দ্যা ডেনিশ গার্লঃ ইতিহাসের দেয়াল ভাঙা একজন ট্রান্স-জেন্ডার
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

প্রচলিত সমাজে জেন্ডার বলতে দুই ধরনের জিনিসকেই বোঝায়- নারী এবং পুরুষ। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে দেখলে নারী-পুরুষের বাইরেও জেন্ডারের অস্তিত্ব আছে। এমন অনেক মেয়ে আছে যারা বাইরে থেকে দেখতে মেয়ের মতো কিন্তু ভেতরে ভেতরে নিজেকে পুরুষ হিসেবে ভাবে। পুরুষের জামা-কাপড় পড়ে থাকতে পছন্দ করে। পুরুষের সাজ-সজ্জা ধারণ করতে পছন্দ করে। আবার এমন অনেক পুরুষ আছে যারা বাইরে থেকে দেখতে পুরুষের মতো হলে ভেতরে ভেতরে মনে করে তারা আসলে নারী। নারীর পোশাক পড়তে পছন্দ করে, নারীর ধরন ও সাজসজ্জায় নিজেকে কল্পনা করতে পছন্দ করে। এই ধরনের জেন্ডারকে বলা হয় ‘ট্রান্স জেন্ডার’।

এই ধরনের চরিত্ররা সমাজের সর্বক্ষেত্রে প্রচলিত রীতি অনুসারে বিপরীত জেন্ডারের সাথে হয়তো জীবন যাপন ঠিকই করে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে একদমই শান্তি পায় না। যারা নিজেদের ভেতরের এই ব্যতিক্রমী এই বৈশিষ্ট্যটাকে নিজেদের শারীরিক ত্রুটি বলে ধরে নেয় তারা কেউ কেউ সহ্য করে আজন্ম অতৃপ্তির সাথে জীবন পার করে দেয় আবার কেউ কেউ নিজেদের বাহ্যিক নারী রূপ বা পুরুষ রূপের বাইরে গিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করে বলে পাগল (স্কিজোফ্র্যানিক) বলে বিবেচিত হয়। মন মানসিকতা নিজেকে নিজেকে নারী হিসেবে ভাবছে, মনে প্রাণে একজন পুরুষের সঙ্গ চাইছে কিন্তু বাইরের দৈহিক গঠন তাকে তার সমস্ত কিছু থেকে বাধা দিয়ে রেখেছে। এ যেন কষ্টের প্রাচীর দিয়ে তৈরি নিষ্ঠুর এক কারাগার। অন্য কারো শরীরে আটকে আছে নিজের মন।

খুব অল্প কেউ যদি মনে করে আসলে এটা তার মানসিক ত্রুটি নয়, সে ব্যতিক্রমী ট্রান্স-জেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত তাহলে চিকিৎসার মাধ্যমে নিজের লিঙ্গ (sex) পরিবর্তন করে নিতে পারে।

 

কিন্তু একটা সময় ছিল ট্রান্স জেন্ডারের এই ধারণাটাই ছিল না সমাজে। এই ধরনের আচরণ করা মানেই পাগল বলে বিবেচিত হওয়া। তবে যাই হোক, Someone have to break the spell- কাউকে না কাউকে তো সমাজের ধারণার দেয়াল ভাঙতেই হবে। ১৯৩০ এর দশকে প্রথম সার্জারির মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন করেন তখনকার নামকরা চিত্রকর Einar Wegene, পরবর্তীতে নিজের নাম রাখেন Lili Elbe। এই আইনার বা লিলির জীবন নিয়েই এই মুভিটি। তার জীবনের অবর্ণনীয় কষ্ট, সমাজের তৎকালীন প্রতিকূল পরিস্থিতি এমনকি ডাক্তারদেরও ক্ষতিকর অজ্ঞতা এবং সব বাধা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে নিজের ভেতরের আবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে যেভাবে এগিয়ে গিয়েছেন এবং সর্বশেষ ধাপে পৌঁছেছেন তা মনে দাগ কাটার মতো।

চিত্রঃ লিলি এলবে। যথাক্রমে ১৯২০ ও ১৯২৬ সালের ছবি।

তার উপর তার স্ত্রী, যিনি নিজেও চিত্রকর, যেভাবে সাহায্য, সমর্থন ও ত্যাগ করে গেছেন তাও উল্লেখ করার মতো। মুক্তভাবে চিন্তাভাবনার এই সমর্থন ও সাহায্য না হলে এতদূর আসা সম্ভব ছিল না। ইতিহাসে প্রথম লিঙ্গ পরিবর্তন করা এই ব্যক্তিটির জন্ম ডেনমার্কে, অর্থাৎ জাতিতে ডেনিশ। এই ডেনিশ থেকেই মুভির নাম হয়েছে ‘দ্যা ডেনিশ গার্ল’।

অসম্ভব সুন্দর একটা মুভি। সমাজের ট্যাবুকে ভাংতে এরকম মুভি খুবই দরকার। অসাধারণ অভিনয় সিনেমাটিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। ২০১৪ সালে স্টিফেন হকিংয়ের জীবনের উপর ভিত্তি করে নির্মিত The Theory of Everything এ অভিনয় করা Eddie Redmayne এখানে লিলির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। মনোবিজ্ঞান বা যৌনবিজ্ঞান নিয়ে যাদের আগ্রহ আছে তাদের জন্য হাইলি রিকমান্ডেড।

চিত্রঃ আইনার (লিলি)-এর স্ত্রী Gerda Gottlieb এর তুলিতে লিলি।

‪#‎হ্যাপি_ওয়াচিং ‪#‎ব্রেক_দ্যা_স্পেল। এটেনশন প্লিজ, মুভিটা একা একা দেখতে হবে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসে যাবেন না আবার! আর একটা কথা মুভিটা একদম শতভাগ সত্যি জীবনী নয়। কিছু এদিক সেদিক আছে।

 

ছবি ও তথ্যসূত্র

http://www.imdb.com/title/tt0810819/
https://en.wikipedia.org/wiki/The_Danish_Girl_(film)
https://en.wikipedia.org/wiki/Lili_Elbe
https://en.wikipedia.org/wiki/Sex_reassignment_surgery
https://en.wikipedia.org/wiki/Transgender

 

 

The Danish Girl (2015)
The Danish Girl poster Rating: 6.9/10 (27,937 votes)
Director: Tom Hooper
Writer: David Ebershoff (novel), Lucinda Coxon (screenplay)
Stars: Alicia Vikander, Eddie Redmayne, Tusse Silberg, Adrian Schiller
Runtime: 119 min
Rated: R
Genre: Biography, Drama, Romance
Released: 22 Jan 2016
Plot: A fictitious love story loosely inspired by the lives of Danish artists Lili Elbe and Gerda Wegener. Lili and Gerda's marriage and work evolve as they navigate Lili's groundbreaking journey as a transgender pioneer.

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন