The Fountain (2006) অমরত্ব কে কাছে পাবার এক অন্তিম স্পৃহা

মুভি রিভিউ: The Fountain (2006)

 

Genre: Drama | Romance | Sci-Fi

 

IMDb rating: 7.3/10 (আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল)

My rating: 8.5/10

IMDb Link: http://www.imdb.com/title/tt0414993/

urlgfcgf

 

মুভিটা কিছুক্ষণ আগে শেষ করলাম, আমার এই ক্ষীণ মস্তিষ্ক নিয়ে এই রকম মুভি একবার দেখে সাথে সাথেই আবার লিখতে বসলাম। মুভিটা কতটুকু বুঝতে পেরেছি জানি না, তবে যতটুকু বুঝতে পেরেছি, কিছু শেয়ার করার চেষ্টা করেছি মাত্র। লেখার স্পর্ধা করা বেমানান, তাই মাত্র চেষ্টা, গুরুজনরা যা করেন আরকি 😛

 

মৃত্যু !!!! মৃত্যু !!!! মৃত্যু !!!! মৃত্যু !!!! মৃত্যু !!!! মৃত্যু !!!! শব্দটা যেমন ভয়ংকর, গ্রহন করাটা যেমন বিষাদময়, আর কাছের সবচেয়ে প্রিও আর ভালোবাসার মানুষটাকে সেই স্বাদ গ্রহন করতে দেখাটা ওই মানুষটার কাছে না যতটা যন্ত্রণার, নিজের কাছে ঠিক তার চেয়ে হাজার গুন আক্ষেপের একটা বিষয়। আপনি মারা যাবেন, জানেন এটা, কিন্তু কবে ?? জানেন না। কিন্তু আপনার কাছের মানুষটি, ভালোবাসার মানুষটি, যার স্বপ্নে বিভোর আপনি, সে যদি আর কিছুদিন পর চলে যায় এই মায়াময় পৃথিবী ছেড়ে, আপনি কি করবেন ?? চাইবেন কি তাকে দিতে চলে না ফেরার দেশে ? নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে পারবেন কি তাকে বাঁচাতে? তাকে সেই মৃত্যু নামক মরীচিকা থেকে উদ্ধার করতে ??? হ্যাঁ চেষ্টা করবেন। কিন্তু কতটা ?? কিভাবে ??

 

এইখানেই প্রশ্ন আসে অমরত্ব নামক ধূসর বালিময় বৃষ্টিকনা। হয়তো মনে হবে, যদি পেতাম, হয়তো পেয়ে যাবো, পেতে হবে আমাকে সেই সোনার হরিণ যার নাম অমরত্ব, যতই বালিময় বৃষ্টিকনা আপনাকে ঘিরে রাখুক, আপনি চাইবেন সেই অমরত্ব কে ছুঁতে, পেতে, গ্রহন করতে। কিন্তু আদৌ কি সম্ভব? এইখানে আপনাকে দেখতে হবে মুভিটা, আবেগ কাজ না করলে আপনি জানেন আপনি পাবেন না সেই অমরত্ব, কিন্তু আবেগের মুহূর্তে আপনাকে কে বোঝাবে? আপনি চেষ্টা করেই যাবেন সেই অমরত্ব নামক সেই সোনার হরিণের জন্য।

 

মুভিটাতে ৩টা ঘটনা কে প্যারালালি দেখানো হয়েছে। অতীত, যেটার সময়কাল ষোড়শ শতাব্দী। বর্তমান, সময়কাল বর্তমান মানে ২০০৫ এর। ভবিষ্যৎ, যার সময়কাল পঞ্চবিংশ শতাব্দী। তিনটা ঘটনারই মুল চরিত্র এক তবে স্থান কাল পাত্র ভিন্ন।

 

ঘটনা ১: বর্তমান – সময়কাল ২০০৫

Tom একজন অনেক বড় স্নায়ুবৈজ্ঞানিক, তার স্ত্রী Izzi। যাকে সে নিজের জীবনের চেয়েও অনেল বেশি ভালোবাসে। কিন্তু Izzi র ব্রেইন টিউমার, সে আর বেশিদিন বাঁচবে না। টম সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছে তার স্ত্রী কে বাঁচাতে। সে দক্ষিণ আমেরিকায় আবিষ্কৃত একটি রহস্যময় গাছের সাহায্য নিয়ে একটি ওষুধ আবিস্কারের চেষ্টা করছে, যাতে সে Izzi কে বাঁচাতে পারে, এমনকি দিতে পারে অমরত্ব। মৃত্যুকে জয় করতে মরিয়া যেই মানুষ। টমের হাতে সময় খুব কম, কিন্তু আদৌ কি সম্ভব?

 

ঘটনা ২: অতীত – সময়কাল ষোড়শ শতাব্দী।

টম যখন রিসার্চের কাজে বেস্ত থাকে, তখন তার স্ত্রী একটি গল্প লেখে যার কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছে স্পেনের রানী আর তার প্রেমিক Tomas. স্পেন শত্রু রাষ্ট্র কবলিত দেশ, রানীকে যে কোন সময় বন্দী ও মেরে ফেলা হতে পারে। তাকে বাঁচাতে মরিয়া Tomas. কিন্তু কিভাবে?? তাকে খুজে বের করতে হবে মায়ান সভ্যতায় লুকায়িত এক বিশেষ পিরামিড, যার মধ্যে আছে এক বিশেষ ধরনের “Tree of Life” বা “অমরত্বের গাছ”। এই গাছের রস খাওয়াতে পারলেই সম্ভব রানীকে বাঁচাতে। কিন্তু আদৌ কি সম্ভব?

 

ঘটনা ৩: ভবিষ্যৎ – পঞ্চবিংশ শতাব্দী

যেটা হচ্ছে বিজ্ঞানী টম এর স্ত্রী এর কল্পনা, যেখানে “অমরত্বের গাছ” নিয়ে Xibalba নামক নক্ষত্রের দিকে যাচ্ছে টম নামক এক মহাকাশযাত্রী। গাছটি আবিষ্কারের পর থেকে এর অবস্থা দিনকেদিন অবনতি হচ্ছে। এখন গাছটি মৃতপ্রায়। গাছটি বাঁচবে যদি সময়মত এটাকে Xibalba নক্ষত্রে নিয়ে যাওয়া যায়। মহাকাশযাত্রী নিজের এই আবিষ্কারকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশী ভালোবাসে। এখানে সেইই হচ্ছে তার ভালোবাসার বস্তু, সে গাছটিকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে কিন্তু তার হাতে সময় অনেক কম। তবে বাঁচাতে পারলেই সে পাবে অমরত্ব। কিন্তু আদৌ কি সম্ভব?

 

মোটামুটি এই হচ্ছে ৩টা প্যারালাল ঘটনা, এবং ৩টা ঘটনাই মুভিতে পাশাপাশি দেখানো হয়।

 

আমি প্রত্যেকটা গল্পের শেষে একটা প্রশ্ন রেখেছিলাম, কিন্তু আদৌ কি সম্ভব?

যদি সম্ভব হয় তাহলে ৩টি ক্ষেত্রেই ঘটনার পিছনের ২ই জন জীব (মানুষ বলছি না) পারবে করতে তাদের আজীবন বেঁচে থাকার স্বপ্ন পুরন করতে, অমরত্ব পেতে। আর পারলেই “Together they will live forever” , তবে শেষ করার আগে আবারো প্রশ্ন – আদৌ কি সম্ভব?

 

মুভিটা শেষে এই ছিল আমার উপলন্ধি, জানি না কতটুকু মুভিটার ভিতরে ঢুকতে পারসি, মুভিটা আমার কাছে তেমন জটিল লাগে নি, তবে মুভির ফিলিং টা, এর মর্মার্থ টা আমাকে বেশ ভালভাবেই ছুঁয়ে গেছে। আসলে কে না চায় বলুন নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে সাথে নিয়ে বাঁচতে?? কে চায় এই বন্ধন ছিন্ন করে চলে যেতে?? কেউ না, আমিও না। কিন্তু মৃত্যু নামক ওই বিষ তো আমাদের গলাধঃকরণ করতেই হবে। আমি, আপনি, আমার, আপনার- সবাই, সবার। ছবিটা শেষে নিজের অজান্তেই চোখের কোনে এক ফোটা অশ্রু নিজেকে ভিজিয়ে দিয়েছে। ইচ্ছে করছিল কাছের মানুষটার কোলে মাথা রেখে বলি, ভালোবাসি, অনেক বেশি ভালোবাসি।

 

ছবিটাতে জটিলতার এর চেয়ে এর অন্তর্নিহিত ভাবার্থই ছিল এর প্রধান আকর্ষণ। আর অভিনয় – হিউ জ্যাকম্যান, মানেই হল আলাদা কিছু, এই ছবিটা কে অনবদ্য করে রেখেছেন এই গুণী অভিনেতা। আশা করি যারা দেখেন নাই, দেখে নিবেন।

 

ডাউনলোড লিংক:

টরেন্ট: https://yify-torrents.com/movie/The_Fountain_2006 (720p yify, 400 MB)

 

ডিরেক্ট লিংকঃ  http://uptobox.com/xbd9sjpwz2gx (720p, 400 MB)

(Visited 172 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন