হারিয়ে যাওয়া চার ব্যান্ডের সেরা চার গান
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

৯০ এর দশকে ব্যান্ড মানে ছিলো এল.আর.বি, মাইলস, প্রমিথিউস, নগর বাউল, ফীডব্যাক, আর্ক। নাম বলতে গেলে এদের নামই ঘুরে ফিরে চলে আসত। কিন্তু কিছু গান ছিলো যা এই ব্যান্ডের গানগুলো থেকে খুব আলাদাভাবে ফ্যানবেস ও ক্রেজ সৃষ্টি করতে পেরেছিল। এর মাঝে আছে পেপার রাইম, ডিফারেন্ট টাচ, স্টীলার, অবসকিউর।

পেপার রাইমের কথা বলতে গেলেই প্রথমের চলে আসে তাদের সেরা সৃষ্টি “নিকশ কালো”। ছ্যাক খাবার পর এই গান শুনে নাই এমন মানুষ খুব কম আছে (যারা ছ্যাক খায়নি কিন্তু কষ্টে ছিলো তারাও শুনেছে :P) অসাধারণ লিরিক্সের সাথে অসাধারণ এক টিউন।hqdefault

নিকশ কালো গানের পিছনে ছিল এক বিশাল ইতিহাস, আসলে কত বড় কষ্ট পেলে এমন লিরিক্স বের হয়ে আসে তা এই ইতিহাস না জানলে বোঝা যাবে না।

গানটির রচয়িতা, গীতিকার সুরকার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েরএক ছাত্র । ৫ বছর ধরে একটি মেয়ের সাথে ছেলেটির সম্পর্ক ছিল। কী এক অজানা কারণে মেয়েটি ছেলেটিকে ছেড়ে আর একজনের সাথে সম্পর্ক করে।এতে সেই ছেলেটি অনেক দুঃখ পেয়ে একটি গান রচনা করে, এবং সেই গানটি মেয়েটিকে উৎসর্গ করে।তারপর অনেক কষ্ট পেয়ে ছেলেটি আত্মহত্যা করে।
গানটি শোনার পর মেয়েটি যখন ছেলেটির সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে যে, ছেলেটি তার জন্যই আত্মহত্যা করেছে, তখন মেয়েটি নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে এর জন্য দোষী ভেবে সেও আত্মহত্যা করে। আবার ঐ মেয়েটির সাথে তখন যে ছেলেটির সম্পর্ক চলছিল সেও মেয়েটির আত্মহত্যার কথা শুনে থাকতে না পেরে সেও আত্মহত্যা করে।

শিল্পীঃ আহমেদ সাদ
ব্যান্ডঃ পেপার রাইম
এ্যালবামঃ পেপার রাইম
সুরকারঃ তানভীর জামান
গীতিকারঃ তানভীর জামান
বছরঃ ১৯৯৬
লিংকঃ 

✪ এরপর বলব চট্টগ্রামের আর একটি ব্যান্ড স্টিলার কথা। আপনার বর্তমানে স্টিলার নামে যে ব্যান্ড দেখতে পান সেটা আসল স্টিলার নয়। এই ব্যান্ডের কোন মেম্বার আজ পর্যন্ত মিডিয়ার সামনে আসে নি। একটি ক্যাসেট রিলিজ দিয়েছিলো তারা। এ্যালবামের নাম “মা”, সেখানে ছিলো এক অসাধরণ গান “তোমার চোখের আঙ্গিনায়”। আমার অন্যতম সেরা পছন্দের একটি গানের মাঝে আছে এই গানটি। স্টিলার ব্যান্ডটি মুলত উঠে আসে বেনসন এন্ড হেজেস স্টার সার্চ এর মাধ্যমে। সেখানের উইনার ছিলো তারা, কিন্তু পরে তাদের আর কোন কার্যকলাপ দেখা যায়নি।

শিল্পীঃ লিটন
ব্যান্ডঃ স্টিলার
এ্যালবামঃ মা
লিংকঃ 

ডিফারেন্ট টাচ এর কথা বলতে গেলে আমি কিছুই জানি না , যা জানি ত হল ” নব্বই এর দশকে বাংলা ব্যান্ড অঙ্গনে ডিফারেন্ট টাচ এর আবির্ভাব। সোলস,ফীডব্যাক এর মত ব্যান্ডের অনুপ্রেরণায় শুরু হয় তাদের পথচলা।

images (1)
তাদের গানের ধারা হচ্ছে মেলো রক, সফট রক, ফোক ফিউশন আর সেমি ক্ল্যাসিক্যাল গান। এইধারার গানে শ্রোতাদের কাছে খুব দ্রুতই পরিচিতি পেয়ে যায় ‘ডিফারেন্ট টাচ’। প্রথম এলবামে তারা সাফল্যও পেয়েছে। কিন্তু এর মাত্র কয়েক বছর পরেই থেমে যায় ‘ডিফারেন্ট টাচ’ এর গান। ব্যাক্তিগত কারনে সদস্যরা দল ত্যাগ করেন।তবে দীর্ঘ বিরতির পরে তারা আবার ‘ডিফারেন্ট টাচ’ এ ফিরে এসেছেন। বর্তমানে ‘ডিফারেন্ট টাচ’ এর লিড ভোকালিস্ট মেসবা এবং গিটারিস্ট পিয়াল। ডিফারেন্ট টাচ এর কালজয়ী গান হল “শ্রাবনের মেঘগুলো জড় হল আকাশে”। এই গান শোনেনি এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। ৯০ এর দশকে এমন বাংলা ব্যান্ডের গান সত্যি ভাবা যায় না।

শিল্পীঃ মেসবাহ
ব্যান্ডঃ ডিফারেন্ট টাচ
এ্যালবামঃ ডিফারেন্ট টাচ
লিংকঃ 

অবসকিউর আসা যাওয়ার মাঝে থাকা এই ব্যান্ড এখন বিলুপ্ত প্রায়। লিড ভোকালিস্ট টিপুর গাওয়া “মাঝ রাতে চাঁদ যদি আলো না বিলায়” গানটি দিয়ে মূলত টাইম লাইনে চলে আসে ব্যান্ডটি।

images

অবসকিউর বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতের ইতিহাসের অন্যতম একটি ব্যান্ড। আশির দশকে সাইদ হাসান টিপু এই ব্যান্ডটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। ১৯৮৫ সালের ১৫ মার্চ খুলনায় অবসকিউর প্রতিষ্ঠা করেন টিপু। আশির দশকে সারগাম স্টুডিও থেকে অবসকিউরের প্রথম অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। ১৯৮৬ সালের সেই সেলফ টাইটেল প্রথম অবসকিওর ভলিউম ১ ব্যান্ডের অ্যালবাম বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের ইতিহাসে চিরঠাই করে নেয়। সেই অ্যালবামের আলোচিত ১২ টি গানের মধ্যে অন্যতম হল “মাঝরাতে চাঁদ”, “ভণ্ড বাবা”, “মমতায় চেয়ে থাকা” ইত্যাদি। ১৯৯০ সালে বের হয় ২য় অ্যালবাম, সেটিও ছিল সেলফ টাইটেলড । এই অ্যালবামে “তুমি ছিলে কাল রাতে”, “আধার ঘেরা স্বপ্ন”, “সন্ধ্যা আকাশ” গান আলোচিত জয়। ৯৩/৯৪ সালে প্রকাশিত হয় রকিং ঘরণার অ্যালবাম স্বপ্নচারিণী। এ পর্যন্ত ৯ টি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে অবসকিওরের। সর্বশেষ প্রকাশিত হয় “অবসকিওর ও বাংলাদেশ”। নব্বই দশকের মাঝ থেকেই অবসকিওরের সংগীত আয়োজন হারিয়ে যায়। ২০০৭ সালে আবারও গানের মঞ্চে আসে অবসকিউর।

শিল্পীঃ টিপু
অ্যালবামঃ অবসকিউর
ব্যান্ডঃ অবসকিউর
লিংকঃ 


এই পোস্টটিতে ২ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. এইটা তো একটু আগে এখানে দেখলাম। বেশ ভালো একটা মিউজিক গ্রুপ।

    https://www.facebook.com/groups/1674209762829262/

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন