আয়নাবাজি’র ভেলকিবাজি
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

aynabaji4txt-1

অনেক জল্পনা কল্পনা শেষে আয়নাবাজি রিলিজ পেলো। দেখা শেষ করে মনে হলো একেবারেই ভিন্ন ধাঁচের একটা মুভি দেখলাম। এরকম গল্প নিয়ে বাংলাদেশে অন্তত এর আগে কোন মুভি তৈরি হয়নি, একেবারেই ইউনিক। গল্পটাই মুভির প্রাণ। তাই গল্প নিয়ে বিন্দুমাত্র ক্লু না দিয়ে অন্য মুভির অন্যান্য প্রসঙ্গে আসি, যারা এখনো দেখেননি তাদের থাকুক কিছুটা বাড়তি কৌতুহল।

 

gallery5

আয়নাবাজি যদি একেবারেই কোন মানহীন মুভি হতো, তারপরও দর্শক শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো এক্সাইটমেন্ট নিয়ে বসে থাকতো শুধু একটা কারণেই, সেটা হলো চঞ্চল চৌধুরী। কি অসাধারণ অভিনয়! ভিন্ন ভিন্ন ছয়টা ক্যারেক্টারে অভিনয় করেছে, অথচ সবগুলোতেই পারফেক্ট পারফরমেন্স! শুধুমাত্র চঞ্চল চৌধুরীকে নিয়ে বললেই কয়েকটা রিভিউ লেখা সম্ভব। মুভির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পর্দা কাঁপিয়ে গেছেন। এই মুভিতে এখন পর্যন্ত চঞ্চল চৌধুরীর বেস্ট পারফরমেন্স বলা যায়। সিনেমাটা শেষ করে মনে হয়েছে শুধুমাত্র বাংলাদেশে না, ইন্টারন্যাশনালি চঞ্চল চৌধুরীর মত এমন অসাধারণ অভিনেতা খুব কম আছে।

 

aynabaji_-1-1

সিনেমায় হৃদি চরিত্রটা খুবই সাদামাটা, সাধারন একটা মেয়ে। এই সাধারণ চরিত্রে নাবিলার পারফরমেন্সও ছিলো সাধারণ। এটা তার প্রথম সিনেমা সেটা একেবারেই বুঝা যায়নি। তবে একট্রা অরডিনারি কোন কিছুও ছিলো না। অবশ্য ক্যারেক্টারটাই এমন, যেখানে বাড়তি কিছুর সুযোগ কম। মুভির কিছু কিছু সিকোয়েন্সে নাবিলার সৌন্দর্যকে চমৎকারভাবে প্রেজেন্ট করা হয়েছে, আলাদা করে বলতে হয় সিলেট যাবার জন্য রেল স্টেশনে বসে থাকার দৃশ্যটা। মেয়েটা অন্য রকম সুন্দর।

 

gallery4

আয়নাবাজির ছোটছোট ক্যারেক্টারে বেশ কিছু অভিনেতা অভিনেত্রী পারফর্ম করেছেন। পার্থ বড়ুয়ার করা সাংবাদিক চরিত্রটা অবশ্য ছোট ক্যারেক্টার না। পুরো সিনেমা জুড়েই উনার স্থায়িত্ব ছিলো। একভাবে বলতে গেলে এটা পার্থ বড়ুয়ারও সিনেমা। মুভিটা দেখার আগে উনাকে এই সাংবাদিক ক্যারেক্টারে মানাবে কিনা খুবই সন্দিহান ছিলাম কিন্তু দেখার পর মনে হয়েছে উনাকে কাস্ট করাটাই বেস্ট ডিসিশন ছিলো। এই রকম একজন ক্রাইম রিপোর্টারের চরিত্রে উনাকে দারুণভাবে মানিয়ে গেছে। অবশ্য অভিনয়টা হয়তো উনি আরেকটু ভাল ডেলিভারি করতে পারতেন, কিছু টিভি ফিকশনে উনার আরো ভালো পারফরমেন্স আগে দেখেছি। হয়তো প্রথম মুভি বলে হয়তো এমন হয়েছে, তবে ক্যারেক্টারে উনাকে একদম মানিয়ে গেছে। উনার বাসায় কাজ করা ছেলের চরিত্রে মিরাক্কেলের জামিল হোসেন কিছু সময়ের জন্য হলেও বেশ ভালো বিনোদন দিয়েছেন, সাথে স্টুডিওতে কাজ করা পাকনা পিচ্চিটাও। পিচ্চিটা একটু বাড়াবাড়ি রকমের ভাল অভিনেতা। অন্যান্যদের মধ্যে আলাদা করে মেনশন করতে হয় লুতফর রহমান জর্জ, গাওসুল আলম শাওন আর বৃন্দাবন দাসের নাম। তিনজনই নিজ নিজ ক্যারেক্টারে দারুণ পারফর্ম করেছেন।

 

gallery1

মুভিটাতে স্বল্প সময় স্ক্রীনে থাকা ছোটছোট ক্যারেক্টারগুলোর মধ্যে দুজনকে ছাড়া বাদ বাকি সবাইকে অনেক ভাল লেগেছে। দুজনের একজন হচ্ছেন প্রথম কেসের ভিকটিম মেয়েটার বাবা, আরেকজন হসপিটালের রিসিপশনিস্ট মেয়েটা। দুজনেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লাউড ছিলো। আয়নাবাজির নেগেটিভ দিক জিগেস করলো আমি শুরুতেই বলবো মুভির সম্পাদন নিয়ে। মুভিতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছিলো চমৎকার, কিন্তু এটার যথাযথ ব্যবহার হয়নি। কিছু জায়গায় এডিটিং বেশ খারাপ ছিলো যা এই ডিরেক্টরের মুভিতে একদম আশা করা যায় না। পরের দৃশ্যে একটা গান হতে পারে সেটা দর্শক আইডিয়া করতে পারছে কিন্তু স্ক্রিনে সেটা বুঝা যাচ্ছে না, হুট করে মিউজিক শুরু হয়ে যাচ্ছে। আবহ টা তৈরি হচ্ছে না। আবহ তৈরি না হবার ব্যাপারটা অনেকগুলো দৃশ্যেই হয়েছে। বারবার এডিটিং এর ব্যাপারগুলো চোখে লাগছিলো। মনে হচ্ছিলো অনেক যত্ন করে অনেক সময় নিয়ে এই মুভিটা বানানোর পর এডিটিং-এ একেবারেই সময় দেয়া হয়নি। এই জায়গাটাতে এত তাড়াহুড়া কেনো করলো একেবারেই বোধগম্য না।

 

yf2MVcy1zQpt

আয়নাবাজি নিয়ে পজেটিভ কথা বললে শেষ করা যাবে না। ছোট করে কয়েকটা উল্লেখ করি; শুরুতেই মুভির চমৎকার গল্পের কথা বলেছিলাম। গাওসুল আলম শাওনের লেখা গল্পে উনি নিজেই চিত্রনাট্য করেছেন সাথে ছিলেন দেশের ওয়ান অব দ্য বেস্ট কপিরাইটার অনম বিশ্বাস। সিনেমার সংলাপও ছিলো দারুণ, স্পেশালি চঞ্চল চৌধুরীর ডায়ালোগগুলো দূর্দান্ত, আলাদা করে বলতে হয় আয়নার সাথে সাংবাদিকের কথোপকথন গুলো। আয়নাবাজির সিনেমাটোগ্রাফী অস্থির, যাকে বলে চোখ ধাঁধানো। রাশেদ জামান হ্যাটস অফ! ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর আর গানগুলোও চমৎকার। গানগুলো নিয়ে আলাদা করে বলতে হয়। এক সিনেমায় অর্নব, হাবিব, ফুয়াদ, চিরকুট এতজন দেশ সেরা মিউজিশিয়ান ভাবা যায়! সবগুলো গানের লিরিকও অসাধারণ। সিনেমার গল্পটা যেমন সুন্দর, গানগুলোর লিরিকও তেমন সুন্দর। কখনো মনে হয় হাবিবের গাওয়া “ধীরে ধীরে” গানটা বেশি পছন্দের। আবার কখনো চিরকুটের ‘দুনিয়া’ বা ফুয়াদের “লাগ ভেলকি” বেশি ভাল লাগে। অর্নবের “এই শহর” গানটাও অনেক পছন্দের, পাশের দেশের শান আর অন্বেষার গাওয়া গান দুটিও অনেক ভাল লেগেছে। মুভিতে সাউন্ড ডিজাইনিং বেশ ভাল ছিলো, রিপন নাথের কাজ বরাবরই চমৎকার। মুভিতে আরো দুইটা ভাল লাগার দিক ছিলো প্রোডাকশন ডিজাইন আর কস্টিউম। আমাদের দেশের মুভিতে এমন প্রোডাকশন ডিজাইন খুব কম দেখা যায়, এটাতে দেখে মন ভরে গেছে। সব কিছু মিলিয়ে আয়নাবাজি দারুণ একটা সিনেমা। এই দারুণ সিনেমাটার পিছনে যিনি বসে আছেন তিনি অমিতাভ রেজা চৌধুরী। উনাকে নিয়ে এতক্ষন কিছুই বলা হয়নি। অবশ্য উনাকে নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার প্রয়োজনও নেই। সিনেমাটা নিয়ে এত কথা হলো, সব কিছুর সাথেই তিনি জড়িয়ে আছেন। প্রথম সিনেমাতেই উনি নিজের বেস্ট টা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। সবশেষে একটা কথাই বলি সবাই সিনেমাটা দেখুন, আমাদের দেশে এই মানের সিনেমা অনেকদিন হয় না। তবে যাওয়ার আগে খুব বেশি এক্সপেক্টেশন নিয়ে যাবেন না, মাত্রাতিরিক্ত এক্সপেক্টেশন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বন্ধু বান্ধব বা পরিবার নিয়ে ফুরফুরে মেজাজে ছবিটা দেখতে যান, আশা করি খুব ভাল লাগবে। হ্যাপি ওয়াচিং…

এই পোস্টটিতে ২৬ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. আপনার কি মুভিটা এত ভাল লেগেছে।? শুধু এই মুভির নাম করতে করতে পেইজটা…. “.”

  2. লাগ ভেলকি, লাগ ভেলকি, আয়নাবাজির ভেলকি লাগ…টাইটেল সং এর মতই ভেলগি লাগালো ছবি আয়নাবাজি; ছবি শেষেও রেখে গেল সমান মুগ্ধতা। বাংলাদেশে কবে এমন ছবি দেখেছি মনে করতেই পারছি না। এক কথায় অসাধারন! একজন অভিনেতার সার্থকতা তার দর্শকদেরকে হিপনোটাইজ করে ফেলা। মন্ত্রমুগ্ধের মতন স্ক্রিনের পর্দায় তার মন-মস্তিস্ককে আটকে রাখা, এ জায়গায় আয়না চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরী একবারেই পারফেক্ট। আয়নাবাজি ছবির সংশ্লিষ্ট কলাকুশলী সকলেই দেখিয়েছে তাদের যোগ্যতা বিশেষত একজন গুনী নির্মাতা হিসেবে অমিতাভ রেজা সাধ্যের সবটুকুই নিংড়ে দিয়েছেন আয়নাবাজিতে। হাটস অফ মি. অমিতাভ রেজা! সবাইকে বলবো আপনারা হলে গিয়ে আয়নাবাজি দেখুন। একবার দেখলে দ্বিতীয়বার দেখতে চাইবে আপনার মন- এটা জোর দিয়েই বলা যায়। না দেখলেই মিস করবেন অনেক কিছু। আয়নাবাজি দেখুন, এ রকম ছবিকে উৎসাহিত করুন।

  3. যাহারা বাহিরের দেশে থাকে তারা কি করবো ভাউ? কার **** মধ্যে গিয়া দেখবো?

  4. হলে না গিয়া আজকেই দেখলাম আয়নাবাজির ভেল্কি😂😂😂

  5. movie release hoye onek din e holo … eita ki online e paoa jabe na ? 😮

  6. সিলেটে তো দেখা যাবে না

  7. Md Alamin says:

    jara jara robi operator kaje ei movie ta bikri kore desher cinema hall golor barota bajanor poth prososto korce tara jatio beiman. asal rajakar tarai. fashi eder ke deoya ocit

    • Asif Rahman says:

      অমিতাভ রেজা থেকে নিজেকে খুব চালাক ভাবেন? আপনি কি জানেন আপনার জন্মের আগে থেকে এই লোক মার্কেটিং এর সাথে জড়িত? বলতে রবি টিভিতে দিলে এটা পাইরেটেড হবে এটা সে জানত না? রবি টিভিকে সে একেবারে মাগনা সত্ত্ব দিয়ে দিছে?

      জি না সে এত বেআক্কেল না। সে সব জাইনা শুইনাই দিছে। এটা মার্কেটিং এর নতুন পলিসি। যেখানে তার কোন টেনশন নাই সেখানে আপনি ফেসবুকে নাকের পানি চোখের জল এক করছেন, “দেশের সিনেমা ধ্বংস হয়ে গেল”।

      মোটামোটি ২৫ /২৬ দিন যাওয়াএ পর আয়নবাজি নিয়া আলোচনা কমে আসছিল। এখন নতুন করে আলোচনা দেখানোর প্রয়াস পেল। দেশপ্রেম দেখাতে আবার সিনেমা হলে লাইন লাগবে। আর রবি মাঝখান থেকে ফাও কিছু উপরি তো পাওয়া গেল।

      সে যখন দেখল খরচের চেয়ে দশগুণ লাভ উঠে গেছে তখনই খুব মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রবিকে দিছে। লিক হওয়ার পর রবিও বিব্রত হয়ে সরিয়ে নিছে। রবি এখন টাকা ফেওরও চাইতে পারবে না। এখন সে উপরেরটা খাইছে তলারটাও খাবে। আর আপনি স্টাটাস দিয়ে যাবেন, “দেশের সিনেমা শেষ, জাতি এত খারাপ কেন, অমিতাভ ভাইয়ের মত নির্লোভ মানুষটাকে পথে বসাইয়া দিল”

      এইটাই চেতনা ব্যবসা

    • Asif rahman = Amitabh reza ! shob eklai jene boshe achhen !! bah

  8. chinama hall e giye dekar icce nai, hd print asle janan 🙂

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন