ট্রানসেনডেন্স ২০১৪ : বাস্তবধর্মী সায়েন্স ফিকশন

সিনেমাটা সায়েন্স ফিকশন জনেরার। একটা ব্লগে কোনো একজনকে বলতে দেখেছিলাম ‘চাইলেই কেও সায়েন্স ফিকশন’ সিনেমা তৈরি করতে পারে না। আর এই সিনেমাটাকে বছরের সবচে বাজে ১০ টির একটি হিসেবে নির্বাচন করেছে।
কথাটা অবশ্যই সত্য, সিনেমা তৈরি করলেই সেটা ভাল সায়েন্স ফিকশন হয়ে যায় না। কিন্তু ব্লগার ওখানে যেভাবে বলেছিল তাতে মনে হয় সত্যিকারের সায়েন্সফিকশন হচ্ছে স্টার ওয়ার, ট্রান্সফরমার্স, স্ট্রার ট্রেক, গার্ডিয়ানস অব দা গ্যালাক্সি ইত্যাদি।
সায়েন্স ফিকশন হতে হলে কি কিম্ভুতকিমাকার প্রাণী, অত্যাধুনিক অস্ত্র-সস্ত্র, রবোটিক ফাইটিং, মহাকাশ, মহাকাশ যান ইত্যাদি থাকতেই হবে? আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি এইসব ব্যাপারই সায়েন্স ফিকশনকে ফ্যান্টাসির দিকে নিয়ে যায়। মাঝে মাঝে নিয়ে যায় হররের দিকে।
সাত্যিকারের বাস্তবধর্মী সায়েন্স ফিকশন তো এগুলোই। বিজ্ঞানের একটা আবিষ্কার, আর এই আবিষ্কারের পেছনে রাজনৈতিক কারণ। একদল বিজ্ঞানী চাইবে এটাকে প্রতিষ্ঠিত করতে আরেকদল চাইবে এর ক্ষতি আছে বলে একে থামাতে। না থামলে পৃথিবী রক্ষার জন্য দরকারে কিছুটা অন্যায়ের পথ বেঁছে নিবে।
আর অন্যদিকে আইডিয়া প্রদানকারী দল দেখবে এটাতেই আছে পৃথিবীর উন্নতি। দরকারে জীবন দিয়ে হলেও পৃথিবীর উন্নয়ন করে যাবে। প্রত্যেকের অবস্থান থেকে প্রত্যেকে সঠিক। এ নিয়ে মনস্তাত্বিক দোটানা।

সায়েন্স ফিকশন হতে গেলে ফাইট, যুদ্ধ, রোবট, স্পেস শিপ লাগবে কেন?
ট্রানসেনডেন্স সিনেমাতে প্রাণের একটা বিশেষ অবস্থা দেখানো হয়েছে। প্রাণ থাকবে ধুলোবালির মতো, তরঙ্গের মতো বিস্তৃত। এই ধরনের প্রাণের কথা দূর ভবিষ্যতের প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়। একটি গ্রহ যে নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরে তার জ্বালানী শেষ হয়ে গেলে মানে শক্তির সরবারহ শেষ হয়ে গেলে অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার তাগিদেই নিজেদেরকে এমনভাবে পরিবর্তিত করা দরকার যাতে বেঁচে থাকতে বেশি শক্তির খরচ না হয়। অল্পতেই যেন চলে যায়। আর সেই কাজটাই করতে পারে প্রাণকে যদি এমন কিছুতে রূপান্তরিত করে ফেলা যায়। হাজার হাজার বছরেও হয়তো সেটা পারা যাবে না, কিন্তু সময় আছে কোটি কোটি বছর। এই সময়ের ভেতর প্রযুক্তিটা আয়ত্ব করে নিলেই অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে না ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন বছর। আর হুট করে এমন হলে সাধারণ মানুষের সাথে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে সেটার চিত্রায়ন এখানে করা হয়েছে।
যাহোক ‘ট্রানসেনডেন্স’ সিনেমাগুলোকেই বলবো বাস্তবধর্মী সিনেমা। জনি ডেপকে স্ট্রেঞ্জ, বা অদ্ভুত ধাঁচের চরিত্রেই ভাল লাগে। যেমন পাইরেটস অব দা কেরিবিয়ান কিংবা দা লোন রেঞ্জার এ যেমন দেখিয়েছে। এই সিনেমায় জনি ডেপ শতভাগ পারফেক্ট হয়েছে এই কথা বলবো না। তবে খারাপ হয়নি।


আর সিনেমায় জনি ডেপের স্ত্রী, একজন নারী বিজ্ঞানীর চলাফেরা, পোশাক আশাক, কর্মপদ্ধতি ভালভাবেই ওঠে এসেছে। যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে একদমই নারী বিজ্ঞানী বলে মনে হয়।

“এমন একটা পৃথিবীর স্বপ্ন যেখানে যেকোনো নদী থেকে সবাই বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারবে।”
“এমন একটা পৃথিবীর স্বপ্ন যেখানে পরিবেশ নিজেই সারিয়ে নিবে নিজেকে। হবে না কোনো দূষণ, বন-বাদার গাছগুলো বেড়ে ওঠবে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই।”
“এমন একটা পৃথিবীর স্বপ্ন যেখানে হবে না কোনো রোগ। চিকিৎসার মতো থাকবে না কিছু।”

Transcendence (2014)
Transcendence poster Rating: 6.3/10 (133,158 votes)
Director: Wally Pfister
Writer: Jack Paglen
Stars: Johnny Depp, Rebecca Hall, Paul Bettany, Cillian Murphy
Runtime: 119 min
Rated: PG-13
Genre: Drama, Mystery, Sci-Fi
Released: 18 Apr 2014
Plot: A scientist's drive for artificial intelligence, takes on dangerous implications when his consciousness is uploaded into one such program.

(Visited 157 time, 1 visit today)

এই পোস্টটিতে ৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. এইটি আমার দেখা অন্যতম সায়েন্স ফিকশন । এইটা যদি সায়েন্স ফিকশন্স না হয় তবে জুলবান অন্যতম সেরা গাঁজাখোরি ছাড়া কিছু না । যে সব বলদা সায়েন্স ফিকশন বুঝেনা তারা বলবে এটি অন্যতম বাজে সায়েন্স ফিকশন্স মুভি । এইখানে যা দেখানো হয়েছে তা আগামী দিনে নতুন প্রযুক্তি এবং তা অবশ্যই সম্ভব ।

  2. Bootable Ishraque says:

    অবশেষে একটা ভালো মুভির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শিত একটা পোস্ট।

    Good Job

  3. সব নার্ডদের খ্যাতা কিলাই। আমার দেখা সেরা Sci-Fi এর মধ্যে এটি একটিঃ ৯/১০।
    বাংলায় সাকিব/জলিলরে পচানো যেমন একটা ট্রেন্ড, হলিউডে ডেপ সেই ট্রেন্ডের শিকার।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন