রুবি স্পার্ক

” অবসর সময়টা ” আমার হয়না বললেই চলে, যখন হয়, ঘাটাঘাটি করতে ইচ্ছে করেনা। মুভিটুকে তে ঢুকে নতুন কোনো মুভি আসলে দশ মিনিট চালায় অফ করে দেই। কারণ নতুন বের হওয়া ভালো কোয়ালিটি মুভি মানেই হলো! বস্তা ভরা আবর্জনা। তো যাই হোক, এরি মধ্যে দেখলাম “রুবি স্পার্কস”! দেখেই একটু অন্যরকম মনে হলো। চালালাম, আরে imdb রেটিং দেখি7.3 আর rotten tomatoes 7.1 । দেখতেই হয়। প্রথমেই বলি, আমাদের জীবণে মিরাকেল কমই ঘটে। কিন্তু তবু আমরা মিরাকেল নিয়ে ভাবতেই ভালোবাসি। কারণ, আমরা স্বপ্ন দেখতে ভলোবাসি। মুভিটা দেখে, সেরকমই মনে হবে। সম্পূর্ণই অবাস্তব কিন্তু কিছু একটা আছে। একটা রিভিউতে দেখলাম, এই মুভিটা দেখে হয়তো ফেসবুকে পরিচিত হওয়া মেয়েটা (যদি সত্যিকারেই মেয়ে হয় ) মেয়েটার কথা মনে হতে পারে, কিংবা কফিশপে দেখা মেয়েটা। বাংলাদেশে কফিশপে মানুষের উঠাবসা মেয়ে সমেত খুব একটা হয়না, হইলেও দোকলা থাকে তাই আমরা নাহয় বলতে পারি পাশের ছাদের মেয়েটা!
যাই হোক ছবিকে বাস্তবের সাথে না মিলিয়ে ছবি প্রসঙ্গে আসি।
কেলভিন একজন নোনতা ধরণের লেখক, রাইটার্স ব্লকে ধরছে তারে। সে খুবই ডিপ্রেসড!! কি করি ! মরি মরি! ধরণের ভাব। তার সমাজে তেমন বেশী পাত্তা নাই। যে মেয়েরা তার প্রেমে পড়ে, সবাই তার প্রেমে পড়ে কারণ সে একজন লেখক। শুধুমাত্র তার প্রেমে পড়ে না কেউই। তো সেদিন রাতে সে এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলো একটা মেয়েকে নিয়ে। খুব সাধারণ ঘটনা। দেখতেই পারে। তো কেলিভিনের সাইক্রিয়াটিস্ট পরামর্শ দিলো মেয়েটাকে নিয়ে লিখতে। কি জানি কি মনে করে কেলভিন লিখতে বসলো মেয়েটাকে নিয়ে, এভাবেই জন্ম রুবি স্পার্কের ! এবং পরদিন কেলভিন আবিস্কার করলো রুবি স্পার্ক তার বাসায়, তার গার্লফ্রেন্ড!! পুরাই অবাক কেলভিন!!! গল্প থেকে নায়িকা চলে আসছে রিয়েল লাইফে! আর শুধু তাই না। ওর আসেপাশের মানুষদেরো যেনো বশ করে ফেলছে সে। কেলভিনের লেখা মতোই চলে রুবি। কেলভিন ইচ্ছে মতো গড়তে পারে বানাতে পারে রুবিকে। তবে ছেলেরা মনে হয় ঐ যে বলে না?? “মেয়ে মানুষ মানেই ঝামেলা!!” তেমনি কোনোভাবেই রুবিরে পছন্দ হয়না কেলভিনের। (আসলে সমস্যা যে ছেলেদের মনে!!)
যাই হোক। এমন নানা কিছুর মধ্যে কেলভিন শেষমেষ রুবিমুক্ত হয়। কিন্তু তার পরের শেষ কোথায়?? রুবির প্রতি ভালোবাসাটা যে গল্পে ছিলো, সেটা কি একটু হলেও সত্যি হয়নি?? কেলভিনকে জিগ্গেস করসিলাম, ও বলছে “I couldn’t see you when you were here. And now that you’re gone, I see you everywhere. One might read this and think it’s magic. But, falling in love is an act of magic. So is writing.”

যাই হোক, এমন আহামরি না আবার ম্যদা মারাও না। একটু টাইনা টুইনা বড়ই করছে মনে হইছে। কিন্তু আমি এইটাকে মোটামুটি বলবো। কাহিনীলাইন খুব বেশী বড় না। কিন্তু ছোটখাটো ঘটনা গুলা দেখতে মন চায়। মাথার একদম ভিতরেও ঢুকাইতে হয়না, আবার উপর দিয়ে উইড়াও যায়না ধরণের মুভি। বইসা বইসা চকবার খাও টাইপ। সবচেয়ে বেশী ভালো লাগছে মুভির শেষটা। বরং মনে হইছে ঔ পাঁচ মিনিটের সিনটাই মুভির আসল ক্রেডিট। কিন্তু ঐটা বোঝার জন্য পুরা মুভি দেখতে হবে।শেষটা বলতে পারবো না!! কারণ নায়িকা বারণ করছে মুভির মধ্যেই , “just dont tell me how it ends. okay?” জোর করবো না দেখার জন্য। তবে দেখতে পারেন! 🙂 ভালো কথা! এক্ট্রা নোট: মুভিতে নায়িকার অভিনয় করছে যে, সেই কিন্তু মুভিটা লিখছে!

Torrent Download: http://thepiratebay.se/torrent/7757097/

(Visited 43 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন