ঈদ নাটকের কথামালা – ২০১৭
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

এবারের ঈদ ছিলো নাটক অঙ্গনে ফিরে আসা ও হাইপ তৈরি করার এক মহামিলনের ঈদ। ছিলো হাজারেরও বেশী নাটক নির্মাণ। সবার জায়গা থেকেই সবাই খুব ভালোটা দেয়ার চেস্টা করেছেন যা ছিলো চোখে পড়ার মতন। আর তার থেকে বেশী যেটা ছিলো তা হচ্ছে বিভিন্ন জনরা বা ক্যাটাগরির নাটক ছিলো এবার। বিভিন্ন ধরনের ভিন্ন ভিন্ন কাজ হয়েছে এবার। তাই যেমন মনের ভেতর রয়েছে প্রশান্তি তেমনি রয়েছে একটা তৃপ্তি। সব নির্মাতাগণের মধ্যেই ছিলো ভিন্ন কিছু দেয়ার এক মহাপ্রচেস্টা, ব্যাপারটা আমার ব্যাক্তিগতভাবে ভালো লেগেছে। তাই এবার নাটক নিয়ে রিভিও কিংবা মন্তব্য করাটাও বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আমি আমার লিখার সুবিদার জন্য বিভিন্ন ভাগের নাটক ও টেলিফিল্ম গুলোকে ভাগ ভাগ করেই লিখছি যাতে আমার রিভিও পড়ে নাটক ও টেলিফিল্ম গুলো দেখার ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি গুলাও ভাগ ভাগ করে নিতে সুবিধা হয়। কারন আমি জানি সবার পছন্দ এক না। কেউ রোম্যান্টিক পছন্দ করে, কেউ মিস্টেরি, কেউবা সেটায়ার বা কেউ থ্রিল।আমার পার্সোনালি রোম্যান্টিক ভালো লাগে তাই রোম্যান্টিক দিয়েই শুরু করবো ভাবছি, কার রোম্যান্টিক ভালো না লাগলে স্কিপ করে যাবেন। যার যে ক্যাটাগরি ভালো লাগে সে সেই ক্যাটাগরিতে চলে যাবেন, কেমন?

রোম্যান্টিক

১। ব্যাচ ২৭- বাংলাদেশে ডিরেক্টর অফ রোমান্স বলা হয় মিজানুর রহমান আরিয়ানকে। না কথাটা আমি বলছিনা, জনমত থেকে শুনে এবং মেনেই বলছি। তাই আমি যেহেতু রোম্যান্টিক পাগল তাই রোম্যান্টিক কাজের নির্মাণ দেখার জন্য অধির আগ্রহে বসে থাকি। আমাকে নিরাশ করেনি আরিয়ান সাহেব। ব্যাচ ২৭ ছিলো তাঁর এক অনবদ্য নির্মাণ। মানতেই হচ্ছে। এমন কাজ দেখিনা অনেকদিন। গল্প, চিত্রনাট্য, নির্মাণ, অভিনয় সব কিছুই ছিলো একদম টু দ্যা পয়েন্টে। শুধু কি তাই? গল্পটি ইচ্ছে হলে শেষ দেয়া যেত অনেক ভাবে কিন্তু গল্পকার ও নির্মাতা আরিয়ান শেষ দিলো একদম সবাইকে এমন ভাবে ভাবিয়ে যে একবার হলেও সবাই ব্যাপারটা নিয়ে ভাববে এমন কি ভবিষ্যতে হয়তো এই ব্যাচ ২৭ এর কথা চিন্তা করেই অনেক ভালবাসার গল্প সফলতাটাও পেয়ে যাবে। তার পুরো কৃতিত্ব কিন্তু থাকবে মিজানুর রহমান আরিয়ানের।
অভিনয়ে ছিলেন অপূর্ব-মিথিলা-অপর্ণা।ইউনিভার্সিটির ব্যাচ ২৭ এর এই ছেলে-মেয়েটির ভালবাসা এই এক জীবনে কি মোর নেয় সেটা জানতে টেলিফিল্মটি দেখতে হবে।কারন, জীবন তো একটাই।

রেটিং- ১০/৯

২। তোমার আমার প্রেম- আবারো মিজানুর রহমান আরিয়ান এর নাম নিতে হচ্ছে। কিছুই করার নেই, ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা আমাকে করতেই হবে।কতদিন হয় রোম্যান্টিক নাটকে আপনারা পারিবারিক কোনো ছোঁয়া পাননি? অনেকদিন, তাইনা? তোমার আমার প্রেম কি শুধুই তোমার আমার প্রেম নাকি একটি বাবা আর একটি ছেলের গল্প? হয়তো গল্পকার ও চিত্রনাট্যকার অবয়ব সিদ্দিকী মিডি তা ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু আমি টেলফিল্মটিতে সবই পেয়েছি। অনেকদিনপর কোনো কাজ দেখে মন থেকে এত ভালোলাগা কাজ করেছে। আর টেলিফিল্মটি আমি আমার পরিবার নিয়েই দেখেছি। পাশে বসা ছিলেন আমার বাবা-মা ও বোন। সবাই মন খুলে হেসেছি আবার কেঁদেছি, লাস্টে হাত তালিও দিয়েছি। বাকী যা আছে দেখেই নিন আপনারা।

অভিনয়ে ছিলেন সিয়াম, অগ্নিলা, সুস্মিতা। পুরো নাটকে অগ্নিলার মিস্টি হাঁসি দেখলেই পুষিয়ে যাবে। বাকী সব বোনাস মনে হবে।
রেটিং- ১০/৯

৩। পরস্পর- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর উপন্যাস পরিনীতার অনুপ্রেরণায় গৌতম কৈরির নির্মাণে ছিলো একদম ভিন্ন ধরনের কাজ পরস্পর। অসাধারণ নির্মাণ, অভিনয়, চিত্রনাট্য। যারা ক্লাসিক কাজ পছন্দ করেন তাঁরা এই নাটকটি দেখে নিতে পারেন। অভিনয়ে ছিলেন রিয়াজ, মম। সঙ্গীত আয়োজনও ছিলো অনেক সুন্দর। গল্প নিয়ে বেশী কিছু বলার নেই যেহেতু আগেই বলে দিয়েছি নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “পরিনীতার” থেকে অনুপ্রাণিত। তাই নির্দ্বিধায় দেখে নিতে পারেন কাজটি। আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে, আপনাদেরও ভালো লাগবে আশা করি।

রেটিং- ১০/৮

৪। Mannequin Mumu- শিহাব শাহিন এর এবারের বিশেষ কাজ ছিলো Mannequin Mumu. অবাক হচ্ছেন নাম শুনে? পুতুল-ফুতুল নিয়ে কিছু একটা চিন্তা করছেন? থাক আর না বলি। অভিনয়ে ছিলেন তাহসান ও মম। দেখে নিতে পারেন ড্রামা টি। শিহাব শাহিন এর আগের কাজ গুলোর সাথে তুলনা দিলে বলবো নিরাশ হবেন তবে নতুন ভাবে চিন্তা করলে খারাপ লাগবে না। কিন্তু শিহাব শাহিন বলতে আমরা যা বুঝি তাতে আশাটা অনেক বেশীই থাকে সবসময়।

রেটিং- ১০/৬

৫। সেই সময়ে তুমি-আমি – মাব্রুর রশিদ বান্নাহ পরিচালিত ও রচিত “সেই সময়ে তুমি-আমি” ছিলো জনপ্রিয় তাহসান ও মিম জুটি। ছিলো ভালো মেকিং, ঝকঝকে প্রিন্ট, ছিলো অভিনয়। গল্পে ছিলেন আপেল মাহমুদ। কিন্তু ছিলোনা নতুন কিছু। সেই আগের যুগের ক্যাম্পাস, বড় ভাই, রাজনীতি থেকে প্রেম। কোনো নতুনত্ব পাইনি। বাকগ্রাউন্ডে মিউজিকটাও ছিলো তাঁর আগের নাটক থেকে নেয়া ও পুরনো। হ্যাঁ, শেষে ফিনিশিংটা ছিলো একটু আলাদা। কিন্তু সে পর্যন্ত দর্শক ধরে রাখাটা অনেক কঠিন কাজ। আর ফিনিশিংটা ভালো লেগেছে বলেই রিভিও তে নাটকটি রয়ে গেলো। তাই ঠিক কি ফিনিশিং এর কথা বলছি সেটা দেখতে হলেও নাটকটি দেখে ফেলতে পারেন একবার।

রেটিং- ১০/৫

মিস্টেরি

এবারের মিস্টেরি নাটক বা হাইপ ক্রিয়েট করা নাটক যাই বলুন তা বলতে ছিলো একটি সিরিজ আর তা হচ্ছে আয়নাবাজি অরিজিনাল সিরিজ। সকল ভালো ভালো নির্মাতাদের নিয়ে আয়নাবাজি মুভির কন্সেপ্ট থেকে অনুপ্রেরিত হয়ে বানানো হয়েছিলো সাতটি ভিন্ন নাটক। গাউসুল আলম শাওন এর গল্পে ভিন্ন ভিন্ন নির্মাতাগণ বানিয়েছেন নাটকগুলো। চলুন দেখেনেই কেমন ছিলো- (আমি ধারাবাহিক ভাবে আয়নাবাজি সিরিজের রিলিজ যেভাবে দিয়েছে সেভাবে লিখে যাচ্ছি, রেটিং এ ১,২,৩ হচ্ছে না এখানে)

১। ফুল ফোটানোর খেলা- অভিনয়ে ছিলেন মনজ কুমার প্রামানিক, সানজিদা প্রীতি ও মিশু সাব্বির ছিলেন নাটকে, নির্মাণ করেছেন কৃষ্ণনেন্দু চট্টোপাধ্যায় । এভারেজ কাজ মনে হয়েছে আমার কাছে। নির্মাণ আরো ইন্টারেস্টিং করা যেত। কিছু কিছু জায়গায় বেশ খাপছাড়া লেগেছে।কিন্তু সব মিলিয়ে মেকিং উঠিয়ে নিয়ে এসেছে। ছিলো একশন ও রোম্যান্টিক টাচও । অভিনয় ছিলো খুবই স্ট্রং।

রেটিং- ১০/ ৬

২। রাতুল বনাম রাতুল- নির্মাণে ছিলেন সুমন আনোয়ার । অভিনয়ে ছিলেন আফনান নিশো, যাকিয়া রশিদ মিম ও আজাদ আবুল কালাম। আমার কাছে খুব ঘোলাটে লেগেছে কাজটি। সব কিছু তালগোল পাকানো একটা অবস্থা। একটা গল্পকে অযাথা পেচিয়ে পেচিয়ে ঘোলা করে বোরিং পর্যায়ে নিয়ে গেলে যেমন লাগে ঠিক তেমন লেগেছে কাজটি। কিন্তু অভিনয় উঠিয়ে নিয়ে এসেছে কাজটিকে।

রেটিং- ১০/ ৫

৩। দ্বন্দ্ব সমাস- আসফাক নিপুনের দ্বন্দ্ব সমাস এর অভিনয়ে ছিলেন মূলত রওনক হাসান। এই এক্ট গল্পে আমার কাছে মনে হয়েছে মারাত্মক প্লটহোল রয়েছে। আমি স্পয়লারের খাতিরে গল্প এখানে রিভিল করছিনা। কিন্তু প্লটহোল এবং ফিনিশিং দুটি ক্ষেত্রেই খাপ ছাড়া হয়ে গেছে নাটকটি। কিন্তু নির্মাণ ছিলো প্রশংসনীয়। অভিনয়ে রওনকের পাশাপাশি ছিলেন লানহা সাহা যা নাটকে একটা আলাদা সৌন্দর্য এনে দিয়েছে। শিক্ষণীয় একটা ম্যাসেজ দিতে চেয়েছে কিন্তু গল্প ও স্ক্রিপ্টের প্লট হোলের কারনে হয়তো জমেনি।

রেটিং- ১০/৬

৪। কে কেন কিভাবে- আয়নাবাজি সিরিজের একমাত্র নাটক যেটা খুব মজা করে দেখেছি। যেমন নির্মাণ ছিলো, ছিলো অভিনয়, ছিলো একশন এবং সুন্দর ফিনিশিং। নির্মাণে ছিলেন তানিম রহমান অংশু। অভিনয়ে ছিলেন সিয়াম,নাদিয়া মিম, ঊর্মিলা। সব মিলিয়ে খুব মজা পেয়েছি কাজটা দেখে।

রেটিং- ১০/৭

৫। মুখোমুখি- রবিউল আলম রবি এর পরিচালনায় আয়নাবাজি সিরিজের অন্যতম একটি নাটক “মুখোমুখি” অভিনয়ে ছিলেন জন কবির ও সোহানা সাবা। অন্যতম বলছি কারণ কাজটির স্ক্রিপ্ট ছিলো ভালোলাগার মত। ছিলো অভিনয়ে অনেক গভিরতা। ছিলো সাদা-কালোর একটি আলাদা ছোঁয়া। সব মিলিয়ে ভালো লেগেছে।

রেটিং- ১০/৮

৬। মার্চ মাসে সুটিং- স্বয়ং আয়নাবাজি মুভির নির্মাতা অমিতাব রেজা নিজেই নির্মাণ করেছেন মার্চ মাসে সুটিং যার অভিনয়ে ছিলেন অপূর্ব, নাবিলা। অসাধারণ অভিনয়, নির্মাণ ও গল্প। এখানেই আয়নাবাজি সিরিজ হয়তো সফলতা পেলো বলা যায়। কারণ হয়তো উপরের রেটিং এবং আলোচনাই বলে দিচ্ছে এই নাটক আসতে আসতে অনেক দর্শকই সিরিজ হারিয়ে ফেলেছে। তবে যারা সব দেখেছে শেষ পর্যন্ত তাঁরা ভালো কিছুই পেয়েছে।

রেটিং- ১০/৯

৭। শেষ টা একটু অন্যরকম- গৌতম কৈরিকে আবারো স্মরণ করতে হলো এখানে এসে কারণ “শেষ টা একটু অন্যরকম” নির্মাণ করে তিনি সত্যি শেষটা একটু অন্যরকম ভাবেই টেনেছেন। অভিনয়ে ছিলেন মম, অসিস খন্দকার ও ইফতেখার দিনার। স্ট্রং স্ক্রিপ্ট, অভিনয় ও গল্প সব মিলিয়ে শেষটা সত্যি অনেক ভালো লেগেছে।

রেটিং- ১০/৮

পলিটিক্যাল থ্রিলার

১। বিগ শটঃ এবারের ঈদে পলিটিক্যাল থ্রিলারের নাম বলতে গেলে চলে আসে বিগ শট নাটকের নাম। দেশের প্রতিটি স্তরে পলিটিক্যাল ব্যক্তিরা কিভাবে জাল বিস্তার করে থাকে মূলত সেটা দেখানো হয়েছে। কিন্তু এসব পলিটিক্স এর ও একজন মূল হোতা থাকে, যে থাকে সবার আড়লে। দাবার চাল থাকে তারই হাতে। মাহফুজ আহমেদ, তৌকির আহমেদ, জাহিদ হাসান, আ জাদ আবুল কালাম সহ নাটকের সব অভিজ্ঞ এবং নামকরা অভিনেতা যখন এক নাটকে থাকে সেখানে আশা করি আর বলা লাগে কেমন হতে পারে বিগ শট। ঈদের সেরা নাটক বলা যায় আরফান আহমেদ এর বিগ শট। চিন্তা করলে এটি থেকে বেশ দারুন এক সিনেমাও বানানো সম্ভব।

রেটিং- ১০/৯

ড্রামা

ছবিয়াল রি-ইউনিয়ন নিয়ে এসেছিলো এবার সব ড্রামা বেইজড কাজ। ড্রামা বলতে বোঝানো হয় নাটক, এই ক্যাটাগরিতে রোমান্স, গল্প, ম্যাসেজ , হিউমার সবই থাকতে পারে আর এবার সেরকমই দেখতে পেরেছি আমরা রি-ইউনিয়ন এ। মোস্তফা সরোয়ার ফারুকির প্রযোজনা তে ভিন্ন ভিন্ন ৬টি কাজ ছিলো এবার। চলুন ধারাবাহিক ভাবে দেখে নেই কাজ গুলো-

১। বিকেল বেলার পাখি- আদনান আল রাজিব এর নির্মিত একটি মাস্টার পিস “বিকেল বেলার পাখি” মত-দ্বিমত থাকবেই। আদনান আল রাজিব নির্মাতা হিসেবে সফল কারণ তিনি এ পর্যন্ত কাজ করেছেন হাতে গোনা কয়েকটি এবং সব গুলোতেই সফলতা দেখিয়েছেন। “বিকেল বেলার পাখি” নিয়েও সে তাঁর সেই সফলতার প্রমানই রেখে গেলেন। অসাধারণ কনসেপ্ট এবং অসাধারণ অভিনয়, গল্পের স্ক্রিপ্ট ও মেকিং। সব মিলিয়ে গল্পের শেষ পর্যন্ত আপনাকে এমন ধরে রাখবে তেমনি কাঁদাবেও । আর কি চান? অভিনয়ে ছিলেন ফজলুর রহমান বাবু, এলোরা গহর, এলেন শুভ্র, ইফফাত তৃষা, সাফা নমনি।

সংসার তুচ্ছতার খেলা, ভালোবাসাই তার একমাত্র ভেলা

ভালোবাসার এই রহস্য ভেদ করতে দেখে নিন আদনান আল রাজীব-এর পরিচালনায় ” বিকাল বেলার পাখি ”

রেটিং- ১০/১০

২। মিস্টার জনি- রেদওয়ান রনি পরিচালিত মিস্টার জনি নিয়ে যত বেশী বলবো তত কম হয়ে যাবে। আমি মন্ত্র-মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম কাজটা। মেকিং, গল্প, কনসেপ্ট, অভিনেতা-অভিনেত্রি, অভিনয়, ডিরেকশন। পুরো কমপ্লিট প্যাকেজ ছিলো এটি। অভিনয়ে ছিলেন মুস্তফা মনোয়ার, আব্দুস সামাদ, জয়িতা আর মিস্টার জনি।
সামাজিকতা, অসামাজিকতার বাইরেও কিছু কিছু গল্প জীবনের অন্য অর্থ নিয়ে দাঁড়ায় আমাদের সামনে । মি. জনি সামাজিকতার খোলস মুক্ত হয়ে অন্য কিছু বলতে চায় এই সমাজে । কে এই মি. জনি? এই প্রশ্নের উত্তর এবং অসাধারন এক গল্প জানতে দেখে নিন রেদওয়ান রনির পরিচালনায় “মি. জনি”।

রেটিং- ১০/৯

৩। ছেলেটা কিন্তু ভালো ছিলো- আসফাক নিপুণ বানিয়েছেন এবার “ছেলেটা কিন্তু ভালো ছিলো” ছবিয়ালের ব্যানারে। নাটকটিও ভালো ছিলো। অভিনয়ে ছিলেন তিশা, মিশু সাব্বির, গাজি রাকায়েত, রিপা, নিপা, ইমাম। নাটকটি মজার, মজায় মজায় নাটকটি শেষ হয়ে যাবে। অবে আসফাক নিপুনের কাছে আমাদের আশা একটু বেশীই থাকে সর্বদা। তাই আর কথা বাড়াচ্ছি না, দেখে নিতে পারেন নাটক খানা নির্দ্বিধায়।

রেটিং- ১০/৭

৪। চিকন পিনের চার্জার- হুমায়ুন সাধু পরিচালিত এবং স্বয়ং অভিনীত সাথে শাহতাজ কে নিয়ে চিকন পিনের চার্জার এর প্রতি সবার আকর্ষণটা ছিলো বেশ অন্যরকম। চিকন পিনের চার্জার টা আসলে কি? মেটফর টা খুব সুন্দর ভাবে প্রকাশ করা হয়েছে নাটকে। বাকিতে বুঝতে হলে দেখতে হবে। আমার কাছে বেশ ইন্টেরেস্টিং লেগেছে। যদিও অভিনয়ে ছিলো বেশ দুর্বলতা কিন্তু কনসেপ্টের কাছে সেটা কন্সিডারেবল।

রেটিং- ১০/৭

৫। আবার তোরা সাহেব হ- শারাফ আহমেদ জীবন পরিচালিত মামুনুর রশিদ, ইরেশ জাকের ও আজমেরি আশা অভিনীত নাটকটি খুবই হিউমেরাস। মজার আবার সাসপেন্সও আছে বটে। আমি বেশ মজাই পেয়েছি নাটকটি দেখে। আপনিও দেখে নিতে পারেন।

রেটিং- ১০/৬

৬। ২৬ দিন মাত্র- মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত “২৬ দিন মাত্র” তে অভিনয়ে ছিলেন আমজাদ হোসেন, দিলারা জামান, নাদের চৌধুরী, আহসানুল হক মিনু, মুক্তা, রাসেদুল মাজিদ মামুন। অভিনয়ের লিস্টই বলে দিচ্ছে নাটকের অভিনয় ভালো হবে। ঠিক তাই। ভালো গল্পের ভালো নির্মাণ সাথে অভিনয়। বেশ আরাম পেয়েছিনাটকটি দেখে।আপনারাও দেখে নিতে পারেন।

রেটিং- ১০/৭

৭। প্রিয় নিতু- ছবিয়ালের বাহিরেও এবার ভালো ড্রামা বেইজড কিছু কাজ ছিলো। প্রিয় নিতু এমন একটি কাজ। তাহসান-তিশা কে নিয়ে এবারে মিজানুর রহমান আরিয়ানের একটি মাস্টার পিস কাজ ছিলো “প্রিয় নিতু” মিজানুর রহমান আরিয়ানকে আবার এখানে স্মরণ করতে হলো কারণ প্রিয় নিতু ছিলই এমন একটি কাজ। একজন ধর্ষণ ভিক্টিম নিয়ে এ দেশে তেমন কোনো ড্রামা নির্মাণ হয়েছে চোখে পড়েনি। প্রিয় নিতু ছিলো একজন রেইপ ভিক্টিমের গল্প নিয়ে। হয়তো অনেকের গল্পই আমরা প্রিয় নিতুতে খুঁজে পাবো নিতুকে দেখে। আমরা একটা রেইপের আন্দোলন দেখি, আসামি দেখি কিন্তু ভিক্টিমের পরের জীবনটা দেখিনা। সেই গল্পউ বলার চেস্টা করেছেন পরিচালক। ভালো একটি কাজ, দেখে নিতে পারেন।

রেটিং- ১০/৮

৮। খুঁজি তোমায- রুবেল হাসানের নির্মাণে নাটকটিতে আছেন অপূর্ব। অপূর্বকে সবাই অভিনেতা হিসেবে চিনলেও তিনি খুব ভালো গল্প ও গান গাইতে জানেন। যাইহোক এই নাটকে তিনি মূল গল্প ভাবনায় ছিলেন। অভিনয়েও ছিলেন সাথে ছিলেন সারিকা। নাটকের চিত্রনাট্য করেছিলেন জাফরিন সাদিয়া, বেশ ভিন্ন রকমের নাটক, রোম্যান্টিক সাথে ম্যাসেজ বেইজড। সব মিলিয়ে ভালো লাগবে কাজটি। ড্রামা বেইজড কাজ গুলো বেশ ভালো লেগেছে এবার আমার।

রেটিং- ১০/৭

৯। ওয়াদা- মেহেদী হাসান জনি নির্মিত “ওয়াদা” নাটকটি দেখে নিতে পারেন। বেশ গোছানো ও সুন্দর একটি নাটক। অভিনয়ে ছিলেন আফরান নিশো ও শারলিন। বেশ কমেডি টাইপ হলেও এটি ড্রামা টাইপ একটি নাটক। সব মিলিয়ে খারাপ লাগবেনা বলেই আশা রাখি।

রেটিং- ১০/৬

১০। বাবার ছেলে- মাব্রুর রশিদ বান্নাহ রচিত বাবার ছেলে একটি ভালো নির্মাণ ছিলো এবার, তবে আবারো বলতে বাধ্যই হচ্ছি পরিচালক বান্নাহ’র উচিত নির্মাণের থেকে স্ক্রিপ্ট ও গল্পের দিকে মনোযগ দেয়া। একধরনের এক ঘেয়ামিপনা চলে এসেছে তাঁর কাজের ভেতর। অভিনয়ে ছিলেন শাওন, কাজী উজ্জ্বল, জেরিন রত্না সহ অনেকে।

রেটিং- ১০/৫

স্যাটায়ার

১। এ্যাওয়ার্ড নাইটঃ শাফায়াত মনসূর রানা পরিচালিত এবং জন কবির ও শাফায়াত মনসূর রানা’র গল্পে এ্যাওয়ার্ড নাইট ছিলো এবারের ঈদের একটি বেষ্ট কাজ। যদিও নির্মাতা রানা সাহেবের বিগত কাজগুলোর মত এতোটা জমেনি তবুও স্যাটায়ার ও সিম্বোলিক অর্থে সফল বলবো আমি এ্যাওয়ার্ড নাইট কে। অভিনয়ে ছিলেন- মিলি বাসার, মাসুম বাসার, হিল্লোল, জন, জয়রাজ, অপর্ণা, ইরফান সাজ্জাদ, নাজমুস সাকিব সহ আরো অনেকে।

রেটিং- ১০/৮

এই ক্যাটাগরি তে অনেক নাটক থাকলেও থাকতে পারে তবে আমি কমেডিতে যাচ্ছি না কারণ আমার বিশ্বাস আমাদের দেশের নির্মাতাগণ স্যাটায়ার আর কমেডি গুলিয়ে ফেলেন তাই কমেডি গুলো এখানে এড করছিনা আর কমেডি নিয়ে কোনো ক্যাটাগরিও দিচ্ছিনা। কমেডি নাটক হাসির জন্য সেগুলোর রিভিও না দেয়াই ভালো মনে করি।

সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।

এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Abid Rahman says:

    ভাই আপনারা এত এত মুগ্ধ হন কিভাবে!!! আমার কাছে আয়নাবাজি দেখেও খুব আহামরি লাগেনি। সিরিজ দেখার তো সাহসই নাই। অথচ কত কিছু শুনলাম। জানি গালির খিস্তি বয়ে যাবে তারপরও মনের কথাটাই বললাম

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন