Sunshine (2007)- পছন্দের কল্পবিজ্ঞান (২)

Sunshine! ডেনি বয়েল পরিচালিত Sunshine শতভাগ বিশুদ্ধ এক সাইন্স-ফিকশন! অগণিত সাইন্স-ফিকশনের ভিড়ে অনবদ্য এক নাম। ‘সাইন্স-ফিকশন’ শুনলেই আমার মাথায় আসে Sunshine নামটি! মাত্র দেড় ঘন্টার ছবিটির মারাত্মক সব টার্নিং দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল কয়েক যুগ পেরিয়ে গেছে! রটেন টম্যাটোসে 75% ফ্রেস সার্টিফাইড মুভিটির IMDb রেটিং 7.3 [কিন্তু এতো কম কেন? গতকালই তো গুন্ডে ছবিটা না দেখেই IMDb-র ইতিহাসের সবচে’ খারাপ ছবি বানিয়ে দিলাম (ভাল করসি! 😈 ), ওরকম কিছু হয়নি তো আবার!]sunshine_movie

 

সূর্য! একটা বিশাল গ্যাস-গোলক! সেখানে সারাক্ষণ চলছে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া, হাড্রোজেন থেকে শুধু হিলিয়ামই নয় তৈরি হচ্ছে বিপুল পরিমাণ তাপশক্তি। সূর্যের এই তাপ আর আলোকের সৌজন্যেই পৃথিবী নামক গ্রহটিতে চলছে প্রাণের খেলা। উদ্ভিদ সম্প্রদায় সূর্যালোক থেকে তৈরি করছে তাদের খাদ্য আর আমরা প্রাণিরা তা পারছিনা বলে তাদেরই (এবং নিজেদেরও) হাপুস-হোপুস করে খাচ্ছি! একবার ভাবুনতো, যদি ওই দূরের সূর্য নামের নক্ষত্রটি আমাদের আর তাপ-আলো না দেয়, তবে কী হবে? Sunshine ছবিটি তৈরি হয়েছে সেই ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন নিয়েই.. যার মুখোমুখি বাস্তবেও একদিন হতে হবে আমাদের!

 

সূর্য বিক্রিয়া করার মতো জ্বালানি আর পাচ্ছেনা। শক্তি শেষ হয়ে আসছে ধীরে ধীরে। আর সেই সাথে শেষ হয়ে যাচ্ছে আমাদের হাজার বছরের গড়ে তুলা সভ্যতার.. শতকোটি মানুষের শতকোটি স্বপ্নের! মানব সভ্যতাকে বাঁচানোর জন্য মানুষের শেষ স্বপ্ন ইকারাস-২ যাত্রা করে। লক্ষ্য- ম্যানহাটানের সমান ভরের একটি নিউক্লিয়ার বোমা দিয়ে মৃত সূর্যকে বাঁচিয়ে রাখা, সূর্যের ভেতর তৈরি করা নতুন একটি সূর্য! কিন্তু আট সদস্যের ইকারাস-২ যাত্রা করার ৭ বছর আগে একই লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা করেছিল ইকারাস। তবে ইকারাস মিশন সফল হয়নি। সূর্যের কাছে যাওয়ার আগেই তারা হারিয়ে যায়, এখনো পর্যন্ত ইকারাসের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। ইকারাস-২ কি সফল হবে নাকি শতকোটি মানুষের স্বপ্নকে সাথে নিয়ে হারিয়ে যাবে মহাশূন্যের আবর্জনা হয়ে! ছবিটিতে খোঁজে পাবেন লোভী সৃষ্টিবাদীর সাথে স্বপ্নবাজ বিজ্ঞানীর লড়াই!

 

Welcome to ICARUS-II. Enjoy the ride!

(Visited 149 time, 1 visit today)
ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন