“Munich” [2005]

munich পরিচালকঃ স্টিভেন স্পিলবার্গ
IMDB: 7.6
অভিনয়েঃ এরিখ বানা, ড্যানিয়েল ক্রেইগ, জিওফ্রে রাশ

“The world was watching in 1972 as 11 Israeli athletes were murdered at the Munich Olympics. This is the story of what happened next”.

BSO বা Black September Organization; ১৯৭২ সালের এই প্যালেস্টেনিয়ান অর্গানাইজেশান পুরো পৃথিবীর নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছিলো তাদের নাশকতার দ্বারা। সে বছর সামার অলিম্পিক হয়েছিলো জার্মানির মিউনিখে। কিন্তু অলিম্পিক শুরুর আগেই এই সন্ত্রাসী গ্রুপ হত্যা করে ১১ জন ইজরায়েলি এ্যাথলেট ও একজন জার্মান পুলিশ অফিসারকে। ১৯৪৮ সালে ইজরাইল মিলিটারি গ্রুপ ‘হাগানাহ্‌” এর আগ্রাসনে চুর্ন হয়ে যাওয়া প্যালেস্টাইন এর দুইটি গ্রামের নামানুসারে এই অপারেশানের নাম দেয়া হয় “ইক্রিট & বিরাম”। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জিউ পরিচালক হিসেবে পরিচিত  স্টিভেন স্পিলবার্গ এর “মিউনিখ”  মুভির কাহিনী গড়ে উঠেছে এই মিউনিখ ম্যাসাকার নিয়েই, তবে একটু ভিন্নভাবে। Vengeance বা প্রতিশোধ এই মুভির মূল থিম। “Vengeance: The True Story of an Israeli Counter-Terrorist Team” নামের মূল বই এর লেখক George Jones, একজন হাঙ্গেরিয়ান ফ্রিডম ফাইটার।  স্ক্রিন-প্লে লিখেছেন “ফরেষ্ট গাম্প” খ্যাত Eric Roth ও Tony Kushner।

স্পিলবার্গ এর “মিউনিখ” সাহসিকতার প্রশ্নে অপ্রতিদ্বন্দ্বী কিন্তু বিবেকের দংশনে জর্জরিত। বিশ্বসিনেমাতে স্পিলবার্গকে বর্তমানে একমাত্র প্রত্যক্ষ জিউ হিসেবে ধরা হয়। তার জিউদের প্রতি মমতা দেখেছি আমরা আগেও “শিন্ডলার্স লিষ্ট” এ। মিউনিখ মুভির কারনে নিন্দিত হয়েছেন তিনি ইজরাইল ও প্যালেস্টাইন এর মধ্যে থেকে, সন্ত্রাস ও প্রতিশোধ দেখার চেষ্টা করেছেন বিগত দশকের দিনগুলোর দিকে তাকিয়ে। তার মুভির চরিত্রকে দিয়েই বলিয়েছেন, “There is no peace at the end of this.” বলা হয় স্পিলবার্গ এর এই মুভি ফিলিস্তিনিদের উপর আঘাত করেছে ভয়াবহভাবে; আবার তাকেই “no friend of Israel” বলে হীন করা হয়েছে। জার্মান ম্যাগাজিন ‘Zeroland’ এর ভাষায় By not taking sides, he has taken both sides”.

“The only blood that matters to me is Jewish blood”.

“মিউনিখ” মুভিকে আপনি ড্রামা বলতে পারেন, থ্রিলার বলতে পারেন আবার হিস্ট্রি মুভিও বলতে পারেন। আপনি যেভাবে গ্রহন করবেন এই মুভি আপনার কাছে সেভাবেই ধরা দিবে। হিস্ট্রি ঘাটতে গেলে বিপদে পরবেন কারন এটা হলিউড। দেখা আর দেখানোর মধ্য সেখানে বরাবর’ই ব্যাপক পার্থক্য প্রত্যক্ষভাবে দেখা যায়। মিউনিখ ম্যাসাকারের পর এ্যাভনার (এরিখ বানা) নামের এক মোসাড (ইজরাইল কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স) এজেন্ট এর উপরে দায়িত্ব পরে প্রতিশোধ নেবার। সত্যি কথা বলতে আনেক বাঙালি ছেলের মত আমার ছোটবেলার হিরো মাসুদ রানা আমাকে শিখিয়েছে মোসাডকে ঘৃনা করতে। তাই বেশ ভালো সমস্যা হয়েছে মুভি দেখার সময়। যাই হোক, সেটা ব্যাক্তিগত। এ্যাভনারের সাথে আরো চারজন থাকে সহায়তা করার যাদের মধ্যে আছে স্টিভ চরিত্রে রূপদানকারী জেমস বন্ড খ্যাত ড্যানিয়েল ক্রেইগ। মুভির শুরুতেই ম্যাসাকারের পর আমরা শুনি প্রধানমন্ত্রী গোল্ড মেয়ারের মুখে সেই বিখ্যাত উক্তিঃ “Forget peace for now. We have to show them we’re strong. ” স্পিলবার্গকে কেন দোষারোপ করা হয়েছে তা বুঝলাম না কারন আমার কাছে মনে হয়েছে এ্যাভনার চরিত্রের মাধ্যমে নিজেকেই যেন প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন তিনি। নিজেকেই যেন মনে করিয়ে দিচ্ছেন প্রতিটি উক্তির মাধ্যমেঃ “We had to take it because no one would ever give it to us. Whatever it took, whatever it takes, we have a place on earth at last.”

এরিখ বানা ও জিওফ্রে রাশ এর অভিনয় ছিলো দেখার মত। প্রতিটি আঘাতের পূর্বে যে স্টাইল, যে ফ্যাশান বা যে টেকনিক দেখানো হয়েছে তা রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে দেবার জন্য যথেষ্ট। পাচটি শাখায় অস্কারে নমিনেশান পায় মুভিটি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় একটিও জিততে পারে নি। কেন? আমেরিকার তো উচিত ছিলো দেবার… তাই না?

(Visited 136 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৫ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. অনিক চৌধুরী says:

    দারুণ লিখনি। মুভি দেখতে হবে মনে হচ্ছে।

  2. মেগামাইন্ড says:

    লেখা ভাল হয়েছে।একদিন সময় করে দেখে ফেলব

  3. ফরেস্ট গাম্প says:

    এইটার অনেক নামডাক শুনেছি আগেই। শীঘ্রই দেখে নিতে হবে। তারপর মন্তব্য। রিভিউ ভালো লেগেছে।

  4. রিফাত আহমেদ রিফাত আহমেদ says:

    লেখাটা জোশ হইছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন