“Dances with Wolves” (আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব আ ট্রাইব)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

 

Dances with Wolves _ Movie fanart _ fanart_tv

 

“ড্যান্সেস উইথ দ্য উলভস্‌”

পরিচালকঃ কেভিন কোষ্টনার

IMDB: 8.0

 

I had never really known who John Dunbar was. Perhaps because the name itself had no meaning. But as I heard my Sioux name being called over and over, I knew for the first time who I really was.

 

১৯৯০ সালে “ড্যান্সেস উইথ দ্য উলভস্‌” মুভিটি যখন মুক্তি পায়, কেভিন কোষ্টনার খ্যাতির শীর্ষেই অবস্থান করছিলেন সে সময়। অভিনেতা হিসেবে কেভিন ততদিনে রূপালী জগতে রাজত্ব তৈরী করে ফেলেছেন তার “সিলভার্দো”, “দ্য আনটাচেবালস্‌”, “বুল ডারহ্যাম” এবং “ফিল্ড অব ড্রিমস” দিয়ে। “ওয়াটার ওয়ার্ল্ড” বা “দ্য পোষ্টম্যান” আরো বেশ কিছু বছর পরের কথা। কিন্তু “ড্যান্সেস উইথ দ্য উলভস্‌” তার ক্যারিয়ারে ট্রিপল হ্যাট এনে দেয় কারন এই মুভিতে তিনি শুধু প্রোটাগনিষ্ট’ই না; একই সাথে মুভিটি পরিচালনা এবং পরিবেশনাও করেন তিনি। শিক্ষানবিস হিসেবে এমন একটি মুভি পরিচালনা করা যেকোনো পরিচালকের জন্য স্বপ্ন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

একটা সময় ছিলো যখন ওয়েষ্টার্ন মুভিকে হলিউডের সবচাইতে জনপ্রিয় ধারা বলা হত। যেমন গ্যারি কুপারের “হাই নুন”, “রিও গ্রেনেডে” জন ওয়েনের এ্যাপাচিদের সাথে তুমুল যুদ্ধ অথবা দ্য ওয়ান এ্যান্ড ওনলি ক্লিন্ট ইষ্টউড কতটা ভালো, মন্দ অথবা কুৎসিত হতে পারে সার্জিও লিওনের ডলার ট্রিলজিতে। কিন্তু সেটা ছিলো পঞ্চাশ বা ষাটের দশক। এরপর আস্তে আস্তে ভাটা পড়ে এ ধারায় এবং মিউজিক্যাল মুভির মত এই জনরাটাও কেমন নিস্তেজ হয়ে যায়। কেভিন কোষ্টনারকে আমরা ধন্যবাদ দিতে পারি কারন তিনি একা এগিয়ে আসেন ওল্ড ওয়েষ্টকে আবার চাঙ্গা করে তুলতে। অবাক হবার মত বিষয় পরবর্তি তিন বছরের মধ্যে দুটো ওয়েষ্টার্ন মুভি এ্যাকাডেমি এওয়ার্ডে বেষ্ট পিকচার পায় (“ড্যান্সেস উইথ দ্য উলভস্‌”, “আনফরগিভেন” )। শুরু হয় নতুন করে ওয়েষ্টের কর্কশ যাত্রা।

“ড্যান্সেস উইথ দ্য উলভস্‌”কে বরাবরই ভিন্নমাত্রার ওয়েষ্টার্ন মুভি বলা হয়ে থাকে – কাউবয় আর ইন্ডিয়ানদের বুনিয়াদি প্রথার এক অসাধারন সন্নিবেশন। ন্যাটিভ আমেরিকান উপজাতি “সিউক্স” এবং তাদের চিরশত্রু “পনি” কে আর কোনো মুভিতে এতটা ভারসম্যের সহিত তুলে ধরা হয়েছে বলে আমার জানা নাই। আর একটা কথা, নব্বই দশকের মুভি, অথচ আমেরিকান সোলজারদের এই মুভিতে যথেষ্ট বর্বর জাতী হিসেবেই দেখানো হয়েছে। “ড্যান্সেস উইথ দ্য উলভস্‌” যদিও চেষ্টা করেছে ইতিহাসকে সঠিকভাবে তুলে ধরার, কিন্তু তবুও কিছু বিপরিত্তার্থক বিষয় রয়েই গেছে। আমরা লেফঃ এলজিনের মৃত্যুতে যতটা কষ্ট পাই, ঠিক ততটা আঘাত পাই স্টোন কালফ্‌ এর মৃত্যুতে। মুভিটি দেখার সময় মাথায় রাখতে হবে এটা সম্পূর্ণ ওয়েষ্টার্ন ধারার মুভি নয়; বরঞ্চ এপিক বললেই বোধহয় বেশী পার্ফেক্ট হবে।

কিছুটা কাহিনীতে আসি; “ড্যান্সেস উইথ দ্য উলভস্‌” মুভির শুরুতে আমরা দেখি আমেরিকান সিভিল ওয়্যার। জন ডানবার (কেভিন কোষ্টনার) যুদ্ধের ময়দানে সাফল্য নিয়ে আসেন যার ফলে তাকে তার ইচ্ছেমত জায়গাতে পোষ্টিং নেবার সুবিধা দেয়া হয়। অবাক হবার মত বিষয় যে তিনি ইন্ডিয়ান টেরিটোরিতে পোষ্টিং নেন কারন তিনি চাইছিলেন ওই ফ্রন্টিয়ার ধ্বংসের পূর্বেই দেখে আসতে। একসময় তিনি পৌছান ইন্ডিয়ান ফ্রন্টিয়ার ফোর্ট সেডউইক এ। একটা ওয়েষ্ট ল্যান্ড, অথচ দায়িত্বে তিনি অটুট। প্রায় মাস কেটে যায়, তার সঙ্গি বলতে তার ঘোড়া সিসকো আর একটা উলভ যার নাম রাখেন তিনি টু সক্স। একসময় মানিয়েও নেন তিনি পরিবেশের সাথে। প্রায় চারঘন্টা ব্যাপ্তি এই মুভির প্রথম ঘন্টা শুধু সেট আপ। তবে মন্ত্রমুগ্ধের মত আপনাকে আটকে রাখবে এর অসাধারন প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। সিউক্স জাতির আগমনের সাথে সাথেই মুভির টোন পালটে যায়। আস্তে আস্তে আসে কিকিং বার্ড, উইন্ড ইন হিজ এয়ার এবং আরো অনেকে। ডানবার একসময় মিশে যায় এই কমিউনিটির সাথে। যত দিন যায় সে নিজেকে খুজে পায় গভিরভাবে। স্ট্যান্ডস উইথ আ ফিষ্ট, তার মতই একজন সাদা মেয়ের প্রেমেও পড়ে সে। এবং একসময় এই সিউক্স জাতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে সে। কাহিনী সম্পূর্ণ বলা সম্ভব না বা বলা ঠিকও না; ন্যাটিভ ইন্ডিয়ান ট্রাইভ সমন্ধে যাদের নুন্যতম আগ্রহ আছে তাদের জন্য বাধত্যামূলক এই মুভি।

 

It was hard to know how to feel. I had never been in a battle like this one. This had not been a fight for territory or riches or to make men free. This battle had no ego. It had been fought to preserve the food stores that would see us through winter, to protect the lives of women and children and loved ones only a few feet away. I felt a pride I had never felt before.

 

পরিপূর্ণ মুভি বলতে যা বোঝায় তা “ড্যান্সেস উইথ দ্য উলভস্‌”। পদে পদে এ্যাডভেঞ্চার, রোমান্স্‌, ড্রামা আর ফিকশনের মাঝে ব্যাকগ্রাউন্ডে ফুটে উঠেছে ইতিহাস। কোষ্টনার চেয়েছিলেন যতটা সম্ভব বাস্তবধর্মি ভাবে মুভিটাকে ফুটিয়ে তোলার, তাই বহু ন্যাটিভ আমেরিকান ট্র্যাডিশান তিনি তুলে ধরেছেন এই মুভিতে। যেমন ভাষা; লাকোটা ভাষার এমন ব্যাবহার আর কোথাও হয়নি বলে আমি জানি যতটা এই মুভিতে হয়েছে।  তিনি ইন্ডিয়ানদের “দেয়া এবং নেয়া’ প্রথাটার ও বহুল ব্যাবহার করেছেন। এমনকি টু সক্স নামের উলভস্‌টাও হাফ ব্রিড না। ইন্ডিয়ান হিসেবে যাদের দেখানো হয়েছে তারা কোনো মেক-আপ নিয়ে ইন্ডিয়ান সাজেনি, সবাই ন্যাটিভ আমেরিকান। বাফেলো হান্ট সিকোয়েন্সটাও অরিজিনাল এবং ওই অংশটুকু দেখার পরে অনেক্ষন চিন্তা করেছি… এটা কিভাবে সম্ভব!! তবে অভিনেতা হিসেবে নিজেকে যতটা ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি ডানবারের ভুমিকাতে, ততটা হয়তবা পারেননি মুভির ন্যারেশানে। আরো ভারিক্কী কোনো গলার প্রয়োজন ছিলো, এটা বারবার মনে হয়েছে মুভি দেখার সময়।

“ড্যান্সেস উইথ দ্য উলভস্‌” মাইকেল ব্লেকের লেখা এবং মুভির চিত্রনাট্যও তিনিই লিখেছেন। মাইকেল ব্লেক একজন ইউনিয়ন আর্মি লেফঃ ছিলেন এবং তার ক্যারিয়ারের বেশ কিছুটা সময় তিনি কাটিয়েছেন লাকোটা ইন্ডিয়ানদের সাথে। যার ফল আমরা পাই এই মুভির চিত্রনাট্যে। তৎকালিন পনেরো মিলিয়ন মার্কিন ডলারে নির্মিত মুভির শুটিং চলে প্রায় পাঁচ বছর ধরে। কোষ্টনারকে হতাশ হতে হয় নি; সাত সাতটা পুরষ্কার জিতে নেন তিনি এ্যাকাডেমি এওয়ার্ডে সাথে বেষ্ট পিকচার + বেষ্ট ডিরেক্টর। লাইব্রেরি অব কংগ্রেস এর প্রিজার্ভড মুভি “ড্যান্সেস উইথ দ্য উলভস্‌”।

এই পোস্টটিতে ১৩ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. ডার্টি হ্যারি ডার্টি হ্যারি says:

    আমার কাছে ৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিটের টা আছে। ধৈর্য নিয়ে দেখার সময় ও পাচ্ছি নাহ। 

  2. মাইকেল ফ্রান্সিস করলিয়নে says:

    এভাবে মুভি দেখবার লোভ লাগিয়ে দেবার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি… 

     

    কবে যে দেখবো… ব্যস্ততাই কাটছে না… অসাধারন লিখেছেন তাইন… 

  3. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    রিভিউ পড়ে মুভি দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে। কেভিন কোস্টনারের মত একজন অভিনেতা আছেন যখন বোঝাই যাচ্ছে মুভিটি দারুন হবে। 

  4. James Bond says:

    অসাধারণ হয়েছে রিভিউ। দেখার অপেক্ষায় আছি 

  5. প্রলয় হাসান says:

    দারুন লিখেছেন। কিন্তু একটা হেল্প লাগবে। আমি পোষ্টে আপনার মতো বড়ো করে ছবি দিতে পারছি না। অনেক চেস্টা করলাম। হাই রেজ ছবিগুলো এইখানে ইনসার্ট করার পর ছোট হয়ে যায়। কি করি বলুন তো? 🙁

  6. শাতিল আফিন্দি says:

    ভালো একটা মুভির ভালো রিভিউ, লিখতে থাকুন!

  7. এই ছবি নিয়ে রিভিউ লেখা সহজসাধ্য কোন কাজ নয়। যেমন তথ্যসমৃদ্ধ তেমনি ভাল বর্ণনা। খুব ভাল লাগল 🙂

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন