প্রত্যাশা, হতাশা, পাওয়া, না পাওয়ায় “অগ্নি ২”
Share on Facebook0Share on Google+1Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

11755683_849906885064316_1484996588794312640_n“অগ্নি ২” মুভিটা দেখে মনে হলো এটা নিয়ে রিভিউ করার আসলে তেমন কিছু নাই। “আসলাম, দেখলাম, মজা করলাম, ভুলে গেলাম” ব্যাপারটা অনেকটাই এরকম। “অগ্নি” মুভিটা যেখানে শেষ হয় “অগ্নি ২” এর শুরুটা মূলত সেখান থেকেই। অগ্নির ভালবাসার মানুষ শিশিরকে খুন করার প্রতিশোধ নিতে অগ্নি চলে যায় থাইল্যান্ডে। সেখানে পরিচিত হয় হ্যাকার ঈশানের সাথে। ঈশান বিভিন্ন সাইট হ্যাক করে খুনিদের নানান ইনফরমেশন দিতে থাকে অগ্নিকে, আস্তে আস্তে দুজনের মধ্যেই একটা ভাল লাগার সম্পর্ক তৈরি হয়। এই দুজনের যৌথ প্রচেষ্ঠাতেই এগিয়ে যেতে থাকে অগ্নির প্রতিশোধের গল্প।

.অগ্নি ২ তে দেশ বিদেশের অনেকেই অভিনয় করেছেন। কিন্তু মাহি ছাড়া কারো পারফরমেন্সই তেমন ভাল লাগেনি। বড় বড় অভিনেতাকেও টপকে এই মুভিতে মাহি নিজের সেরা পারফরমেন্স টুকু দিয়েছে। অগ্নির মাহি আর অগ্নি ২ এর মাহির মধ্যে বিরাট ফারাক। এত ম্যাচিউর অ্যাক্টিং-এ মাহিকে আগে কখনো দেখা যায়নি। এর আগে দেশা দ্য লিডার মুভিতে করা সাংবাদিকের ক্যারেক্টারটা এখন পর্যন্ত মাহির সেরা কাজ ছিল, কিন্তু এই মুভিতে মাহি সেটাকেও ছাড়িয়ে গেছে। পুরো মুভিতে মাহির সহজাত ন্যাকামি ভাবটা একবারও চোখে পড়েনি। বাচনভঙ্গি, ডায়ালোগ ডেলিভারি, এক্সপ্রেশন সহ সবকিছুই অনেক বেশি ম্যাচিউর। এত দ্রুত মাহির এমন ইম্প্রুভমেন্ট সত্যিই প্রশংসনীয়। গান আর অ্যাকশান দৃশ্যগুলোতেও আগের চেয়ে অনেক বেশি ভাল পারফর্ম করেছে মাহি। এক কথায় বলা যায়; এই মুভির একটা পজেটিভ দিক থাকলে সেটা মাহি।

.11403508_875560145813956_6377728319065218119_nএই প্রথম “ওম” এর কোন মুভি দেখলাম, এর আগে ওম কে কখনো সিনেমায় দেখার সুযোগ হয়নি। অবশ্য ইন্ডিয়ার মুভি করলেও বাংলাদেশের সাথে এটা তার প্রথম মুভি। তার পারফরমেন্স অ্যাভারেজ লেগেছে। কিছু কিছু জিনিস খুবই ভাল, কিছু দিক বেশ খারাপ। তার উচ্চারনে বেশ সমস্যা। অভিনয়ের সময় শুধুমাত্র মুখের এক্সপ্রেশন ভাল, বাকি পা থেকে গলা পর্যন্ত তার বাচনভঙ্গি খুবই আড়ষ্ট। এইদিক দিয়ে তার থেকে আমাদের শিপনও অনেক এগিয়ে। তবে ওমের ডান্স খুবই ভাল। সংলাপ বলার সময় তাকে যতটা আড়ষ্ট মনে হয় ডান্সের সময় ঠিক উল্টো, গানগুলোতে তাই ওম ফাটিয়ে পারফর্ম করেছে। তার সাথে পুরো হল নেচেছে।

.Untitledমাহি আর ওম ছাড়া অগ্নি ২ তে আরেকটা বড় ক্যারেক্টারে ছিলেন আশিষ বিদ্যার্থি, নেগেটিভ রোলে ছিলেন তিনি। উনার মত শক্তিশালি অভিনেতার কাছে আরো অনেক ভাল কিছু আশা করেছিলাম, উনি কাজ চালিয়ে যাওয়ার মত পারফর্ম করেছেন। এছাড়া কয়েকটা ছোট ক্যারেক্টারে অমিত হাসান, টাইগার রবি সহ আরো কয়েকজন দেশি বিদেশি অভিনেতারা অভিনয় করেছেন এবং তাদের সবাইকেই মনে হয়েছে দায় সারা কাজ করে গেছেন। টাইগার রবিকে পর্দায় আরো কিছুক্ষন পেলে হয়তো আরেকটু ভাল লাগতো। ওমের পাতানো ভাই ভাবীর চরিত্রে যারা ছিলেন তারা কঠোর পরিশ্রম করে দর্শককে বিরক্ত করতে সফল হয়েছেন। অমিত হাসান অনেক চেষ্টা করেছেন ইন্টারপোল অফিসারের ক্যারেক্টারটাতে নিজের সেরা টুকু দেয়ার কিন্তু পারেননি, উনার ইংরেজি সংলাপ বলার অংশগুলো খুবই হাস্যকর ছিল। তবে উনাকে ক্যারেক্টারটাতে দারুণ মানিয়েছিল, এটার ক্রিপ্টটা আরেকটু ডেভলাপ করে উনাকে দিয়ে আরও রিহার্স করে যদি পারফরমেন্সটা আদায় করা যেত তাহলে দারুণ হতো।

.10984147_1582734081989836_91231087643630746_nঅগ্নি ২ এর সমালোচনা করলে লিখে শেষ করা যাবেনা। তাও বানিজ্যিক মুভির খাতিরে অনেক কিছুই বাদ দিতে হয়। কিন্তু সেগুলো বাদ দিলেও প্রচুর সমস্যা আছে মুভিতে। মূল সমস্যা এটার গল্পে, কোন আগা-গোড়া নাই। কোন ধারাবাহিকতা নাই, হুট হাট বিভিন্ন দৃশ্যে চলে যাচ্ছে। অগ্নি কেন প্রতিশোধ নিচ্ছে সেখানে অগ্নির কোন শক্ত ইমোশন নেই, হুট করেই প্রতিশোধ নিচ্ছে। সবচে ভয়াবহ ব্যাপার ছিল যখন ইন্টারপোল অফিসার অমিত হাসান একটু পর পর থাইল্যান্ডের পুলিশদের সাথে বাংলায় কথা বলে। তাদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছেন বা কখনো কোন অর্ডার দিচ্ছেন সব জায়গায় তিনি দুই এক লাইন ইংরেজি বলে পরে অনর্গল বাংলা বলে যাচ্ছেন, থাইল্যান্ডের লোকগুলোও সেগুলো গভীর মনোযোগের সাথে শুনে মাথা নাড়াচ্ছেন। এমন অনেক বিচ্ছিন্ন ঘটনা আছে এই ছবিতে যা দর্শককে হতাশ করে। এগুলো ছাড়া মুভির বড় সমস্যাটাই ছিল গল্পে আর সেটার ধারাবাহিকতায়, ধারাবাহিকতা রক্ষা না করলে সিনেমার মেকিং অনেক ভাল হলেও সেটা দেখে আরাম পাওয়া যায়না।

.11709434_877668902269747_4216250242580427911_nসিনেমাটা দেখার সময় যে কেউ বুঝতে পারবে এটা বিশাল বাজেট নিয়ে বানানো। মাহির অভিনয় ছাড়া মুভির আরেকটা প্রশংসনীয় দিক ছিল এর গানগুলো। গানগুলোর লোকেশন, সেট ডিজাইন, ডেকোরেশন, দৃশ্যায়ন ছিল এক কথায় অসাধারন। গানগুলো শুনতে যতটা ভাল লেগেছে দেখতে তার চেয়ে বেশি ভাল লেগেছে। মাহি আর ওমের আলাদা দুটি আইটেম গান “ম্যাজিক মামনি” আর “একখান চুমু” যতক্ষন পর্দায় চলছিল ততক্ষন দর্শক তাদের সাথে নেচেছে। গান দুটিতে সেট ডিজাইন, ডেকোরেশন আর সহ শিল্পীদের চমৎকার সাপোর্টে দারুণ পারফর্ম করেছে মাহি আর ওম। দুটো রোমান্টিক গান “আল্লাহ জানে” আর “বানজারা” ছিল দূর্দান্ত। এই গান দুটোর মেকিং এই সিনেমার সেরা অংশ, স্পেশালি “বানজারা” গানের মেকিং। বাংলা সিনেমার গানে এত দারুণ লোকেশন, সেট ডিজাইনের সাথে এত চমৎকার সিনেমাটোগ্রাফি আর এডিটিং হয়তো আর নেই। ডিরেক্টর ইফতেকার চৌধুরী এখানে পুরোপুরি সফল। উনি সিনেমার গানগুলো যতটুকু যত্ন নিয়ে বানিয়েছেন পুরো সিনেমাতে যদি এর ৫০% যত্ন নিতো তাহলে অগ্নি ২ অসাধারন একটা সিনেমা হতে পারতো। গানগুলো ছাড়া পুরো সিনেমাটাই অনেক বেশি তাড়াহুড়া করে বানানো মনে হয়েছে। সিনেমায় ডিরেক্টরের কিছু কাজ দেখে বুঝা গেছে উনার দ্বারা খুব ভাল কিছু সম্ভব, শুধু ভাল একটা গল্প নির্বাচন করে একটু যত্ন আর সময় নিয়ে করলেই হবে। এই সিনেমার কালার গ্রেডিং, সিনেমাটোগ্রাফি, কোরিওগ্রাফি, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক সব কিছুই ভাল ছিল। সামনে ভাল একটা গল্প সিলেক্ট করে একটু সময় নিয়ে মুভি বানালে ইফতেকার চৌধুরী দর্শকদের অনেক ভাল মুভি উপহার দিতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস।

এই পোস্টটিতে ১৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. অগ্নি ২ অগ্নিরে পচাই দিসে।

  2. Sam Caffrey says:

    পত্তাসার দিক দিএ বাহুব্লি কে চারিএ জআবে অগ্নি ( দিতিও পাট) 3:)

  3. prince795 says:

    ডাউনলোড লিঙ্ক কই

  4. jainuddin says:

    ইন্ডিয়াতে অগ্নি-২, অগ্নি নামে রিলিজ হয়েছে। কিছু সিন ইন্ডিয়ায় বারতি সংযোজন হয়েছে, এবং এটি অগ্নির রিলেটিভ করেনি।এটা ইনইন্ডিয়ায় মওলিক কাহিনি হিসাভে দেখা যাই।এটি ইন্ডিয়ায় একদম বাজার করেনি। যে গুলা ভারতীয় দের হাতে ছিল যেমন-একশান ডাইরেক্টার,ডেন্স ডাইরেক্টর, সাউন্ড, গ্রাফিক্স কেবল মাত্র এগুল ভাল হয়েছে। বাকি গুল পরিচালনা,কাহানির মান অনুন্নত।

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন