অস্কার রিভিউঃ Land of Mine (2015)

জার্মানির সামরিক শক্তি সম্পর্কে ইউরোপের অন্য সব দেশের সঠিক ধারণার যে অভাব ছিল তার সুযোগ পুরোপুরি গ্রহণ করেছিলেন হিটলার। বিশ্বজয়ের স্বপ্নে মত্ত হয়ে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ সালে জার্মান বাহিনী পোল্যান্ড আক্রমণ করল এবং এই দিনটি থেকেই শুরু হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। মাত্র পনেরো দিনে জার্মান বাহিনী পোল্যান্ডের সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে পোল্যান্ড অধিকার করল। তারপর শুরু হলো জার্মান বাহিনীর অগ্রগমন। পোল্যান্ডের পর হিটলার দখল করলেন নরওয়ে ও ডেনমার্ক।

নরওয়ে বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তার ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য। সুইডেনের কিরুনা খনি থেকে গরমকালে বাল্টিক সাগর দিয়ে এবং শীতকালে নরওয়ের বরফমুক্ত নারভিক বন্দর ও নরওয়ের রেলপথ দিয়ে লোহা চালান যেত জার্মানীতে। প্রথমে হিটলার নরওয়েকে নিরপেক্ষ থাকতে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ওদিকে মিত্রপক্ষ নারভিকের ঠিক বাইরের সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনাটি ফাঁস হয়ে গেলে হিটলার ফ্রান্স আক্রমণের ইচ্ছা স্থগিত রেখে নরওয়ে অভিযানের নির্দেশ দিল। ১৯৪০ সালের ৯ই এপ্রিল একই সাথে নরওয়ে ও ডেনমার্কে আগ্রাসন শুরু হল সুইডেনের সাথে যোগাযোগের সুবিধার্থে ।

৬ জুন ১৯৪৪, দক্ষিণ ফ্রান্স থেকে ডেনমার্ক এলাকায় জার্মান বাহিনীকে বিস্মিত করে আতর্কিত হামলা চালায় ব্রিটেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথবাহিনী। এর মাধ্যমে ফ্রান্সকে পুনরায় স্বাধীন করা হয়। অবশেষে ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

3c04e57169512bac1e701ceef5a47c2e

যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটলেও ২য় বিশ্বযুদ্ধের চিহ্ন তখনো বয়ে চলেছে যুদ্ধ আক্রান্ত ইউরোপের অনেক রাষ্ট্র। ২য় বিশ্বযুদ্ধ শেষ, কিন্তু মানুষ তখনো নিরাপদ নয়, দেশের মাটি তখন শত্রুমুক্ত হলেও শত্রুদের ষড়যন্ত্র তখনো বয়ে চলেছে প্রতিটি দেশ। পরাজয় নিশ্চিত জেনে হিটলারের বাহিনী ইউরোপ সহ বেশিরভাগ দেশেই স্থল মাইন পুতে রেখে দেয় মাটির নিচে, সমুদ্র সৈকত ঘিরে। যেন দেশের অর্থব্যবস্থা বা যোগাযোগ ব্যবস্থাতে বিঘ্ন ঘটে।

মাইন এক প্রকার মারাত্মক বিস্ফোরক। যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে মাটির উপর অথবা নিচে মাইন রাখা হয়। কোনো ব্যক্তি বা বস্তু মাইনে স্পর্শ করলে তা প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ব্যক্তি বা বস্তুটিকে ধ্বংস করে দেয়। মাইন বিস্ফোরণের ফলে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে। গুরুতর আহত কিংবা অনেকক্ষেত্রে পঙ্গুও হয়ে যেতে পারে।

২য় বিশ্বযুদ্ধের পর ডেনমার্ক শত্রুমুক্ত হলেও তাদের সমুদ্র সৈকতে বালির নিচে রাখা আছে শত শত মাইন। ১৪ জন বন্দী জার্মান সেনাকে সার্জেস্ট কার্লের অধীনে পাঠানো হয় এসব মাইন অপসারনের জন্য। সার্জেন্ট কার্ল তাদের কথা দেন তিন মাসের ভেতর কাজ শেষ করার আদেশ দেয়। কাজ শেষ করতে পারলে বন্দী অবস্থা থেকে মুক্তি পাবে তারা। ফিরে যেতে পারবে আপন জন্মভূমি জার্মানীতে।শুরু হয় লড়াই, একদিকে বেঁচে থাকার অন্যদিকে বেঁচে ফেরার। এভাবেই শুরু হয় ইতিহাসকে ঘিরে গড়ে ওঠা Land of Mine (২০১৫) মুভিটি।

৮৯ তম অস্কারে সেরা ফরেন সিনেমার জন্য মনোনীত হয়েছে মুভিটি। আহামরি যে খুব তা নয়, তবে সিনেমাটিতে বেশ কিছু টাচি দৃশ্য রয়েছে। প্রতিশোধ, দেশপ্রেম সব কিছুর পরও সিনেমাতে ফুটে উঠেছে মানবতাবোধ।

হয়তো সিনেমাটি অস্কার পাবার মত নয়, কিন্তু ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর ল্যান্ড মাইন অপসারনের জন্য প্রতিটি দেশের কি পরিমান কষ্ট বা স্যাকরিফাইস করা লেগেছে তার একটি দিক তুলে ধরেছে কেবল Land of Mine (২০১৫) মুভিটি।

রেটিংঃ ৬.৫/১০

(Visited 375 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন