Kaabil (2017) – অঙ্কুরেই বিনষ্ট করেছে কাহিনীকার
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0
রাকেশ রোশানের ড্রীম প্রজেক্ট খ্যাত কাবিল রিলিজ পেলো ২৫ জানুয়ারি। কারণে হোক বা অকারে হোক সব সময় কোন না কোনভাবে কাবিলকে তিনি আলোচনার মধ্যে রেখেছেন। সব থেকে বড় আলোচনার জন্ম দেয় যখন শাহরুখ খানের রেইস মুক্তির তারিখ এগিয়ে এনে কাবিলের সাথে কনফ্লিক্ট করে। মোটামুটি এক প্রকারের স্নায়ু যুদ্ধ চলেছে কাবিল ও রেইস এর মধ্যে। অনেক বড় বড় সিনেমাবোদ্ধা বলেছেন শাহরুখ কাজ ঠিক করে নি, রাহুল ঢোলাকিয়া আর কি বানাবে? কথা উড়েছে, আমাদের মত সিনেমাবোদ্ধারা সে সব কথা দেখে গেছি।
কাবিলের গান শোনার পর থেকে কাবিলের প্রতি একটু বেশি আগ্রহ ছিলো। ইদানিং আবার মার্ভেলের ডেয়ারডেভিল প্রচারিত হবার পর থেকে অন্ধ মানুষের উপর স্ক্রিপ্ট রাইটারদের নজর পড়েছে। অন্ধ মানুষের সুপার পাওয়ার দেখার জন্য আগে থেকে মন আনচান করছিলো। যদি ঠিক কিছুদিন আগে মাস্টারক্লাস মোহনলাল স্যারের ওপ্পাম দেখার পর বেশ মেজাজ খারাপ হয়েছিল। তাও হৃত্ত্বিক এর জন্য হলেও বেশ আগ্রহ ছিল। কারন গুজারিশ কিংবা কৈ মিল গ্যায়া সিনেমায় প্রতিবন্ধী বা স্পেশাল মানুষের অভিনয় দিয়ে মন ভারিয়েছিল।
অতীব আগ্রহ নিয়ে আমার ১৯ ইঞ্চি মনিটরের হল রুমে ঢুকে গেলাম কাবিল দেখার জন্য। হলে ঢুকে মানুষ হল প্রিন্টই দেখে এখানে লজ্জার কিছু নেই। খেলা শুরু অর্থাৎ কাবিল শুরু হল। আমি দেখছি দুইজন অন্ধের বিয়ে হবার জন্য তার মিটিং এ বসেছে। কেউ বিয়ে করার জন্য রাজী না (আহা জীবনের সাথে মিলে যাচ্ছে, চোখে পানি চলে এলো)। আবার সিনেমার দিকে নজর দিলাম। বিয়ে হয়ে গেলো, হু হু হু। ওয়েট ওয়েট আচ্ছা সিনেমার ট্রেইলারে দেখলাম রিভেঞ্জ কাহিনী, তা অন্ধের বিয়ের পর রিভেঞ্জ কি করে ঢুকাবে। নিজে একটা কাহিনী মনে মনে ঠিক করলাম, আর ঠিক ৫ মিনিট পর সেই কাহিনী দেখতে পেলাম।
images
দিস ইজ কাবিল, এ টোটাল ওয়েস্ট অফ সাস্পেন্স। সিনেমার সব থেকে বড় সমস্যা হল প্রেডিক্টেড কাহিনী। গল্পকার চাইলে এর থেকে অনেক ভালো কিছু দেখাতে পারো। সেই সঙ্গে কোণ স্ক্রীন প্লে নাম গন্ধ নেই। একজন অন্ধ এতোটা ভালো কাজ করতে পারে কি করে? কোন ট্রেইনিং নেই কিছু নেই, সব কি গড গিফটেড?
সিনেমার প্রথম অর্ধ খুবই বড়, ১৫-২০ মিনিটের কাহিনী টেন টনে চুইঙ্গামের মত বড় করেছে। দ্বিতীয় অর্ধে ভেবেছিলাম হয়তো ভালো করে জমাবে, কিন্তু রিভঞ্জের সিস্টেম দেখে মনে হল চাইলাম একটা কিছু ঢুকিয়ে দিলাম। অনেক অনেক বেশি খুত ছিল সিনেমাতে। লাস্ট দৃশ্য অনেকের কাছে ভালো লাগলেও এখানে একটা বড়সড় প্লট হোল আছে। একদিন আগে যখন তাকে আস্ক করল তখন অন্য মানুষকে জিজ্ঞাসা করল, কেন ওই লোক তো ঐখানেই ব্যবসা করে, তাকেই তো ছবি দেখালে হত। একজন অন্ধ রোজ ফোন করে, সে বুথের বাইরে বসে থেকেও দেখতে পাবে না, এটাও সম্ভব? বাহ বাহ…………
ইয়ামী গৌতমকে কেন নেওয়া হয়েছে বুঝলাম না, কাবিলের টাইটেল সং এ মাঝে মাঝে তো মনে হয় সে অন্ধ না।
সব মিলিয়ে এক হৃত্ত্বিক রোশানকে দিয়ে সিনেমা হবে না, কন্টেন্ট আর কাহিনী যদি ভালো না হয় কোনকিছু দিয়েই কাজ হবে না। এই যদি হয় ড্রীম প্রজেক্টের অবস্থা, তাহলে নরমাল গুলোর অবস্থা কি হবে? বাপের ছায়া থেকে বের হতে না পারলে হৃত্ত্বিকের অবস্থা সঙ্গিন। তাও বুঝলাম না বড় বড় রিভিয়ার এতো পজেটিভ রিভিউ কি দেখে দিলো।
কাবিল ইজ এ ডিজাস্টার।

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Abid Rahman says:

    কাবিল রইসের থেকে অনেক ভাল

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন