The Bridge on the River Kwai

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রথম আগ্রাসী ভুমিকা পালন করে জাপান, ১৯৩১ সালে জাপান চীনের মাঞ্চুরিয়া এবং ১৯৩৭ সালে চীনের মূল ভুখন্ড দখল করে। এরপর জার্মানের ঐতিহ্য রক্ষায় এবং পুরো বিশ্বের অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনার জন্য জার্মানী ও জাপানের সাথে যোগদান করে। ১৯৪০ সালেই জুলাই মাসে ব্রিটেনের উপর ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় এবং জাপান পার্ল হার্বারে তখন পর্যন্ত যুদ্ধের বাইরে থাকা মার্কিন ঘাটি আক্রমন করে। এরপর সিঙ্গাপুর আক্রমন করে এবং এতে বিপুল পরিমান ব্রিটিশ সৈন্যকে যুদ্ধবন্দী করে জাপানে নিয়ে আসা হয়। এখান থেকেই সৃষ্টি হয় ১৯৫৭ সালের অস্কার প্রাপ্ত মুভি “দ্য ব্রিজ অন দ্য রিভার কাওয়াই” এর প্লট। জেনে নেয়া যাক এই মুভি এবং মুভির কিছু অজানা তথ্য।

★মুভিঃ দ্য ব্রিজ অন দ্য রিভার কাওয়াই(১৯৫৭)

★অভিনয়ঃ উইলিয়াম হোলডেন, এলেক গিনিস, ঝ্যাক হকিন্স, সেস্যু হাওয়াক

★মুভির ধরনঃ War Drama

★মূল উৎসঃ পিয়েরে বুলে (মূল উপন্যাস)

★পরিচালকঃ ডেভিড লিন

★প্রযোজনাঃ স্যাম স্পিগেল

★চিত্রনাট্যঃ মাইকেল উইলসন, কার্ল ফোরম্যান

★সঙ্গীতঃ ম্যালকোলম আর্নল্ড

★চিত্রগ্রহণঃ জ্যাক হিল্ডার্ড

★সম্পাদনাঃ পিটার টেইলর

★স্টুডিওঃ হরাইজন পিকচার্স

★রিলিজিং ডেটঃ ২ অক্টোবার, ১৯৫৭

★ভাষাঃ ইংরেজী

★দেশঃ USA & UK

★রানিং টাইমঃ ১৬১ মিনিট

★IMDb: 8.3/10

★Rotten Tomatoes: 94%

★My Rating: 9.5/10
10446323_10201997146168537_1315251664742763822_o

 কাহিনী সংক্ষেপ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বন্দী নির্যাতনের এক চমৎকার বিশ্লেষন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এ মুভিতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জাপান আধ্যুষিত থাইল্যান্ড এর বন্দী শিবিরে কর্ণেল সাইটোর (সেস্যু হাওয়াকে) সামনে ব্রিটিশ যুদ্ধবন্দীদের আনা হয়। কর্ণেল কাওয়াই নদীতে ব্রিজ তৈরির জন্যে আদেশ দেন।এই ব্রিজটি জাপানীদের যুদ্ধের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এটি থাইল্যান্ড ও মায়ানমারকে সংযুক্ত করেবে। ব্রিটিশ কমাণ্ডার কর্ণেল নিকোলসন (এলেক গিনিস) এতে আপত্তি জানান। তিনি জানান জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী কোন বন্দী অফিসার শারীরিক শ্রম দিতে বাধ্য নয়। ফলশ্রুতিতে নিকোলাসকে বন্দী করা হয় এবং কর্ণেল সাইটো তাকে “ওভেনে (টিনের ছোট বক্স বিশেষ)” লকড করে রাখেন, খাদ্য এবং পানি ছাড়া। এদিকে সৈন্যদের দিয়ে জোরপুর্বক কাজ করানো হতে থাকে এবং সৈন্যরা ইচ্ছা করে কাজ দেরীতে করতে থাকে। রুশ-জাপান যুদ্ধের বিজয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সাইটো নিকোলাসকে মুক্ত করে দেয় এবং তার উপর দায়িত্ব দেয় ব্রিজটি তৈরী করার জন্য। তার ইচ্ছা ছিলো ব্রিটিশরাই ব্রিজটি নির্মান করবে। কর্ণেল নিকোলাস কাওয়াই নদীর উপর পুর্নাঙ্গ ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু করেন।

এরমাঝে বন্দী শিবির থেকে মার্কিন কমান্ডার শোয়ারেজ (উইলিয়াম হোলডেন) পালাতে সক্ষম হয় এবং তিনি জানতে পারেন ব্রিটিশরাই ব্রিজটি নির্মান করবে। তিনি ব্রিজটি ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেন!!!!!!!

এরপর কি হয়????? আদৌ কি তিনি পেরেছিলেন ব্রিজটি ধ্বংস করতে!!!!!!!! উত্তার জানতে চাইলে দেখে ফেলুন ১৯৫৭ সালে সাতটি ক্যাটেগরিতে অস্কার জয়ী মুভি “দ্য ব্রিজ অন দ্য রিভার কাওয়াই”।
bridge-on-the-river-kwai1

╚»★ভালো লাগার দিক★«╝

এ মুভি যেই দেখবেন তারই ভালো লাগবে। এর নির্মান শৈলী দেখে আপনি আসলেই অবাক হবেন। এখনের মত এত প্রযুক্তি নির্ভর নাহলেও এতো ভালো মুভি তখন তৈরী করা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র কলাকুশলী এবং এদের আন্তরিক পরিশ্রমের জন্য।

আমি মুভিটি প্রথম দেখি ছোটবেলায় কোন এক শুক্রবার সকাল ১০ টায় বিটিভিতে। তখন বিটিভিতে ইংরেজি মুভি দেখাতো। সাদাকালো টিভিতে সাদাকালো মুভি আসলেই এক অদ্ভুদ ভালোলাগা কাজ করছিলো। মুভিতে বন্দীদের উপর নির্যাতন এতো নিখুতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে যা তখনই আমার মনে নাড়া দিয়েছিল। সেই নাড়া দেওয়া এখনো কাজ করে যখন দেখি মুভিটা।
এক কথায় মাস্টারপিস 🙂1409340511824_wps_21_ARRF4E_BRIDGE_ON_THE_RIVE

╚»★মুভি সংক্রান্ত কিছু তথ্য★«╝

•►মুভিটি ১৯৫২ সালে পিয়ের বুলের রচিত ফরাসি উপন্যাস “The Bridge over the River Kwai” এর উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। মুভিটি দেখলে মনে হবে এটি কোন সত্য ঘটান নিয়ে লেখা, তার কারন লেখক পিয়ের বুল তার নিজের জীবনের কিছু বাস্তবতা নিয়ে লিখেছিলেন বইটি কারণ পিয়ের বুল নিজেই একজন যুদ্ধবন্দী ছিলেন।

•►চিত্রনাট্যকার মাইকেল উইলসন ও কার্ল ফোরম্যান ছিলেন কমিউনিস্ট সন্দেহভূক্ত। ফলে চিত্রনাট্যকার হিসাবে তাদের নাম ছবিতে দেয়া হয়নি। ফলে পিয়েরে ব্যুলে চিত্রনাট্য রূপান্তরের জন্য অস্কার পেয়ে যান। যদিও তিনি চিত্রনাট্য লেখেননি। ১৯৮৪ সালে কর্তৃপক্ষ মাইকেল উইলসন ও কার্ল ফোরম্যানকে স্বীকৃতি দেয়। পরে ছবিতে তাদের নাম সংযোজন করা হয়।

•►পরিচালক ডেভিড লিন ১৯৫৭ সালে এ ছবির পুরো শুটিং করেন শ্রীলঙ্কায়।

•►মুভিতে আমাদের কাওয়াই হিসাবে যে নদীটি দেখানো হয়েছে সেটি আসলে শ্রীলঙ্কার চতুর্থ দীর্ঘতম নদী কেলানি। আসল কাওয়াই নদীতে শুটিং হয়নি।

•►শুটিং চলাকালে ডেভিড লিন নদীতে ডুবে যাচ্ছিলেন। জিডফ্রি হর্ন তার জীবন বাঁচিয়ে ছিলেন।

╚»★মুভির ঐতিহাসিক পটভূমি★«╝

•►মুভিটি পিয়েরে বুলের গল্প অবলম্বনে হলেও মুভিটির একটি ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে। পিয়েরে বুল তার বইটি লিখেছিলেন ১৯৪২ সালে ‘মৃত্যু রেলওয়ে’ নামে কুখ্যাত মিয়ানমার থেকে থাইল্যান্ড পর্জন্ত রেলপথ তৈরীর কাহিনী থেকে অনুপ্রেরনা নিয়ে।

•►৪১৫ কিলোমিটার বিপজ্জনক রেলপথ তৈরীর এ কাজে যুদ্ধবন্দীদের অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে কাজ করানো হত। তাতে প্রায় ১৬ হাজার যুদ্ধবন্দী মারা যায়।kwai-bridge-old_2704045c

•►রেললাইনের কাজ শেষ করার জন্য পাঁচ বছর সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু যুদ্ধবন্দীদের অতিরিক্ত খাটিয়ে মাত্র দেড় বছরেরও কম সময়ে লাইনটি চালু করা হয়।

•►মুভির শেষ দিকে যখন ব্রিজটি যেভাবে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে দেখানো হয়েছে বাস্তব কিন্তু এর থেকে আরো ভয়াবহ ছিল। মিত্র বাহিনীর গোলার আঘাতে ব্রিজটির তিনটি স্প্যান ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং ব্রিজের উপর সাহায্যের জন্য থাকা প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিক নদীতে পড়ে মারা যায়।

•►ব্রিজটি ধংসের মূল কারন ছিল জাপানের গোলা ও রসদ সরবরাহ বন্ধ করা।

╚»★বক্স অফিস ★«╝

মুভিটি ১৯৫৮ সালে সব থেকে ব্যবসা সফল মুভি হিসাবে ধরা হয়ে থাকে এবং USA তে $18,000,000 আয় করে।

╚»★পুরস্কার★«╝

•►অস্কারে ৭ টি ক্যাটেগরিতে পুরস্কার জিতে নেয় “দ্য ব্রিজ অন দ্য রিভার কাওয়াই” মুভিটি।

•►ব্রিটিশ অস্কার নামে পরিচিত বাফটা এওয়ার্ড পায় এ মুভি সেরা ব্রিটিশ চলচ্চিত্র হিসাবে।

╚»★কিছু বর্তমান তথ্য★«╝

•►মুভির শুটিং হয়েছিল শ্রীলংকার কেলানি নদীর পাশেই। সাম্প্রতি শ্রীলংকা সরকার উদ্যোগ নিয়েছেন কেনালি নদীর উপর রেপ্লিকা সেই ব্রিজটি আবার পুনরায় তৈরি করবে। “দ্য ব্রিজ অন দ্য রিভার কাওয়াই” এর সৃতি সরূপ এবং পর্যটন এর জন্য।

•►মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড সরকার সিধান্ত নিয়েছে এই ঐতিহাসিক রেলপথ আবার চালু করবে।RiverKwai001

### যারা যারা মুভিটি দেখেনি এখনো তাদের একটা কথাই বলব সময় বের করে হলেও একটি বার ঐতিহাসিক কাহিনী সমৃদ্ধ মুভিটি দেখবেন। আশা করি সাদাকালো ফ্রেম এর এই মুভিটি আপনাকে কোন অংশেই নিরাশ করবে না। ধন্যবাদ সবাইকে।

ডাউনলোড লিঙ্কঃ ক্লিক করুন

 

(Visited 133 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ১টি মন্তব্য করা হয়েছে

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন