Black Book (Zwartboek) (2006)

Zwartboek

পরিচালকঃ পল ভ্যারহোভেন

অভিনয়ঃ ক্যারি ভ্যান হথেন, সেবাস্তিয়ান কোচ, থম হফম্যান।
IMDB: 7.8

 

“In this movie, everything has a shade of grey. There are no people who are completely good and no people who are completely bad. It’s like life. It’s not very Hollywoodian”

“সোলজার অফ অরেঞ্জ” খ্যাত ডাচ পরিচালক পল ভ্যারহোভেনের “ব্লাক বুক” (ডাচ নাম Zwartboek) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উপরে নির্মিত ডাচ মুভি। মুভিটি রাচেল স্টেইন/ এলিস দে ভ্রাইস (ক্যারি ভ্যান হথেন) নামক এক জ্যুইস মেয়েকে ঘিরে তৈরী হলেও আমার কাছে মুল আকর্ষন ছিলো এই মুভিতে সেবাস্তিয়ান কোচের উপস্থিতি। কোচের অভিনিত “দ্যা লাইভস অফ আদারস” অতি প্রিয় মুভিগুলোর মধ্য একটি। মুভিটি সত্য কাহিনী অবলম্বনে তৈরী বলে দাবী করলেও এখানে আসলে অনেকগুলো সত্য ঘটনা একত্র করা হয়েছে। মুভিটি যখন মুক্তি দেওয়া হয়, তখন এটি নেদারল্যন্ডের ইতিহাসের সবচাইতে বেশী বাজেটের ছবি ছিলো। উপরে যে কোটেশান দেওয়া তা পরিচালকের নিজের এবং এইটা যে কতটা সত্য তা শুধু মুভিটা দেখলেই বোঝা সম্ভব। ট্র্যাজেডির বাস্তব সংজ্ঞা পাওয়া যাবে মুভিটি দেখলে। সাথে মাঝে মাঝে কপালে ভাজ পড়বে ষড়যন্ত্র এবং অবিশ্বাসে।

মুভির পুরোটাই ফ্লাসব্যাক। শুরুতেই আমরা দেখতে পাই ১৯৫৬ সালের ইজরাইল। রুনি নামের এক ডাচ মহিলা তার স্বামীর সাথে ইজরাইলে আসলে হঠাৎ দেখা হয়ে যায় যুদ্ধের সময়ে তার পরিচিত রাচেলের সাথে। রুনির প্রস্থানের পরে রাচেল কাছেই নদীর তীরে বসে অতীতের কথা চিন্তা করতে থাকে, ১৯৪৪ এর নেদারল্যান্ডের কথা। এইক্ষেত্রে মুভির শেষে রাচেল বেঁচে থাকবে নি মারা যাবে এই উত্তেজনা থেকে আমরা বঞ্চিত হই।

মুভিতে আমরা রাচেল কে একজন গায়ীকা হিসেবে পাই। নাজীদের কাছ থেকে লুকাতে সে যে ফার্ম হাউজে আশ্রয় নেয় তা ভূলক্রমে আমেরিকান শেল দ্বারা ধুল্যিস্যাৎ হয়ে যায়। রাচেল রব নামের স্থানীয় এক ছেলের সাহায্যে পালাতে সক্ষম হয়, দেখা করে স্মাল নামের এক উকিলের সাথে এবং বাবার গচ্ছিত কিছু টাকা নিয়ে ভ্যান গেইন নামক একজনের সাহায্যে দক্ষিনে পালাতে চেষ্টা করে। কিন্তু পথে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে সে তার মা, বাবা, ভাই এবং রব – সবাইকে হারায়। নিজে বেঁচে থাকলেও সেটা ছিলো নেদারল্যন্ডের নাজী অধ্যুষিত এলাকা।

এরপর থেকে নাটকীয়তা বাড়তে থাকে। রাচেল এরপর এলিস দে ভ্রাইস নাম নিয়ে স্থানীয় নাজী প্রতিরোধকারী সংগঠনে গার্বেন কুপার এর অধিনে যোগদান করে। সে কাজ শুরু করে ডাক্তার হ্যান্স এ্যকারমেন্স এর সাথে। ট্রেনে তার সাথে পরিচয় হয় নাজী এস. ডি. অফিসার লুড্যিক ম্যুন্তয্যের (সেবাস্তিয়ান কোচ) সাথে। শুরু হয় প্ররোচনা। রাচেল নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করে এস. ডি. হেডকোয়ার্টারে আসতে সক্ষম হয়। সৃষ্টি হয় অনেকের সাথে শত্রুতার, হ্যান্স এ্যকারমেন্স এর সাথে পরিকল্পনা করে এস. ডি. হেডকোয়ার্টারে প্রভাব সৃষ্টি আর লুড্যিক ম্যুন্তয্যের ও রাচেলের কারাগার বন্দি হওয়া – পরিচালক প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন। আসলে এরপর অনেক কাহিনী টানটান উত্তেজনার মধ্যে এগিয়ে চলে যা বলে দিলে মুভির মূল মজাটাই নষ্ট হবে।

কথাতে আছে ‘শেষ হইয়াও হইলনা শেষ’। এই মুভিতে যখনি মনে হয়েছে এবার শেষ হবে, তখনি আলাদা মোড় নিয়েছে। মুভি শেষ না হওয়া অবধি আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না যে মুল ষড়যন্ত্র আসলে কি ছিলো। মুভিতে এস. ডি. অফিসার লুড্যিক ম্যুন্তয্যে এর মধ্য ভালোবাসাটাই বেশি পাবেন ঘৃনার চাইতে যদিও সে নাজী অফিসার। ক্যারি ভ্যান হথেন ও সেবাস্তিয়ান কোচের অনবদ্য অভিনয় ভালো লাগবে সবার। কিছু ক্ষেত্রে সেক্সচ্যুয়ালিটি এবং ভায়োলেন্স ছিলো অতিরিক্ত। তবে ওয়ার্ল্ড ওয়ারের মুভি যদি পছন্দ করেন তাহলে এই মুভি দেখা বাধ্যতামূলক।

(Visited 75 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. অ্যান্থনি এডওয়ার্ড স্টার্ক says:

    আপনার লেখার ধাঁচ আমাকে নস্টালজিক করে দেয়। স্কুল কলেজে এইরকম ধাঁচে বাংলা ১ম পত্রের বড় প্রশ্নের উত্তর লিখতাম। ভাববেন না আবার যে দুর্নাম করছি। পোস্ট ফার্স্ট ক্লাস হয়েছে।

    ব্লগিং নাম বাংলা ফন্টে লেখবার অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রোফাইল পিকচার যোগ করে দিয়েন প্লিজ। আর লেখার সময় বাঁ পাশের কলামে featured image যোগ করতে ভুলবেন না। নাহলে হোমপেজে আপনার পোস্টের থাম্বনেইল ইমেজ দেখা যাবে না।

    • taieen taieen says:

      আসলে অভিজ্ঞতার অভাবেই হয়ত প্রশ্নের উত্তরের মত লাগে। আপনাদের সাথে থাকতে থাকতেই চেষ্টা করব শুধরে নেবার।
      ব্লগিং নাম বাংলাতে লেখার চেষ্টা করেছি, কিন্তু করতে পারিনি। প্রথমে ইংরেজীতে লেখাটাই ভূল হয়েছে।
      featured image যোগ করার কথা বলে অনেক উপকার করেছেন। আর প্রোফাইল পিকচার দেওয়া স্বত্তেও শো করছে না… কি যে করি…

    • অ্যান্থনি এডওয়ার্ড স্টার্ক says:

      ইংরেজি লেখাটা ঠিকই আছে। ওটা আপনার ইউজার নেম। প্রোফাইল এডিট করে ডাকনামের জায়গায় বাংলা নাম টাইপ করুন। তারপর যে নাম সবাই দেখবে থেকে বাংলা নামটি ওকে করে প্রোফাইল হালনাগাদ করে ফেলুন।

      মনে রাখবেন, ইউজার নেম ইংরেজিতে হবে এবং পরবর্তীতে এটা চেঞ্জ করা যাবে না। কিন্তু ডাকনাম, মানে নিক নেম বাংলায় লেখা যাবে এবং সেটা পরিবর্তনযোগ্য।

  2. তাইন... তাইন... says:

    অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে সাহায্যের জন্য। আমি চেষ্টা করা সত্ত্বেও পারিনি… 🙂

  3. মাইকেল ফ্রান্সিস করলিয়নে says:

    পোস্ট চমৎকার হয়েছে … চালিয়ে যান… মুভিটা দেখতে হবে… 😛 🙂

  4. নো এইমস says:

    শুভেচ্ছা। ভালো লিখছেন।
    সামনে আরো ভালো কর সেই আশাই করি।

  5. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    লেখা পড়েমনে হলো আপনি ঐ প্লটে বসেই লিখছেন। সুন্দর করে লিখেছেন। ওয়ার মুভি মাঝে মাঝে ভালোই লাগে দেখতে।

    • তাইন... তাইন... says:

      আসলে এটা ঠিক ওয়ার মুভি না। নুন্যতম যুদ্ধের কোনো দৃশ্য নাই এই মুভিতে। মেলোড্রামা বলা যেতে পারে। যুদ্ধ চলাকালিন সময়ে একজনের বেচে থাকার সংগ্রাম এবং পরবর্তিতে তার প্রতিশোধ… ভালো লাগার’ই কথা। 🙂

  6. Rouf says:

    এখনও মুভিটা দেখি নাই। তচে বেশ আগ্রহ পাচ্ছি। দেখে ফেলবো জলদি।

  7. ফরেস্ট গাম্প says:

    মুভিটা ব্যাপক ছিল। আপনার লিখা ভালো হয়েছে। চালিয়ে যান।

  8. সামিয়া রুপন্তি says:

    দেখতে হবে, লেখা ভাল হয়েছে। চালিয়ে যান, আরো ভাল হবে!

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন