লরেন্স অফ অ্যারাবিয়ার গল্প
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

যদি কেউ আপনাকে একগাদা টাকা দিয়ে বলে এমন একটা ৪ ঘন্টা দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র আপনাকে বানাতে হবে, যে চলচ্চিত্রে কোনো তারকা খচিত নায়ক থাকবে না, কোনো মেয়ে মানুষের ছায়া থাকবে না, কিংবা থাকবে না তেমন কোনো এ্যাকশন দৃশ্য ; আপনি কি সেই চলচ্চিত্রটি বানাবার সাহস করবেন? আমার ধারণা অধিকাংশ পরিচালক এই প্রস্তাবে রাজি হবেন না। কিন্তু ডেভিড লীন সেই চলচ্চিত্রটি বানিয়ে ছিলেন, শুধু তাই নয় চলচ্চিত্রটিকে একাধারে ব্যাবসা সফল ও কালজয়ী চলচ্চিত্রের কাতারে নিয়ে গিয়েছেন। আর কারও পক্ষে এই চলচ্চিত্রটি এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা আদৌ সম্ভব হতো কিনা সন্দেহ আছে। চলচ্চিত্রটির এক্সট্রিম ওয়াইড শটে মরুর দৃশ্যগুলো আপনার মাথা নষ্ট করার জন্যে যথেষ্ট, সেই সাথে অসাধারণ মরু এডভ্যেঞ্চার আপনাকে পুরো সাড়ে তিন ঘন্টা একটানা পিসির সামনে যে বসিয়ে রাখবে তার গ্যারান্টি দিতে পারি।

এই দীর্ঘ ভূমিকা পড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমী সকলেই হয়ত বুঝে গেছেন আমি ডেভিড লীনের “লরেন্স অফ অ্যারাবিয়া”র কথা বলছি। কাহিনী সংক্ষেপে বলতে গেলে বলতে হবে, ব্রিটিশ সৈনিক টি.ই. লরেন্সের জীবনী নিয়ে বানানো বায়োড্রামা এটি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সময়কালে অটোমান এম্পায়ারের পতন, সৌদ পরিবারের ক্ষমতায় আহরণ, আরব লীগ গঠন, জেরুজালেমে ব্রিটিশদের আধিপত্য বিস্তারের কাহিনী, আর এসবের পেছনে টি.ই. লরেন্স ও ব্রিটিশদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে। আর চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য হচ্ছে টি.ই. লরেন্সের ব্যাক্তিগত ডায়েরি থেকে নেওয়া ঘটনাক্রম।

এত গেল কাহিনী সংক্ষেপের কথা, এবার আসি এর কলাকুশলীদের গল্পে। ডেভিড লীন চলচ্চিত্রটির টি.ই. লরেন্সের চরিত্রে রূপদানের জন্য বেঁছে নিয়েছেন অপরিচিত মুখ পিটার ও’টুলকে। এই চলচ্চিত্রটির আগে ও’টুল মাত্র দু’টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। বিশাল বাজেটের চলচ্চিত্রে এই বাছাইকে যে কেউ জুয়া হিসেবে মেনে নেবেন। লীন তাঁর চলচ্চিত্রটির ক্রেডিট অংশে ও’টুলকে ডেব্যু হিসেবে (যদিও তাঁর তখন দু’টি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে) পরিচিত করিয়ে দিয়েছিলেন তা থেকে বিষয়টি আরো সহজে অনুধাবন করা যায়। আইএমডিবির ক্রেজি ক্রেডিট অংশে গেলে দেখতে পাবেন এই তথ্যটি। ও’টুল ডেভিড লীনকে যে হতাশ করেননি তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। যুদ্ধকালিন সময়ে তাঁর ব্রিটিশ সৈন্য ও আরব বেদুঈন এই দ্বৈত পরিচয়ের সংগ্রাম, প্রতিনিয়ত নিজের ভূমিকা নিয়ে নিজের সাথে যুদ্ধ, আরব বেদুঈনদের হিংস্রতার প্রতি তাঁর ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ, আবার সেই হিংস্রতাকে উপভোগ করার কথা অনায়াসে বলতে পারার দৃশ্যগুলোতে তাঁর অভিনয় ছিল অসাধারণ। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ন চরিত্রে অভিনয়কারী ব্যক্তিটি আমাদের অনেকেরই প্রিয়মুখ অ্যান্থনি কুইন। আউদা আবু তায়ী চরিত্রে রূপদান তাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়, যদিও এর আগেই তার ঝুলিতে ছিল দুইটি অস্কার। এরপর একে একে অভিনয় করেন মেসেজ, লায়ন অফ ডেজার্টের মত দর্শকপ্রিয় অসংখ্য চলচ্চিত্রে। লরেন্স অফ অ্যারাবিয়ার কথা বলতে গেলে মূলত এ দু’জনের কথাই সবার কাছ থেকে শুনবেন। তবে যে চরিত্রটি আপনার মন কেড়ে নেবে সেটি শেরিফ আলী। শেরিফ আলী চরিত্রে অভিনয়কারী ওমর শরিফ মূলত এই চলচ্চিত্রটির প্রাণ। বলতে গেলে শেরিফ আলীই এই চলচ্চিত্রটির প্রধান নায়ক। তাঁর সাহস, সেন্স অফ হিউমার, ডায়ালগ আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করবে। মুগ্ধ করবে তাঁর চরিত্রের প্রতিটি দৃশ্যের রূপায়ন।

আরবদের ইতিহাস নির্ভর এই চলচ্চিত্রটি যেমন নির্মানের সময় আরব দেশ জর্ডানের প্রত্যক্ষ সহায়তা পেয়েছে, তেমনি এর ইতিহাস রূপায়ন নিয়ে বিতর্ক উঠায় বহু আরব দেশে মুক্তির পর নিষিদ্ধের ঘটনাও ঘটেছে। যদি আপনি ইতিহাস প্রেমি হন তবে হয়ত এর বহু অংশ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন, তবে সে ইতিহাসের বর্ননা এই রিভিউতে উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক। তবে একজন প্রথিতযশা সাহিত্যিকের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। তাকে একবার তাঁর ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাসে ইতিহাস বিকৃতি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেছিলেন, তিনি ইতিহাসের বই লিখেননি, উপন্যাস লিখেছেন।

চলচ্চিত্রটির পুরষ্কার প্রাপ্তির তালিকাও কম দীর্ঘ নয়। এই দীর্ঘ তালিকায় আছে ৭টি একাডেমী এওয়ার্ড, ৬টি গোল্ডেন গ্লোব এওয়ার্ড, ৪টি ব্রিটিশ একাডেমী ফ্লিম এওয়ার্ড সহ অসংখ্য পুরষ্কার। তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে স্পিলবার্গ এই চলচ্চিত্রটি দেখেই চলচ্চিত্র নির্মানের জন্য অনুপ্রেরনা পান; ভাগ্যিস স্পিলবার্গ চলচ্চিত্রটি দেখেছিলেন, না হলে আমরা অনেক কিছুই মিস করতাম।

সবশেষ, এত বিখ্যাত চলচ্চিত্রের সমালোচনা করা আমার কাজ নয়। তবে, ডেভিড লীনের ব্রিজ অন দ্য রিভার কাওয়াই দেখা আছে দেখে বলতে পারি চলচ্চিত্রটির দৈর্ঘ্য আরেকটু বেশি হলে খুব ভালো হতো। বিশেষ করে আরব লীগ গঠন থেকে শুরু করে শেষ দশ মিনিট বড্ড তাড়াহুড়ো করে শেষ করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়। এত বিশাল কাহিনী চার-সাড়ে চার ঘন্টা হলেই বা কি, ঠিক দেখে ফেলতাম!

Lawrence of Arabia (1962)
Lawrence of Arabia poster Rating: 8.4/10 (174,023 votes)
Director: David Lean
Writer: T.E. Lawrence (writings), Robert Bolt (screenplay), Michael Wilson (screenplay)
Stars: Peter O'Toole, Alec Guinness, Anthony Quinn, Jack Hawkins
Runtime: 216 min
Rated: PG
Genre: Adventure, Biography, Drama
Released: 11 Dec 1962
Plot: Follows a brilliant, flamboyant and controversial British military figure and his conflicted loyalties during wartime service.

এই পোস্টটিতে ৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Apnader web blog theke mobile e movie kivab download kora jabe bollben pls….

  2. ছবিটা অনেক দিন থেকেই আমার wish list এ আছে কিন্তু এখনো দেখা হয়নাই।
    আজ আর মিস করবনা। ছবিটা দেখব ওমর শরীফের জন্যই।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন