ভাল লাগায়, মন্দ লাগায়, তারকাঁটা’য়…
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0

10169348_1435846323337793_8419238264600398365_nমুভির শুরুটা বেশ আকর্ষনীয়। সন্ত্রাসী ইব্রাহিমের চরিত্রে আরিফিন শুভর এন্ট্রি, ব্যাকগ্রাউন্ডে ইব্রাআআহিম ইব্রাআআহিম করে আতংকিত এক শব্দ। সাথে হলে দর্শকের শিষ আর চিৎকার। তারপর পুরা রক্তারক্তি মগজ গান্দা অবস্থা। সিনেমার গল্প একেবারেই সাদামাটা; এক শিক্ষিত ভদ্র ছেলের সন্ত্রাসী হয়ে উঠার গল্প। সাথে আগে পরে জুড়ে দেয়া হয়েছে অনেক ঘটনা। পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ অতি সাধারন প্লট টাকে একটু ভিন্ন ধাচে নির্মান করার চেষ্টা করেছেন। মুভি দেখে বাসায় আসতে অনেক দেরি হয়ে গেছে বিভিন্ন কারণে। বাইরে বের হয়ে প্রচন্ড গরমে অনেক কিছুই ভুলে গেছি যা মুভিতে দেখেছি। তারপরও যা যা মনে আসছে সেগুলো বিসমিল্লাহ বলে একাধারে টাইপ শুরু করলাম। শুরুতেই চরিত্রগুলো নিয়ে বলি;

 

10296821_4585308167504_5095482865456819286_nসিনেমার মূল চরিত্র ইব্রাহিম। আরিফিন শুভ অনেক চেষ্টা করেছেন চরিত্রটা তে পূর্ণতা দিতে। মুভির শুরুর দিকে কেন জানি শুধু “চোরাবালি”র (রেদোয়ান রনির) কথা মনে হচ্ছিল। শুরুতে প্লট কিছুটা চোরাবালির সাথে মিলে যায়। ইন্দ্রনীলের জায়গায় শুভ আর গডফাদার শহিদুজ্জামান সেলিমের জায়গায় এজাজ। সন্ত্রাসী ইব্রাহিমের চরিত্রটা শুভ ভালই রপ্ত করতে পেরেছেন। কিন্তু শুভর কাছে আরো ভাল কিছু আশা করছিলাম, তাঁর অভিনীত আগের মুভিগুলোতে আরো ভাল পারফরমেন্স ছিল। বোন, ভাগ্নী বা প্রেমিকার সাথে আল্লাদ করার কিছু দৃশ্যে একটু বেশিই ন্যাকামি মনে হচ্ছিল। তবে সন্ত্রাসীর রাফ অ্যান্ড টাফ লুকে শুভ বস, এটা নিয়ে কোন কথা হবে না। রিভালভার হাতে নিয়ে পিছন দিকে মাথা চুলকানো থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা এক্সপ্রেশনই দূর্দান্ত ছিল। তবে ডান্সে শুভর অসাধারন দক্ষতাটা মিস করেছি মুভিতে। অবশ্য ক্রাইম মুভির এমন একটা চরিত্রে ড্যান্সের স্কোপ টাও ছিল না। তারপরও আমার মনে হয়েছে পরিচালক শুভকে পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারেননি এখানে। এমন একটা অ্যাকশন ছবিতে চোখে পড়ার মত তেমন কোন ফাইট ছিল না। অথচ “ভালবাসা জিন্দাবাদ” আর “অগ্নি” মুভির সুবাদে শুভ যে অ্যাকশনে কতটা পারদর্শী তা কম বেশি আমরা সবাই জানি। এই সিনেমার ফাইট ডিরেক্টর কে এত্তগুলা বকা…

 

10258195_4476691412153_2491653859950489838_nকন্ঠশিল্পী “চাঁদ”র চরিত্রে মীমের পারফরমেন্স ছিল এই মুভির সবচেয়ে ভাল দিক। অভিনয় তো ভাল ছিলই সাথে এত সুন্দরভাবে তাকে পর্দায় দেখানো হয়েছে যে কি বলবো! মীমের কস্টিয়ম ডিজাইনারকে অনেকগুলা থ্যাংকস। পর্দায় যখন মীমের এন্ট্রি হয় তাকে দেখে পাক্কা আড়াই মিনিট দম বন্ধ ছিল, তখন কি হয়েছিল তাই তেমন মনে নাই। অনেক কষ্টে ডান নাক দিয়ে নিঃশ্বাস নিয়ে কয়েক ঢুক পেপসি গিলে আবার মুভিতে মনোযোগ দিলাম। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মীমের বলার মত কোন নেগেটিভ দিক চোখে পড়েনি। যদিও বেশির ভাগ সময় টপস আর লেহাঙ্গা পরে একটু একঘেয়েমি তৈরি করে ফেলেছিল, তারপও সব কস্টিয়মেই তাকে ভাল্লাগছিল দেখতে। তার ন্যাকামিও ভাল ছিল (বিরক্তির তৈরি না করে কিভাবে ন্যাকামি করতে হয় মীমের কাছ থেকে সেটা মাহির শেখা উচিত)। কিডন্যাপ হবার পর যখন মেরে ফেলার হুমকি আসে তখন শুভর উদ্দেশ্যে বলা মীমের ন্যাকামিগুলো বেশি ভাল লাগার। এখন মরে গেলে সে বড় স্টার হতে পারবে না। দেশের বাইরে তাকে কেউ চিনবে না। এক হাতে ঘড়ি আরেক হাতে ভ্যানেটি ব্যাগ নিয়ে হিল পড়ে হাঁটার সময় সাংবাদিক ছবি তুলতে আসলে তাকে মানা করতে পারবে না। সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিয়ে অনেক অনেক লাইকস কমেন্টস পাবে না। এই সিচ্যুয়েশনে জীবন হাতে নিয়ে তার এই ডায়ালোগ গুলো বলার সময় এক্সপ্রেশন অনেক উপভোগ্য ছিল। এগুলো ছাড়াও পুরো মুভিতেই মীম ভাল করেছে। এই প্রথম তার কোন পারফরমেন্স দেখে অনেক বেশি ভাল লাগলো। আমার দেখা মীমের সেরা কাজ বলা যায় এটাকে।

 

1978782_1413527545569671_187539058_nইব্রাহিমের বুবুর চরিত্রে ছিলেন মৌসুমী। ওমর সানীকে (মুভিতে অ্যালবামে সানীর একটা ছবি ছিল শুধু) হারিয়ে ভাই আর মেয়ে দিয়া কে তার সুন্দর পরিবার। এই বয়সে এসে মৌসুমীর জন্য পারফেক্ট একটা ক্যারেক্টার। মুভিতে ক্যারেক্টারটার ইম্পোর্টেন্টসও অনেক। কিন্তু পুরোপুরি সফল ছিলেন না মৌসুমী। অনেকটা আকাশের মেঘের মত। এই ভাল পারফরমেন্স করছে, আবার এই ভাঁটা পরছে। মাঝেমাঝে মনে হচ্ছিল; ভদ্রমহিলা কি অসুস্থ নাকি! পুরো মুভিতেই দেখে অসুস্থ মনে হয়েছে! এক সময় দেখি সত্যি সত্যি অসুস্থ হয়ে গেল। কথা নাই বার্তা নাই সোজা হসপিটালে। তবে কি রোগ হয়েছিল তা ধরতে পারলাম না। যাইহোক, সবকিছু মিলিয়ে সুঅভিনেত্রি মৌসুমী হতাশ করেন নি কিন্তু আরো অনেক ভাল কিছু চেয়েছিলাম।

 

10336624_4585279206780_3088644697675869290_nমুভিতে ইব্রাহিমের চামচা চরিত্রে ছিলেন রাজু। রাজুকে মনে আছে তো! একটা জনপ্রিয় নাটকে (সম্ভবত এফএনএফ) সে নাক’ই সুরে একটু তোতলা ক্যারেক্টারে অভিনয় করেছিল। “ঠিক আছে” কে বলতো “ঠি্হ আয়্যে”। এই মুভিতেও সে একই কাজ করেছে এবং খুবই ভালভাবে করেছে। মুভিতে বিনোদনের বেশির ভাগই এসেছে তাঁর পারফরমেন্সের জন্য। তাঁর সাথে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছে মীমের অ্যাসিস্টেন্ট মেয়েটা। এই মেয়েটাকে দেখলেই হাসি আসে। কথার কি ধরন! শুদ্ধ-অশুদ্ধ, সাধু-চলিত, আঞ্চলিক সব একবারে বলা শুরু করে। আর বড় বড় অভিনেতাদের হঠাত হঠাত রাম ধমক দেয় (একদমই আদব কায়দা নাই :p )। নায়ক নায়িকার এই ২ অ্যাসিস্টেন্ট পুরো মুভিটা মাতিয়ে রেখেছে।

মুভিতে আরেকটা ইম্পোর্টেন্ট চরিত্র ছিল ইব্রাহিমের বোনের মেয়ে দিয়া। এতটুকু ছোট্ট মেয়েটা অনেক ভাল অভিনয় করেছে। পুরো মুভিতে সম্ভবত তার ডায়ালোগ সবচে বেশি ছিল। নানান বিষয় নিয়ে কথা বলে আর একেক জনকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে জ্বালিয়ে মেরেছে পুরা। সিনেমার আরো কিছু চরিত্র ছিল এদের মধ্যে হাসান মাসুদ, কচি খন্দকার, মনির হোসেন ফাহিম, আহমেদ শরীফ, জয়া চ্যাটার্জি মোটামুটি ভাল করেছেন। তবে খল চরিত্রে দুই কৌতুক অভিনেতা ডঃ এজাজ আর ফারুক আহমেদ কে দেখে অনেক অবাক হয়েছি। ফারুক আহমেদ কে এমন ভিলেন হিসেবে দেখবো কখনো ভাবি নাই। একটু ভিন্নভাবে ক্যারেক্টার টা প্লে করেছেন উনি। আর ডঃ এজাজ এর কথা বেশি না বলাই ভাল। উর্দু গান কবিতা আর সংলাপে মাতিয়ে রেখেছেন।

 

10433270_4585302647366_2201353276502611603_nএই অংশে মুভিটার কি কোন সমালোচনা করব কিনা ভাবছি। পরিচালক আর বেশ কিছু কলাকুশলীদের কয়েকদিন ধরে দেখছি বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বাংলা সিনেমার সমালোচনা (পড়ুন কুমালোচনা) করতে মানা করছেন। কারণগুলোও অযৌক্তিক না। বাংলা সিনেমা নিয়ে আমারও সমালোচনা করতে ভাল লাগে না, সব সময় পজেটিভ লেখার চেষ্টা করি। তারপরও যা না বললেই না, এমন কিছু নেগেটিভ দিক তুলে ধরছি যা পরবর্তীতে শুধরে নেয়ার অনুরোধ থাকলো। মুভির প্রথম অর্ধেক স্লো হলেও মোটামুটি ভাল কেটেছে কিন্তু শেষ অর্ধেক বেশ বাজে ছিল। শেষ দিকে কোন সিনক্রোনাইজেশন নাই, হুটহাট সব হয়ে যাচ্ছে। প্রথম দিকে স্লো অথচ শেষ দিকে হুটহাট!! শুভর প্রথম প্রেমিকা চলে যাওয়ার পর এমন অবলীলায় মীমের প্রেমে পড়া বেশ দৃষ্টিকটু ছিল। তাছাড়া শুভর জেল হওয়ার কারণটা একেবারেই হাস্যকর ছিল। মুভিতে মাত্রারিক্ত প্রোডাক্ট প্লেসমেন্ট করা হয়েছে। কিছু জায়গায় অনেক বিরক্ত লেগেছে। বারবার প্রাণ আপ খাওয়া, বাচ্চাদের মধ্যে প্রাণ আপ বিলানো, ম্যাংগোলি টাইপের কি একটা জুসও কয়েকবার ছিল। মজার ব্যাপার ছিল বারের একটা দৃশ্যে মদের সাথে এই জুসটাও সুন্দর করে সাজিয়ে ক্যামেরার সামনে রাখা। ভাই সিরিয়াসলি!! মৌসুমীর মেয়ে ভাটিকা তেলের বোতল এনে তার মায়ের মাথায় তেল দেয়। একটা দৃশ্যে তো মৌসুমী ভাটিকা তেলের বোতল সাথে নিয়ে কেঁদেছেনও (বুঝেন অবস্থাটা)! মুভিতে বিরতির সময় মুভি দেখতেছি নাকি টিভিতে খবর দেখতেছি বুঝলাম না। স্ক্রীনে লেখা আসলো “সিম্ফোনী”র সৌজন্যে বিরতি (মাইরালা আমা….; থাক পুরোটা বললাম না)। হলের পর্দায় বসুন্ধরা সিটি আর সিম্ফোনির শো রুম দেখে বিরক্ত হয়ে গেছি পুরা। তবে মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে প্রাণ আপ। এত এতবার পর্দায় দেখার পর জীবনে হয়তো এটা খাওয়ার আর রুচি হবে না। শেষের দিকে প্রাণ আপ নিবেদিত অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রামও ছিল। মুভির লাস্ট মোমেন্টেও দেখলাম নায়িকা কনসার্টে গান গাচ্ছে আর পিছনে লেখা প্রাণ আপের সৌজন্যে এই কনসার্ট। এবং মুভিটা শেষ হলো, অবশেষে মুক্তি পেলাম।1904154_4585279486787_1417088112421720587_n তবে সমালোচনা এখানেই শেষ না। মুভিটা শুরুর দিকে চোরাবালি ধাঁচের মনে হলেও শেষ দিকে এটা আশিকি ২ এর রূপ ধারন করলো। বারে গাওয়া গান, রেকর্ডিং স্টুডিও তে গাওয়া গান আর শেষের কনসার্টে গাওয়া গানটার উপস্থাপন দেখে আশিকি ২ থেকে কপি মনে হলো। আরও কয়েকটা জায়গায় আশিকি ২ এর ফ্লেভার ছিল। এগুলো করার কোনই দরকার ছিল না। সুন্দর মৌলিক গল্পে চলতে থাকা এই মুভিতে এই কপি করাটা মোটেই উচিত হয় নাই। মুভির সংলাপ কিছু জায়গায় অত্যন্ত নিম্নমানের ছিল। নায়ক নায়িকা কে বেঁধে একটা ঘরে আটকে রেখে ভিলেনরা চলে যাওয়ার সময় তাদের উদ্দেশ্যে নায়কের ডায়ালোগ; “কই যাস! খুলে দিয়ে যা, খুলে দিয়ে যা”!! সিরিয়াসলি!! এমন সিচ্যুয়েশনে এতটা জঘন্য ডায়ালোগ যে লিখতে পারে তাকে শাহবাগে পাঠিয়ে দেয়া উচিত। আন্দোলন করার জন্য না, জাদুঘরে রাখার জন্য। কিছু জায়গায় মুভির এডিটিং বেশ বাজে হইসে। মুভির এডিটর আর ফাইট ডিরেক্টরকেও যাদুঘরে পাঠানো হোক। সিনেমায় গানের পরিমান অনেক বেশি ছিল। মনে হচ্ছিল প্রতি দশবার নিঃশ্বাস নেয়ার পর একটা করে গান দেখছি। এই প্রথম কোন অ্যাকশান মুভিকে মিউজিক্যাল মুভি হতে দেখলাম। এখন যে কথাটা বলতে যাচ্ছি এটা এই মুভির সবচে জঘন্য দিক। মুভির শেষার্ধে কথা নাই বার্তা নাই একটু পর পর একেকজন কিডন্যাপ হয়। আরে এ তো গুম হওয়া রোগ মনে হচ্ছে! প্রথম পিচ্চি মেয়েটাকে কিডন্যাপ করলো, তাকে ছেড়ে দেয়ার পর মীম কে কিডন্যাপ করলো। শেষকালে আবার মৌসুমীকেও কিডন্যাপ করলো (আমি কি স্বপ্নে দেখতেছিলাম নাকি বুঝতেছিলাম না)! ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এদের কিডন্যাপ করা হয়। কিন্তু কখন করা হয়, কোথা থেকে করা হয় বা কিভাবে করা হয় তা কেউ জানে না। হুট করে দেখি বন্দি অবস্থায় একেক জন কিডন্যাপ। কেউ কি খোঁজ নিয়ে জানাতে পারবেন ডিরেক্টরের বাড়ি কি নারায়নগঞ্জে কিনা! 😀 আপাতত মুভির আর নেগেটিভ দিক মনে পড়ছে না। মুভি দেখা শেষ করে আশে পাশের মার্কেটে তন্ন তন্ন করে স্পেনের জার্সি খুঁজলাম কিন্তু পাচ্ছিলাম না। গাধা দোকানদারগুলো খালি ব্রাজিল আর্জেন্টিনা বুঝে, আর কিছু বুঝে না (ইদানিং এই বিশ্বকাপ মৌসুমে মানুষ সব আলোচনাতে ফুটবল ঢুকিয়ে দিচ্ছে। তাই আমি আগেই ঢুকিয়ে দিলাম যাতে এই লেখার কমেন্টে কেউ আগে শুরু করতে না পারে 😀 )। অবশেষে অনেক যুদ্ধ করে একটা জার্সি কিনলাম। যুদ্ধ শেষে মুভিতে কি দেখেছি তার অনেক কিছুই ভুলে গেছি নইলে আরো কিছু বলা যেত (তারকাটা টিমঃ আল্লাহয় বাঁচাইছে)। :p বাসায় আসার পর দেখি পানি নাই কারেন্ট নাই, সারাদিন ইলেকট্রিসিটি কুটি কুটিবার গেছে, এজন্যই প্রথম শো তে মুভিটা দেখার পরও লেখা কমপ্লিট করতে এত দেরি হলো (তারকাটা টিমঃ তোকে কেউ লিখতে বলছিল! ফাজিল কোথাকার)। :p

 

10257716_1423378501251242_4891493462785598480_oযাক, অনেক তো সমালোচনা হলো এবার মুভিটার কিছু ভাল দিকের কথা বলি। ছোটবেলায় কোন টপিকের উপর যখন উপকারিতা অপকারিতা লিখতাম তখন যেমন লিখতাম; এটার অনেক উপকারিতার পাশাপাশি বেশ কিছু অপকারিতাও আছে। তেমনিভাবে এই মুভি নিয়ে লেখার সময়ও বলতে ইচ্ছা করছে; মুভিটার বেশ কিছু নেগেটিভ দিকের পাশাপাশি কিছু পজেটিভ দিকও আছে। এই মুভির গানগুলো বেশ ভাল। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক খুবই ভাল। মিউজিক ডিরেক্টর আরেফিন রুমি বেশ ভাল আউটপুট দিয়েছেন। সুনিধী চৌহানের গাওয়া স্যাড সং "বন্ধন" বেশ ভাল ছিল। সাথে পূজা, খেয়া, নওমি, লিজা, বেবি নাজনীন, কণা, পারভেজরাও অনেক ভাল গেয়েছে। সবচেয়ে ভাল লেগেছে “তুমিহীনা” গানটা। তবে এই মুভির গান পরিচালকের আগের মুভি “প্রজাপতি”র গানের ধারে কাছেও যায় নাই, প্রজাপতির সবগুলো গান মাস্টারপিস লেভেলের ছিল। 1902013_10203141139709898_1438916406_nতারকাঁটার প্রায় প্রত্যেকটা অভিনেতা অভিনেত্রীর অভিনয় ভাল ছিল, এই ভাল অভিনয়টাই আপনাকে হলে বসিয়ে রাখতে বাধ্য। তারমধ্যে যদি মীমের মত কেউ থাকে তাহলে তো আমি আজীবন হলে বসে থাকতে রাজি। মুভিতে লোকেশন বেশ ভাল ছিল। দেখে ঢাকাসহ ঢাকার আশে পাশেই মনে হলো। দেশের বাইরে না গিয়ে কাজটা সুন্দরভাবে করেছে এটা একটা বড় পজেটিভ দিক। মুভির কালার গ্রেডিং বেশ ভাল ছিল, আসলেই বেশ ভাল। মুভির সবচেয়ে পজেটিভ দিক ছিল এর সিনেমাটোগ্রাফী। খায়ের খন্দকার অসাধারন সিনেমাটোগ্রাফি উপহার দিয়েছেন এই মুভিতে। অসাধারন। মুভিতে "তুমিহীনা" শিরোনামের গানটা বেশ কয়েকবার ব্যবহার করা হয়েছে। আরেফিন রুমী, নওমী, লিজা একেক সময় একেকজন গেয়েছে এবং সবাই খুব ভাল গেয়েছে স্পেশালি লিজা।  দর্শকদের মনে গেঁথে যাওয়ার মত সুন্দর গান। অনেক বেশি ভাল লেগেছে, পুরোটা সময় গুনগুন করেছি। সবশেষে মুভির পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের প্রতি বিশেষ অনুরোধ থাকবে একটু সময় নিয়ে প্রিপারেশন করে ভেবে চিন্তে নেক্সট প্রজেক্ট হাতে নেয়ার জন্য। আমি জানি আপনি দেশের ভাল ডিরেক্টরসদের মধ্যে একজন। তাই ভাল টা যাতে ধরে রেখে আরো উপরে উঠতে পারেন সেই কামনাই রইলো।  🙂

আর সকল দর্শকদের প্রতি আহ্বান রইলো এই মুভিটা দেখার। বেশ কিছু ভুল ভ্রান্তি থাকার পরও আশা করি হলে গিয়ে ছবিটা দেখলে সবার খারাপ লাগবে না। বন্ধু বান্ধব মিলে হলে বসে চিৎকার চেঁচামেচি করে মুভি দেখার মজাই আলাদা। তাই অনুরোধ থাকবে শুধু ঘরে বসে রিভিউ পড়ে না, হলে গিয়ে ছবি দেখুন। তরুন প্রজন্ম হলে না গেলে কিন্তু আমাদের সিনেমা শিল্প এক সময় ধ্বংস হয়ে যাবে আস্তে আস্তে। আর বাংলা সিনেমা যাতে আরো ভাল করে সেই লক্ষে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসুন।
হ্যাপি ওয়াচিং… 🙂

10382466_4573426110460_2835268498495366019_n

এই পোস্টটিতে ২৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. গ্ল্যাডিয়েটর says:

    সুন্দর হয়েছে রিভিউ 🙂

  2. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    গ্ল্যাডিয়েটর যেন কার ব্লগ নিক! জাকারিয়া না? ভুলে গেছি… 🙁

  3. তানিয়া says:

    দেখার মতো অনেক কিছু আছে তাহলে মুভিতে  🙂

  4. শাহরিয়ার লিমু শাহরিয়ার লিমু says:

    লেখাটা সেই রাতেই পড়েছিলাম কিন্তু কোনো এক কারণে কমেন্ট বক্স তখন ডিসেবল করা ছিলো।

    ভাইডির লেখাগুলো এজন্যই ভালো লাগে কারণ লেখাগুলোতে প্লটের পাশাপাশি চরিত্রগুলোর একটা বিস্তারিত আলোচনা করে থাকেন। 😀 তবে ভাইডির কাছে প্রশ্ন, বাংলা মুভির ফিমেইল ক্যারেক্টার বিগত দশ বছরে দুই একটা মুভি বাদে আর কয়টা ন্যাকাবিহীন দেখেছেন? :p

    লেখা সেইমাপের পছন্দ হয়েছে। বেশ কয়েকটি বাংলা মুভির লেখা আপনার থেকে না পাওয়ার ক্ষোভ সম্পুর্ন ভুলে গেলুম।

  5. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    ন্যাকার পয়েন্ট টা কিন্তু ঠিকই বলেছ। বাংলা ছবির নায়িকা হওয়ার অন্যতম শর্ত ন্যাকা হতে হবে। 😀 
    আর রাতে ব্লগে কি সমস্যা হইসিল বুঝলাম না। তখন কেউই কমেন্ট করতে পারছিল না। :\ @শাহরিয়ার

  6. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    হুম তানিয়া। তোমার দল নিয়ে একদিন তাইলে হল থেকে ঘুরে আসো… 😀

  7. আইম্যান আইম্যান says:

    পোস্টদাতা চলচ্চিত্র নিয়ে কাটাছেড়া করতে ভালবাসে।
    "ট্রিপল এস" এর নাম বদলে "পোস্টমর্টেম সৌরভ" করার করা হউক 😀

  8. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    আইম্যানের নাম পরিচয় কিন্তু সবাইকে জানায়া দিব কইলাম। :v

  9. ওপ্স। এত্তটুক মুভির এত্ত বড় রিভিউ। অস্থির সৌরভ।
    ভাল্লাগছে।

  10. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    দ্য ওল্ড চ্যাপ, মুভিটা কিন্তু এতটুকু না। প্রায় দেড়শ মিনিট… 😀

  11. রিফাত স্বর্ণা says:

    আসলেই সিনেমা হলে গিয়ে বাংলা মুভি দেখার মজাই আলাদা  😀 

  12. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    আমি জানি এই অভিজ্ঞতা আপনার অনেক বেশি স্বর্ণা। এটা নিয়ে আপনার রিভিউ কবে পাচ্ছি?… 🙂

  13. সিনেমা’র ক্ষেত্রে আমি অনেক দিন ধরে এই পুরো সাব কন্টিনেন্টালেরই খবর রাখি না (হাতে গোনা কয়েকজনকে ছাড়া)। বলিউড, টালিউড, ঢালিউড -সবাইকে আমার কেন যেন অকাটমুখ্যু মনে হয় (ব্যক্তিগত মত)। মনেহয় সবাই পেটের দায়ে মুভি বানাচ্ছে। 
    সবাইকে আমার একই রকম মনে হয়। সবাই একই রকম ভাবে মুভি বানাচ্ছে।
    [কথাগুলো ব্যক্তিগত]

  14. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    আপনার ব্যক্তিগত ভাবনাগুলো চেঞ্জ করার সময় এসেছে। একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন এখন অনেক কিছুই পাল্টে গেছে প্রদীপ রায়… 🙂

  15. সি.এম. তানভীর উল ইসলাম says:

    অসাধারণ রিভিও পড়লাম অনেকদিন পর। বাংলা ছবির প্রতি দর্শকের অনাগ্রহের একটা কারন মৌলিক গল্পের 

    ছবি না করা। যেহেতু দেশের অনেকেরই হিন্দি ছবি দেখার অভ্যাস আছে তাই সহজেই তারা ধরে ফেলতে 

    ছবিটির গল্প কোথা থেকে নেয়া হয়েছে কিংবা ছায়া অবলম্বন করা হয়েছে। আমাদের দেশের চলচিত্রকাররা 

    সহজেই কম বাজেটের ভিতর মৌলিক গল্পের ছবি বানাতে পারেন কেননা আমাদের বাংলা সাহিত্য এতটাই সমৃদ্ধ 

    যে মৌলিক গল্পের অভাব হবার কোন কারন নেই। 
    পার্শ্ববর্তী দেশ কলকাতাতে আজ অনেক ভাল ছবি হচ্ছে তথাকথিত ব্যবসায়িক ছবি ছাড়াও অনেক ভাল লেখক, 

    পরিচালক ও অভিনেতা- অভিনেত্রী উঠে এসেছে। ব্যবসায়িক ছবির নায়করাও যেমন দেবও মৌলিক গল্পের 

    ছবিতে (আর্ট ফিল্ম বলতে চাইছি না কারন আর্ট ফিল্মের ধারনাটা আমার কাছে এখনো পরিষ্কার নয়) অভিনয় করার আগ্রহী হয়ে উঠেছে। 

  16. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    খুবই ভাল বলেছেন তানভীর ভাই। যদিও এই মুভিটা মৌলিক গল্পেরই। মাঝে মাঝে শুধু কিছু অংশে ২-১টা মুভির সিকোয়েন্স কপি করেছে।

  17. শাতিল আফিন্দি says:

    রিভিউ পড়লাম, অবশ্যই ভালো হয়েছে এবং মুভিটাও যে খুব একটা খারাপ হয়নি সেটা বুঝতে পারছি। আমারও মনে হয় পরিচালকরা শুভকে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন না, আর রাজ এর কাজ আমার কেন জানি ভালো লাগে না। তবে সময় পেলে দেখবো এটা। 🙂

  18. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    রাজের কাজ আমারো কেন জানি ভাল লাগে না শাতিল ভাই। ট্যালেন্ট আছে মনে হয়, কিন্তু সেটা ঠিক মত কাজে লাগাতে পারে না… 

  19. রিফাত স্বর্ণা says:

    টার্ম ফাইনাল এক্সাম শেষ হল সবে

    দেখা যাক এই মুভি দেখা হয় কবে , 

    চমৎকার লেখনী পড়ে আমি হই ধন্য ( বরাবরের মত) 

    বাকি নেই কিছুই মোর রিভিউর জন্য !  

  20. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    রিফাত স্বর্ণা, আপনার কবিতা পড়ে তো অন্য কিছুতে পড়ে গেলাম… 😉 😀

  21. সামিয়া রুপন্তি says:

    রিভিউ পড়েই আমি হ্যাপি, ছবি দেখা হয়ে গেছে!!! 😉

  22. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    হইলো কিছু সামিয়া!! হলে গিয়েও দেখে এসো, বন্ধুদের সাথে দেখে আসলে বেশ উপভোগ করবা সময়টুকু… 

  23. পথের পাঁচালি পথের পাঁচালি says:

    ওয়াও দারুন আরেকটি লেখা। ধন্যবাদ লেখাটির জন্য আর দুঃখিত পড়তে দেরি করে ফেলার জন্য। চমৎকার বিশ্লেষন। মৌসুমীর চরিত্রটিঅ বিশ্লেষনে আসলেই মনে হচ্ছে পারফেক্ট একটি চরিত্র দেয়া হয়েছে এতদিনে তাকে। খুব ভাল লাগল পড়ে। 

  24. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    আসলেই। মৌসুমী অনেক বছর পর নিজের জন্য একটা পারফেক্ট চরিত্রে অভিনয় করলেন… 

  25. স্টয়িক says:

    ট্রিপল এস, রাজু ঐ অভিনয় এফএনএফ এ না করেছিল গ্র্যাজুয়েট এ… (FnF এ ও ছিলই না) 

    রিভিউ নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই। চখাম হইছে। ব্যস্ততার জন্য মুভি দেখতে পারিনি। পরে সময় করে অবশ্যই দেখে নিবো।

  26. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    হুম স্টয়িক, গ্র্যাজুয়েটেই ছিল সম্ভবত। রিভিউ লেখার সময় ঠিক মনে পরতেছিল না কোন নাটকে ছিল, এজন্যই সম্ভবত বলেছি। গ্র‍্যাজুয়েট আর এফএনএফ ২টাই ভাই বেরাদয়ের নাটক তাই অদলবদল হয়ে গেছে। যাইহোক, মুভিটা দেখলে জানাবেন কেমন লাগলো… 

  27. রীতিমত লিয়া says:

    কথা দিয়েছিলাম পড়ব। কিন্তু কিভাবে যেন ভুলে গিয়েছিলাম। আজকে অনেকদিন পর ব্লগে ঢুকলাম। তোমার লেখা না পড়ে গেলে অন্যায় হবে তাই চলে এলাম। আচ্ছা, আমাকে কী নতুন করে লেখার প্রশংসা করতে হবে। বাংলা সিনেমার রিভিউ ডোম তো একজনই আছে! এটাই কী যথেষ্ট নয়! 🙂

  28. ট্রিপল এস ট্রিপল এস says:

    যথেষ্ট যথেষ্ট। তোমার দেয়া এই নামটা যতবার শুনি ততবারই হাসি আসে লিয়াপি। বাংলা সিনেমার রিভিউ ডোম! 😀

মন্তব্য করুনঃ

You must be Logged in to post comment.

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন