শুরুর পর গল্পটি ফ্ল্যাশব্যাকে মূল কাহিনীতে প্রবেশকরে। একজন চাকুরী প্রার্থী (ড্রিস…) ইন্টারভিউর জন্য একটি অভিজাত বাসায় অপেক্ষাগারে অপেক্ষা করছে, কালক্ষেপণ সহ্য করতে না পেরে পরে নাটকীয়ভাবে ড্রিস ইন্টারভিউ গ্রহীতার ঘরে প্রবেশ করে। সহকারী ‘Magalie’ এর উপস্থিতিতে কি দারুণভাবে ড্রিস ফিলিপের মন জয় করে নেয় তা সত্যিই অতিনাটকীয় এবং দেখার মত একটি চচ্চিত্রায়ন।


প্যারাগ্লাইডিংরত দুই বন্ধুর একজন-ফিলিপ

এরপর একে একে আরও অনেক অতি-নাটকীয় সব ঘটনায় ড্রিস কীভাবে একজন বিকলাঙ্গ পঙ্গু রোগী এবং মনিব অথচ বন্ধু ফিলিপের মনকে স্বাভাবিক করে তুলে তা দেখে অনেক কিছুই শেখার আছে সমগ্র মানব জাতির। মূলত এই দুজনের উপর নির্মিত একটি প্রামান্যচিত্র থেকেই এই চলচ্চিত্রটির নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন পরিচালকদ্বয়। দুইবার চলচ্চিত্রটি দেখেছি আর প্রতিবারই তলস্তয়ের কালজয়ী ছোটগল্প ‘ইভান ইলিচের মৃত্যু’র কথা মনে হচ্ছিল, এমনি আরেক জীবনধর্মী গল্পের চলচ্চিত্র ‘The Sea Inside’ যে চলচ্চিত্রের রিভিউ লিখেই এই ব্লগে আমার আগমন। যারা চলচ্চিত্রকে ২য় সারির শিল্পমাধ্যম মনে করেন বা করতেন তাদের ধারনা পাল্টে দেয়ার মত আরেকটি চলচ্চিত্র এটি। শেষ বয়সের অসহায় একজন মানুষের পাশে একজন প্রেমময় বন্ধুর প্রয়োজনীয়তা সার্থকভাবেই ফুটে উঠে এই ১১২ মিনিটের মহাকাব্যিক সিনেমাটোগ্রাফিতে।


রেস্তরাঁয় আড্ডারত দুই বন্ধু- চলচ্চিত্রের ফিলিপ এবং ড্রিস

সমুদ্রের পাশের এই শৈল্পিক রেস্তরাঁয় যখন ড্রিস তাঁর বন্ধুকে নিয়ে আসে তখন মুগ্ধতার যে ঝিলিক ফুটে উঠে কেবল কানে অনুভূতি থাকা অসহায় মানুষটি তখন যে কারও মন আপ্লুত হতে বাধ্য। কাহিনী বর্ণনার থেকে কিছু আকর্ষণীয় চিত্রকল্পের উপস্থাপনা রিভিউর ক্ষেত্রে বেশী কার্যকর হওয়ায় কয়েকটি চিত্রকল্প এবং চলচ্চিত্রের ভাষা উপস্থাপন করব যা পাঠকের মুভিটি দেখার আগ্রহ বৃদ্ধি করবে কিন্তু চলচ্চিত্রটির কাহিনী অজানা রেখে দিবে। যা আগে শুনা গল্পের মুভি দেখার বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তি দিবে সবাইকে।

The-Intouchables-11

ড্রিস ও ফিলিপের জীবনের গল্পের একটি বিশেষ মুহূর্ত

একইসাথে ড্রিসের পরিবারের নানান টানাপোড়নের যে রূপ তুলে ধরে চলচ্চিত্র তা একজন মানবিক মানুষ ড্রিসের নিজের জীবনের দুঃখ কষ্টের সাথে এই জীবনের অভিজাত্যের সাথে এক দান্দিক অবস্থান তুলে ধরে তা আসলেই এমন অতিশৈল্পিক এক ফিল্মি মোহের ছটায় সম্ভব। এদিকে ফিলিপের অভিজাত জীবন যাপনে অভ্যস্ত তার এক মাত্র মেয়ের কিশোর মনের প্রেম আশংকা হতাশা ঘৃণা মৃত্যুর ইচ্ছা সব মিলিয়ে মানব জীবনের এক পরিপূর্ণ শোকগাথার অন্যরকম এক উপস্থাপনের সার্থক প্রকাশ হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে, অন্যদিকে ড্রিসের টানাপোড়নের সংসারের মানবিক সকল অনুভুতির ভেঙ্গে পরার গল্প উঠে এসেছে সাবলীল সিনেমাটোগ্রাফিতে। একটি চলচ্চিত্রেই চারজন মানুষের চার বয়সের চার ধরণের বিপর্যয় নিয়ে চতুর্মাত্রিক এক উপাখ্যান হয়ে থাকবে বিশ্ব চলচ্চিত্রে; ফিলিপ-পঙ্গু রোগী, তার বন্ধু ড্রিস-নিয়োগকৃত সেবক থেকে বন্ধু জীবনের ভিন্নরকম স্বাদ, ড্রিসের মায়ের টানাপোড়নের মানবিক মধ্যবিত্ত জীবন আর ফিলিপের মেয়ে ও তার ছেলে বন্ধুর কিশোর মনের অবস্থা সবই পাওয়া যায় অথচ এত সুন্দর আর দুর্দান্ত এক উপস্থাপন যা কখনই দর্শকের মনকে হয়তো কাঁদাবে না কিন্তু মাঝে মাঝে অট্টহাসিতে ফেটে পরবে দর্শক আর চলচ্চিত্রটি দেখা শেষে তীব্রভাবে ভাবাবে মানুষের জীবন সম্পর্কে আর তাই চলচ্চিত্রটি শেষ করার পর সব কিছুই দর্শককে গ্রাস করবে।


যে দুইটি জীবনের উপাখ্যান এই চলচ্চিত্রটি সেই দুই বন্ধু সমুদ্রতীরে অবসরে

চলচ্চিত্রটির শেষ দৃশ্যে যখন আসবে তখন এক মহৎ বন্ধুর আত্মত্যাগ এবং তার সুবিবেচনার এক অনবদ্য দৃশ্যকল্প দেখাযাবে যার উপস্থাপন অন্যরকম এক রুপক দৃশ্যায়নে। দৃশ্যটি এমন ড্রিস বালুকাময় পথ ধরে হেঁটে বিদায় নিচ্ছে এদিকে ফিলিপ অসীম আশা আর স্বপ্ন নিয়ে অনাবিল হাঁসিতে তার প্রস্থান দেখছে। আর এদিকে তার হুইল চেয়ারটির মুখোমুখি বসে থাকে ড্রিসের যায়গায় ড্রিসের উদ্যোগে ফিলিপের সদাপ্রেমময় জীবনের নতুন আশা ‘Eléonore’।

ডাউনলোড লিঙ্কঃ ৭০৫ মেগাবাইট টরেন্ট

  The-Intouchables-French Movie Poster

 

এই পোস্টটিতে ১৭ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ডন মাইকেল করলিয়নে says:

    একটা অভূতপূর্ব চমৎকার চলচ্চিত্র নিয়ে চমৎকার প্রাঞ্জল ভাষায় এই লেখাটা শুধু মুভিটা দেখতেই সবাইকে উৎসাহী করবে না, চলচ্চিত্রের প্রতি ভালোবাসাটাও বাড়িয়ে দেবে বহুগুনে 🙂 … অজস্র ধন্যবাদ এই রিভিউটা দেয়ার জন্য লিংকন ভাই… 😛 🙂 🙂

  2. অ্যান্থনি এডওয়ার্ড স্টার্ক says:

    আপনার আরেকটা ছক্কা 😀 + + + + + + +

    • তারিক লিংকন says:

      আইরন ম্যান-কে ধন্যবাদ… মুভি দেখা না থাকলে জলদি দেখতে বসুন, একটি না গোটা হাফ ডজন মানুষের জীবনের গল্প দেখতে পারবেন…

  3. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    অবেক অনেক সুন্দর একটা লেখা। শুরুতেই যে তথ্যগুলো সেগুলো ভালো লাগল।

    • তারিক লিংকন says:

      আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ… আর হ্যাঁ, চলচ্চিত্রটি দেখা না থাকলে তাড়াতাড়ি দেখে ফেলুন!!

  4. যুবায়ের says:

    মুভিটা আগেই দেখেছি, কিন্তু আপনার রিভিউ পড়ে নতুন করে চিন্তার উদ্রেক হচ্ছে। কিছু মনে না করলে আমি রিভিউ লিখার সময় আপনার রিভিউগুলা মডেল হিসেবে রাখতে চাই।

    • তারিক লিংকন says:

      আসেন ভাই বুকে আসেন। এইটাই একজন মুভি লাভারস এর সবচে বড় পাওয়া…
      এই ব্লগে ইমো দেয়ার কোন সিস্টেম নাই ক্যান? আপনি নির্দ্বিধায় এই স্টাইলে ব্লগিং করতে পারেন।
      এইটাই আমার সবচে বড় পাওয়া, ধন্যবাদ ভাই!! চলচ্চিত্রও জীবনের মত আপত্তিকর এবং সর্বাঙ্গীণ…

    • মাইকেল ফ্রান্সিস করলিয়নে says:

      আপনে দেরি কইরা ফেলছেন… আমি পরথম… 😛 🙂

  5. আমার অত্যন্ত পছন্দের একটা মুভি। দারুণ এই শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ 🙂

  6. অসম্ভব সুন্দর একটি মুভি। আমার খুব প্রিয়। মুভিটা নিয়ে এই লেখাটাও পুর্নাঙ্গ ব্লগীয় লেখা হয়েছে। চমৎকার লেখা। ছবিটা যেমন মুগ্ধ হয়ে দেখেছি, লেখাটাও তেমন মুগ্ধ হয়ে পড়লাম। কিপ ইট আপ বস…

    • তারিক লিংকন says:

      অফুরন্ত ধন্যবাদ… এমন চমৎকার মুভি সম্পর্কে লিখতে গেলে আসলে আমাদের কিছুই করার থাকে না। সব কিহচু গুছিয়ে বললেই সব হয়ে যায়। সকল কৃতিত্ব চলচ্চিত্রটির… ভাল থাকবেন, আপনার খুব প্রিয় মুভি জেনে ভাল লাগল!!!

  7. নির্ঝর রুথ says:

    রিভিউয়ের ভাষা বেশ কঠিন। জটিল শব্দ চয়ন, দীর্ঘ বাক্য গঠনসহ জায়গায় জায়গায় খাপছাড়া মনে হয়েছে। মুভি নিয়ে আপনার আবেগটুকু আমার মাথায় ঠিক ধাক্কা দেয় নাই।
    বানানের দিকেও একটু খেয়াল রাখবেন ভাই 😀
    আশা করি, ভবিষ্যতে “The Sea Inside” এর মতো সাবলীল রিভিউ পাবো।

    “হ্যাট্রিক করা রুবেল খালি হাতে ফিরলে কষ্টই লাগে…” 😛

    • তারিক লিংকন says:

      আপনাকে অফুরন্ত ধন্যবাদ… এই প্রথম কেউ গঠনমূলক একটা মন্তব্য করল!!
      আপনার পরামর্শ আর দিকনির্দেশনা আশাকরি আগামী পোস্টগুলকে আরও প্রাঞ্জল আর সাবলীল করত্তে সাহায্য করবে…
      ও হ্যাঁ!! মুভি টি দেখা না থাকলে দেখে ফেলেন!! ভাল না লাগলে সময় এবং মেগাবাইট ফেরত…

    • মাইকেল ফ্রান্সিস করলিয়নে says:

      খাইছে রে… কি বিশ্লেষন… 😛 🙂

  8. James Bond says:

    অনেক সুন্দর ভাবে কাহিনীর বিন্যাস তুলে ধরেছেন। চমৎকার হয়েছে লেখা।।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন