“ঘেটুপুত্র কমলা” রিলিজের ১ম দিনেই দেখার অভিজ্ঞতা

imagesঅবশেষে “ঘেটুপুত্র কমলা” দেখে আসলাম। এই সিনেমার গল্প-কাহিনী বিন্যাস নিয়ে একটু লিখবো ভাবসিলাম কিন্তু কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জায়গা/মিডিয়া তে ফলাও করে যেভাবে এর পুরো স্টোরি বলা হচ্ছে তারপর এসম্পর্কে কোন কিছু না লিখে স্পয়লার না করাই উচিত মনে করলাম। তবে এটুকু বলি; বিভিন্ন মিডিয়াতে এই সিনেমা সম্পর্কে যে জঘন্য রকমের বিশ্রী কথাবার্তা চলছিল তা নিয়ে একটু দ্বিধান্বিত এটা দেখবো কিনা। দেখার পর নিন্দুকদের প্রতি চরম মেজাজ খারাপ লাগছিল,তাদের কথার বিন্দুমাত্র(সত্যিই বিন্দুমাত্র) খারাপ দিক আমি এই সিনেমায় খুজেঁ পাইনি।
হুমায়ুন আহমেদ অনেক যত্ন নিয়ে এটা বানিয়েছেন, তাঁর হাত দিয়ে খারাপ কিছু আসবে ভাবাই যায় না। এটাতে  স্যার প্রত্যেকটি ব্যাপার পুঙ্খানু-পুঙ্খানুভাবে সুনিপুঁন ভাবে তৈরী করেছেন বুঝা যাচ্ছিল। হাওর এলাকায় দুই-তিন মাস পানিবন্দী থাকার সময় সম্ভ্রান্ত লোকেরা ঘেটুদল নিয়ে এসে এসময়টা আমোদ করে কাটাত। সিনেমার শুরুতে হাওর পানিতে ভরা ছিল,শেষের দিকে দিকে দেখা যাচ্ছিল হাওর শুকনো। একই জায়গা একই হাওরে উনি শুটিং করেছেন। এত অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও হাওরের পানি নেমে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন,অন্য কোন জাযগায় শুটিং এর কাজটা করেননি। এটা দেখে খুব ভাল্লাগলো।

7d6d8dcc4582c9c12daa006a1f91f91b20120904উনার কাজের অসংগতি নিয়ে কথা বলা পাপের সামিল :p :p, তারপরও একটু বলি নইলে আবার লেখায় অনেকেই সমালোচনা খুজেঁ পাবেন না কমলার মায়ের চরিত্রে তমালিকা কর্মকারকে ৩-৪টা দৃশ্যে দেখা গেছে, ২টা দৃশ্যে উনাকে দেখতে আমার খুবই ভাল লেগেছে (এই ভাল লাগাটাই হচ্ছে সমস্যা)। এই হতদরিদ্র পরিবারে উনার কস্টিয়োম আরও খারাপ হওয়া উচিত ছিল বলে আমার মনে হয়। আর ২-১ চরিত্রের ডাবিং তাদের নিজেদের ভয়েস হলে হয়ত আরো বেশি ভাল লাগতো।vlcsnap2012110416h10m57 যাইহোক প্রত্যেকটা চরিত্রই খুব ভাল অভিনয় করেছেন, স্পেশালি জমিদার হেকমত চৌধুরী চরিত্রে তারিক আনাম খান, কমলার বাবার চরিত্রে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, জমিদারের ছোট্ট মেয়ে “ফুলরানি” চরিত্রে প্রাপ্তি’র অভিনয় আমার একদম মন কেড়ে নিয়েছে, আর কাজের মহিলা ময়না চরিত্রে শামিমা নাজনীন অসাধারন(ইউ রক :p) অভিনয় করেছেন। কমলা চরিত্রে মামুনের অভিনয় মোটামুটি লেগেছে(অনেকের কাছে খুব ভাল লাগতে পারে), মামুনের অনেক ভাল ভাল কাজ আগে দেখেছি তাই আশা আরেকটু বেশি ছিল। আমার কাছে মনে হয়েছে চরিত্রটা অনেক কঠিন তো তাই ও ছোট মানুষ (খুব) ভাল বুঝতে পারেনি,তবে ওর নাচ খুব ভাল ছিল পাশাপাশি নাচের শিক্ষক গৌরাঙ্গ চরিত্রে প্রান রায়েরও। বরাবরের মত হুমায়ুন আহমেদের এই সিনেমায়ও অসাধারন কিছু গান আছে, আর হাস্যরসের কথা না ই বা বলি।

এই সিনেমার চিত্রনাট্য আমার খুব ভাল লেগেছে, জীবনবোধ নিয়ে অনেক কথাও ছিল এতে। যাইহোক অনেক কিছু লিখে ফেললাম; সম্ভবত অনেকদিন সবাই হলে গিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র দেখেন না, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে দল বেঁধে দেখে আসুন আশা করি খুব ভাল লাগবে। তিন বন্ধু মিলে আজ বলাকায় দেখে আসলাম চিন্তা করছি আরো কয়েকজনের সাথে আগামী সপ্তাহে আবার সিনেপ্লেক্সে দেখবো।

 

1বিঃদ্রঃ এই সিনেমার আবহ সঙ্গীতও আমার খুব ভাল লেগেছে। সম্ভবত ইমন সাহা এটার কাজ করেছেন,ঠিক মনে নাই। গল্পের ইমোশনের সাথে ব্যাক-গ্রাউন্ড মিউজিকের অসাধারন কম্বিনেশনের জন্যেই হয়ত আমার চোখে পানি আসছে। যারা এধরনের চলচ্চিত্র গুলোকে নাটক বা টেলিফিল্ম’র সাথে তুলনা করেন তাদের এটা দেখা উচিত। নিঃসন্দেহে তারা ভ্রান্ত ধারনা থেকে বেরিয়ে আসবেন।

 

বিশেষ সংযোজনঃ মাঝখানে ব্লগে সমস্যা হওয়ায় এই পোস্ট থেকে সবার সবগুলো মন্তব্য আটো ডিলিট হয়ে গেছে। 🙁

(Visited 42 time, 1 visit today)

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন