মুগ্ধতার এক নাম ― দুলকার সালমান (পর্ব – ২)
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

ভারতের অনেক ছোট একটি রাজ্য কেরালা। ৩৮,৮৬৩ বর্গ কিলোমিটারের এই রাজ্যের রাজধানী কোচিতে গড়ে উঠেছে মালায়ালাম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। কোন জাঁককমক নেই এদের চলচ্চিত্রে। নেপোটিজম আর স্টারডমের কোন মূল্য নেই এই ইন্ডাস্ট্রি তে।  স্বল্প বাজেটের এই ফিল্ম গুলোর মূল আকর্ষণ এর বাস্তবধর্মী গল্প, নিখুঁত পরিচালনা আর অসাধারণ অভিনয়। তাই তো  Manichitrathazhu, Drishyam, Bodyguard ইত্যাদি মালায়ালাম চলচ্চিত্রগুলো ভারতের সবচেয়ে বেশি বার রিমেক হওয়া চলচ্চিত্রগুলোর ভিতর পড়ে। মালায়ালাম চলচ্চিত্র আমার কতটা প্রিয় সেটা আগের পর্বে বলেছি। এই ইন্ডাস্ট্রির একজন প্রতিভাবান অভিনেতা দুলকার সালমান। প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা মাম্মুতির পুত্র হলেও নিজ যোগ্যতায় মালায়ালাম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন দুলকার। বাবা মাম্মুতির থেকে দুলকারের অভিনয়ের ধরণও সম্পূর্ণ আলাদা। আগের পর্বে তার তিনটি চলচ্চিত্র নিয়ে লিখেছিলাম। এই পর্বে দিয়ে দিলাম আরও তিনটি।

 

 

৪) 100 Days of Love:

 

অনেকে হয়ত কপাল কুঁচকে বসতে পারেন। দুলকারের এর থেকে আরও ভালো মুভি আছে যেগুলো সমালোচকদের রিভিউ, আইএমডিবি রেটিং এবং বক্স অফিস কালেকশনের দিক থেকে আরও এগিয়ে। এটা আসলে আমার পার্সোনাল ফেভারিট।

 

বালান কে. নায়ারের বাবা, মা এবং বড় ভাই সফল চিকিৎসক। এখানে বলে রাখি বালান কে. নায়ার নামে হয়তো পুরো ভারতে একজন মানুষই পাওয়া যাবে। যিনি সত্তর-আশির দশকে মালায়ালাম ফিল্মের অতি জনপ্রিয় ভিলেন ছিলেন। ফিল্মে আসলে দুলকারের নানার নাম থাকে বালান। তিনি মারা যাওয়ার পর পরই এই বালান জন্মানোতে তার মা ছেলের নামও বালান রেখে দেন। আর বাবার লাস্ট নেম অ্যাড হওয়াতে সে হয়ে যায় বালান কে. নায়ার। এই নাম নিয়ে তার বিড়ম্বনার শেষ নেই। তার উপর আবার তার বেস্ট ফ্রেন্ডের ডাকনামও আর এক পুরানো মালায়ালাম ভিলেনের নামে। বালানের ভাই রকি কে. নায়ার দুবাইতে তাদের বাবা-মায়ের হাসপাতালের সি.ই.ও. এবং চীফ সার্জন। কিন্তু এই টিপিক্যাল ডক্টর পরিবারের সব সদস্যদের থেকে অন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখে বালান। তার আইডল এক সময়ের সফল কার্টুনিস্ট আর. কে. লক্ষ্মণ। বর্তমানে বালান দ্যা টাইমসে আছে ফিচার রাইটার পোস্টে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মুভিটা শুরু হয় তার চাকুরী হারানোর মধ্য দিয়ে। আর ঐ সন্ধ্যায় ঝুম বৃষ্টির ভিতর একটা ট্যাক্সি ডেকে তাতে উঠতে গিয়ে দেখে তার আগেই অন্য একটি মেয়ে উঠে পড়েছে। বালান ট্যাক্সি টি ছেড়ে দেয়, কিন্তু রাস্তায় পড়ে থাকে ঐ মেয়ের ভুলবশত ফেলে যাওয়া মান্ধাতা আমলের একটি ক্যামেরা। ভালবাসার একশ দিনের শুরু এখান থেকে।

 

এটাকে টিপিক্যাল লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট মুভি ভেবে ভুল করে বসবেন না। মুভিটি অর্ধেকটা দেখার পর বুঝতে পারবেন। মুভিটিতে প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে ছিলেন নিত্যা মেনেন। নিত্যা এর আগে দুলকারের সাথে উস্তাদ হোটেলেও ছিলেন। কিন্তু সেখানে নিত্যা অভিনীত চরিত্রটির গুরুত্ব কিছুটা কম ছিল অন্য চরিত্রগুলোর তুলনায়। রোমান্টিক ফিল্ম হিসেবে দুলকার আর নিত্যার এটাই প্রথম ফিল্ম ছিল। এই মুভিটির ঠিক এক মাস পর তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে এই জুটির আরও একটি রোমান্টিক মুভি (O Kadhal Kanmani) মুক্তি পায়। এটার পরিচালনায় ছিলেন মণি রত্নম। ও কাদাল কানমানি অনেকের খুব প্রিয় একটি ফিল্ম। আমার আবার ভালবাসার একশ দিন বেশি প্রিয়।

 

ফিল্মের কাহিনী এবং পরিচালনা ছিল জেনুস মোহাম্মদের। যারা রোমান্টিক ঘরানার ফিল্ম পছন্দ করেন তাদের জন্য এই মুভি সাজেস্ট করবো। এই মুভির কাহিনী অবলম্বনে বাংলাদেশে একটি টেলিফিল্ম নির্মিত হয়েছে। যারা টেলিফিল্মটি দেখেছেন কিন্তু এই মুভিটি দেখেন নি, তাদেরও এটা দেখার জন্য সাজেস্ট করবো। কেন সাজেস্ট করছি সেটা দেখার পর বুঝতে পারবেন।

 

মুক্তির তারিখ – ২০ মার্চ ২০১৫
আইএমডিবি রেটিং – ৬.৬/১০
ব্যক্তিগত রেটিং – ৯/১০

 

 

৫) Charlie:

 

“A film is never really good unless the camera is an eye in the head of a poet.”  –  Orson Welles

 

কিছু কিছু মুভি দেখে মনে হয় যেন অসম্ভব সুন্দর একটি কবিতা পড়া হল যার রেশ কোনদিন শেষ হবার নয়। নির্মাতার কাব্যিক চোখে মুভিটি যেন ফুটে উঠেছে এক অনন্য রূপকথার পৃথিবী হয়ে। হ্যাঁ, চার্লি দেখে আমার ঠিক এমনটাই মনে হয়েছিল যেটা আমার দেখা চতুর্থ মালায়ালাম ফিল্ম ছিল। কিন্তু ব্যাঙ্গালোর ডেইজ এর পর দেখা দুলকারের দ্বিতীয় মুভি। টেসা নামের একটি মেয়ে একটি বাসা ভাড়া নেওয়ার পর দেখে যে তার ঘরটিতে আগে যে যুবকটি থাকতো, তার সমস্ত জিনিসপত্র ফেলে গিয়েছে। এই জন্য শুরুতে টেসার তাকে চরম বিরক্তিকর মনে হয়। ঘরটি গোছানোর সময় টেসা তার বানানো একটি স্কেচবুক খুঁজে পায় যেখানে বিগত থার্টি ফার্স্ট নাইটের কাহিনী স্কেচ করা হয়েছে। স্কেচবুকে কাহিনীটি অর্ধ সমাপ্ত থেকে যায়। এরপরে কি ঘটে সেটা জানার কৌতূহল থেকে টেসা বেরিয়ে পড়ে সেই যুবকের খোঁজে।

 

“তোমার আঁখি ভাণ্ডারে লুকিয়ে ছিল পথিকের রত্নাকর,
আর তোমার হৃদয় ভাণ্ডারে ছিল সেই দরিয়ার লবণাক্ততা।”

 

মুভিটিতে যেটা খুব ভালো লেগেছে সেটা হল এর সিনেমাটোগ্রাফি। লোকেশন গুলো সবুজে ভরপুর। মালায়ালাম ফিল্মগুলোতে এটা অবশ্য কমন। স্কেচ আর পেইন্টিং দেখেও মুগ্ধ হয়েছি। আর হ্যাঁ, দুলকারের গাওয়া একটি গানও (Chundari Penne) আছে। অনেকে দুলকারের এই চরিত্রের সাথে হিমুর হালকা মিল খুঁজে পায়। কিন্তু আমি সেটা মানতে নারাজ। আমার কাছে কোন মিল লাগে নি। দুইজনের ভিতর কমন যেটা ছিল, সেটা হচ্ছে দুইজনই ভবঘুরে। এক অর্থে ব্যাঙ্গালোর ডেইজ এর আজুও কিছুটা ভ্যাগাবন্ড থাকে। কিন্তু এই তিনটি চরিত্র সম্পূর্ণ আলাদা।

 

ফিল্মটি দেখার সময় একটা জিনিস দেখে মজা পেয়েছিলাম। (স্পয়লার অ্যালার্ট) দুলকার আর পার্বতী দুইজনই ছিলেন ব্যাঙ্গালোর ডেইজ আর চার্লি তে। ব্যাঙ্গালোর ডেইজ এ পার্বতী যেখানে যেখানে যেত, দুলকারের কাজ ছিল সেখানে সেখানে তাকে ফলো করা। আর চার্লি তে ঠিক উল্টো। মানে যেখানে যেখানে পার্বতী জানতে পেরেছে দুলকার আছে, ঠিক সেখানে সেখানে গিয়ে তাকে খুঁজে বেড়িয়েছে।

 

জীবনকে যদি নতুন করে ভালবাসতে চান তাহলে চার্লি দেখুন। আমার মন মেজাজ যখন অনেক বেশি খারাপ থাকে, কোনভাবেই ঠিক হতে চায় না, তখন চার্লি দেখি। ম্যাজিকের মত সব ঠিক হয়ে যায়। এই ফিল্মের সবকিছু আমার এত বেশি প্রিয় যে যত কিছুই লিখি না কেন, লেখা শেষ হবেনা। শুধু একটা জিনিস নিয়ে সমস্যা আমার। প্রথমবার যখন দেখতে বসেছিলাম মনে হয়েছিল দেখা শুরু করার সাথে সাথেই শেষ হয়ে গেল। আমি চেয়েছিলাম ফিল্মটা আর একটু যদি বড় হত ! মি. ডিসুজা, পাথরোজে, কুইন মেরিদের মত এমন আরও দুই-তিনটা চরিত্র যদি বেশি থাকতো !

 

ব্যাঙ্গালোর ডেইজ দেখার পর সেটি অনেক প্রিয় ফিল্ম হয়ে গিয়েছিল আর সবাইকেই অনেক ভালো লেগেছিল। কিন্তু ওটা দেখার আগে আমি এই ইন্ডাস্ট্রির কাউকেই চিনতাম না, তাই ফিল্মটি দেখার পর সেভাবে কারো ডাই হার্ড ফ্যান হতে পারিনি। ব্যাঙ্গালোর ডেইজে সবার অভিনয় অনেক ভালো লাগলেও, তাদের অভিনয়ের বিশেষত্ব প্রথমবার দেখে ভালো মত বুঝতে পারিনি। যেহেতু ফিল্মটিতে অনেক প্রতিভাবান অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সমাহার ছিল, কাকে রেখে কার ফ্যান হব বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু চার্লি দেখার পর আমি সত্যিকার অর্থে দুলকার এবং পার্বতীর ভক্ত হয়ে যায়। পরিচালক মার্টিনের সাথে এটা দুলকারের দ্বিতীয় মুভি ছিল।

 

মালায়ালাম ফিল্মের ভিতর কোনটি আমার সব থেকে বেশি প্রিয় এটা বলা আসলেই মুশকিল। এই ইন্ডাস্ট্রিতে এত এত ভালো মুভি হয়। তবে ব্যাঙ্গালোর ডেইজ, চার্লি  আর উস্তাদ হোটেল আমার সব থেকে বেশি বার দেখা মালায়ালাম মুভি। এই তিনটির ভিতর একটা বেছে নিতে বলা হলে তখন মুশকিলে পড়ে যাবো। তিনটিই সবথেকে বেশি পছন্দের।

 

চার্লি সেই বারের কেরালা স্টেট অ্যাওয়ার্ডে আটটি ক্যাটেগরিতে পুরস্কার অর্জন করে। যার একটি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে দুলকার জিতে নেন।

 

মুক্তির তারিখ – ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫
আইএমডিবি রেটিং – ৭.৯/১০
ব্যক্তিগত রেটিং – ১০/১০

 

 

 

৬) 5 Sundarikal:

 

এটি একটি এন্থলজি ফিল্ম। মোট পাঁচটি শর্টফিল্ম রয়েছে এই মুভিতে পাঁচটি মেয়েকে ঘিরে। পাঁচটি গল্পের ভিতর কোন মিল নেই। আর পাঁচটি ফিল্মের অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং পরিচালকও আলাদা। শুধু দুলকার সালমান নয়, ব্যাঙ্গালোর ডেইজের মত দুলকারের সাথে এই ফিল্মেও দেখা যাবে জনপ্রিয় দুই মালায়ালাম অভিনেতা নিভিন পৌলি এবং ফাহাদ ফাসিলকে; তবে আলাদা আলাদা তিনটি শর্টফিল্মে। এটি মূলত ভারতীয় সিনেমার ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বানানো হয়েছিল। যেমন বলিউডে বানিয়েছিল বম্বে টকিজ। তবে বম্বে টকিজের থেকে এটা বেশি ভালো ছিল। বিশেষ করে প্রথম আর চতুর্থ গল্পটাই বেশি ভালো লাগার মত ছিল। পাঁচজন প্রতিভাবান পরিচালক – শেযু খালিদ, সামীর তাহির, আশিক আবু, অমল নীরাদ এবং আনোয়ার রশীদ ছিলেন শর্টফিল্ম গুলোর পরিচালনায়। ফিল্মগুলো হল – সেতুলক্ষ্মী, ইশা, গৌরি, কুলান্তে বারিয়া এবং আমি।

 

সেতুলক্ষ্মী – স্কুলপড়ুয়া ছোট একটি মেয়ে সেতুলক্ষ্মী। তার শখ হচ্ছে খবরের কাগজ থেকে বিভিন্ন মানুষের পাসপোর্ট সাইজের ছবি সংগ্রহ করে তা খাতায় লাগানো। স্কুলে তার এক বন্ধু অভি এটা দেখার পর বলে তারাও স্টুডিও তে গিয়ে এমন ছবি তুলতে পারে। একদিন তারা তাদের গ্রামের কাছের একটা স্টুডিওতে চলে যায় একসাথে একটি ছবি তোলার জন্য। প্রথমে স্টুডিওর সেই ফটোগ্রাফারকে তাদের কাছে অনেক ভালো মনে হয়। কিন্তু যখন তাদের জমানো টাকা দিয়েও ছবিটির পুরো মূল্য পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তখন তারা বিশেষ করে সেতুলক্ষ্মী সেই ফটোগ্রাফারের প্রকৃত রূপ দেখতে পায়। এই চিত্র আমাদের সমাজে নতুন নয়। ছোট বাচ্চারা প্রায় এমন হয়রানির স্বীকার হয় আর খুব অসহায় বোধ করতে থাকে। কিন্তু ভয়ে কিংবা লজ্জায় কারও কাছে প্রকাশ করতে পারে না। তাই মা-বাবার উচিত এই দেওয়ালটি সরিয়ে দেওয়া যাতে করে তাদের সন্তান যেকোন সমস্যায় পড়লে তাদের সাথে যেন নির্দ্বিধায় সবার প্রথমে শেয়ার করতে পারে।

ব্যক্তিগত রেটিং – ৮/১০

 

ইশা –  থেরেসা তার মায়ের উপর রাগ করে দরজা আটকিয়ে বসে আছে। থেরেসার মা-বাবা একটি নিউ ইয়ার পার্টিতে চলে গেছে। পুরো বাসায় থেরেসা একা। তারা চলে যাওয়ার পর মেয়েটি রুম থেকে বের হয়। ইচ্ছেমত স্বাধীনভাবে পুরো বাড়ি ঘুরে বেড়াতে থাকে। হঠাৎ এক চোর এসে ঢোকে বাড়িতে। মেয়েটিকে অজ্ঞান করে বেঁধে ফেলে। জ্ঞান ফিরে আসলে মেয়েটি চোরটিকে হাত-পা খুলে দিতে বলে। চোরটি রাজি না হলে মেয়েটি তাকে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সাহায্য করে। যেমনঃ মূল্যবান একটি হীরের আংটি কোথায় রাখা আছে। চোরটি তার চুরিকৃত জিনিসপত্র নিয়ে যখন চলে যেতে উদ্যত হয় তখন সে তাকে রিকোয়েস্ট করে তার হাত-পা খুলে দেওয়ার জন্য আর নতুন বছরটি তার সাথে উদযাপন করার জন্য। বিনিময়ে সে আরও অনেক মূল্যবান জিনিস চোরটিকে দেখিয়ে দিবে। প্রথমে একটু দ্বিধা থাকলেও পরে সে রাজি হয়ে যায়। শুরু হয়ে যায় তাদের নতুন বর্ষ উদযাপন। চোরটি ধীরে ধীরে মেয়েটির প্রতি সম্মোহিত হতে থাকে। রাত বারোটা বাজলে চোরটি মেয়েটিকে জানায় তার নাম জিনু। মেয়েটিও তাকে বলে তার নাম থেরেসা। এরপরই একটু চমক আছে। স্পয়লার দিতে চাই না।

ব্যক্তিগত রেটিং – ৭/১০

 

গৌরি – গল্পটি একটি ভূতুড়ে বাড়ির। সেখানে থাকে গৌরি আর জোনাথন নামের এক দম্পতি। তারা পরিবারের অসম্মতিতে বিয়ে করে পাহাড়ী এলাকায় এই বাড়িতে এসে আছে তিন বছর ধরে। গৌরি পেশায় একজন নৃত্য শিক্ষিকা। আর জোনাথন ট্রেকিং এবং শিকার করে বেড়ায়। তাদের তৃতীয় বিবাহ বার্ষিকীতে যে ঘটনা ঘটে তাই নিয়েই এই ফিল্ম।

ব্যক্তিগত রেটিং – ৬/১০

 

কুলান্তে বারিয়া – এই গল্পটি একজন কুলান্তে বারিয়া বা বামনের স্ত্রীকে ঘিরে। পুরো ফিল্মটি বর্ণিত হয়েছে দুলকার সালমানের জবানীতে। একটি অ্যাক্সিডেন্টের কারণে তাকে সবসময় হুইল চেয়ারে বসে থাকতে হয়। যার জন্য সে বাড়ির বাইরে খুব একটা যেতে পারে না। সারাদিন তার সময় কাটে জানালা দিয়ে তার এলাকার সব মানুষের কর্মকাণ্ড দেখে আর এটা সেটার ছবি তুলে। ঐ এলাকায় একটি বিল্ডিং এ একদিন নতুন ভাড়াটিয়া হয়ে আসে নব বিবাহিত এক দম্পতি। স্ত্রীটি তার স্বামীর থেকে বেশ লম্বা। তাদের মাঝে ভালবাসার কোন কমতি ছিল না। রোদ-বৃষ্টিতে স্বামিটি লম্বা করে ছাতা ধরে রাখে তার স্ত্রীর জন্য। কিন্তু স্বামিটি একটু খাটো হওয়াতে তাদেরকে নিয়ে এলাকার মানুষের গুঞ্জনের কোন সীমা নেই। তারা মনে করে এই দম্পতির বিয়ে একটি সমঝোতা ছাড়া আর কিছু নয়। তাদেরকে বিশেষ ভালো চোখে দেখে না কেউ। মূলত এই ফিল্মটিতে কিছু অনুভূতিহীন মানুষের কথা বলা হয়েছে যারা আশেপাশের সবকিছুতে কোন খুঁত না থাকলেও তা ধরে যাবে। আমাদের আশেপাশেও এমন মানুষের অভাব নেই। যাদের নিজেদের কাজকর্মের থেকে অন্যদের ব্যাপারে ইন্টারেস্ট অনেক বেশি। মূল গল্পটি একজন চাইনিজ লেখকের লেখা। পাঁচটি শর্টফিল্মের ভিতর এটি আমার সব থেকে বেশি ভাল লেগেছে।

ব্যক্তিগত রেটিং – ৯/১০

 

আমি – ফিল্মটি শুরু হয় আজমল নামের একজন ব্যবসায়ীকে কেন্দ্র করে। সে রাতের বেলা  একটি ডিল করার জন্য কোচি যাচ্ছে নিজে ড্রাইভ করে। তার মোবাইলে একটি ফোন আসে যা ‘ইন্তে কাল্ব’ (আমার হৃদয়) নামে সেভ করা। সে আর কেউ না, তার স্ত্রী আমি। আজমলের ভাষায় আমি ইন্তে কাল্ব নামে তার মোবাইলে নাম্বার সেভ করে দিয়েছে। আমি মনে করে আজমল রাতে ড্রাইভ করতে করতে হয়তো এক সময় ঘুমিয়ে যাবে আর কোন দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বসে থাকবে। তাই সে নিজেও না ঘুমিয়ে একটু পর পর আজমলকে ফোন করে বিভিন্ন ধাঁধা জিজ্ঞাসা করতে থাকে। একটি ধাঁধা জিজ্ঞাসা করার পর ভাবার জন্য তাকে কিছু সময় দেয়। তার প্রথম ধাঁধাটি থাকে –

 

“হাজার শস্য দানার জন্য অর্ধেকটি নারকেল, জিনিস দুটো কি?”

 

আজমল ধাঁধাটি শুনে ফোন রেখে দেয়। হঠাৎ পিছন থেকে খুব দ্রুত বেগে একটি গাড়ি ছুটে আসতে থাকে। গাড়িতে কিছু তরুণ মদ্যপ অবস্থায় থাকে। তারা আজমলের গাড়ির সাথে রেস শুরু করে। আজমল গাড়িটাকে সাইড দিলে গাড়িটি সামনে এগিয়ে যায়। কিছুদূর এগিয়ে সে দেখতে পায় গাড়িটি অ্যাক্সিডেন্ট করে পড়ে আছে। আজমল গাড়ি থামায়। ঠিক তখনই সে ধাঁধার উত্তর পেয়ে যায়। আমিকে ফোন করে উত্তর জানায়। সেই তরুণদের সে নিজের গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য। আমি আবার ফোন করে দ্বিতীয় ধাঁধার জন্য। এবারের ধাঁধাটি থাকে –

 

“জিনিসটি তোমার। এটি বড় হয়, আবার ছোটও হয়। কিন্তু এর কোন ওজন নেই। জিনিসটি কি?”

 

আবারও আজমল ফোন রেখে দেয়। ছেলে তিনটিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দেখা হয় তার এক্স গার্লফ্রেন্ড ন্যান্সীর সাথে। তার হাসবেন্ড এখন আমেরিকায় আছে। ন্যান্সীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সে যায় ডিলটি করার জন্য। তখনই সে দ্বিতীয় ধাঁধার উত্তরটি পেয়ে যায়। কিন্তু ডিলটি করতে যেয়ে গন্ডগোল বেঁধে যায়। সেখান থেকে সে চলে আসে ন্যান্সীর বাসায়। এক পর্যায়ে ন্যান্সী আর আজমল পুরানো দিনের মত ঘনিষ্ট হতে চেষ্টা করে। ঠিক তখনই আবার আমির ফোন আসে যা দেখে আজমলের অনুশোচনা হয়। এবারের ফোনটি থাকে তৃতীয় ধাঁধার জন্য –

 

“তাকে তুমি পছন্দ কর না। কিন্তু তোমার যদি কখনও খারাপ কিছু হয়, সে সবার প্রথমে দেখা দিবে। কে সে?”

 

আজমল চলে আসে ন্যান্সীর বাসা থেকে। যাত্রা শুরু করে নিজের বাসার উদ্দেশ্যে। ভোর হতে না হতেই বাসায় চলে আসে ধাঁধাটির উত্তর নিয়ে। তার এবারের উত্তরটি ঠিক থাকে নাকি ভুল হয় সেটা না হয় আপনারাই দেখে নিবেন।

 

ফিল্মটির পরিচালনায় ছিলেন আনোয়ার রশীদ। তাই এটা নিয়ে এক্সপেকটেশন ছিল সব থেকে বেশি। কিন্তু এটাই হতাশ করেছে। পরিচালনা নিঃসন্দেহে চমৎকার ছিল। গল্পটি একটু মডিফাই করলে আমার অনেক ভালো লাগতে পারতো। গল্পটির মূল সারমর্ম ছিল প্রতিটি স্ত্রী তার স্বামীর জন্য সর্বদা কেয়ার করে। প্রতিটি স্বামী দিন শেষে বাসায় ফিরে দেখে তার স্ত্রী কিভাবে সংসারটি আগলে রাখে। হয়ত অল্প কয়েকদিনের জন্য তাদের স্ত্রী বাসায় না থাকলে তারা তার অনুপস্থিতি টের পায়। কিন্তু সেটা কদিনের জন্য। সে কখনও বুঝতেও চেষ্টা করে না তার স্ত্রীর উপস্থিতি তার জীবনকে কত  বেশি সুন্দর করে তুলেছে। বেশিরভাগ মানুষই এটাকে টেকেন ফর গ্রানটেড মনে করে। আর না হয় অন্যের সাথে তুলনা করে তার স্ত্রীর হাজারটা খুঁত বের করতে থাকে। অনেক স্ত্রী হয়তো সেটাকে ইগনোর করে সুখে থাকার চেষ্টা করে। তাই এখানেই প্রশ্ন থেকে যায়। আসলেই কি এটা ইগনোর করার মত? আর আজমলের মত স্বামীরা কি আসলেই আমির মত স্ত্রী ডিজার্ভ করে?

ব্যক্তিগত রেটিং – ৫/১০

 

মুক্তির তারিখ – ২১ জুন ২০১৩

আইএমডিবি রেটিং – ৬.৮/১০

ব্যক্তিগত রেটিং – ৭/১০

 

 

 

পরের পর্বে দুলকারের আরও তিনটি ফিল্ম নিয়ে লেখার চেষ্টা করবো ।

 

“Sometimes music, movies and books are the only things that let us feel like someone else feels like we do.”   –   Marilyn Manson

 

 

 

 

 

Error:

এই পোস্টটিতে ৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Imran Mir says:

    আপনার লিস্ট এর প্রায় সব কয়টি মুভি দেখেছি
    মুভি গুলা অনেক ভালো
    কারো যদি দুলকার সালমানে মুভির লিংক লাগে আমাকে বলবেন
    মুভি গুলোর বাংলা সাবটাইটেল ও আছে।

  2. সবকটি মুভির লিংক চাই

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন