নিমের দ্বীপ (Nim’s Island)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

আমি রিভিউ লেখার আগে টুকটাক গল্প বলার চেষ্টা করি। ইচ্ছে হলে পড়তে পারেন, নাহলে সোজা রিভিউতে চলে যেতে পারেন।

পূর্বকথন:
ক্লাস টু কি থ্রি থাকতেই আমি তিন গোয়েন্দার আন্ধা ভক্ত ছিলাম। এমনকি মেজ খালামনিকে ওদের নাম ধাম, রকি বীচের কথা, পাশা জাংক ইয়ার্ডের হদীস পত্র দিয়া বলসিলাম খোজ করতে। যদিও তারা আমার কথা আমলে নেই নাই। বড় হইতে হইতে জানলাম। ওরা আসলে বিদেশী গল্প অনুকরণে তৈরী। খুবই কষ্ট পাইসিলাম। তবু হাটতে হাটতে যখন ডেথ ভ্যালি, এমারেল্ড ফরেস্ট এরকম রাস্তা গুলা দেখি।ওদের কথা মনে পড়ে। তো এতো বকর বকর করার কাহিনী হলো আজকের মুভিতে সেরকমই গল্পের আশা ভঙ্গ আর আ্যডভেন্চারের কাহিনী। দুইহাত কম্বলের তলে ঢুইকা এই মুভি দেখতে দেখতে মনে হইলো না লিখলে কেমন যেনো অবিচার হবে তার উপর আবার মুভিব্লগ চালু হইছে। আর কথা না! রিভিউতে যাইতেছে স্লাইড কইরা পোওওওওওওও!! 😆

রিভিউ:
এগার বছরের নিম আর তার বাবা থাকে সাউথ আইল্যান্ডে। বাবা জ্যাক একজন মেরিন বায়োলজিস্ট, সমুদ্রের প্লাংকটন গুতানোই তার স্বভাব আর তার মেয়ে নিম। দ্বীপের রাজকন্যা বলা যায় যাকে। সি লায়ন, লিজার্ড আর একটা কি পাখি যেন, ডাকনাম গ্যালিলিও কিন্তু আসল নাম ভুলে গেছি। এগুলাই নিমের বন্ধু। প্রতি সপ্তাহে কি মাসে, শহর থেকে জাহাজে করে তাদের প্রয়োজনী জিনিষ পত্র দিয়ে যাওয়া হয়। নিম আর তার বাবা তাদের বোটে করে সাগরে গিয়ে জিনিষ পত্র নিয়ে আসে। কেউই জানে না তারা আসলে কোথায় থাকে। তারা জানাতেও চায়না কাউকে। বেশ ভালোভাবেই চাচ্ছিলো তাদের দিন। নিমের বাবা টুকটাক লেখা লেখিও করে। আর নিম নানান বইপত্র ম্যাগাজিন ঘেটে দুনিয়া সম্পর্কে জানে। তো এরকম করেই একদিন নিমের হাতে এসে পড়ে আ্যলেক্স রোভারের বই। আ্যডভ্যান্চার হিরো আ্যলেক্স রোভার। নিম তো তার পুরা পান্খা! ওদিকে সাউথ আইল্যান্ড থেকে অনেক দূরে সান ফ্রান্সিসকোতে একটা কোনে এক বাড়িতে তাকে আ্যলেক্সান্দ্রা রোভার। আ্যলেক্স রোভার বইয়ের স্রষ্টা। যে কিনা তার লেখা গল্পের হিরোর চেয়ে পুরোপুরি ভিন্ন। নেট ঘেটে নানান জায়গা সম্পর্কে জেনে সে তার হিরোকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসে ওসব জায়গা থেকে তার লেখা বইয়ে। কিন্তু বাস্তবে তার আ্যপার্টমেন্টের বাইরে সে কখনোই পা রাখেনি। প্রচন্ড ঘরমুখো সে। আ্যগ্রোফোবিয়া  নামক এক ধরণের ডিজঅর্ডার। সে কখনোই ঘরের দরজাও খুলে না। একদিন নেট ঘাটতে ঘাটতে তার চোখে পড়ে জ্যাকের লেখা একটা আর্টিকেল “লিভিং আন্ডার মাউন্ট ভলকানো” পড়ার পর আ্যলেক্সান্দ্রা রোভারের ধারণা হয় পরবর্তীতে সে তার হিরোকে সেখান থেকে ঘুরিয়ে আনলে কেমন হয়? অতএব সে জ্যাককে মেইল করে, সেটা নিয়ে বিস্তারিত লিখতে। ওদিকে জ্যাক দুদিনের সমুদ্র ভ্রমণে বের হয় নতুন প্লাঙ্কটন খুজতে। নিমকে অনুরোধ করা সত্বেও নিম যাতে রাজী হয়না বাবার সাথে, অতএব দ্বীপ পাহারা দেবার জন্য নিম থেকে যায় দ্বীপে। ওদিকে জ্যাকের স্যক্রেটারি রূপে সে তার বাবার সব মেইলের রিপ্লাই দেয়। আ্যলেক্স রোভারের মেইল পেয়ে সে পুরাই শিহরিত!! রোমান্চিত!! যে তার গল্পের হিরো মেইল করেছে তার বাবার কাছে। সে জানায় সে আ্যলেক্স রোভারের বড় ফ্যান। কিন্তু জ্যাক সমুদ্র ভ্রমণে গেছে। রিপ্লাইয়ে আ্যলেক্স রোভার জানায়, জ্যাকের আ্যসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিম তাকে কোনো আইডিয়া দিতে পারবে কিনা, কেননা আ্যলেক্স রোভারকে বইটা একটু তাড়াতাড়িই শেষ করতে হবে। তার প্রিয় হিরোকে সাহায্যের জন্য পরদিন নিম রওনা হয় মাউন্ট ভলকানোর উদ্দেশ্যে। সেখানে বেশ ছোটখাটো একটা আ্যক্সিডেন্টে পড়ে নিম, আ্যলেক্সকে সে জানায় তার পা প্রায় পাঁচ ইন্চি কেটে গেছে, এবং তার বাবা যেহেতু কাছে নেই সে জানে না কিভাবে তা দেখাশোনা করবে তার ক্ষতস্থানের, এই মেইল পেয়ে আ্যলেক্স রোভারের ভ্রু কুঁচকে যায়! কেননা তার বিন্দুমাত্র ধারণা ছিলো না নিম একটা ছোট মেয়ে। ওদিকে সমুদ্র ঝড়ের মাঝে পড়ে জ্যাক, তার বিদ্ধস্ত বোট নিয়ে সে সমুদ্রের মাঝে হারিয়ে যায়, যোগাযোগের সকল মাধ্যম বিচ্ছন্ন। ওদিকে দ্বীপে একা নিম আ্যলেক্ষ রোভারকে আমন্ত্রণ জানায় দ্বীপে আসার জন্য, সে সম্পূর্ণ একা এবং তার বাবাকে খোজার জন্য। ওদিকে একদল লোক ক্রুজশীপ নিয়ে আসে। নিম প্রচন্ড ভয়ে থাকে, কেননা তারা চায়না কেউ এ দ্বীপ সম্পর্কে জানুক!
বিশাল এক পাজলের মাঝে দাড়িয়ে থাকে মুভিটা।
জ্যাক কি পারবে সমুদ্র থেকে ফিরতে?? নিম কি পারবে ক্রুজের লোকদের হাত থেকে তার দ্বীপকে রক্ষা করতে?? ঘরের দরজা পর্যন্ত খুলে না যে আ্যলেক্সান্দ্রা রোভার সে কি করে আসবে সুদূর সান ফ্রান্সিসকো থেকে সাউথ আইল্যান্ডে নিমকে রক্ষা করতে, যে দ্বীপের কথা কেউ জানেনা?? পরিশেষে, নিম যখন জানতে পারবে তার গল্পের হিরো আ্যলেক্স রোভার আসলে গল্পের হিরো, তার লেখক আলেক্সান্দ্রা রোভারই হলো আ্যলেক্স রোভার, একজন মেয়ে যে কিনা কখনোই ঘরের বাইরে পা রাখেনি কেমন রিআ্যাকশন হবে নিমের? জানতে হলে মুভিটা দেখেন!!

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন