Iru Mugan (2016) – তামিল সাই-ফাই থ্রিলার
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

চিকিৎসাবিজ্ঞানে জার্মানদের অবদানের কথা বেশ সুপরিচিত। ১৮৬০ সালের দিকে যখন জার্মানীতে চিকিৎসা ও রসায়নের একধরনের বিপ্লব আসা শুরু করে, তখন জার্মানীর ক্যামিক্যাল বিজ্ঞানীরা মরফিনের অস্তিত্ব খুজে পায় এবং দেখতে পায় সে স্বল্প মাত্রার মরফিন প্রয়োগ করলে ব্যাথ্যা অনেকটাই নিবারন এবং কাজের স্পৃহা অনেক বেড়ে যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্যাথা নিবারক হিসাবে এই মরফিন ব্যবহার হয়, সৈনিকদের ব্যাথা নিবারক হিসাবে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানরা মরফিনের এই সাফল্য দেখার পর তারা ড্রাগটিকে আরো বেশি কার্যকর করতে চাইলো যাতে ঝুকির পরিমান খুব কমে আসে। ২য় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে হিটলারের নাৎসি বাহিনী যুদ্ধ ক্ষেত্রে এই ড্রাগ ব্যহবার করার নির্দেশ দেয়। কারন সাম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহনের জন্য প্রবল মানষিক জোর, নির্ঘুম রাত ও ক্লান্তি ভুলে থাকা আবশ্যক। এছাড়া কোথাও ব্যাথা পেলে ব্যাথার কারনে বসে না থাকে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায় এজন্য হিটলার methamphetamin ড্রাগ ব্যবহার করতে নির্দেশ দেয়। যা ছিল কোকেন থেকে বানানো এবং এক ধরনের স্টিমুলাস। এটি ব্যবহার করলে শরীরের টিস্যুতে এক ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা সেই ব্যক্তিকে প্রবল মানষিক শক্তি ও দৈহিক শক্তি প্রদান করে। Methamphetamin সর্বপ্রথম বাজারে আনে বার্লিনের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি Temmler। তারা মরফিনের বদলে কোকেন ব্যবহার করেন শুধুমাত্র সাইড ইফেক্ট কমানোর জন্য। Methamphetamin ড্রাগ সেবনের মাত্র ছিল খুবই সীমত কিন্তু হিটলারের বাহিনী অতিরিক্ত মাত্রায় এটি সেবন করে, ফলে খুব দ্রুত তারা অক্ষম ও ড্রাগে আসক্ত হয়ে পড়ে। যা ২য় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান সম্রাজ্যের পতনের অন্যতম কারন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ইতিহাসের পাতায় তাই এই ড্রাগের নাম হিটলার স্পীড ড্রাগ।

ইয়াবা এখন অনেকের কাছেই একটি পরিচিত সর্বনাশী নাম। নেশাজাতিয় এই ড্রাগটিকে একেক দেশের মানুষ একেক নামে ডাকে। ভারতে ইয়াবার আরেক নাম হল “ভুল-ভুলিয়া”, থাইল্যান্ডে “চোকালি”, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়াতে “সাবু”। আবার কেউ কেউ বলে থাকে “পাগলা ঔষধ” বা ক্রেজি ড্রাগ।যে নামেই ডাকা হউক না কেন, মূল উপাদান বা উপকরণ এই ড্রাগের একই। অর্থাৎ মেথঅ্যামফিট্যামিন ও ক্যাফেইনের মিশ্রনই হচ্ছে ইয়াবা। ড্রাগটি ট্যাবলেট আকারে থাকলেও তা গুঁড়া করে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের উপরে রেখে পুড়িয়ে ধোঁয়ার মাধ্যমে (ভেপার) সেবনকারীরা তা সেবন করে থাকে। এভাবে নিলে এর নেশাজাতিয় ইফেক্ট থাকে প্রায় ১-৩ ঘণ্টা। সেবনকারীরা মাত্রা না জেনে একনাগাড়ে বার বার তা নিয়ে থাকে। মাত্রাতিরিক্ত নেওয়ার ফলে নেশাকারীদের সাধারণত ঘুমের ব্যাঘাত তো ঘটেই, খাওয়ার প্রতিও চরম অনীহা গড়ে উঠে। এমনও জানা যায় যে, কেউ কেউ ২৪ ঘণ্টা বা তাঁর অধিক সময়ও ঘুমাতে পারেন না।

কেন ইয়াবাকে পাগলা ড্রাগ বলা হয়ে থাকে? সংক্ষেপে, সায়েন্টিফিক দিক থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, ইয়াবার মেথঅ্যামফিট্যামিন উপাদানটি শরীরের ব্রেইনের মধ্যের নিউরোট্রান্সমিটার ডোপামিনকে নিঃসৃত করে। ব্রেনে ডোপামিনের অনেক ফাঙ্কশন রয়েছে। তাঁদের মধ্যে একটি ফাঙ্কশন হচ্ছে- আনন্দের উদ্রেক সৃষ্টি করা। ফলে মেথঅ্যামফিট্যামিনকে ক্যাফেইনের সঙ্গে মিশিয়ে মাদক হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ক্যাফেইন মেথঅ্যামফিট্যামিনের মতোই সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমে স্টিমুলেনট হিসাবে কাজ করে এবং দীর্ঘক্ষণ জেগে থাকতে ভূমিকা রাখে। এই দুয়ের সমন্বয়েই হয় নেশা বা মাদক বা যাকে অনেকেই বলে থাকেন “পাগলা ড্রাগ” বা ইয়াবা।

আরো জানা জেনে রাখা ভাল যে, ইয়াবার মধ্যের যে মেথঅ্যামফিট্যামিন উপাদানটি থাকে তাঁর কিছু মারাত্মক সাইড ইফেক্টও রয়েছে। অত্যধিক মাত্রায় যারা ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েন, তাঁরা মেথঅ্যামফিট্যামিনের ইফেক্টের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা, স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে পারেন না। ওভারডোজের কারণে শরীরের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায় (হাইপারথারমিয়া), পরিণতিতে মারাও যান তাঁরা। আর এই ইয়াবা হল হিটালের সেই ” হিটলার ড্রাগ বা নাজি স্পিড।”

 মুভিঃ Iru Mugan (2016)
 জনরাঃ সাই-ফাই অ্যাকশন থ্রিলার
 অভিনয়ঃ Vikram , Nayanthara , Nithya Menen
 রিলিজ ডেটঃ ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
 IMDb: ক্লিক করুণ
 IMDb রেটিংসঃ ৭.২ / ১০
 উইকিঃ http://bit.ly/2fW9MEx

Iru Mugan তামিল মুভিটিও এই হিটালের ড্রাগ বা স্পীড ড্রাগের উপর ভিত্তি করে করা। সিনেমার শুরুতে দেখা যায় এক বৃদ্ধ লোক মালয়েশিয়ার ইন্ডিয়ান দূতাবাসে ঢুকে সবাইকে বেধড়ক পেটায় এবং ৫ মিনিট পর নিজেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজ এ ধরা পড়ে মারামারি করার আগে সে একটি ইনহেলার থেকে একটা ড্রাগ সেবন করে এবং মৃত ব্যক্তির ঘাড়ের কাছে একটি লাভ সিম্বল আঁকা রয়েছে। এই ড্রাগ মাফিয়াকে খুজার জন্য ডেকে আনা হয় ৪ বছর আগের র এজেন্ট ভিক্রমকে। ভিক্রম বলে এটা সেই লাভ গ্যাং যাকে সে ৪ বছর আগে ধ্বংস করেছিল কিন্তু তারা এখনো অপারেট করছে এবং তার স্ত্রীর মৃতুর এজন্য এই লাভ গ্যাং দায়ী। ভিক্রামের সহযোগী হয়ে এই মিশনে যোগ দেয় নিথিয়া মেনন, সে জানায় যে ড্রাগ ঐ ব্যক্তি সেবন করেছে তা প্রকার স্পীড ড্রাগ। লাভ গ্যাংকে খোঁজার জন্য ভিক্রম ও নিথিয়া পাড়ি জমায় মায়লশিয়াতে। তারপর……………………

Iru-Mugan-tamil-movie-wallpaper-vikram

সিনেমাটিতে বলার মত আছে শুধু একজন ভিক্রাম। পুরো ভারতে কমল হাসান, মহোনলালের পর আর যদি কোন ভার্সেটাইল এক্টর থাকে তবে সেটা ভিক্রাম। সিনেমাকে একা টেনেছে বলা যায়। সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফি ও গানে রয়েছে নতুনত্ব। এই বয়সে নয়নতারা এতো সুন্দর কি করে থাকে সেটাও ভেবেছি বেশ কয়েকবার।

সিনেমটি বেশ কিছু ত্রুটি রয়েছে, সিনেম্যাটিক ভুল বলা যায়। ড্রাগ নেবার পর সিনেমাতে দেখানো অনুযায়ী ৫ মিনিট পর সবাই মারা যায়। ইলেক্ট্রিক শক না দিলে সেখান থেকে বেঁচে ফেরা সম্ভব নয় কিন্তু সেই ড্রাগ ভিক্রাম বেশ কয়েকবার নেবার পর ও কিছু হল এটা বেশ ভাবিয়েছে।

ওভারল বেশ ইউনিক কনসেপ্ট থেকে বিশাল এক সাই-ফাই থ্রিলারের ব্যপারটা বেশ ভালো লেগেছে। শুধু একটা কথা বলব ভিক্রামের অভিনয় দক্ষতা দেখার জন্য হলেও আপনার এই সিনেমাটি দেখা উচিত। আই সিনেমার পর আর একটি দারুন অভিনয় দেখলাম ভিক্রামের কাছ থেকে।
✪ রেটিংঃ ৭/১০

✪ ডাউনলোড লিংকঃ

••• টরেন্ট ➔ক্লিক করুণ
••• ডিরেক্ট ➔ ক্লিক করুণ
••• ইংরেজি সাব ➔ ক্লিক করুণ

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন