Timecrimes (2007) – টাইম ট্রাভেল লুপ হোলের অপর নাম

———-প্লট———

টাইম ট্রাভেলের নাম শুনলেই এই সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। এর মানে, টাইম ট্রাভেল হচ্ছে এমন একটা মাধ্যম যা দ্বারা আমরা অতীত ও ভবিষ্যতে যেতে পারি। আলবার্ট আইন্সটাইন বলেছেন আলোর গতি সর্বাধিক। সেকেন্ডে ৩০কোটি মিটার। গতিটি অনেক বেশি বলে একে সর্বাধিক ধরা হয়। সকল বিজ্ঞানীরা এর সাথে একমত। কিন্তু তাই বলে কি এই গতিতে গেলে টাইম ট্রাভেল করা সম্ভব? হ্যাঁ। বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এর মতে সম্ভব। অর্থাৎ তার মতে, আমরা যদি আলোর গতিতে যেতে পারি তবে ভবিষ্যতে এবং অতীতে যখন ইচ্ছা যেতে পারবো।সময় হচ্ছে আমরা যা দেখি, দেখেছিলাম, দেখব যা করি করেছিলাম, করি , করবো। কিন্তু এই সময়ের কোনো অস্তিত্ত্ব নেই। অস্তিত্ব রয়েছে শুধু কাজের।

তো ব্যাপারটা হল আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানে থিওরিটিক্যালি টাইম ট্রাভেলিং (সময় ভ্রমণ) পসিবল। থিওরি অফ রিলেটিভিটিতে বলা আছে কেউ যদি অনেক দূরের কোন গ্রহ বা নক্ষত্রে আলোর কাছাকাছি বেগে ভ্রমণ করে তবে সে কয়েকশো বছর ভবিষ্যতে যেতে পারে আর এতে মাত্র কয়েক বছর ব্যয় হবে। সো বলাই যায় যে ভবিষ্যতে ভ্রমণ করা থিওরিটিক্যালি পসিবল!!! কিন্তু অতীত? আমি যদি এখন ৯০ এর দশকে ফিরে যাই; তার মানে এই হবে যে আমি আমার অতীতে ফিরে যাব! কিন্তু যদি ৮০-র দশকে যাই? তবে কি হল? ওই টাইমে তো আমার জন্মই হয় নি !!! বেশ মজার তাই না?

টাইম ট্র্যাভেল বা প্যারালাল ইউনিভার্স নিয়ে মুভি গুলা আসলে কিছুটা জটিল। সাথে রয়েছে বেশ কিছু জটিল প্যাঁচ, এক মুহূর্ত এদিক সেদিক হলে মুভির সাথে তাল মিলাতে বেশ সমস্যা হবে। ডনি ডার্কো, প্রিডেস্টিনেশন তার অন্যতম উদাহরণ। আজ আলোচনা করব আর এক টাইম ট্রাভেল মুভি ‘টাইমক্রাইমস(২০০৭)’ নিয়ে।

———– কাহিনী সংক্ষেপ ———-

হেক্টর বাড়ির কাজের জন্য দরকারি জিনিস পত্র নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে এবং তার স্ত্রীকে ডাক দেয়। জিনিস বুঝিয়ে দিয়ে উপরে চলে যায় শোবার জন্য। হুট করে একটি ফোন আসে কিন্তু কেউ কথা বলে না। এরপর হেক্টর বাড়ির উঠানে বসে বাইনোকুলার দিয়ে পাশের বনে নগ্ন মেয়ে দেখতে পায়।images মেয়েটির খোঁজে গিয়ে দেখে মেয়েটি নগ্ন অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে আছে। কিন্তু হঠাৎ করে পিছন থেকে মুখে রক্তাক্ত ব্যান্ডেজ বাধা কেউ একজন তাকে কাঁচি দিয়ে হাতে আঘাত করে। হেক্টর পালিয়ে পাশের এক বিল্ডিং এর ল্যাবরেটরি রুমে চলে যায়। সে ফোনে এক সাইন্টিস্ট এর সাথে যোগাযোগ করতে পারে, যে কিনা তাকে ওই ব্যান্ডেজ বাধা মানুষ এর ব্যাপারে বলে এবং সাইন্টিস্ট এর কাছে চলে আসার জন্য বলে। দ্রুত সে সাইন্টিস্ট এর কাছে চলে। সাইন্টিস্ট তাকে একটা ট্যাংক এর মধ্যে প্রবেশ করতে বলে, যাতে সে ওই ব্যান্ডেজ বাধা মানুষটি থেকে সে পালাতে পারে। কিন্তু ট্যাংক তো না ঐটা, আসলে ট্যাংক টি ছিল একটি টাইম ট্র্যাভেল মেশিন। মেশিন থেকে বের হবার পর হেক্টর আবিস্কার করে সে এখন আর আগের সে নেই, সে চলে গেছে এক ঘণ্টা পিছনে। দূর থেকে তার বাড়িতে নিজেকে কে বসে থাকতে দেখে সে। তারপর কি হল? বাকিটা মুভিতে দেখুন 😉

➔ ডাউনলোড লিংকঃ ক্লিক করুণ

▬▬▬▬▬▬▬▬▬★স্পয়লার এলার্ট★▬▬▬▬▬▬▬▬▬

এই অংশটি শুধুমাত্র যারা মুভিটি বুঝে নি বা আগেই দেখে ফেলেছেন তাদের জন্য। এখানে লুপ হোলগুলো বুঝিয়ে বলা হলঃ

মুভি ফ্যাক্ট ১ঃ হেক্টর ১ আগের নিয়মে ওই টাইম ট্র্যাভেল মেশিনে চলে যায় এবং হেক্টর ২ সাইন্টিস্ট কে বলে তাকে আবার আগের মত নিয়ে যেতে, কিন্তু সাইন্টিস্ট গড়িমসি শুরু করে। পড়ে সে জানায় হেক্টর ৩ তাকে এটা একেবারে বন্ধ করে দিতে বলেছে। হ্যাঁ হেক্টর ৩ কারণ হেক্টর ২ প্রথম নয় যে এই টাইম ট্র্যাভেল মেশিনে ঢুকেছে। সবার আগে এসেছিল হেক্টর ৩, যে মুভির শুরুতে হেক্টর ২ কে আঘাত করে।

timecrimes2

মুভি ফ্যাক্ট ২ঃ মুভিতে প্রথমে যে মেয়েকে মেরে ফেলে হেক্টর ২, সে ভাবে ওইটা ছিল তার স্ত্রী। যদিও সে স্ত্রী ছিলো না, ছিলো বনে দেখা সেই মেয়েটি।960

মুভি ফ্যাক্ট ৩ঃ হেক্টর ২ আবার মেশিনে প্রবেশ করে। এবার বের হবার পর সে নিজেকে হেক্টর ৩ হিসেবে পরিচয় দেয় এবং বলে মেশিনে হেক্টর ২ আছে যে সাইন্টিস্টকে সব বলবে। হেক্টর ৩ আড়ালে লুকিয়ে থাকে এবং হেক্টর ২ বের হয়। হেক্টর ২ যে রুপে বের হয় সেটা হল একেবারে প্রথমে যে হেক্টর ট্যাংকে ঢোকে সেই হেক্টর। ট্যাংক থেকে বের হয়ে যে হেক্টর ২ হিসাবে মুভি রোল প্লে করে।timecrimes_2007_3b

মুভি ফ্যাক্ট ৪ঃ শেষেদিকে চলে মুভির সব ঘটনার পুনরাবৃত্তি। হেক্টর ৩ চলে যায় তার স্ত্রীর কাছে, হেক্টর ২ মেশিন থেকে বের হয়ে চলে যায় সি প্রোগ্রামিং এর মত লুপ করতে অর্থাৎ হেক্টর ১ এর কাছে যে কিনা উঠানে বসে বনের মধ্যে নগ্ন হয়ে থাকা মেয়েকে দেখবে এবং আবার হাতে আঘাত পেয়ে এই মেশিনে ফিরে আসবে এবং হেক্টর ২ বের হবে এবং বর্তমান হেক্টর ২ হয়ে যাবে হেক্টর ৩ এবং হেক্টর ১ নামে আবার সেম ক্যারেকটারের সৃষ্টি হবে। এই প্রক্রিয়া বা লুপ চলতে থাকবে মানে হেক্টর ৪,৫,৬,…………… ইনফিনিটি পর্যন্ত আসতে থাকবে।

মুভি এন্ডিংঃ মুভির সাথে নামের যথেষ্ট মিল আছে। কারণ হল মুভিতে একই ব্যক্তির যখন দুটি সত্ত্বা একত্রে মিলে যায় তখনই শুরু হয় ঘটনার কন্সিকুয়েন্স। একটি পাপ ঢাকার জন্য আর একটি পাপ। পাপ এবং হেক্টরের লুপ চলতেই থাকবে চলতেই থাকবে। মুভির এন্ডিং টা হল নিজের পূর্ব জীবন ফিরে পাবার জন্য সে বনে পাওয়া মেয়েটিকে হত্যা করে, তাও তার অন্য সত্ত্বার সাহায্য নিয়ে।

ভাই, মাথা হ্যাং হইয়া গেছে? খতম করার আগে, একটা সমস্যার কথা বলে শেষ করছি এই বোরিং পোস্ট।

“ত্রিভুজ সমস্যা” নামে আমরা যাকে জানি। সময়কে একটি ত্রিভুজ হিসাবে ধরে নিন। তিনটি বিন্দু অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ। আপনি যদি অতীতে যান তবে সেটাই আপনার বর্তমান আর ভবিষ্যতে গেলেও তাই। তাহলে বাকী দুটি বিন্দুকে কিভাবে এক্সপ্লেইন করবেন???

(Visited 453 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন