The perks of being a wallflower

A lime green wall with the words 'we are infinite', a boy stands beside a girl, she leans her head on the shoulder of another boyমুভিটার শুরুটা আর বেশ কয়েকটা টীন মুভির মতোই। মিডল স্কুল থেকে হাইস্স্কুল শুরু করতে যাওয়া চার্লি। চুপচাপ শান্ত কিসিমের চার্লির সাথে অন্যান্য ছেলেপেলে মিশে না বললেই চলে। আর ফ্রেশমেনদের সাধারণত কেউ পছন্দ করেনা। ব্যপারটা এমন, ফার্সট ইয়ারে উঠলে পোলাপাইনের যেমন পাণ্খা গজায় ফ্রেশমেনদেরো এমন অবস্থা। আর অন্যান্যরা (জুনিয়র/সিনিয়র) তখন তাদেরকে সেই পোলাপাইন হিসেবেই দেখে ভাবখানা এমন যেন, “তেলাপোকার পাখা গজায় মরিবার তরে”, যাই হোক। অন্যান্য মুভিগুলো থেকে তফাৎ টা শুরু হতে থাকে তারপর থেকেই। মুভিতে চার্লির বন্ধু হয় সিনিয়র প্যাট্রিকের সাথে। পুরাই উইয়ার্ড কিসিমের। সাধারণত সিনিয়রদেরকে কুলেস্ট ক্যটাগরিতে ফেলানো হয়। আর একজন ফ্রেশম্যান হয়ে সিনিয়রদের সাথে ফ্রেন্ডশিপ বেশ বড় সড় কথা। তবে একট সত্যি কথা। সিনিয়র হইলে পোলাপাইন যতোই খারাপ হোক না কেন, বেশ দয়াল ভাব নিয়া চলে, ম্যাচিউরিটিও আসে মনে হয় কিছুটা। যাই হোক, প্যাট্রিক আর তার সৎ বোন স্যাম। বেশ ভালো বন্ধুও তারা। চুপচাপ স্বভাবের চার্লি মিশতে থাকে সিনিয়রদের ফ্রেন্ড সার্কেলে। আস্তে আস্তে সে প্রেমে পড়ে যায় স্যামের, ওদিকে স্যামের বয়ফ্রেন্ড যে কিনা কলেজে পড়ে ঠিক তেমন একটা পাত্তা দেয়না হাইস্কুলের কাজকারবার (কলেজপড়ুয়া ছেলেপেলেদের বিশাল ডিমান্ড, সাধারণত তারা হাইস্কুল গার্ল ডেট করে না) যাই হোক, ওদিকে স্যাম আর প্যাট্রিকের এক ফ্রেন্ড ম্যারি এলিজাবেথের সাথে রিলেশনশিপে জড়ায় পড়ে চার্লি। কিন্তু ডুবে ডুবে ঠিকই স্যামের প্রেমে পড়ে চার্লি। আর ওদিকে প্যাট্রিক আর তার বয়ফ্রেন্ডের ঝামেলা হয়। ফলাফল ফ্রেন্ডশিপ ভেঙে পড়ে। ওদিকে চার্লি একা হয়ে পড়ে। ছোটবেলা থেকেই চার্লি বেশ ডিপ্রেসড ছিলো, তার আন্টি হেলেন মারা যাবার পর থেকে। আন্টি হেলেন ছিলো অন্যরকম একজন মানুষ চার্লির কাছে। যাই হোক, মুভিটার শেষে পুরাই অবাক করা একটা তথ্য মেলে। যেটা সম্পর্কে প্রায়ই হিন্টস দেয়া হইছে মুভিতে কিন্তু শেষ পর্যন্ত না গেলে বোঝা যায়না। যেই জিনিষটা বেশী ভালো লাগছে, সেটা হলো আর দশটা টীন মুভির মতো ড্রামায় ভরা না। মুভির শুরুটা হয় চার্লিকে দিয়ে, মাঝখানে সেটা গড়ায় বন্ধুত্বে অন্যান্য মুভিগুলা বন্ধুত্ব মহান দেখায় মুভি ফিনিশ করে দিতো। কিন্তু এটাতে ঘুরে ফিরে চার্লির মাঝেই আসছে, যদিও একটু খারাপ লাগছে যে মুভিটার মাঝখানে বন্ধুত্বটাকে যতোটা ইমপোর্টেন্স দেয়া হইছে, শেষ দিক দিয়ে ওটা ফিকে হয়ে গেছে। তারপরো চলে।
এখন আসে আ্যক্টিং নিয়ে।
চা্র্লি: মুভির মেইন ক্যারেক্টার। কিন্তু সেরকম হিরো হিরো ভাব না। বরং পুরা মুভিতে ওকে আর দশটা ক্যারেক্টারের মতোই লাগছে। “পার্সি জ্যাকসন” সিরিজটা আমার যতো ফেভারিট ছিলো, মুভিটা ততোই বিরক্তকর লাগছিলো, সেখান থেকে লোগান বেশ ভালোই আগাইছে।
স্যাম: এমা ওয়াটসন। আর কিছু বলার আছে? ওর আমেরিকান আ্যকস্যেন্ট এর জন্য একটু আনরিয়েল আনরিয়েল লাগছিলো। কিন্তু খুশী হইছি যে, বেশীর ভাগ মানুষ ওর জন্যই মুভিটা দেখবে সত্বেও ওর ক্যরেক্টার টা খুবই বেশী জমকালো করা হয়নাই।
প্যাট্রিক: এইটাই মনে হয় আমার সবচেয়ে ফেভারিট ক্যারেক্টার। বাকিটা আপনারাই দেইখেন।

মুভিটা নিয়ে বলার আসলে তেমন কিছু নাই। শেষ দিক দিয়ে একটু ছন্দ কাটা মনে হইতে পারে। মনে হতে পারে যে, পুরা একটা রেস্টুরেন্টের ডিরেকশন নিয়ে বলা হইলো, চলো মীনাবাজার যাবো। এমনটা, শেষটা তে আমি একটু চমকিত হলেও হতাশ হইছি, কারণ যে জিনিষটা পুরা ছবিটা ধরে রাখছিলো,সেটার প্রতি আর মনযোগ ছিলোনা।

মুভিটা আমার কাছে কেন জানি ছোট মনে হইছে, আর অন্যান্য মুভিগুলার মতো সাদামাটা একটা ছেলে/মেয়ে হঠাৎ করে কিভাবে সুপারহিরো হয়ে যায় ক্যাম্পাসের ওরকম কিছু ছিলোনা বলে ভালোলাগছে। বরং মনে হইছে, এটা আমাদের ক্লাসেরই হয়তো কোনো একটা গ্রুপের স্টোরি। মুভিটা দেখে ভালো লাগার মতোই। আর বড় কথা রিভিউ লিখি না লিখি, এটা সবাই দেখবে বলেই জানা আছে। অতএব দেখতেই পারেন। 🙂

(Visited 46 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন