Triangle (2009) – রিভিউ সাথে ব্যাখ্যা
সাগরে সময় কাটানোর জন্য প্রমোদতরীতে করে জেস বের হয় তার বন্ধুদের সাথে। কিন্তু সেসময় জেস খুব বিরক্ত ছিল, কারণ তার সন্তান স্কুলে রয়েছে তাকে আনতে যেতে হবে তাই। মাঝ সমুদ্রে যাবার পর হঠাৎ করেই তাদের প্রমোদতরী থেমে যায়, কারণ বাতাস না থাকার জন্য পাল নেমে গেছে। হঠাৎ করে দেখতে পায় দূরে ঝড় এগিয়ে আসছে তাদের দিকে। সাহায্য চাইতে কোস্ট গার্ডের কাছে বার্তা পাঠায় কিন্তু উত্তরে ভেসে আসে অন্য রকম কিছু। ঝড়ের তান্ডবে উল্টে যায় প্রমোদতরী। তাহলে কি করে এই মাঝ সমুদ্র থেকে উদ্ধার পাবে তারা?? হঠাৎ দেখতে পায় তাদের নিকট এগিয়ে আসছে একটি বিশাল জাহাজ। আশা ফিরে পায় তারা। উঠে পড়ে জাহাজে। কিন্তু সেখানে কেউ নেয়, কিন্তু কেন?
tri3
দেখে ফেলুন তাহলে। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ক্রিস্টফার স্মিথ পরিচালিত “ট্রায়েঙ্গেল” মুভিটি মূলত টাইম ট্রাভেল লুপের উপর ভিত্তি করে নির্মান করা।
ডাউনলোড লিংকঃ ক্লিক করুণ

▬▬▬▬▬▬▬▬▬★স্পয়লার এলার্ট★▬▬▬▬▬▬▬▬▬

এ অংশটি শুধুমাত্র যারা মুভিটি দেখে বুঝেন নি তাদের জন্য। মুভির ব্যাখ্যা গুলো আমি আমার মত করে বর্ননা করে দিচ্ছি, মিলিয়ে নিবেন। আশা করি মুভিটি বুঝে যাবেন
★ফ্যাক্ট ১ঃ যে জাহাঁজে তারা উঠে সেটি মূলত একটি একটি টাইম মেশিন। আর ঝড়টি হল টাইম ট্রাভেলে প্রবেশের পথ।
triangle3
★ফ্যাক্ট ২ঃ মুভিতে আসলে যেখান থেকে কাহিনী দেখানো হয়েছে সেটা যাস্ট একটা লুপ। কারন জেস যখন তার লকেট দেখতে পায় একটা হোলের মাঝে সেখানে অনেক লকেট ছিলো। এছাড়া স্যালি যখন দেখতে পায় তার মত আরো অনেক স্যালি মৃত অবস্থায় পড়ে আছে ডকে। তার মানে লুপটা অনেক আগে থেকেই চলছে।
1397396__a869d891026e51d1a43b14b5198baea2
★ফ্যাক্ট ৩ঃ মুভির নাম ট্রায়াঙ্গেল। কারণ তিনজন জেস পরপর হলে লুপ টা কন্টিনিউ করতে থাকে। সো জেস একই সময় তিনজন থাকবে। আর লুপটা শুরু হবে ঠিক যখন সবাই মারা যাবে। কারণ জেস চায় সে তার সন্তানের কাছে ফিরে যেতে।
★ফ্যাক্ট ৪ঃ জেস আসলে চায় সবাইকে বাচিয়ে নিয়ে যেতে কিন্তু কোন না কোন ভাবে একজন মারা যাবেই প্রতি লুপে। তাই সবাইকে বাঁচানোর জন্য সে চায় সবাইকে ফিরে পেতে, তাই সে সবাইকে মেরে ফেলে। ফলশ্রুতিতে লুপ চলতে থাকে।
★ফ্যাক্ট ৫ঃ জাহাজে থাকা জেস সবাইকে মেরে ফেলবে যাকে আমরা জেস ১ নাম দিলাম। এই জেস ১ কে জেস ২ মেরে ফেলতে চাইবে। জেস ২ হল জাহাজে জেস ১ থাকাকালে যে জেস আসে সে। জেস ২ এর আক্রমনে জেস ১ পানিতে ঝাঁপ দিবে আর বলে যাবে সবাইকে মেরে ফেলতে। তার ঠিক তখন জেস ২ দেখতে পাবে সমুদ্রের মাঝে জেস ৩ সাহয্যের জন্য দাঁড়িয়ে আছে। আর ঠিক তখন জেস ১ সমুদ্রের পাড়ে নিজেজে আবিস্কার করে। সে নিজের বাড়ি চলে যায়। সেখানে গিয়ে দেখতে পায় জেস ৪ কে, মেরে ফেলে তাকে জেস ১। ছেলেকে নিয়ে পোর্টে যাবার সময় এক্সিডেন্ট করে জেস ১। এবার জেস ১ ফিরে যায় আবার প্রোমদতরীতে। ঠিক এই জন্য মুভির শুরুতে জেস কে আমরা চিন্তিত দেখি। জেস ১ ফিরে যায় আবার সমুদ্রে ঝড়ের কবলে পড়ে, জাহাজে উঠে। তখন সে হয়ে যাবে জেস ৩। এইজন্য জেস জাহাজ দেখে বলে সে জায়গাটা চিনে। এভাবে লুপ চলতে থাকে।
★ফ্যাক্ট ৬ঃ মুভির শেষ পার্ট এ দেখানো হয়ে থাকে যে একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার আসে। আসলে ট্যাক্সি ড্রাইভার হল মৃত্যু। সে তাকে তার সাথে নিয়ে যেতে চায়, কিন্তু জেস তাকে বলে পোর্টে নিয়ে যেতে কারণ সে চায় সবাইকে বাচিয়ে ফিরতে। আর এইজন্য ট্যাক্সি ড্রাইভার ও তাকে এই পানিশমেন্ট দিতে থাকে, কারণ যে মরে যায় তাকে তার ফিরানো যায় না। এখন কথা হল জেস ১ কেন জেস ৪ কে মেরে ফেলে। কারণ হল জেস ৪ জেস এ প্রতিবন্ধী ছেলেকে মেরে ফেলে তখন সময় ছিল ৮ টা ১৭ মিনিট। জেস ১ চায় ছেলেকে বাচিয়ে ফিরতে কিন্তু মৃত্যু তো অবধারিত। এইটা মেনে নিতে না পারার জন্য জেস লুপে ফিরে যায়, আর বারবার লুপ চলতে থাকে।
আশা করছি এখন সবাই বুঝতে পেরেছেন। সব জট ক্লিয়ার হয়ে গেছে 🙂 ধন্যবাদ।

(Visited 2,484 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. Boh Em Ian says:

    ব্যাখ্যার সব পয়েন্ট এর সাথে একমত না

  2. ভালো সিনেমা। তবে এইখানে মূলত জ্বিনদের আছড় ছিলো। জ্বিনদের ইশারাতেই এই মেয়ে বার বার একই যায়গায় যায়।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন