Life Itself: রজার ইবার্ট, জীবন, মৃত্যু এবং সিঃনেমা
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

ডকুর শুরুতেই দেখাগেল একজন মোটাসোটা গোলগাল ভদ্রলোক মাইকের সামনে দাড়িয়ে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন তার সাথে সিনেমা দেখার জন্য। পশ্চাৎপটে এক মার্কিন থিয়েটার যার উপর লেখা Roger Ebert: Celebration of his life and work। ইনিই ইবার্ট সাহেব। রজার ইবার্টকে একজন চলচ্চিত্র সমালোচক বললে ভুল হবে। উনি হচ্ছেন যাকে বলে দি ফিল্ম ক্রিটিক। একমাত্র সমালোচক যিনি পুলিতজার পুরষ্কার পেয়েছেন, তার আর জিন সিস্কেলের টিভি শো কয়েকটা জেনারেশনের মধ্যে সিনেমার প্রতি ভালবাসা জাগিয়ে তুলেছিল, মার্টিন স্করসিজি যখন কোকেন আর ডিপ্রেশনে ডুবে ছিলেন তখন ইবার্ট তাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন আবার ক্যামেরার পেছনে যাওয়ার জন্য, ওয়ার্নার হারজগ যাকে বলেন তার আহত কমরেড।
একটি হাসপাতালের বেডে শায়িত এক ভিন্ন ইবার্ট এখন পর্দায় । শরীরের মেদ কমেছে বহু আগেই। মুখের নিচের চোয়ালটা পুরোই হারিয়েছেন ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে। তারপরও প্রাণ প্রাচুর্যে তার কমতি নেই। ল্যাপটপের ভয়েস সিন্থেসাইজারের মাধ্যমে কথা বলেন। সাথে সর্বক্ষনের সঙ্গী তার কৃষ্ণাঙ্গ স্ত্রী চ্যাজ। পরিচালকের জবানীতে আমরা প্রত্যক্ষ করি বেঁচে থাকার জন্য ইবার্টের সংগ্রাম।
রজার ইবার্ট, তার বন্ধুরা, প্রতিদ্বন্দ্বীরা, শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার জীবনের বিভিন্ন মুহুর্তের স্মৃতিচারণ করেন। পুরনো সাদাকালো ছবি, ১৬ মিলিমিটারের ফিল্ম রিলে বা পুরনো টিভি শোর রেকর্ডিংয়ে তার ক্যারিয়ার এবং জীবনের গুরুত্যপুর্ন মুহুর্তগুলো আবার জীবন্ত হয়ে উঠে। আমরা দেখি এক এলকহলিক উঠতি সাংবাদিককে। শিকাগো সান টাইমসের জনপ্রিয় সমালোচককে। আমরা শুনি এক দাম্ভিক, স্বার্থপর ব্যাক্তির গল্প। শুনি কিভাবে পুলিতজার পাওয়ার পর নিজের ধুঁকতে থাকা সংবাদপত্র আর সহকর্মীদের ছাড়তে না চাওয়ায় ফিরিয়ে দিয়েছেন লোভনীয় সব প্রস্তাব।
হাসপাতালের বেডে বসে ইবার্ট জানান ডাক্তাররা তাকে আর মাত্র ১৬ মাস সময় দিয়েছেন। তার স্ত্রী আশাবাদী। কিছু সময় পর বাসায় ফিরে আসেন প্রায় ২ মাস পর। নতুন ওয়েবসাইটে শুরু করেন প্রথম বারের মত ব্লগ লেখা। কিন্তু ২ দিনের মাথায় আবারো তাকে ফিরে যেতে হয়।জিন সিস্কেল এবং রজার ইবার্ট
ইবার্ট যখন সাংবাদিকতা শুরু করেন তখন চলচ্চিত্র সমালোচনা কোন ভাবেই একটি সম্মানজনক কিছু ছিল না। যেসব ব্যাক্তিরা একে একটি গুরুত্যপুর্ন একটি সংস্কৃতি করে তুলতে সাহায্য করেছেন তাদের মধ্যে ইবার্ট আর সিস্কেল অন্যতম। তারা একে অন্যের থেকে একদম ভিন্ন দুই ব্যক্তিত্ব কিন্তু দুজনের উপস্থাপনায় টিভি শো At The Movies ব্যপক জনপ্রিয়তা পায়।দুজনের রেশারেশির বহু গল্প থাকলেও ব্রেন ক্যন্সারে সিস্কেলের মৃত্যুর পর ইবার্ট স্বীকার করেন তারা দুজন দুজনকে সবচেয়ে ভাল বুঝতেন। সিস্কেলের স্ত্রী বলেন একবার সিস্কেল বলেছিলেন, “ He is an asshole but he is my asshole.”
শেষদিকে ইবার্ট হাল ছেড়ে দেন। পরিচালক তার শেষ ই-মেইলে জানতে চেয়েছিলেন কেন ইবার্ট তার আত্মজীবনীর নাম Life Itself দিয়েছেন। উত্তরে ইবার্ট লেখেন “ I cant.” এর কিছু সময় পরেই তিনি মারা যান।
অনেক কিছু লিখে ফেললাম আবার অনেক কিছুই বাদ পড়ে গেল। Life Itself ডকুমেন্টারিটা যতটা না ইবার্টের জীবন সম্পর্কে তার থেকে বেশি বেঁচে থাকার সংগ্রাম আর মৃত্যু সম্পর্কে। আশা করি ভাল্লাগবে।
Life Itself

Error:

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন